somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জিনের বাদশা আটক অভিযান। আপনিও শরিক হোন।

২৩ শে নভেম্বর, ২০১০ ভোর ৬:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জিনের বাদশা ফোন করেছেন মধ্যরাতে। X(( মুঠোফোনে। ‘আল্লাহ আপনার প্রতি সদয় হয়েছেন এবং আপনার জন্য সাত কলস স্বর্ণ ও হীরা বরাদ্দ করেছেন।’ সুসংবাদ জানানোর পাশাপাশি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। ভোলেননি হুমকি দিতেও। সেটি এ রকম, ‘এই গুপ্তধন পেতে আপনাকে মসজিদে টাকা দান করতে হবে, না হলে আপনার সন্তানের ক্ষতি হবে।’
গভীর রাতে ফোন পেয়ে চট্টগ্রামের বাসিন্দা পঞ্চাশোর্ধ্ব ফাতেমা জোহরা চৌধুরী পড়ে যান দোটানায়। গুপ্তধন পাওয়ার লোভ তো আছেই, উপরন্তু রাজি না হলে সন্তানের অমঙ্গলের আশঙ্কা। অবশেষে যেই কথা সেই কাজ। রাজি হয়ে যান জিনের বাদশার প্রস্তাবে। নয় ভরি সোনার গয়না আর তিন লাখ ৮৬ হাজার টাকা তুলে দেন জিনের বাদশার হাতে। পরে তিনি বুঝতে পারেন, পুরো ব্যাপরটাই ধাপ্পা। লোভে পড়ে হয়েছে সর্বনাশ। তখন শরণাপন্ন হন র্যা বের। র্যা ব-১-এর সদস্যরা জিনের বাদশার তিন স্যাঙাতকে গ্রেপ্তার করেছেন। তাদের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে। গতকাল সোমবার বিকেলে র্যা ব-১-এর কার্যালয়ে এই তিনজনকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। এ সময় ফাতেমা জোহরা চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনাটি ঘটেছিল গত ২২ অক্টোবর। ফাতেমা সাংবাদিকদের জানান, তাঁর কাছে ফোনটি আসে রাত তিনটার দিকে। জিনের বাদশা গলার স্বর বিকৃত করে কথা বলছিলেন। ওই দিন সকালে জিনের বাদশার কথামতো তিনি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা হয়ে বগুড়ার মহাস্থানগড়ে যান। সেখানে জিনের বাদশার প্রতিনিধি হিসেবে আসা এক ব্যক্তির হাতে তুলে দেন ছয় হাজার টাকা, দুটি সোনার চেইন ও এক জোড়া কানের দুল। এরপর জিনের বাদশা তাঁকে ফোন করে জানান, তাঁর জন্য বরাদ্দ করা সাতটি কলসের মধ্যে চারটি ফেটে গেছে। সেটি মেরামত করতে আরও সোনা ও টাকাপয়সা লাগবে। জোহরা চৌধুরী এবারও জিনের বাদশার দাবি মেটান। ২ নভেম্বর আবারও তিনি বগুড়া শহরের সাতমাথা মোড়ে গিয়ে বাকি টাকা পরিশোধ করেন। সব মিলিয়ে তিনি নয় ভরি সোনা ও তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা তুলে দেন জিনের বাদশার সমীপে। কিন্তু তারপর গুপ্তধনের আর হদিস নেই। বুঝতে পারেন, প্রতারকের খপ্পরে পড়েছেন। এরপর র্যা বের কাছে অভিযোগ করেন।
জোহরা চৌধুরী জানান, তিনি চট্টগ্রাম শহরের খুলশী এলাকার জাকির হোসেন রোডে থাকেন। স্বামী মারা গেছেন অনেক আগেই, দুই সন্তান ব্যবসা করেন।
র্যা ব-১-এর কর্মকর্তা মেজর আইনুল মোর্শেদ খান পাঠান প্রথম আলোকে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর র্যা ব-১-এর মেজর আহসানুল কবির ও এসএসপি কামরুজ্জামান তদন্ত শুরু করেন। তাঁরা প্রতারকদের ফোন নম্বরের সূত্র ধরে গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর উত্তরা থানার আবদুল্লাহপুর থেকে প্রতারক মো. কফিল উদ্দিন, মো. সাজু মিয়া (২২) ও মো. আবুল বাশার মিলনকে (২৫) গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারের পর তিনজনই প্রতারণার কথা স্বীকার করেন।
তিন যুবক জানিয়েছেন, তাঁদের মতো আরও ২০-২৫টি চক্র গোবিন্দগঞ্জে সক্রিয় আছে। তাঁরা প্রতিনিয়ত ‘জিনের বাদশা’ সেজে প্রতারণা করছেন। গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন এ পর্যন্ত ১২ জনকে প্রতারিত করেছেন বলে স্বীকার করেন।
র্যা ব কর্মকর্তারা জানান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও কোমরপুর থেকে কাটাখালী বাজার পর্যন্ত এলাকায় বলতে গেলে কোনো বেকার যুবক নেই, নেই কোনো রিকশাচালক কিংবা দিনমজুর। তাঁদের পেশা জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ‘জিন করি।’ জিন সেজে বিভিন্ন প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে তাঁরা সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করছেন।
গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের মধ্যে কফিল উদ্দিন অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। অন্য দুজন লেখপড়া জানেন না। কফিল আগে রিকশা চালাতেন। অন্য দুজন কৃষিকাজ করতেন। তবে এখন ‘জিন করে’ ভালো আয় হওয়ায় কাজকর্ম সব ছেড়ে দিয়েছেন। তিনজনই বলেছেন, এলাকার অন্য যুবকদের দেখাদেখিতে তাঁরা এ পথে এসেছেন।
র্যা ব জানায়, তাদের কাছে তথ্য আছে, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের তাজপুর, চণ্ডীপুর, উত্তরপাড়া, সামসপাড়া ও রাঘবপুর এবং পার্শ্ববর্তী দরবস্ত ইউনিয়নের খলসি, কাতিয়াদহ, বিশুবাড়ী, মারিয়া, গন্ধববাড়ী গ্রামে এ চক্রের বিস্তার ঘটেছে। এসব এলাকায় অর্ধশতাধিক লোক ‘জিনের বাদশা’ হিসেবে পরিচিত। প্রতারণার জন্য চক্রের সদস্যরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রিকশা-ভ্যানচালক, কুলি ও দিনমজুর শ্রেণীর লোকজনকে ব্যবহার করছে। তারা দিনমজুর সেজে বিভিন্ন জেলায় অবস্থাপন্ন মানুষের বাড়িতে কাজ নেয়। সেখানে কিছুদিন কাজ করে গৃহকর্তার মুঠোফোন নম্বর ও বিস্তারিত পারিবারিক তথ্য সংগ্রহ করে। সে তথ্য তুলে দেয় চক্রের হোতাদের হাতে। এরপর তারা জিনের বাদশা সেজে মুঠোফোনে কণ্ঠস্বর পরিবর্তন করে নানা প্রলোভনের ফাঁদ পেতে প্রতারণা করে।

প্রথম আলো থেকে কপি করা। এর পুর্বে ক্রাইম ওয়াচে এ বিষেয়ে একটি রিপোর্ট দেখেছিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১০ ভোর ৬:১৭
১৪টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×