somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দি আর্ট অব ফিকশনঃ সালমান রুশদী

১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্ব সাহিত্য এখন যে কয়জন দিকপাল প্রতিভা শাসন করছেন, সালমান রুশদী তাদের একজন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক তিনি। স্যাটানিক ভার্সেস লিখে পৃথিবীব্যাপী হয়েছেন মেলা নন্দিত, নিন্দিতও । তার আরো দুর্দান্ত উপন্যাস দ্য গ্রাউন্ড বিনিথ হার, ফিউরি, শালিমার দ্য ক্লাউন এবং মিডনাইট'স চিলড্রেন। সাহিত্যের এই জায়ান্টের জীবন-যাপন, লেখালেখি এবং চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্যারিস রিভিউ'র ১৭৪তম সংখ্যায় দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন জ্যাক লিভিংস। বাপরে বাপ, জিনিসটা আমাকে দু:সময়ে অনেক শক্তি জুগিয়েছে। আপনাকেও রসদ জুগাতে পারে। (অনুবাদ: মিজান মল্লিক)



কোনোকিছু রচনা করার সময় এর সম্ভাব্য পাঠক সম্পর্কে আদৌ ভাবেন কি?

সালমান রুশদী: জানি না। সত্যিই জানি না আমি। সেই তরুণ বয়সে এরকম প্রশ্নের জবাবে বলতাম না। কোনোকিছু লেখার সময় ভাবি না ওই লেখা কে পড়বে, না পড়বে। আমি সাহিত্যের একজন সার্ভেন্ট, এই যা।

সে তো মহৎ।

রুশদী: যারপরনাই মহৎ। সহজ কথা কঠিন করে বলার চেয়ে, সহজ করে বলার নীতিতে আমার যত আস্থা। ইতোমধ্যে যা কিছু লিখেছি, পাঠকরা তা কীভাবে গ্রহণ করেছেন, ব্যক্ত করেছেন প্রতিক্রিয়া, তা থেকে একটা শিক্ষা হয়েছে। আমার মনে হয়, এর মধ্য দিয়ে, পাঠ প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে পাঠকদের সম্পর্কে আমার ধারণা স্বচ্ছতর হয়েছে। বইপত্র লিখবো, কেউ পড়েব না, গ্যালারিতে গ্যালারিতে প্রদর্শিত হবে এটা আমার না পছন্দ। সে কারণেই, সাধ্যমতো চেষ্টা করি, সহজবোধ্য উপায়ে কোনো উপাখ্যানকে লিখতে। যাতে পাঠকরা তা পড়ার মধ্য দিয়ে আমার সম্পৃক্ততা উপভোগ করতে পারেন। মিডনাইটস চিলড্রেন উপন্যাসটা লেখার শুরুতেও এরকমভাবে চিন্তা করেছি। গল্প বলা আর সাহিত্য আলাদা ব্যাপার নয়, এরকম ভাবনা কাজে লাগে। এ দুই বস্তুর বিচ্ছেদ ঘটানো মনে হয় অপ্রয়োজনীয় । কোনো উপাখ্যানের কাহিনী না হয় সহজ নয়, একমাত্রিকও নয়, বরং জটিল ও বহুমাত্রিক। এক্ষেত্রে, কোনো লেখকের উচিত হবে, সবচেয়ে সলংগ্ন থেকে, সবচেয়ে স্বচ্ছতম উপায়ে তা বর্ণনা করা। আমার ক্ষেত্রে একটা ঘটনা খেয়াল করে দেখেছি, যেকোনো স্থানকে উপজীব্য করে, কোনো কাহিনী আমি লিখলে, বিষয়গত কারণেই তা হয়ে উঠেছে সব জায়গার গল্প। এর এক কারণ, আমি বেড়ে উঠেছি বম্বে শহরে যেখানে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের ঘটেছে অপূর্ব মিলন। আমার জীবনে ঘটে যাওয়া একটা দুর্ঘটনা, আমার মধ্যে এমন শক্তির সঞ্চার করেছে, যার বলে, আমার বলা গল্পে, উঠে আসে, পৃথিবীর নানা দেশ, নানা জায়গা একেবারে একসঙ্গে। কখনো শান্তিপূর্ণ উপায়ে। কখনো বা সংঘাতময় চেহারা নিয়ে। আবার দেখা যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শান্তি ও সংঘাত কোলাকুলি করে উঠে আসছে। পৃথিবীর যেকোনো স্থানের কোনো উপাখ্যানকে পৃথিবীর সবজায়গার উপযোগী করে রচনা করার সমস্যাও রয়েছে। এ ধরনের কাহিনী চট করে, কোনো নির্দিষ্ট স্থানে শেষ করা যায় না।

আপনার কাজকে কীভাবে ব্যাখ্যা দেবেন?

