somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবিতা যেমন হতে পারে- ৩

১৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৮:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিভিন্ন সময়ে পড়া বহু কবিতা যা আমাকে কখনো ভাবিয়েছে, দুঃখ দিয়েছে, করেছে অবসাদগ্রস্ত আবার নাড়া দিয়েছে প্রবলভাবে, আনন্দও দিয়েছে তেমন কবিতাগুলি আপনাদের সাথে বিনিময় করবো ভাবছি। এবারে পাঠানো হলো দীপক রায়ের কবিতার বই স্লেজগাড়ী থেকে কয়েকটি আস্ত কবিতা।


সেই হাওয়া

দীপক রায়

খুব ভেতর থেকে একটা হাওয়া বইতে শুরু করে।
আর ওড়ায় সেইসব যা সাজিয়েছি সারারাত সাজিয়েছি সারাদিন।

খুব ভেতর থেকে হাওয়া দিলে উঠে দাঁড়াই- জোরে নিঃশ্বাস নিই।
হাত থেকে খসে পড়ে মালা- ঝনঝন শব্দ হয়- হাওয়ায় দুলতে থাকি
-খুব ভেতর থেকে হাওয়া দিলে।

খুব ভেতর থেকে হাওয়া দিলে কি যে করি। পোড়া গন্ধে সব কিছু
অস্থির হয়ে পড়ে। তখন কে কোথায় ডাকে- কেন ডাকে

তখন স্তব্ধতার মধ্যে দিগন্ত তোলপাড় করে দ্রুতগামী ট্রেন
চলে যায়। প্রাগৈতিহাসিক উপবন জেগে ওঠে ধীরে।


খুব ভেতর থেকে কিছু একটা করি যখন, এই কবিতাটির কথা মনে হয়। বারবার পড়তে ইচ্ছা হয়। লোভ সামলাতে না পেরে আরো কিছু কবিতা সেঁটে দিলাম।


জামরুল গাছের জঙ্গলে

জামরুল গাছের জঙ্গলে কে যেন হারিয়ে গিয়েছে। জামরুলের নীচে তাই
ঘোর ছায়া। পাহাড়তলীর ট্রেনে বুঝি বেজে উঠেছে বিষাদ।
ঐ ছোটো ট্য় ট্রেনে পাহাড়ের ওধারে সে কেন চলে গেলো।

ছন্নছাড়া মেঘ এসে আমাকে শুধালো- কেন গেল?
বৃক্ষের উদাসীনতার দিকে চেয়ে থাকি।- জানি না- জানি না।

জামরুল গাছের নীচে নির্বোধ নেপালী বালক শুধু গান গায়। আমি তার
কিছুই জানি না।


স্টেশন

একটি অনুচ্চ টিলার ওপর যে স্টেশন স্থাপিত হয়েছে কিছুকাল
তার থেকে বার্তা আসে।
আন্দোলিত ঘর বাড়ী দালান খড়খড়ি। উদভ্রান্ত চেয়ে দেখি
কোথা টিলা, কোথা যে স্টেশন, কোথায় লালরঙা কেবিনের ঘর।
চোখ বুজে গন্ধ নেই।
কাল রাতে বৃষ্টি হয়ে নেমেছিলো একঝাঁক নীলচে হরিণ।
কিন্তু যে আমার ভাঙিয়েছে ঘুম- কই সেই বাঁশি, সেই চালকবিহীন
রেলগাড়ি অনুচ্চ টিলার ওপর কোথা সেই লালরঙা কেবিনের কাছাকাছি
ভাঙা পড়ে থাকা তামাটে ইঞ্জিন।
অদৃশ্য টিলার ওপর অস্থির হুইশিল শুধু বাজে বারবার।


মেঘ

সারাক্ষণ এই মেঘ আমাকে ঘিরে থাকে। দু' হাত দিয়ে ঐ মেঘ
সরিয়ে দেবার পরমুহূর্তেই আবার মেঘ। ঘন কচুরীপানার পুকুরের মত
এই মেঘ আর গভীর জলের ভেতর নিমজ্জিত এই মাছ যেন আমি

মেঘের ওপারে নদী আর নদীর ওপারে উপবন। সেই
উপবনের মধ্যে একটা জলাভূমি। একটা ছোট গুহা। আর একটা শীর্ণ
তালগাছ। ওখান থেকে মাঝরাতে পাথরের পোশাকে কে আমাকে
রহস্যময় তার পাঠায়।

ঘন সিপিয়া রঙের মেঘ আমাকে ডুবিয়ে দেয়। পুরানো মাছের মত
স্থবিরতায় ডানা নাড়ি।
জল, জল, জলের আঁধারে মেঘের ভেতর জাদুকর
ঘন্টা বাজায়- আমি হাঁটি।
-আমি হাঁটি শেওলার ভেতর, নুড়ির ভেতর, জলজ উদ্ভিদের ভেতর


জব চার্নক জানেন

এই শহরে ডাল হ্রদ আছে। কোভালাম বীচ মসমাই জলপ্রপাত
আর জলদাপাড়ার হাতি আছে।
কাউকে কাউকে আমি এসব কথা বলেছি- কেউ এসব বিশ্বাস করে না।
শুধু রাত হলেই উত্তর দিকের ডাল হ্রদ দক্ষিণে কোভালাম
আর মসমাই প্রপাত জেগে ওঠে। দুধের পাহাড় থেকে জংলা হাতি
এসে পড়ে শহরের মাঝখানে। আমাদের বাড়ীর পাশে।
কেউ এসব জানে না।
আমি জানি আর জানেন জব চার্নক কিম্বা ইবনে বতুতা।


অপেক্ষা

নীল রোদের মধ্যে পিং পং বলের শব্দ আর শুনি না
অনন্ত পিয়নের সাইকেল চড়ে চিঠি বিলি- কতদিন সে আসে নি।

সে এলেই আমার পোশাকে চোরকাঁটা ভরে উঠত
পুকুরপাড় থেকে সাঁতারের শব্দ ভেসে আসত
গেরুয়া মেঘ আমাকে জড়াত।

বাতাস যেভাবেই বয়ে যাক অদৃশ্য শব্দ কোথাও জেগে থাকে
বাড়ীর সামনে ঘোড়ানিম গাছের অন্ধকার স্থির



গত পোস্টগুলিতে পাঠানো হয়েছিল, শরৎকুমার মুখোপাধ্যায় ও দেবাশিস বন্দোপাধ্যায়ের কবিতা। এই পোস্টের সঙ্গে পাঠানো ইলাস্ট্রেশনটি আমার আঁকা।










সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৮:১৮
২০টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×