সেই হাওয়া
দীপক রায়
খুব ভেতর থেকে একটা হাওয়া বইতে শুরু করে।
আর ওড়ায় সেইসব যা সাজিয়েছি সারারাত সাজিয়েছি সারাদিন।
খুব ভেতর থেকে হাওয়া দিলে উঠে দাঁড়াই- জোরে নিঃশ্বাস নিই।
হাত থেকে খসে পড়ে মালা- ঝনঝন শব্দ হয়- হাওয়ায় দুলতে থাকি
-খুব ভেতর থেকে হাওয়া দিলে।
খুব ভেতর থেকে হাওয়া দিলে কি যে করি। পোড়া গন্ধে সব কিছু
অস্থির হয়ে পড়ে। তখন কে কোথায় ডাকে- কেন ডাকে
তখন স্তব্ধতার মধ্যে দিগন্ত তোলপাড় করে দ্রুতগামী ট্রেন
চলে যায়। প্রাগৈতিহাসিক উপবন জেগে ওঠে ধীরে।
খুব ভেতর থেকে কিছু একটা করি যখন, এই কবিতাটির কথা মনে হয়। বারবার পড়তে ইচ্ছা হয়। লোভ সামলাতে না পেরে আরো কিছু কবিতা সেঁটে দিলাম।
জামরুল গাছের জঙ্গলে
জামরুল গাছের জঙ্গলে কে যেন হারিয়ে গিয়েছে। জামরুলের নীচে তাই
ঘোর ছায়া। পাহাড়তলীর ট্রেনে বুঝি বেজে উঠেছে বিষাদ।
ঐ ছোটো ট্য় ট্রেনে পাহাড়ের ওধারে সে কেন চলে গেলো।
ছন্নছাড়া মেঘ এসে আমাকে শুধালো- কেন গেল?
বৃক্ষের উদাসীনতার দিকে চেয়ে থাকি।- জানি না- জানি না।
জামরুল গাছের নীচে নির্বোধ নেপালী বালক শুধু গান গায়। আমি তার
কিছুই জানি না।
স্টেশন
একটি অনুচ্চ টিলার ওপর যে স্টেশন স্থাপিত হয়েছে কিছুকাল
তার থেকে বার্তা আসে।
আন্দোলিত ঘর বাড়ী দালান খড়খড়ি। উদভ্রান্ত চেয়ে দেখি
কোথা টিলা, কোথা যে স্টেশন, কোথায় লালরঙা কেবিনের ঘর।
চোখ বুজে গন্ধ নেই।
কাল রাতে বৃষ্টি হয়ে নেমেছিলো একঝাঁক নীলচে হরিণ।
কিন্তু যে আমার ভাঙিয়েছে ঘুম- কই সেই বাঁশি, সেই চালকবিহীন
রেলগাড়ি অনুচ্চ টিলার ওপর কোথা সেই লালরঙা কেবিনের কাছাকাছি
ভাঙা পড়ে থাকা তামাটে ইঞ্জিন।
অদৃশ্য টিলার ওপর অস্থির হুইশিল শুধু বাজে বারবার।
মেঘ
সারাক্ষণ এই মেঘ আমাকে ঘিরে থাকে। দু' হাত দিয়ে ঐ মেঘ
সরিয়ে দেবার পরমুহূর্তেই আবার মেঘ। ঘন কচুরীপানার পুকুরের মত
এই মেঘ আর গভীর জলের ভেতর নিমজ্জিত এই মাছ যেন আমি
মেঘের ওপারে নদী আর নদীর ওপারে উপবন। সেই
উপবনের মধ্যে একটা জলাভূমি। একটা ছোট গুহা। আর একটা শীর্ণ
তালগাছ। ওখান থেকে মাঝরাতে পাথরের পোশাকে কে আমাকে
রহস্যময় তার পাঠায়।
ঘন সিপিয়া রঙের মেঘ আমাকে ডুবিয়ে দেয়। পুরানো মাছের মত
স্থবিরতায় ডানা নাড়ি।
জল, জল, জলের আঁধারে মেঘের ভেতর জাদুকর
ঘন্টা বাজায়- আমি হাঁটি।
-আমি হাঁটি শেওলার ভেতর, নুড়ির ভেতর, জলজ উদ্ভিদের ভেতর
জব চার্নক জানেন
এই শহরে ডাল হ্রদ আছে। কোভালাম বীচ মসমাই জলপ্রপাত
আর জলদাপাড়ার হাতি আছে।
কাউকে কাউকে আমি এসব কথা বলেছি- কেউ এসব বিশ্বাস করে না।
শুধু রাত হলেই উত্তর দিকের ডাল হ্রদ দক্ষিণে কোভালাম
আর মসমাই প্রপাত জেগে ওঠে। দুধের পাহাড় থেকে জংলা হাতি
এসে পড়ে শহরের মাঝখানে। আমাদের বাড়ীর পাশে।
কেউ এসব জানে না।
আমি জানি আর জানেন জব চার্নক কিম্বা ইবনে বতুতা।
অপেক্ষা
নীল রোদের মধ্যে পিং পং বলের শব্দ আর শুনি না
অনন্ত পিয়নের সাইকেল চড়ে চিঠি বিলি- কতদিন সে আসে নি।
সে এলেই আমার পোশাকে চোরকাঁটা ভরে উঠত
পুকুরপাড় থেকে সাঁতারের শব্দ ভেসে আসত
গেরুয়া মেঘ আমাকে জড়াত।
বাতাস যেভাবেই বয়ে যাক অদৃশ্য শব্দ কোথাও জেগে থাকে
বাড়ীর সামনে ঘোড়ানিম গাছের অন্ধকার স্থির
গত পোস্টগুলিতে পাঠানো হয়েছিল, শরৎকুমার মুখোপাধ্যায় ও দেবাশিস বন্দোপাধ্যায়ের কবিতা। এই পোস্টের সঙ্গে পাঠানো ইলাস্ট্রেশনটি আমার আঁকা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