রুশদী: জীবন আমাকে একটা বিষয় উপহার দিয়েছে; সংঘাতময় পৃথিবী। এবার আসেন, প্রত্যেকের গল্পই যে অন্য যেকোনো লোকের গল্প, তা লোকজনকে বোঝাবেন কিন্তু কী করে? এ গেল, এক দিক। আবার দেখেন, আপনার ওই গল্প দিয়ে পাঠকের জীবনাভিজ্ঞতার ভিতর ঢুকতে হবে, তাদের অনুভূতিতে দিতে হবে নাড়া, কিন্তু কীভাবে? আমার শেষ তিনটা উপন্যাসে এ ধরনের প্রশ্নের একটা জবাব খোঁজার চেষ্টা চালিয়েছি। দ্য গ্রাউন্ড বিনিথ হার ফিট, ফিউরি এবং শালিমার দ্য কাউন- যেটির শুরু এবং শেষ হয়েছে লসএঞ্জেলস-এ ভিতরের কিছু অংশে রয়েছে নাৎসী দখলকৃত সট্রাসবার্গ এবং ১৯৬০ সালের ইংল্যান্ড। শালিমার-এ আফালস নামের একটা চরিত্র আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রতিরোধ যুদ্ধে যে ছিল বীর। প্রতিরোধ, দখলদারিত্বের ওই সময় যাকে আমরা বিদ্রোহ- ধরে নেব, গণ্য করবো বীরোচিত কাজ বলে। এখন দেখেন, আজকাল আরো কিছু বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে তবে এই ঘটনাগুলোকে বীরোচিত আখ্যা দেওয়া হয় না। বলা হয় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। নৈতিক বিচার করতে নামি নি। আমি বলার চেষ্টা করেছি; ওই ঘটনা তখন ঘটেছে, আর এখন ঘটছে এই ঘটনা। আমার উপাখ্যানে স্পষ্ট করে বোঝাতে চেয়েছি, দুইটি ঘটনাই কীভাবে উপস্থিত রয়েছে। এবং অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে তারা। আমি মনে করি, না কোনো ঔপন্যাসিকের বলা উচিত এর মানে হলো এই।

এই বলতে এই বোঝায় এ-কথা বলা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে চান?

রুশদী: না। কিন্তু উপন্যাসে এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে আমার আপত্তি আছে। কারণ আমি বিশ্বাস করি, দিক নির্দেশনা দেওয়া কোনো উপন্যাসকে ধ্বংস করারই শামিল। শালিমার-এর কেন্দ্রীয় চরিত্রটি একজন খুনির। আক্রোশপুর্ণ চরিত্রটির কর্মকাণ্ডে আপনি আতংকিত হয়ে উঠবেন, কথা সত্যি। এই চরিত্রটিই যখন মৃত্যুকে হাতের মুঠোয় নিয়ে স্যান কিউয়েনটিন দেয়াল উড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্যে হাজির, আপনি কিন্তু অবচেতনে তাকে সমর্থন করবেন। আমি তাই চেয়েছিলাম। চরিত্রটির চোখেই পাঠকরা ঘটনাগুলো দেখুক, তার মতো করে অনুভব করুক। সে কী প্রকৃতির মানুষ এই প্রশ্ন বড় নয়। চরিত্রগুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে উপন্যাসটি লিখেছি। লিখতে লিখতে টের পেয়েছি চরিত্রগুলো গতিপথ পাল্টে যাচ্ছে, অন্যদিকে । ফলে, উপন্যাসের বহু আদি ধারণাকে ত্যাগ করতে হয়েছে।

বলেন কী?

