৮০ ও ৯০ দশকের বলিউডি সিনেমার যেসব গান বিশেষ করে আর ডি বর্মণের সুর করা তার সিংহভাগই গুলজার রচিত। যে গানগুলি এখনো শুনতে ভালো লাগে। চলচ্চিত্র জগতে গীতিকার রূপে তার পদার্পণ হলেও পরবর্তীতে তার হাত ধরেই বেরোয় অসাধারণ সব সিনেমা।তার মেরে আপনে, আঁধি, মৌসম, খুশবু, কিনারা, মীরা, লিবাস, মাচিস, হুতুতু এসব সিনেমা বাদ দিলে হিন্দি সিনেমায় আর যা থাকে তা কেবলই ব্যাবসা।
আর সব বাদ দিলে গুলজার শুধু কবিতায় অনবদ্য হয়ে থাকবেন। বিষয়বস্তু ও কথনভঙ্গী উভয়ক্ষেত্রেই তার কবিতা বিশিষ্ট। লেখক জীবনের নানা অভিজ্ঞতা থেকে উঠে এসেছে সেসব কবিতা- যে কবিতায় তিনি পাঠককে হাজির করেন এক কল্পনার জগতে- বাস্তব ও কল্পনা তখন হয়ে ওঠে সহযাত্রী। উর্দূ কবিতার চিরাচরিত পদ্যরূপকে তিনি ভেঙেছেন। গজলের বাইরেও নজম-এর কাঠামোকে পরিবর্তন করেছেন। ক্যায়ফি আজমী, আলী সর্দার জাফরীদের প্রোগ্রেসিভ রাইটার্স মুভমেন্ট পরবর্তী সময়ে জাভেদ আখতার ও গুলজার উর্দু কবিতার কাব্যিক চরিত্রটিকেই পাল্টে দিয়েছেন। নতুন নতুন রীতি ও পদ্ধতির কবিতা প্রচলিত শের-শায়েরীর ঘেরাটোপের বাইরে।
পরিবর্তন সত্ত্বেও গুলজারের কবিতায় আছে লিরিক ও মেলোডির সুঠাম শরীর। প্রায়শ স্মৃতি ও রোমান্টিকতায় আক্রান্ত এ কবি কী এক মোহন ভাষায় আমাদের নিয়ে যান তার কল্পনার দৃশ্যে, অনন্ত আবিষ্কারে! নেশার মতো তার কবিতা তখন হয়ে ওঠে পানপাত্র, আধুনিক উর্দু কবিতা স্বর্ণে ও শস্যে বেড়ে ওঠে যার হাতে।
আও ফির নয্ম ক্যাহেঁ
আও ফির নয্ম ক্যাহেঁ
ফির কিসি দর্দ-কো স্যাহলা কে সাজা-লে আঁখে
ফির কিসি দুখতি রগ-সে ছুয়া দে নশতর
য়া কিসি ভুলি হুয়ি রাহ-পে মুড়কর
একবার নাম লেকর কিসি হামনাম-কো আওয়ায হি দে-লে
ফির কোয়ি নযম ক্যাহেঁ
এসো আবার কবিতা বলি
এসো আবার কবিতা বলি
দুঃখ হজম করে সামলে নিয়ো চোখ
ব্যাথিত শিরায় ছুঁইয়ে দাও ছুরি, নয়তো
ভুলে যাওয়া কোনো পথের মোড় ফিরে
একবার ডেকে নিয়ো নাম তার শব্দ করে, সমনামীর
তারপর কবিতা বলবো না হয় এসো।
বো. জো এক শায়ের থা
এক.
চৌন্দবি চান্দ কা রাত, কুছ থকি থকি সি আধি অধুরি সাঁসে
কুছ রাস্তো কি বে-নাম সি মোড়
এক শাম কি ভুলি হুয়ি সুরখ. সুনেহরি শফক.
