somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই লেখাটা সাইফুর ভাইকে উৎসর্গ করলাম

০৪ ঠা জুন, ২০০৮ বিকাল ৫:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যখন ওর জন্ম হয়েছিল তখন ক্লিনিকে ওকে দেখতে গিয়েছিলাম কিন্তু আমার সেরকম কোন ছবি চোখে ভাসে না এখন। মনে পড়ে আম্মু একটা হালকা কুসুম রঙের শাড়ি পড়ে বাসায় আসলো, সাথে একটা ছোট্ট বাবু। আমি আর বুবু দেখার চেষ্টা করলাম কিন্তু লোকজন আম্মুকে এত ভিড় করে ছিল আমরা ২জন ওকে দেখার সুযোগ পেলাম না :(। কিছুক্ষণ পরে সবাই চলে গেল, এবার আমরা ওকে দেখতে পেলাম কিন্তু কোলে নেবার সুযোগ পেলাম না :( কারণ ওকে কব্জা করেছে আমার মামাতো বোন। বেশ কিছুক্ষণ সুযোগ না পেয়ে আড়ালে যেয়ে বুবু আমাকে বলল, দেখেছিস আমাদের ভাই আর আমাদেরই কোলে নিতে দিচ্ছে না /:)


ও যেদিন প্রথম বসতে শেখে আমার মনে আছে, আমি রাত ১১/১২টার দিকে একঘুম দিয়ে উঠে দেখলাম আম্মু আর বুবু হাত দিয়ে ধরে রেখেছে যাতে পড়ে না যায়, আর ও বসতে পেরে হাসি দিচ্ছে আমার দিকে তাকিয়ে।ও ছোটবেলা থেকেই রোগেভূগতো (হাপানি আর চোখ দিয়ে পানি পড়তো), চিকনা আর ক্যাটক্যাটা ছিল। একবার রাতে বাসে করে যাবার সময় বাসের জানালায় ধাক্কা খেয়ে ও ভেবেছিল ওর পাশে থাকা বুবু বোধহয় মাথায় চড় মেরেছে। ও তখন কেবল হামাগুড়ি দিতে পারে, গড়াতে গড়াতে উল্টা পাশে বুবুর গালে এক চড় মারে।

আরেকটু বড় হলে ওর স্বভাব ছিল আম্মুকে বাথরুমে আটকিয়ে রেখে নানীবাড়িতে চলে যাওয়া। আম্মু চিল্লাচিল্লি করে অনেকক্ষণ পরে যখন বের হতো ও তখন চম্পট দিয়েছে। তখন তার প্রিয় খাবার ছিল কয়লা আর ইটের খোয়া। ও আর আমার খালাতো ভাই(ওরথেকে সামান্য ছোট) আমাদের বাসার সামনে একটা ছোট্ট পুকুর ছিল, সেই পুকুর পাড়ে একটা নারকেল গাছ ছিল, ওই গাছটার গোড়ায় বসে বসে গপশপ করতো আর ইট খেতো

হোমিওপ্যাথি ওষুধের পুরিয়া আর স্প্রাইট (যেটাকে সে এসপারিট বলতো) চানাচুরের ছিল অনেক প্রিয়। একসময় সে ওইগুলো না পেলে কান্নাকাটি করতো, মারামারি করতো। উপায় না পেয়ে আম্মু আটা দিয়ে পুরিয়া বানিয়ে আর স্প্রাইটের বোতলে পানি ভরে স্প্রাইট দিতো খেতে। তারপর আরেকটু বড় হলে আইসক্রিম তার প্রিয় হল। একবার একটা ৫০পয়সার কয়েন নিয়ে বাজারের অভিমুখে রওনা করল আইসক্রিম কিনতে। পড়বি তো পড়, পড়ল আমার মামাতোভাইয়ের সাইকেলের সামনে। চানাচুরকে ধরে নিয়ে আসলো বাসায়। এরপর আব্বুর কাছে নালিশ করা হল, আব্বু ওকে ভয় দেখানোর জন্য একটা গামছা দিয়ে ওর হাত বেধে রাখার ভঙ্গি করল, এতে তার অনেক সন্মানহানি হল। সে পুকুরপাড়ে যেয়ে একা একা বলছে, এত অপমান আমার আর সহ্য হয় না /:) (আমরা পিছন থেকে শুনলাম :D:D:D:D) একবার টিভিতে চিয়ার বিস্কুটের এ্যাড দেখে সে চিয়ার বিস্কুটকে চেয়ার বিস্কুট বলতো, খাবার জন্য পাগলের ন্যায় উন্মাদ হয়ে গিয়েছিল।


একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে চানাচুর কান্না শুরু করলো, আমরা ভেবে পাই না কি এমন কারণ যে ঘুম থেকে উঠেই কাদতে হবে। অনেকক্ষণ কান্নাকাটি করে মনটা হালকা করার পর বলল, তার স্যান্ডেল দোকানদার নিয়ে গেছে (ব্যাপারটা ছিল এই যে তাকে আগের দিন বিকালে একটা স্যান্ডেল কিনে দেয়া হয়েছিল, সে স্বপ্ন দেখেছিল স্যান্ডেলটা দোকানদার নিয়ে গেছে)

স্কুলে যখন ও পরীক্ষা দিতো কিছু প্রশ্ন ও না লিখেই বাসায় চলে আসতো, তার ভাল না লাগলেই হল থেকে বের হয়ে আসতো। পরে স্কুলের এক স্যারকে বলে ওকে আটকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হলে সে কান্নাকাটি শুরু করেছিল একদিন। আগে রাগ করলে খাটের তলায় লুকিয়ে থাকতো :D:D:D:D



এই পাগলা আজকে বড় হয়ে যাচ্ছে, ব্লগে দেখলাম রান্না নিয়ে পোস্ট, লালু ভাইয়ের মত সাজেশন চেয়ে পোস্ট দিচ্ছে :D:D:D:D
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৩
৪৭টি মন্তব্য ৪৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×