রুশদী: হ্যাঁ। লিখছি। মুহূর্তে মুহূর্তে এমন সব ঘটনা ঘটছে। আগে কল্পনাও করিনি। অদ্ভুত সব কাণ্ড ঘটেছে। এর চরিত্রগুলো আমাকে রীতিমতো বশীভূত করে ফেলে। একদিন টের পেলাম, আমারই সৃষ্ট চরিত্রের জন্য কাঁদছি। এই রকম একটা ঘটনা আছে, বুনির বাবা, পণ্ডিত পীয়ারে লাল, তারই ফল বাগানে মারা যায়। এই মৃত্যুদৃশ্য আমি সইতে পারিনি। নিজেকে আবিষ্কার করলাম, ডেস্কে বসে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছি। করছি কী আমি? এ চরিত্র তো আমারই গড়া। আরেকটা অংশে, কাশ্মিরের একটা গ্রাম লণ্ডভণ্ড করার দৃশ্য বর্ণনা করছি। হঠাৎ টের পেলাম, একদম সহ্য করতে পারছি না। চুপচাপ বসে ভাবলাম এমন বর্ণনা করা ঠিক হবে না। লিখতে পারবো না আমি সর্বনাশা বাক্য। নৃশংস কোনো দৃশ্যের বর্ণনা করতে গিয়ে বহু লেখকেরই এই দশা হয়েছে। সহ্য করতে পারেননি তারা। আমার জীবনেও এমন ঘটবে আগে ভাবতেও পারিনি। এরপর চিন্তা করলাম, উপন্যাসের গতিমুখ ফিরিয়ে নেওয়াও সম্ভব নয়। আমাকে লিখতেই হবে। অনিবার্য সব ঘটনা। না লিখে উপায় নেই।

কাশ্মির তো আপনার পারিবারিক ভূখণ্ড?

রুশদী: আমাদের আদিনিবাস। মিডনাইস চিলড্রেন উপন্যাসের শুরুটা কাশ্মিরকে উপজীব্য করেই। তাছাড়া হারুন এ্যান্ড দ্য সী অব স্টোরিজ-ও কাশ্মিরেরই রূপকথার গল্প। এখন পর্যন্ত আমার কোনো ফিকশনে কাশ্মিরের বর্ণনা করিনি। তখন ১৯৮৯ সাল। বোমা হামলা হলো কাশ্মিরে। লণ্ডভণ্ড করা হলো। আমার জীবনের চাকাও গেল উল্টে। হতবিহ্বল হয়ে পড়লাম... আজ ফতোয়া বার্ষিকী। ভালোবাসা দিবস আমার বউয়ের কাছে অসহ্য লাগে, আমার কাছে বিচ্ছিরি মনে হয়। যাক, শালিমার আসলে কাশ্মিরি প্যারাডাইজ লস্ট লিখবারই একটা চেষ্টা। প্যারাডাইজ লস্ট তো মানুষের পতনের গল্প। স্বর্গ কিন্তু ঠিক আগের জায়গাতেই বহাল তবিয়তে রয়েছে। শুধু আমাদেরকেই লাথি মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। শালিমার ভূ-স্বর্গ লণ্ডভণ্ড করারই আরেক গল্প। যেন আদম এলেন বোমা হাতে, বোমা ফাটিয়ে লন্ডভন্ড করে দিলেন সব।

