বর্তমানে আমাদের দেশের জনসংখ্যা কমবেশী ১৫ কোটি। ১৫ কোটি জনসংখ্যার ভারে বাংলাদেশের এখন নুইয়ে পড়ার দশা বিশেষজ্ঞদের আশংকা বর্তমানে যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে তা অব্যাহত থাকলে আগামী ৫০ বছরে দেশের জনসংখ্যা ৩০ কোটির কাছাকাছি পৌছে যেতে পারে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান পপুলেশন কাউন্সিলের তথ্যমতে বর্তমানে প্রতিবছর বাংলাদেশে জনসংখ্যা যোগ হচ্ছে ২৫ লক্ষ। এ হার অব্যাহত থাকলে আগামী ২০৩৭ সনে লোকসংখ্যা দাড়াবে ২১ কোটি এবং ২০৫১ সালে লোকসংখ্যা ২৮ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৯৭৯ জন লোকের বসবাস যা ৫০ বছর পর দ্বিগুণ হবার আশংকা রয়েছে। ১,৪৩,৫৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি দেশ এত লোক নিয়ে কী করবে?
বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কিছুটা কমলেও তা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় খুবই কম। যেমন বাংলাদেশে যেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৪৩ শতাংশ সেখানে জাপানে এ হার শূন্য, শ্রীলংকায় ০.৫, থাইল্যান্ডে ০.৭, মায়ানমারে ০.৯ এবং চীনে ০.৬ শতাংশ।
আশংকার কথা হচ্ছে দেশের জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে দরিদ্র মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। গবেষণায় দেখা গেছে গত দুই যুগে জনসংখ্যা ৪০ শতাংশ হারে বাড়লেও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ৫২ শতাংশ হারে। ১৫ কোটি মানুষের মধ্যে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ছড়িয়ে গেছে। সেই সাথে বেড়েছে গৃহহীন, বেকার মানুষের সংখ্যা। বেড়েছে সমাজের অপরাধ প্রবণতা। বর্তমানে দেশে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা ১ কোটির উপরে।
দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঠেকাতে এখনই পরিকল্পিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা আবশ্যক। এক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করা প্রয়োজন। বৃহৎ রাষ্ট্র চীন, জাপান থেকে শিক্ষা নিয়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির উর্দ্ধগতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এদেশের ভবিষ্যত ঘোর অন্ধকার। আশির দশকে পরিবার পরিকল্পনার শ্লোগান ছিল- ছেলে হোক মেয়ে হোক দুটি সন্তানই যথেষ্ট। বর্তমানে তা পরিবর্তিত হয়ে হয়েছে- দুটি সন্তানের বেশী নয়, একটি হলে ভাল হয়। অদূর ভবিষ্যতে হয়তো হবে- ছেলে নয় মেয়ে নয়, তুমি আমিই যথেষ্ট।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



