somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইভ টিজিং নিয়ে আমরা নারীরা কি ভাবছি!!

১৭ ই নভেম্বর, ২০১০ রাত ১২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকদিনপর সামুতে ঢুকে দেখি ইভ টিজিং বিষয়ক পোস্ট আজকাল পাবলিক খুব খাচ্ছে, খাবে না কেন! পোস্টের কনটেন্ট ই এত সুন্দর!! ইভ টিজিং এর প্রতিকার বিষয়ক একটা পোস্টে দেখলাম আলকাতরার ব্যবহারের কথা, তখনই মনে হল ছোটবেলায় দেখা কিছু ঘটনার কথা।

একবার এক ইভ টিজারকে মুখে চুনকালী মেরে পুরো এলাকায় ঘুরালো এলাকার কিছু সমাজসেবী পোলাপান। এরপর থেকে এলাকা বেশ ঠান্ডা ছিল অনেকদিন।

আমাদের পাড়ার এক ছেলে পাশের পাড়ার এক মেয়েকে প্রায়ই প্রেম নিবেদনের নামে হয়রানি করতো! মেয়ের মা এ খবর পাওয়া মাত্র এক মুহূর্ত দেরি না করে ছেলেটির ঘাড় ধরে এলাকার বাজারে নিয়ে যায় তারপর উপর্যপুরি জুতাপেটা করেন। এরপর ওই ছেলে লজ্জায় অভিমানে ক্ষোভে বেশ কিছুদিন বাসা থেকে বের হয় নি, যখন সে বের হল তখন দেখা গেল সে দাড়ি রেখে নিজেকে সকলের থেকে লুকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে!

আর এরপরেই ব্লগজীবনের শিশুকালে পড়া একটি গল্প যেখানে লেখক ইভ টিজিং বিষয়ে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন গল্প আকারে.....


উপরোক্ত ঘটনাগুলোর আলোকে এবং বর্তমান পরিস্থিতি দেখে আমার মনে হয়েছে ইভ টিজিং এর শাস্তি কখনোই জেল জরিমানা হওয়া উচিত না। জেল থেকে ঘুরে আসা আর বিলেত থেকে ঘুরে আসার মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই! কেউ দেখতে পারে না সে আসলে কোথায়! চোখের আড়াল তো মনের আড়াল... তাছাড়া আজকাল বড় বড় রাজনীতিবিদেরা জেলে ঢোকার পর থেকে জেলে যাওয়াটাও একটা স্ট্যাটাস সিম্বল হয়ে গিয়েছে।
ফ্যামিলি থেকে সচেতনতা তৈরি করা যেতে পারে তবে এটাও মাঝে মাঝে তেমন ভাল কাজ করবে না। এইচএসসি পর্যন্ত সারাদিন বইয়ে মুখ ডুবিয়ে থাকা এমন অনেক ছেলে ই আছে যারা ভার্সিটিতে হলে উঠলে অনেক বদলে যায়। যে ছেলেটা মনে মনে মানুষের সম্পর্কে সামান্য ভুল বুঝলে তাকে মনে মনে ভুল বোঝার জন্য স্যরি বলতো ভার্সিটির প্রথম সপ্তাহে, সেই ছেলেটাই কয়েকমাস পরে খেলার মাঠে বিপক্ষদলকে হারানোর জন্য ওই দলের খেলোয়ারকে মা বোন তুলে গালি দিতে, ওই পক্ষের মহিলা সাপোর্টারকে টিজ করতে এতটুকু বিব্রত হয়না। কাজেই তখন আর ফ্যামিলির ভ্যালুস, এথিক্স এগুলো আর তার সাথে থাকে না। এর মাঝেও যে কিছু মানুষ ভাল থাকে না তা বলছি না তবে এটা কখনোই এক নম্বর সলিউশন হতে পারে না।

ইভ টিজিং রোধে আমার এক ক্লাসমেটের দেয়া সাজেশন, ইভ টিজিং এর লঘু শাস্তি হওয়া উচিত সাঈদীর ১০ দিন ওয়াজ শোনা তবে আমার মনে হয় কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত ওয়াজ মুখস্ত ধরা।