কাশ্মিরের মতো এমন অপূর্ব সুন্দর জায়গা পৃথিবীর আর কোথাও দেখিনি আমি।

পৃথিবীর উচ্চতম পর্বত হিমালয়ে ঘেরা ক্ষুদ্র একটা উপত্যকা। ভারি সুন্দর! কাশ্মিরি লোকজনও কিন্তু খুবই চমৎকার। সমৃদ্ধ একটা এলাকা। মাটি উর্বর। ফসল ফলে প্রচুর। ভারতের আর কোনো অঞ্চল এমন নয়। অবশ্য, কাশ্মিরের গৌরবময় এই চেহারা এখন আর অত নেই! সবই গেছে। এখন সেখানে বিরাজ করছে সীমাহীন দুর্ভোগ।
কাশ্মিরের প্রধানতম আয়ের উৎস ছিল পর্যটন খাত। বিদেশি পর্যটক তো বটেই, ভারতের আভ্যন্তরিণ পর্যটকরাও সেখানে যেত দলে দলে। ভারতীয়দের গতিবিধি পর্যবেণ করলে দেখবেন, বিপুল সংখ্যক লোক কাশ্মির যায়। রহস্যটা কী? একটা গরম দেশে আপনি নিশ্চয়ই শীতলতম স্থানেই বেড়াতে চাইবেন? কাশ্মিরে আসলেন। বিমান বন্দরেই দেখতে পাবেন, রাস্তার দু'পাশের অনন্ত বরফরাজির দিকে লোকজন হা করে তাকিয়ে রয়েছে। সোনার খনির খুব কাছে, সোনার খনির খোঁজ পেয়েছে তারা। কাশ্মিরে ঢুকেতে গিয়ে আপনার চোখে পড়বে শুভ্র এই বরফরাজির। টের পাবেন অদ্ভুত এক অনুভূতির জন্ম দিচ্ছে। কাশ্মির মন্ত্রমুগ্ধ কর। এখন সবই গেছে। যদি রাত পোহালে শোনা যায়, শান্তিচুক্তি হয়েছে। তাতেও কাজের কাজ কিচ্ছু হবে না। যা হারানোর তা গেছে। একেবারেই। সে পূরণ হবার নয়। এই কথাই তুলে ধরেছি আমার লেখায়। বলেছি কাশ্মিরের সহনশীল এবং সম্মিলিত সংস্কৃতির কথা। হিন্দুদের যেভাবে বিতাড়িত করা হয়েছে, মুসলমানরা হয়ে উঠেছে র‌্যাডিক্যাল, তাতে আগের সেই সহাবস্থানের পরিবেশ আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। পাঁচ কি ছয় হাজার মাইল দূরের পার্বত্য অঞ্চলে লোকদের গল্পই বলতে চেয়েছি আমি, যে গল্প আমাদেরও।

আমরা সবাই রয়েছি তাতে?

রুশদী: উপন্যাসটিতে একটা ব্যাপার খুব স্পষ্ট করতে চেয়েছি। এর আখ্যানভাগ, ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক নয়। আমি চেয়েছি, পাঠকরা এর চরিত্রগুলোর চোখে দেখুক। প্রত্যেকেই অন্যের সম্পর্কে যত্নবান হোক। এমন একটা উপন্যাস লিখতে চেয়েছি যার কোনো চরিত্রই নগণ্য নয়।
ওই বয়সে বেড়ে ওঠারকালেই, কাশ্মিরি রাজনীতি সম্পর্কে আপনি যথার্থ সজাগ ছিলেন?

রুশদী: বোধ করি, তখন আমার বয়স ১২ বৎসরের বেশি নয়। বেড়াতে গেলাম কাশ্মিরে, পারিবারিকভাবে। বাবা-মা, বোনেরা আর আমি। সে সময় রাত্রিযাপনের জন্য গ্রামগুলোতে ছিল সরকারি রেস্টহাউস। তো একটাতে গিয়ে পৌঁছলাম, একটা টাট্টুতে আমাদের খাবার দাবাড় ছিল। মা দেখলেন, টাট্টুটা ফাঁকা। মাথায় বাজ পড়ার মতো ঘটনা। কী করা? শেষে ওই টাট্টুওয়ালাকে মা বললেন, যান তো গ্রামে গিয়ে দেখেন খাবার মতো কিছু পান কি-না। টাট্টুওয়ালা গেলেন। ফিরেও এলেন বিরস বদনে। মাকে জানালেন কিছুই পাওয়া গেল না। মা অস্থির। এর মানে কী? ওদের কাছে কিছুই নাই। অন্তত ডিম-টিম তো থাকার কথা। টাট্টুওয়ালা বললো, না কিচ্ছু নাই। মা বললেন, কী বলছেন আপনি? সারারাত ছেলে মেয়ে নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে!
আধাঘণ্টা পরের ঘটনা। আধডজন লোকের একটা দল আসছে। আমাদের রেস্ট হাউসের দিকে। ওই গ্রাম থেকে। লোকগুলোর হাতে খাবার সামগ্রি। দলনেতা গোছের একজন এলেন আগেভাগে। কাচু-মাচু করে বললেন, গালতি হয়ে গেছে, মাফ করে দেন। ঘটনা কী, টাট্টুওয়ালা বেটাই যত নষ্টের মূল। ব্যাটা এমন করে বললো যে আমরা ধরে নিয়েছিলাম আপনারা হিন্দু। আর হিন্দুদের খাবার মতো কিছু তো আমাদের কাছে নাই। পরে, জানলাম আপনারা মুসলমান। কী শরমের ব্যাপার। এই নেন, কিছু খাবার এনেছি। দাম-টাম দেওয়ার চিন্তা মাথায় আনবেন না। আপনারা আমাদের মেহমান। খান। খেয়ে-দেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। আর আমাদের অশোভন আচরণের কথা ভুলে যান। মাফ করে দেন।
আমি তো অবাক। বাহ! বদান্যতা কাকে বলে। এইটাই কাশ্মিরি সংস্কৃতি। সহনশীলতার কী ঐতিহ্য! ভাবলাম যাব সেখানে। সব সময়ই। গ্রামবাসীরা শুনলো সালমান রুশদী একজন মুসলমান। দলে দলে চলে এলো তারা। আমাকে ঘিরে ধরলো। আমি যেন তাদের রঘুবীর। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তারা বসে থাকে। পেটের সব কথা খুলে বলে। তাদের জীবন যাপন মান-অভিমান, আত্মসম্মানবোধ কী বিষয়ে না কথা বলে তারা। আমাকে সুহৃদ মনে করে। ধীরে টের পাই, কাশ্মিরি জনগণের দুঃখটা কোথায়। কোথায় মন তাদের বিষিয়ে উঠছে। অদ্ভুত ব্যাপার দেখেন, দিলি কি বম্বেতে ভারতীয় বুদ্ধিজীবীদের আমি ওই লোকগুলোর অন্তর বিষিয়ে ওঠার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইলাম। বুদ্ধিজীবীরা পাত্তাই দিলেন না। কেউ কেউ আবার এককাঠি সরেস। তারা বললেন, মুসলমানদের হয়ে এমন ভাষায় বলবেন না। রুশদী, আপনার কথায় কেমন সাম্প্রদায়িক টান টের পাওয়া যায়। বুঝেন, রুশদী সাম্প্রদায়িক? আমি মুসলিম সাম্প্রদায়িক!

