১০১ জনের বিশাল বহর নিয়ে গেলেন। কোটি কোটি টাকা খরচ করে আসলেন। কার টাকায় গেছেন? আমাদের টাকায়। গিয়ে কি করছেন ? ভাষণ দিছেন। আর কি করছেন, বিরোধীদলের বিষেদাগার করছেন। আপনি কার প্রতিনিধি হয়ে গেছেন? বাংলাদেশের না আওয়ামিলীগের ? আপনার এপিডিএস কি করল? বাংলাদেশের মুখ উজ্জল করে দিয়ে আসল। প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে বাংলাদেশের মানুষ এই জন্য ম্যান্ডেট দেয়নি, যে কোটি কোটি টাকা খরচ করে রেপিস্ট, সেক্স ম্যানিয়াক নিয়ে যাবেন। আর বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের মানুষের মুখে কালিমা লেপন করবেন। আমরা সাধারণ জনগণের রক্ত পানি করা টাকায় আপনার লোকজন বিদেশের মাটিতে গিয়ে খায়েশ মিটাবে, মৌজ ফুর্তি করবে, লাখ লাখ টাকার শপিং করবে। এই অর্জনের জন্যই কি এত বড় সংবর্ধনা ? জবাব দিন।
আপনি একজন প্রধানমন্ত্রী। আপনার মন্তব্য মানুষের মনে অনেক প্রভাব ফেলে, যতটুকু না ফেলে আপনার ওই ছাগপালের কথায় (লতিফ সিদ্দকী, কামরুল গং)। আপনি কি করলেন ? তালি কিভাবে বাজে সেটা নিউইয়র্কে বসে শিখিয়ে আসলেন। আপনি কি করলেন ? বাংলাদেশের ইতিহাসে এত নগ্নভাবে দলীয়করণ এর আগে কেউ দেখেনি। যেটা আপনারা দেখিয়ে দিয়েছেন। ভেবেছিলাম, আপনি এই বিষয়ে হয়তোবা কিছু বলবেন। কিন্তু , সত্যিই থুথু ছিটিয়েছি মনে মনে, যখন শুনলাম আপনি এই কাজকেও যায়েজ করে দিলেন। ছি : ধিক আপনাকে।
আপনার জন্মদিন অত্যন্ত ভালভাবে আপনার সোনার ছেলেরা পালন করেছে। দেখেছেন নিশ্চয়ই। আচ্ছা, ওখানে কি আপনার চ্যালা-চামুন্ডারা রাষ্ট্রদ্রোহের গন্ধ পায়নি? পাওয়া উচিত ছিল। সত্যিই, যোগ্য সম্মানই আপনাকে দিয়েছে তারা।
এবার আসি তেল মর্দন মার্কা সংবর্ধনার কথায়। এয়ারপোর্ট এ আসলেন। কি দেখলেন ? পুরো ঢাকাবাসী আপনার পদলেহন করার জন্য এয়ারপোর্টে আছড়ে পড়েছে? খুব ভাল লেগেছে না ? আমারও হয়তো লাগত, আপনার জায়গায় থাকলে। কিন্তু আমার অবস্থান তো অনেক নীচে। আমাদের অনেকের মা কিংবা বোন, ভাই কিংবা বাবা আপনার জন্য শুধুমাত্র আপনার জন্য আ্যম্বুলেন্সে শুয়ে মৃত্যুর প্রহর গুণেছে, অসহায়ভাকে গুংরে মরেছে। ব্যালটের যোগ্য উত্তরই পদে পদে দিয়ে যাচ্ছেন আপনি। হাজার সালাম আপনাকে। তেল মর্দন বললাম এজন্যই...... বড় নেতারা পাতিনেতাদের বলছে লোকের যাতে অভাব না হয়। কারণ নেত্রীর আশীর্বাদই তাদের সব। নেত্রী খুশি তো সব খুশি। আর পাতি নেতাদের দরকার নেতার আশীর্বাদ। সাথে আলগা কিছু ইনকাম। পেইড কর্মী আর ছিন্নমূল-বস্তিবাসীরতো আর অভাব নাই ঢাকায়। দরকার হলে ঢাকার আশ-পাশ থেকেও আনতে হবে। নেত্রীর সংবর্ধনা বলে কথা। জোন ভিত্তিক ঠিক করে দেয়া আছে, কে কত লোক আনবে। চা-পান, বিড়ি-সিগারেট সাথে ১০০-২০০ টাকা কনভেন্স। সমস্যা কি । টাকার তো আর অভাব নাই। লোকেরও অভাব নাই। প্রধানমন্ত্রী, আপনি জেনে রাখুন, এখানে আপনাকে যারা সংবর্ধনা দিতে এসেছে, তাদের মাঝে কেউ এসেছে জোরপূর্বক, কেউ এসেছে টাকার জোরে। আপনাকে সংবর্ধনা মূল উদ্দেশ্য নয়। আর আছে কিছু অতিউৎসাহী। আচ্ছা, আপনি তো দেশের প্রধানমন্ত্রী। আপনার কি দরকার শো-ডাউনের ? কেন এত কষ্ট দিচ্ছেন মানুষকে ? কি দোষ করেছে দেশের মানুষ?
ঢাবির শহিদুল্লাহ হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের নেতাদের কাছে জবাবদিহি করছে, কেন সংবর্ধনায় যায়নি ?
ঢাবির ৪৪ ছাত্রকে হল থেকে বের করে দিল ছাত্রলীগ
এই যে আপনার সোনার ছেলেরা একের পর এক কুকীর্তি করে যাচ্ছে, আপনার নেতা-নেত্রীরা প্রশাসনকে রুদ্ধ করে দিযেছে, এত নগ্নভাবে আওয়ামীকরণের কথা বলছে - আপনি সেগুলোর বিরুদ্ধে কিছু না বলে বরং সেগুলোকে সায় দিয়ে যাচ্ছেন। চোখটা খুলুন, কানটা খাড়া করে শুনুন- আসলে দেশে কি চলছে । বাগাড়ম্বর , ধমকা-ধমকি দিয়ে কি আজীবন টিকে থাকতে পারবেন ? এই আপনার দিন বদল, যেখানে আ্যাম্বুলেন্স মুমূর্ষু রোগী নিয়ে আটকে থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা, যেখানে গাড়ির চাকা একচুলও নড়ে না ঘন্টার পর ঘন্টা। অস্ত্রবাজি, চাদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ হাজারটা অপকর্ম চলছে প্রকাশ্য দিবালোকে।
জবাব দিন প্রধানমন্ত্রী।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



