![]()
এই ব্লগে এসে নিজের ব্যাপারে আমি সবচেয়ে বড় যে সত্যটা আবিষ্কার করেছি, তাহলো আমিও অপ্রয়োজনীয় ও অর্থহীন কথায় প্রভাবিত হই। আমার ধারনা ছিলো আমাকে ডমিনেট করতে পারে খুব কম মানুষ। অভিযোজিত না হওয়া ধাচেঁর ত্রিভুজও অভিযোজিত হয়েছে।
ব্লগে প্রথম দিকে লেখালেখি শুরু করার কারন ছিলো ইসলাম নিয়ে ফালতু কথাগুলোর জবাব দেয়া। পরবর্তিতে দেখলাম প্রচুর লোকজন ব্লগ পড়তে আসেন। মেইল পেলাম অসংখ্য... যা প্রত্যাশা করিনি। তখন মনে হলো বিতর্ক করার চাইতে গঠনমূলক লেখালেখি করা ভাল। তাই হালকা ধরনের কথাবার্তা মূলক পোষ্টের সাথে গঠনমূলক কিছুও লেখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ধারাবাহিকতা বজায় থাকেনি। ব্লগের কিছু অসুস্থ চরিত্রের লোকজনের কাজকর্মগুলো দ্বারা প্রভাবিত হতে থাকলো আমার লেখা। ওরা দশটা ফালতু পোষ্ট দেয় তো আমি জবাব দেয়ার জন্য একটা দেই। কিন্তু সেটা করে যে ওদের পর্যায়ে নিজেকে নামিয়ে এনেছি, খেয়ালও করিনি। এক্ষেত্রে সহ ব্লগার ফজলে এলাহি ভাই ভাল একটি সিষ্টেম ফলো করেছেন। আমারো করা উচিত ছিলো, বহু আগেই।
এখানে অনেকেরই আমার ব্যাপারে তাদের মূল্যায়ন রেখেছেন। মেইলে তারচেয়ে চমৎকার সব মূ্ল্যায়ন এসেছিলো। ব্লগে প্রচুর গালি দিয়েছেন এরকম লোকজনও মাঝে মাঝে এমন মেইল করেছেন যে অবাক হয়েছি। তারা সব কথাই যে আমার বিরোধীতার জন্য বলেছেন তাও কিন্তু নয়। বিশেষ করে মেইলে পাঠানো কিছু কিছু মূল্যায়ন নিয়ে চিন্তা করে দেখলাম সত্যিই ব্যাপারটা। শুধু তাই নয়, পুরানো কিছু পোষ্ট পড়ে নিজের ব্যাপারে আরো কিছু ব্যাপার চোখে পড়ল। আস্তমেয়েরও একই সমস্যা হয়েছিলো। সেটা সে বুঝতে পেরে ক্ষ্যান্ত দিয়েছিলো। যদিও তার কিছু সিদ্ধান্তের সাথে আমি একমত নই।
পরিবেশ মানুষের মনন নষ্ট করে ফেলে। হাড়ে হাড়ে উপলদ্ধি করছি। নিজের কিছু কাজকর্ম ও কথা বার্তা পড়ে আমি নিজেই অবাক হয়ে গিয়েছি। কত নীচে নেমে গিয়েছি নীচ কিছু লোকের সাথে তর্ক করতে গিয়ে। ভাগ্যিস, আমার ফ্যামিলির সদস্যদের কেহ এই ব্লগ নিয়মিত পড়েন না বা আমিও তাদের লিংক দেই নাই (শুধু মাত্র ভাইয়া ও আপুকে দিয়েছিলাম. কিন্তু তারা বাংলা ভাল বুঝেন না, তাই আসেন না খুব একটা)।
বাংলাদেশের মানুষগুলো অসম্ভব ভালো। এই সত্য আমরা নিজেরা খুব একটা উপলদ্ধি করতে পারি না। ভাই বোনদের সাথে মাঝে মাঝে বেশ কিছু আমেরিকান ও চাইনিজ বন্ধু বান্ধব এসেছিলেন দেশে। তাদের সবাই আমেরিকা ফিরে গিয়ে বাংলাদেশের সমাজ ব্যাবস্থার প্রশংসা করতে করতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছেন। অথচ আমরা নিজেরাই বুঝলাম না।
এই দেশটাকে সুন্দর ভাবে সাজানোর জন্য আমাদের দরকার নিজেদের সম্পর্কে নিজেরা জানা। একথা আমি জোর দিয়ে বলতে পরি যে, উন্নত বিশ্বের যেকোন দেশ হতে আমাদের দেশের মানুষগুলো অনেক সভ্য ও উৎকৃষ্ট। আমেরিকার একটি রাজ্যে কিছুদিন আগে হ্যারিকেন আঘাত করার পর সেখানের পুলিশি ব্যাবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। তারপর মানুষকে অসহায় পেয়ে যে চুরি, ডাকাতি, ধর্ষন ও হত্যাকান্ড ঘটেছে.. সেটা আমাদের দেশের মানুষেরা কল্পনাও করতে পারে না। প্রতিবছরই আমাদেরে দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয় হয়। কোনদিন পেপারে এমন নিউজ পাইনি যে বন্যার্তদের ফেলে যাওয়া ঘর বাড়িতে চুরি বা ডাকাতি হয়েছে। এই ব্যাপারটা আমাকে সত্যিই খুব অবাক করে।
আমাদের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখতে পাই এক সমৃদ্ধ অতীত। বৃটিশ উপনিবেশ আমাদের সম্পদ লুটে ফকির করার পাশা পাশি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাবস্থায় যে ফাটল ধরিয়ে দিয়ে গিয়েছে, সেটা আজো আমরা মেরামত করতে পারলাম না। সেই ফাটল দিয়ে অনেক ঘুন পোকা ঢুকে গিয়েছে। ফাটলটা মেরামত করার পাশাপাশি সেগুলোকেও মারতে হবে। সেজন্য দরকার আত্মপ্রত্যয়। সেটিই নষ্ট করে ফেলছি দিন দিন। ভাবনার বিষয়।
আমাদের একটি কমন সমস্যা হলো আমরা কাজের চাইতে কথা বেশী বলি। এবং দেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধির চিন্তা ভাবনা না করে নিজেদের মাঝে অহেতুক ঝগড়া ঝাটি ও অর্থহীন প্রলাপে মত্ত্ব হই। সমাজে ভাল চিন্তার চর্চার চাইতে অসুস্থ চিন্তার চর্চাতেই আমাদের আগ্রহ বেশী। আমার মনে হয় বৃটিশদের কেরানী বানানোর শিক্ষা ব্যাবস্থাটাই এজন্য দায়ী। এটা আমাদের মাঝে সততা ও পরস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি করতে ব্যার্থ হচ্ছে। ভুলকে সঠিক বলে ভাবতে শেখাচ্ছে। সেলেবাসের বাইরে অনেক পড়ালেখা করে অনেকে নিজেকে গড়ে নিচ্ছেন.. আমারো সেই প্রচেষ্টা ছিলো একদম ছোট বেলা থেকেই। নিজেকে পুরোপুরি প্রভাব থেকে মুক্ত করতে পারিনি সম্ভবত।
সময় নিচ্ছি, আত্ম উপলদ্ধির জন্য। সংশোধন দরকার। ব্লগে গত দেড় বছরে নিজের চিন্তা ভাবনা ও প্রকাশ ভঙ্গির যে ক্ষতিটা হয়েছে সেটা সারাতে কতদিন লাগে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