রাজনীতিবিমুখ কোনো বই লিখবেন?

রুশদী: হ্যাঁ। এ ব্যাপারে আমার উৎসাহ বিপুল। মাঝে মাঝে মনে হয়, ব্যক্তিগত জীবন আর সার্বজনীন জীবনের মধ্যে আজকাল আর ফারাক নেই। অথচ, একসময় এই দুই জীবনের তফাৎ ছিল বিস্তর। এখন ঘরে ঘরে টেলিভিশন। প্রত্যেকটা রুমেই এই যন্ত্রটা পাবেন। ফলে, পৃথিবীর কোথায় কী ঘটছে, তার খবর নিমেষের মধ্যেই জেনে যান। অর্থাৎ পৃথিবীর নিত্যদিনকার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা আপনার প্রত্যহিক জীবন যাপনের ওপর প্রভাব ফেলছে। লোকজন পড়িমরি করে খুঁজছে, তাদের চাকরি আছে না নেই? মুদ্রার মূল্য কত? আর এসব আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরের ব্যাপার। কাজে কাজেই হেরাকিটাসের আইডিয়া চরিত্রই গন্তব্য গেছে বদলে। আমার লেখায় উঠে আসছে গোটা বিশ্ব। এর কারণ এই নয় যে, আমি রাজনীতি বিষয়ে লিখছি বলেই তা ঘটছে। আসল কারণ হলো আমি লিখছি মানুষ সম্পর্কে।

মার্কিন লেখকদের একটু আলাদা কিসিমের মনে হয় রাজনীতি সেখানে আর ফিকশন এখানে কোনো মার্কিন লেখকের লেখা ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডে কোনো প্রভাব ফেলে না।

রুশদী: তাতে কী, পরোয়া করে কে?

ভারতের অবস্থা কী? আপনার কি মনে হয় সেখানে উপন্যাস ও রাজনীতির মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে?

রুশদী: না। শুধু তাই যদি হতো! ভারতের বিখ্যাত লেখকদের গণ্য করা হয় মার্কিন লেখকদের ঠিক যেভাবে বিবেচনা করা হয় তারা এই ধরনের আলাপ-আলোচনার পাত্র বিশেষ। ইংল্যান্ডের চিত্রও একই রকম। ইউরোপেও তাই। মার্কিন মুলুকে, এই তো সে দিনও, মেইলার, সোনট্যাগ, আর্থার মিলার এর সময়ের হাল-হকিকত এইরকমই ছিল।

কী ঘটেছিল?