য়ে সব বো. শায়ের কি সরমায়াঁ হ্যায়
যো বুন্দ বুন্দ পিঘলতি রাত আপনি ওঁক মে ভরতা রেহতা হ্যায়
কুছ সুনেহরে সি চান্দ কি বুঁন্দে
কুছ সবয রাত কে পাত্তে
জো হাথেলিয়োঁ মে পড়তে হ্যায় অওর সুখ জাতি হ্যায়
এড়িয়ো মে উচক উচক কে শায়ের চান্দ কো ছুনে কি
কোশিশ কর রাহা থা
কে রাত বুঝ গ্যায়ি অওর ব.কত খ.তম হো গ্যায়া
বো. জো এক শায়ের থা......।
দুই.
বো. জো শায়ের থা চুপসা রেহতা থা ব্যাহকি সি বাতে
করতা থা, আঁখো কানো পে রাখকে সুনতা থা
গুঙ্গি খা.মোশিয়ো কি আবা.জে
জমা করতা থা চান্দ কি সায়ে, গিলি গিলি সি নুর কি বুঁন্দে।
ওঁক মে ভরকে গিরগিরাতা থা রুখি রুখি সি রাতকে পাত্তে।
বা.ক্ত কি ইস ঘনেরে জঙ্গল মে
কাচ্চে পাক্কে-সে লামহে চুনতা থা।
হাঁ ব.হি আজব সা শায়ের
রাত-পে উঠকে কোহনিওকে বলপে
চান্দকে হোঠ চুমা করতে থে।
চান্দ সে গির কে মর গ্যায়া বো.
লোগ ক্যাহতে হ্যায় খু.দকুশি কি হ্যায়।
সে এক যে ছিলো কবি
এক.
চাঁদ-পূর্ণিমার রাত, কিছু ক্লান্ত অপূর্ণ নিঃশ্বাস
পথের কিছু বেনামী মোড়
ভুলে যাওয়া এক সন্ধ্যার রক্তিম-সোনালী আলো
এসবই সে কবির পুঁজি
বিন্দু বিন্দু গলে যাওয়া রাত কোল ভরে নেয় যে
সোনালী চাঁদের কয়েক বিন্দু
সবুজ রাতের কিছু পাতা
করতলে যা ঝরে পড়ে আর নিমেষে শুকায়
বুড়ো আঙুলে ভর দিয়ে উঁচু করে উঠে উঠে
চাঁদ ছোঁবার চেষ্টা করছিলো কবি
তো রাত গেলো নিভে আর সময় হলো গত
সে এক যে ছিলো কবি....।
দুই.
সেই যে কবি ছিলো, নিশ্চুপ থাকতো
বিহ্বল বাক্য বলতো
কানে রেখে চোখ শুনতো কথা,
জমাতো চাঁদের ছায়া, ভেজা ভেজা আলোর বিন্দু।
কোল ভরে যাচনা করতো
রাতের শুকনো শুকনো পাতা,
সময়ের এই গাঢ় অরণ্যে
বাছতো কাঁচা-পাকা মুহূর্ত।
হ্যাঁ, সেই আজব কবি
রাতে ঘুম থেকে উঠে বাহুসন্ধিতে ভর দিয়ে
চুমু খেতো চাঁদের ঠোটে।
সে মরে গেলো চাঁদ থেকে পড়ে
আর লোকে বললো ওটা আত্মহত্যা....।
উচ্চারণ প্রসঙ্গ:
s সর্বদা স, sh শ লিখিত হয়েছে। যেখানে খ এর পরে (.) দেয়া হয়েছে সেখানে খ উচ্চারণটি হবে সিলেটিয় ক উচ্চারণের মতো। আবার যেখানে ব এর পরে (.) আছে সেখনে উচ্চারণ হবে ব- w যেমন ব.ফা- wafa। তেমনি ক এর পরে (.) থাকলে ক এর উচ্চরণে কন্ঠনালীতে জোর প্রয়োগ করতে হবে। আসলে অনেক বর্ণের উচ্চারণ না শুনিয়ে বোঝানো মুশকিল। আর সবচাইতে বেশি সহযোগিতা পাওয়া যাবে আগ্রাসী হিন্দি সংস্কৃতি থেকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

