যখন ওর জন্ম হয়েছিল তখন ক্লিনিকে ওকে দেখতে গিয়েছিলাম কিন্তু আমার সেরকম কোন ছবি চোখে ভাসে না এখন। মনে পড়ে আম্মু একটা হালকা কুসুম রঙের শাড়ি পড়ে বাসায় আসলো, সাথে একটা ছোট্ট বাবু। আমি আর বুবু দেখার চেষ্টা করলাম কিন্তু লোকজন আম্মুকে এত ভিড় করে ছিল আমরা ২জন ওকে দেখার সুযোগ পেলাম না
ও যেদিন প্রথম বসতে শেখে আমার মনে আছে, আমি রাত ১১/১২টার দিকে একঘুম দিয়ে উঠে দেখলাম আম্মু আর বুবু হাত দিয়ে ধরে রেখেছে যাতে পড়ে না যায়, আর ও বসতে পেরে হাসি দিচ্ছে আমার দিকে তাকিয়ে।ও ছোটবেলা থেকেই রোগেভূগতো (হাপানি আর চোখ দিয়ে পানি পড়তো), চিকনা আর ক্যাটক্যাটা ছিল। একবার রাতে বাসে করে যাবার সময় বাসের জানালায় ধাক্কা খেয়ে ও ভেবেছিল ওর পাশে থাকা বুবু বোধহয় মাথায় চড় মেরেছে। ও তখন কেবল হামাগুড়ি দিতে পারে, গড়াতে গড়াতে উল্টা পাশে বুবুর গালে এক চড় মারে।
আরেকটু বড় হলে ওর স্বভাব ছিল আম্মুকে বাথরুমে আটকিয়ে রেখে নানীবাড়িতে চলে যাওয়া। আম্মু চিল্লাচিল্লি করে অনেকক্ষণ পরে যখন বের হতো ও তখন চম্পট দিয়েছে। তখন তার প্রিয় খাবার ছিল কয়লা আর ইটের খোয়া। ও আর আমার খালাতো ভাই(ওরথেকে সামান্য ছোট) আমাদের বাসার সামনে একটা ছোট্ট পুকুর ছিল, সেই পুকুর পাড়ে একটা নারকেল গাছ ছিল, ওই গাছটার গোড়ায় বসে বসে গপশপ করতো আর ইট খেতো
।
হোমিওপ্যাথি ওষুধের পুরিয়া আর স্প্রাইট (যেটাকে সে এসপারিট বলতো) চানাচুরের ছিল অনেক প্রিয়। একসময় সে ওইগুলো না পেলে কান্নাকাটি করতো, মারামারি করতো। উপায় না পেয়ে আম্মু আটা দিয়ে পুরিয়া বানিয়ে আর স্প্রাইটের বোতলে পানি ভরে স্প্রাইট দিতো খেতে। তারপর আরেকটু বড় হলে আইসক্রিম তার প্রিয় হল। একবার একটা ৫০পয়সার কয়েন নিয়ে বাজারের অভিমুখে রওনা করল আইসক্রিম কিনতে। পড়বি তো পড়, পড়ল আমার মামাতোভাইয়ের সাইকেলের সামনে। চানাচুরকে ধরে নিয়ে আসলো বাসায়। এরপর আব্বুর কাছে নালিশ করা হল, আব্বু ওকে ভয় দেখানোর জন্য একটা গামছা দিয়ে ওর হাত বেধে রাখার ভঙ্গি করল, এতে তার অনেক সন্মানহানি হল। সে পুকুরপাড়ে যেয়ে একা একা বলছে, এত অপমান আমার আর সহ্য হয় না
একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে চানাচুর কান্না শুরু করলো, আমরা ভেবে পাই না কি এমন কারণ যে ঘুম থেকে উঠেই কাদতে হবে। অনেকক্ষণ কান্নাকাটি করে মনটা হালকা করার পর বলল, তার স্যান্ডেল দোকানদার নিয়ে গেছে

(ব্যাপারটা ছিল এই যে তাকে আগের দিন বিকালে একটা স্যান্ডেল কিনে দেয়া হয়েছিল, সে স্বপ্ন দেখেছিল স্যান্ডেলটা দোকানদার নিয়ে গেছে)
স্কুলে যখন ও পরীক্ষা দিতো কিছু প্রশ্ন ও না লিখেই বাসায় চলে আসতো, তার ভাল না লাগলেই হল থেকে বের হয়ে আসতো। পরে স্কুলের এক স্যারকে বলে ওকে আটকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হলে সে কান্নাকাটি শুরু করেছিল একদিন। আগে রাগ করলে খাটের তলায় লুকিয়ে থাকতো
এই পাগলা আজকে বড় হয়ে যাচ্ছে, ব্লগে দেখলাম রান্না নিয়ে পোস্ট, লালু ভাইয়ের মত সাজেশন চেয়ে পোস্ট দিচ্ছে
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