বিভিন্নজনের সাথে আলোচনায় কিছু সাজেশান পেয়েছি, কেউ কেউ বলেন ইভটিজারকে জুতাপেটা ছাড়া আর কোন ভাল সলিউশান হতে পারে না, আবার কেউ কেউ বলেন ইভ টিজারদের চোখে গরম ইস্ত্রি বুলিয়ে দেবার কথা। তাদের কথা যারা মেয়েদের বারো হাত শাড়ির মধ্যেও তাদের শরীরের ভাজ খূজে পায় তাদের চোখটাই যত নষ্টের গোড়া, ওই চোখটাকে শেষ করলেই সব শেষ। আবার অনেকের মতে, ইভ টিজারদের সামনের কয়েকটা দাত প্রতিষ্ঠিত দন্তচিকিৎসকের সহাযতায় ফ্রি তে ফেলে দেয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
সম্প্রতি ইভ টিজিং এর শিকার এক ভদ্র মহিলা বলেছেন, টিজারকে তার মনে হয়েছে ৭দিন বিশুদ্ধ পানির বদলে ভিকটিমের পা ধোয়া পানি খেতে দেবার কথা।
ছেলেদের দলবদ্ধভাবে পাবলিক প্লেসে ঘোরাঘুরি নিষিদ্ধ করার কথাও বলেছেন অনেকে। পাড়ার মোড়ে বসা বা রাস্তায় অকারণে ঘোরাঘুরি করতে দেখামাত্রই গ্রেফতারের দাবীও একজন করেছেন।

জনৈক কবি সাহেব অবশ্য মারধর করাটার বিপক্ষে বলেছেন। উনি বলেছেন দেশে শুদ্ধ বাংলায় কথা বলতে হবে সবাইকে। শুদ্ধ বাংলায় নাকি গালি কম এবং গালি দিলেও নাকি কবিতা মনে হবে এমন কথা।

এবার আসি আমার নিজের মতামত কি এ ব্যাপারে। ইভ টিজিং নিয়ে একটা রিয়েলিটি শো বানানোর পক্ষে আমি। বেশি বেশি ইভ টিজিং হয় এমন স্থানে হিডেন ক্যামেরা নিয়ে ওৎ পেতে থাকতে হবে। এরপর হাতে নাতে টিজার কে ধরতে হবে। এ দৃশ্য টিভিতে দেখালেই কাজ শেষ না! টিজারকে বেধে রেখে জন সন্মুখে মুখে চুনাকালী বা জুতার বাড়ি বা চড় থাপ্পড় যেটা যার মনে চায় মাররে। গুরুতর ইভ টিজারের ক্ষেত্রে একটু স্পেশাল ট্রিটমেন্ট হবে। তাকে ছাড়াতে জামিনদার লাগবে যে এসে এই মর্মে একখানা কাগজে লিখে দিবে এরপরে যদি ওই টিজার কোন ধরনের টিজিং করে তাহলে এই জামিনদার অপরাধী সাব্যস্ত হবে এবং এটাও ওই শো তে দেখানো হবে। এ ধরনের নিয়ম হলে কেউ তো নিজের মানসন্মান এর কথা ভেবে জামিনদার হতে চাইবার কথা না! কারণ জামিনদার তার কথার বরখেলাপ করা মাত্র তাকে ভিডিও খানা দেখানো হবে ঠিক যেমনটি ব্লগ ক্যাচালে লিংক নিয়ে সবাই হাজির হয়!
আমি নিজে ব্লগে প্রলয়-টিয়া কেলেঙ্কারী ২৪ ঘন্টা তামাশা দেখেছি এবং অন্যদের কেও দেখেছি তামাশা দেখতে। কাজেই এ ধরনের বিনোদনধর্মী প্রোগ্রাম পাবলিক চরম খাবে, ওদিকে অনেকের দাবী যে ইভ টিজিং নাকি মিডিয়ার বানানো ক্যাপসুল তাদের কথানুযায়ী মিডিয়াও একটু তাদের ভূমিকা কতটা মহান দেখাতে পারবে। পাবলিক খুশি মিডিয়াও খুশি :D


সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০১০ রাত ১২:৩৭
১৯টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×