ফ্যালনা কুড়িয়ে ব্রাত্যজীবন
২০ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:২৩
চোর
প্রায়-ই পিঠে ঝোলা নিয়ে ভাঙা বোতল, টিনের বাক্স, তালা,
ফ্যালনা প্লাস্টিকের পুতুল, চেয়ারের গদি ইত্যাদি কুড়োতে
আসে হাড়-জিরজিরে কিছু ছেলে, তাদের অধিকাংশের চোখ
আয়ত ও মায়াবী, অধিকাংশের পোস্টাপিস খোলা, তারা
কখনও অনুমতি নিয়ে বাড়িতে ঢোকে না।
অনুমতি নেয় না বলে আমার হিসেবি বাবা, প্রগতিশীল
মেজো কাকা স্নেহময়ী মা এবং বিপ্লবী ছোটোভাই_ সকলেই
তাদের চোর ভাবে এবং তাড়িয়ে দেয়।
ওরা চলে যায়। ছড়ানো ছিটানো ফালতু জিনিসগুলো
নিজের নিজের জায়গায় থেকে অভিশাপ দেয়।
আমাদের সবকিছু তাই তাড়াতাড়ি ভেঙে যায়।
আমার ছোট্ট শিশুকন্যা তার ছোট্ট পুতুলের চুল আঁচড়ে দেয়,
আদর করে চুমু খায়।
আমাদের রাতের আদর শেষে, আমরা নিরীহ দম্পতি, সেদিন
দেখলাম, আমাদের একমাত্র পুতুলকন্যার হাত পা
আলাদা আলাদা হয়ে গেলো।
দরোজা খুলে ঘরে ঢুকল একটি ছেলে, তার আয়ত চোখ
পোস্টাপিস খোলা
পিঠের ঝোলায় সে তুলে নিল ফ্যালনা মেয়েটির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ
অনুমতি নিল না
লেখক বলেছেন: ও তো চোর নয়, কারো কারো কাছে চোর।
হায়দার কািরগর বলেছেন:
বাঃ দারুন। প্রকৃতিকেও তাই সচেতন থাকতে হয়। দাদা খুব ভালো লাগলো।
এই কবিতার সাথে আমার অন্তর্গত দর্শনের অনেক মিল। তবে কি দেখা হলো আরেকজনের ..............
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। হ্যাঁ বোধ হয়
স্বপ্নিক বলেছেন:
না দাদা সেই চোর,আমরা যারা পুকুর চুরি করি বা করার স্বপ্ন দেখি তারা তাদের চোর না বললে যে নিজেদের লুকানো যায়না।
আমরা জানিনা আমরা নিজেদের অস্তিত্বকেই চুরি করি।
অশোক দেব বলেছেন:
আমি বলতে চেয়েছি জীবন-মৃত্যুর কথা। আমাদের ফ্যালনা কুড়োনো ছেলেগুলো প্রতীক মাত্র। জীবনের আপাত সত্যে দাঁড়িয়ে আমরা মৃত্যকে কতভাবে ভাবি, ভুলে থাকি। কিন্তু আমাদের জৈবনিক ব্যবহার শেষে মৃত্যু একদিন ফ্যালনা দেহটি নিয়ে যায়। অনুমতি নেয় না। আমাদের প্রিয়দের নিয়ে যায় অনুমতি নেয় না।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
আন্দালীব বলেছেন:
আমারো ভালো লেগেছে। সাবলীল প্রকাশ.....
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আন্দালীব। কেমন আছেন? কিছুদিন দেখলাম না যে
জাহিদ সোহাগ বলেছেন:
"............সেদিনদেখলাম, আমাদের একমাত্র পুতুলকন্যার হাত পা
আলাদা আলাদা হয়ে গেলো।
দরোজা খুলে ঘরে ঢুকল একটি ছেলে, তার আয়ত চোখ
পোস্টাপিস খোলা
পিঠের ঝোলায় সে তুলে নিল ফ্যালনা মেয়েটির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ
অনুমতি নিল না"
এখানে 'পোস্টাপিস খোলা' রেপ দৃশ্য কল্প সৃষ্টি করে। এটুকুই একটা কবিতা হতে পারতো।
লেখক বলেছেন: তাই?
আমি বলতে চেয়েছি জীবন-মৃত্যুর কথা। আমাদের ফ্যালনা কুড়োনো ছেলেগুলো প্রতীক মাত্র। জীবনের আপাত সত্যে দাঁড়িয়ে আমরা মৃত্যকে কতভাবে ভাবি, ভুলে থাকি। কিন্তু আমাদের জৈবনিক ব্যবহার শেষে মৃত্যু একদিন ফ্যালনা দেহটি নিয়ে যায়। অনুমতি নেয় না। আমাদের প্রিয়দের নিয়ে যায় অনুমতি নেয় না।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: দেখতে পারলাম না। এ বিষয়ে আমার কম্প্যুটার বিকলাঙ্গ
আকাশচুরি বলেছেন:
হুমম, আমরা সবাই চুরিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় গন্তব্যকে সঁপে দিয়েছি তার হাতে........ভালো থাকবেন
লেখক বলেছেন: সত্যিই।আমার ব্লগে স্বাগতম।
স্বপ্নিক বলেছেন:
দাদা আমি ক্ষমাপ্রার্থী আবার আপনাকে কবিতার ডিসেকশন করতে বাধ্য করলাম বলে।আসলে চোরগুলো সম্পর্কে আপনার বর্ণনা আমাকে এতই আকৃষ্ট করেছে আমি ওখানেই ঘুরপাক খাচ্ছিলাম।
লেখক বলেছেন: কোনো সমস্যা নেই। ধন্যবাদ স্বপ্নিক
উধাও ভাবুক বলেছেন:
জীবন - মৃত্যূর দোলায় দুলতে থাকা সময়ের মাঝেও মানুষের জন্ম আর জীবন যাপন কত রোমাঞ্চকর তাইনা !
চমৎকার আবেগ দাদা।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। বেঁচে থাকার আনন্দই আসল। দুঃখের ভেতরেও আনন্দ আছে।
প্রণব আচার্য বলেছেন:
দুর্দান্ত দাদা
আমি ও আমরা বলেছেন:
অসাধারন দাদা। অসাধারন।লিখাটি পরে যমদুতের কথা মনে করিয়ে দিলেন। একদিন আমিও ভেঙ্গে যাব, আমার হাত পা সব কিছুই শরীরে থাকবে কিন্তু প্রান বায়ুটা চলে যাবে আমার খাচা ভেঙ্গে, তখন যমদুত আসবে- জানিনা তার পোষ্টাপিস খোলা থাকবে কিনা, তবে সে কার অনুমতি নিয়ে অন্দরমহলে ঢুকবেনা।
লেখক বলেছেন: আমি আপ্লুত
অশোক দেব বলেছেন:
ধন্যবাদ।পোস্টাপিস খোলা বলে আমার উদ্দেশ্য ছিল মৃত্যুর লিঙ্গ-জাতি নিরপেক্ষতার কথা বলা।
আমি ও আমরা বলেছেন:
দাদা একবার সময় করে ব্লগে এসে ঢু মেরে যাবেন, এসেছিলাম আপনার নতুন কবিতা আবার এলো কিনা। পেলাম না।



















আমাদের উচ্ছিষ্ট চুরি করে ওরা স্বপ্ন সাজায়, দু:সাহস..........