রুশদী: জানি না। ইংরেজ উপন্যাসের কথায় আসি। হাতেগোনা দু’একটা উপন্যাসই লেখা হয়েছে, যেগুলো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের উচ্চমার্গীয়তার সঙ্গে পালা দিতে সম। মজার ব্যাপার দেখেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের জয়জয়কার। বিশ্বের সুপার পাওয়ার কিন্তু ব্রিটিশদের দাপটের চরম সেই যুগেও লেখকরা কিন্তু মতার প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন না। এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও একই চিত্র দেখা যায়। দেশটি বিশ্বের এক নম্বর সুপার পাওয়ার। আমেরিকা মানেই অসীম মতা। এই সত্য সারা বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। রবার্ট স্টোন, ডোন দোলিও, জোয়ান দিদিয়ান প্রমুখ মার্কিন লেখক সরাসরি রাজনীতিতে অংশ নেন। কিন্তু আমার মনে হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশনীতিতে অধিকাংশ লেখকেরই আস্থা কম। আগ্রহ নেই বললেই চলে। ফলে, মার্কিন দাপট সম্পর্কে লেখালেখি কম হয়।

রাজনীতি ও ক্ষমতা আপনার আগ্রহের বিষয়। এর বাইরেও, আপনার লেখায় নানান উদ্ভাবন ল করা যায়। দ্য ইউজার্ড অব অজ আপনাকে লেখক বানিয়েছে, তাই স্বীকার করেন?

রুশদী: শোনেন, চলচ্চিত্রটি দেখে বাড়ি গেলাম। একটা গল্প লিখে ফেললাম। নাম দিলাম ওভার দ্য রেইনবো। তখন আমার বয়স কত আর হবে? নয় কি দশ বৎসর। গল্পের নায়ক এক বালক। যে কি-না বম্বে শহরের কিনার ধরে হাঁটছিল। হঠাৎ তার চোখ যায় আসমানের দিকে। একটা রামধনুর দিকে। ওই রামধনুর লেজ ধরে, ওই বালক হাঁটতে লাগলো। ধীরে ধীরে উঠে গেল উপরে। ওই আসমানে। রূপকথার গল্পে যেরকম হয় আর কী। তো বালক এই বিশাল অভিযান চালাল। রূপকথার অভিযান। গল্পটা অবশ্য আর স্বশরীরে বেঁচে নাই।

আপনার বাবার হেফাজতে ছিল?

রুশদী: এরকমই বলেছিলেন তিনি কিন্তু ঘটনা কী বাবা মারা গেলেন। তার কাগজপত্র ঘাটলাম। না কোথাও ওই গল্পের হদিশ পেলাম না। বাবা মারা গেলেন সেই ১৯৮৭ সালে। বহু বছর পর তলাশি চালাবো এমন কোনো ট্রাঙ্ক অবশিষ্ট নাই আর। অতএব, আশা ছেড়ে দিয়েছি। ওই গল্পের পাণ্ডুলিপি তো গেছেই, এর পরের দিকের আরেকটি পূর্ণাঙ্গ লেখাও হারিয়েছি। ইংল্যান্ডের রাগবি স্কুলের গণ্ডি সবে পার হয়েছি। ক্যামব্রিজে ঢুকবো ঢুকবো করছি। আর মাত্র পাঁচমাস। এই কয় মাসেই লিখলাম। টার্মিনাল রিপোর্ট। ফিকশানধর্মী লেখা। ক্যামব্রিজে ঢুকলাম। সব ভুলে গেলাম। তার কুড়ি বছর পর আমার মা বললেন লেখাটি পাওয়া গেছে। পাণ্ডুলিপিটি যেন ১৮ বছর বয়সী আমারই প্রতিচ্ছবি। রাজনৈতিকভাবে কনসারভেটিভ। ওই ১৮ বছর বয়সী বালক, এখন আমি যা জানি, তার সবই জানতো। বর্ণবাদ সম্পর্কেও ওখানে লেখা ছিল। যা হোক, পাণ্ডুলিপিটি সম্পর্কে আমার প্রতিক্রিয়া ছিল নেতিবাচক ধরনের। ফলে, মা যখন তা আমাকে পাঠাতে চাইলেন, আমি বললাম, তোমার কাছেই থাকুক। তারপর, তিনি তা হারিয়ে ফেলেন। মায়ের মৃত্যুর পর পাণ্ডুলিপি আর খুঁজে পাইনি।

এটাও হারিয়ে গেল?

