somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আশকা তুমি কার (পর্ব৬) (পূর্ণদৈঘ্য বাংলা ছায়াছবি)

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৪:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯
দ্যাখো, আশকা আমি তোমার এই ব্যাপারটাকে কখনই সমর্থন করবো না, আমি তোমাকে ভালবাসি তার মানে এই নয় যে, তুমি বাসা থেকে পালিয়ে আসবে আমার কাছে, আর আমি তোমাকে গ্রহন করবো, রাশেদ স্যার বিড়াল মহাজনকে কোলে নিয়ে অত্যন্ত দাম বাড়িয়ে বললেন।
আশকা: আশ্চর্য! স্যার আপনি পারলেন কি করে এভাবে বলতে!!?
রাশেদ স্যার: কি? এই যে তুমি আমার কাছে এসেছো আর আমি তোমাকে বাসায় ফিরিয়ে দিতে চাচ্ছি?
আশকা কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, রাশেদ স্যার তাকে বলার সুযোগ না দিয়ে আবা্র বলা শুরু করলেন, দ্যাখো আমি খুবই straight ভাবে তোমাকে বলছি, পালিয়ে বিয়ে করার মত সমাজে আমি বাস করিনা। আমি তোমাকে ফ্যামিলির মাধ্যমেই পেতে চাই।
আশকা: excuse me! Sir আপনি আশা করলেন কিভাবে যে আপনার মত বুড়া ব্যাটা কে আমি বিয়ে করবো??!!
রাশেদ স্যার: এ্যাই আশকা! এইটা তো তোমার মনের কথা না, মুখের কথা। তাইনা? আর তুমি অযথাই মাইন্ড করছো কেন বুঝতেছি না।(রাশেদ স্যার জ্ঞানী ভঙ্গিতে গড়গড় করে বললেন)
আশকা: আপনি আমাকে কি বলতে দিবেন? (রেগে)
রাশেদ স্যার: আচ্ছা বলো।
আশকা: আমি যাকে ভালবাসি ওকে বিয়ে করবো, ও বগুড়া থেকে আসবে এখনও আসে নাই, রওনা দিয়েছে আমার এখন যাওয়ার কোন জায়গা নাই তাই ভাবলাম আপনার এখানে অপেক্ষা করি।
রাশেদ স্যার বিষম খেয়ে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন, তাকে থামিয়ে আশকা বলল, আমার ভুল হয়েছে আপনার এখানে আসাটা। আমি চলে যাচ্ছি। অযথা বিরক্ত করার জন্য দু:খিত...


২০
মুন্না: পিংগুলি, please!!! তুই আশকা আপুর ইয়াহু আইডি টা দে।
পিংগুলি: দ্যাখ মুন্না আমার কারো আইডি মনে থাকে না।
মুন্না: আচ্ছা যা আর দেয়া লাগবে না। আশকা আপু আসলে আমি তার কাছেই চাইব। তোর সাথে আমি আর কথা বলব না।
হাসতে হাসতে পিংগুলি বলল: আরে ফুপী তো একেবারেই পালিয়েছে। বগুড়া থেকে ফুপা আসবে আর সেখান থেকে তারা রাতের ট্রেনে চিটাগং যাবে।
মুন্না: তুই জানলি কিভাবে? তখন তুইও তো আমাদের সাথে নাচানাচি করছিলি।
পিংগুলি: আরে যখন আমি নাচতে নাচতে ক্লান্ত হয়ে ডাইনিং রুমে এসে পানি খেতে এসছিলাম তখন দেখি ফুপী গাট্টি বস্তা নিয়ে পালাচ্ছে। আমাকে দেখে বলল কাউকে বলিস না।
মুন্না আর পিংগুলির এ কথাপোকথন কাজের মেয়ে শামীমা সব শুনল এবং তক্ষুন্নী সে জাম্বুকে বলতে গেল কিন্তু জাম্বুকে সে ভয় পায়। তাই বিমাকেই বললো। সব শুনে বাদর ধারণা করলো এখনও যদি তারা রেলস্টেশনে যায় তাহলে আশকাকে ধরা যাবে।
বাদর: ওই নাইড়া, এট্টা রিশকা বোলা(ডাক)। আর ও জাম্বু বু চল দি ছিমড়িরে ধইড়া আনি।
পিংগুলির মা কিছু একটা বলতে যায় কিন্তু তখন জাম্বু থামিয়ে দিয়ে বলল, ওই চোপ! তুই ছিমড়িরে লাই দিয়ে মাথাই তুইল্যা লাইছোস। আর এট্টা কতা কবি তো তোরে পিছারদ্দে এই বাড়িত দিয়া তাড়ামু।
পিংগুলির মা অবাক হলো।


২১
কপাল ওদের সঙ্গে ছিল না, নাড়িয়া কোনো রিকশা পাচ্ছে না। মোড়ে একটা রিকশাওয়ালা(অলস) নবাবের ভঙ্গিতে রিকশায় বিড়ি টানছে।
নাড়িয়া: ওই খালি, যাবি?
রিকশাওয়ালা কোনো জবাব দিল না।
নাড়িয়া আবার: যাবি?
এবারও কোনো জবাব দিল না।
নাড়িয়া: কি কতা কানে যায় না?
রিকশাওয়ালা বহুত কষ্টে বলল: যামুনা।
নাড়িয়া : কেন যাবি না?
রিকশাওয়ালা এবারও জবাব দেয় না, নাড়িয়ার কয়েকবার গুতানির পর জবাব দেয়।
রিকশাওয়ালা: দ্যাহেন না বিড়ি খাই
নাড়িয়া: বিড়ি শেষ করে চল....
রিকশাওয়ালা: না আমার কষ্ট হইবো।
ওখানে আর কোন রিকশা নাই কাজেই নাড়িয়া একে বেশি ভাড়ার লোভ দেখিয়ে রাজী করাতে চাইল, কিন্তু সে কোনভাবেই রাজী হচ্ছে না, নাড়িয়াও নাছোড়বান্দা। জাম্বু আর বাদর এসে দেখলো নাড়িয়া এক রিকশাওয়ালাকে বলছে, ভাইরে তোকে ২গুন, ৩গুন...৫গুন ভাড়া দিবো চল.....
দূর থেকে একটা রিকশা আসতে দেখে বাদর আর জাম্বু হাত ইশারায় রিকশাটা থামিয়ে উঠে পড়ে। বাদর রিকশাওয়ালার পিঠে হাত দিয়ে সামনে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
(এই রিকশাওয়ালা শফিউল আলম ইমন এবং উনি এখানে বোবা রিকশাওয়ালার চরিত্রে অভিনয় করেছেন)



সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৫
৮৯টি মন্তব্য ৬৩টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×