somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সস্তা প‌্যাচাল

২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১১:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকাল মানুষের ভদ্রতাবোধ দেখে আমি দিন দিন হতাশ হয়ে যাচ্ছি। আমি এমনিতে খুব ভদ্রমহিলা এমন দাবি করছি না তবে আমি একেবারে ছোটলোকও না।
সেদিন টিভিতে একটা ফোনোলাইভ শো হচ্ছিল, অনুষ্ঠানের গেস্ট জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। উপস্থাপিকার নাম নাবিলা আর চ্যাংড়া উপস্থাপকের নামটা মনে নাই। নাবিলা এবং ওই চ্যাংড়া(টাইপের সুবিধার জন্য চ্যাংড়া শব্দটি ব্যবহার করছি) কথা শুরু করলো। নাবিলা কথাবার্তায় যথেষ্ট স্মার্ট ই মনে হল তবে চ্যাংড়ার চ্যাংড়ামো দেখে আমার বড়ই বিরক্ত লাগলো! সে মেকআপ দিবে একটু পরপর আল্লাদ শুরু করলো। ভাব দেখে মনে হল ফোন করে বলি, যেই না পোলার চেহারা নাম থুইছে কি পেয়ারা! ফোন দিবো কি দিবো না এটা ভাবতে ভাবতেই একটা ফোন চলে এল অনুষ্ঠানে।
কলার ভাইসাহেব ফোন করে হাই হ্যালোর তোয়াক্কা না করে উনি কে সেটা আগে বললেন! উনি স্মার্ট গ্রুপ অব ইন্ডাট্রিজের মালিক মাহফুজুর রহমান। নাবিলা একটু তব্ধা খেলো প্রথমে, তারপর বলল, ও মাহফুজ ভাই কেমন আছেন? (ভাবখানা এমন যেন এই মাহফুজ ভাইকে সে অনেকদিন ধরেই চিনে!)
মাহফুজ ভাই নাবিলাকে পাত্তা নি দয়ে বললেন, উনি আসিফ ভাইয়ের সাথে কথা বলবেন।
আসিফ ভাই হ্যালো বলতেই মাহফুজ ভাই বললেন, আসিফ ভাই আমি যুবদল মাহফুজ!
আসিফ: হ্যা ভাই কেমন আছেন?
মাহফুজ ভাই: আসিফ ভাই আপনার প্রিয় শহর খুলনায় এসেছি। রয়েলের আশপাশ দিয়ে ঘুরে বেড়াইতেছি….. পলিটিক্যাল আলোচনা শুরু করলেন।
আসিফ: ভাই এটা রিক্রিয়েশানের একটা প্রোগ্রাম। আপনার সাথে পলিটিক্যাল আলোচনা আমি ফোনে করবো।

আসিফ ভাইয়ের এহেন আচরণে আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম, তবে মাহফুঝ ভাইয়ের অভদ্র আচরণে আমি হতাশ হলাম।

আজকে রিডিং রুমে বসে এক ক্লাসমেটকে অংক বুঝাতে বসেছি আমাদের সাথে পরের ব্যাচের আরো ২টা ছেলে বসেছে। আমি আমার ক্লাসমেটকে মাত্র অংক বুঝাতে বসেছি এমন সময় জুনিয়র একজন চলে গেল কি কাজে। আরেকজন পিচ্চি(বোঝার সুবিধার্থে পিচ্চি শব্দটি ব্যবহার করছি) শুরু করলো, তার উত্তরা ব্যাংকে জব হয়েছে। সে কি করবে? সে কি এখানে পড়ালেখা করবে নাকি জয়েন করবে!
পিচ্চির ব্যাকগ্রাউন্ড ম্যাথ শুনে সৎ পরামর্শ দিতে গিয়েই আমরা প্যাচে পড়লাম। আমরা বললাম, এখানে বসে ২বছর অমানবিক অত্যাচার সহ্য না করে জব করা ই ভাল। পিচ্চি বলে, নাহ উত্তরায় স্যালারি ভাল না! ঢাকার বাইরে পাঠিয়ে দিবে…..
এরপর আমার ক্লাসমেটকে জিজ্ঞেস করলো, তার স্কুল কলেজ কোনটা?
সে বলল তার বাবা আর্মিতে চাকরি করে বলে তার ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজগুলোতে পড়া হয়েছে। এরপর সে স্পেসিফিক্যালি স্কুল কলেজের নাম শুনলো। এরপর তার বাসা মোহাম্মদপুর শুনে রাস্তার নাম শুনেই সে ক্ষান্ত দিলো না আমার ফ্রেন্ডের বাবা সেনাবাহিনীর কোন পোস্টে চাকরি করেন সেটাও সে শুনলো।

এরপর আমার টার্ন আসলো! আমার স্কুল কলেজ এবং ভার্সিটি শোনার পর বলল, আমাদের ভার্সিটির সুপ্তিকে চিনি কিনা! আমি বললাম, কোন সুপ্তি! কোন ডিসিপ্লিন!
পিচ্চি খালি এটুকু বলতে পারলো, সুপ্তি খুলনা সরকারী মহিলা কলেজে পড়তো তবে সায়েন্স, কমার্স নাকি হিউম্যানিটিজ তা সে জানে না। সুপ্তি ভার্সিটিতে কোন ডিসিপ্লিন সেটাও সে জানে না!
এরপর পিচ্চি জিজ্ঞেস করলো, খুলনা মেডিকেলে আপনার পরিচিত কেউ পড়তো?!
আমি: স্কুলের এক ফ্রেন্ড পড়তো।
পিচ্চি: কি নাম?
আমি: মাসুমা
পিচ্চি: সে এখন কোথায়?
আমি: সম্ভবত ইউএসএ তে।
পিচ্চি: কোন পারপাস এ? ক্যারিয়ার নাকি হাসবেন্ড পারপাস এ?
আমি: হাসবেন্ড পারপাস।
পিচ্চি: আপনার বাসা কোথায়?
আমি: কুয়েটের কাছাকাছি
পিচ্চি: কুয়েটের সিভিলের কোন টিচার কে চিনেন?
আমি: নাহ এখন কাউকে চিনি না। আগে মামাদের ২টা ফ্রেন্ড ছিল সেই হিসেবে চিনতাম।
পিচ্চি: দাড়িওয়ালা, সিভিলের সাইফুল্লাহ স্যারকে চিনেন না??
আমি: নাহ! আমি চিনবো কিভাবে!
পিচ্চি: রেনডমলি চিনেন না!
আমি: নাহ।
সে আরো লোকজন চেনাতে চাইছিলো কিন্তু অন্যলোকেরা এসে ভিড় করায় সে চলে যেতে বাধ্য হল। এই পিচ্চিকে দেখে আমার মনে হল, ছেলেটার এটিকেট জ্ঞান কম।


সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:০৮
১৭টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×