রুশদী: কী ভয়ানক! আমার অনুতাপ হয়। দিনলিপির মতো করে আমার ওই সময়টা ধরা ছিল। স্কুল বয়সটাকে নিয়ে কোনো লেখা তৈরি করতে চাইলে পাণ্ডুলিপিটা কাঁচামাল সরবরাহ করতে পারতো। আর কোনোভাবেই তা সম্ভব নয়। কেন যে বাসায় রাখতে গেলাম। এখন নিজেকে বেশ বোকা লাগে।

রাগবি স্কুলে আপনার সময়টা খারাপ কেটেছিল?

রুশদী: আমাকে বেত্রাঘাত করা হয়নি। তবে খুব নিঃসঙ্গ ছিলাম। বন্ধু ভাবতে পারি এমন লোকের সংখ্যা ছিল খুবই কম। এদিকে পূর্বসংস্কার ভরসা করে অনেক কাজ করতে হতো। শিকদের কাছ থেকে অবশ্য শিখেছি। দুই কী তিনজন শিক ছিলেন রীতিমতো প্রেরণাদানকারী। রবিন উইলিয়ামস'র চলচ্চিত্রের মতো। জে.বি, হোপ-সিম্পসন নামের বয়স্ক এক ভদ্রলোক ছিলেন। ইতিহাসের শিক। ইনিই আমাকে দ্য লর্ড অব দ্য রিংস'র সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তখন আমার বয়স ১৫ বৎসর। বইটার প্রেমে পড়ে গেলাম। এখনও এর প্রায় পুরোটাই মনে করতে পারি। তখন বইটির ভাষা আমাকে মুগ্ধ করেছিল। কাল্পনিক সব ভাষা। এক সময় তো এলভিশ ভাষায় ঝানু হয়েই উঠলাম।

এলভিশ বলার মতো আর কেউ তখন ছিল কি?

রুশদী: লর্ড অব দ্য রিংস পাগল দু'একজন মাত্র ছিল।

আর কী পড়তেন?

রুশদী: অগাথা খ্রিস্টি, পিজি উডহাউস-এর লেখা। ইংল্যান্ড আসার আগে এরাই আমার খুব প্রিয় লেখক ছিলেন। আলিগড়ের ঘটনা। দাদা-দাদি সেখানেই থাকতেন। আমার দাদা ছিলেন বিদ্যান লোক। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের তিবিয়া কলেজে পড়ান। এই ভদ্রলোক কিন্তু একজন ডাক্তার ছিলেন। ইউরাপে প্রশিণপ্রাপ্ত ডাক্তার। তবে, ইউরোপে ট্রেনিং নিলে হবে কী, তিনি আগ্রহী হয়ে ওঠেন, ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা শাস্ত্রের প্রতি। ওষুধের প্রতি। দাদার একটা হোন্ডা ছিল। দাদার পিছনে উঠে বসতাম। বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিতে আমাকে নামিয়ে দিতেন তিনি। ছেড়ে দিতেন বইয়ের রাজ্যে। বাহারি সব বই। উল্টে পাল্টে দেখি। পড়ি। সেখানেই পেয়ে যাই আমার সেসময়ের প্রিয় এ দুই লেখককে। পড়ি আর মুগ্ধ হই। প্রেম জমে ওঠে। বাড়িতে বই নিয়ে আসি। এক সপ্তা যায়, পড়ে ফেলি। আবার যাই। লাইব্রেরি থেকে নতুন বই আনি। লাইব্রেরিটা তখন সারা ভারতেই জনপ্রিয় ছিল। নামডাক ছিল। এখনো সম্ভবত তাই।

সাড়ে ১৩ বছর বয়সের আগে আর কোনো গল্প লিখেছিলেন?

রুশদী: ওভার দ্য রেইনবো ছাড়া আর কোনো গল্প লিখেছিলাম কিনা, মনে পড়ে না। তবে, ইংরেজি ভাষাটা সেই বয়সেই আমার দখলে ছিল। একটা ঘটনার কথা বলি। স্যার ঢুকলেন কাসে। বললেন, ছাত্রেরা, তোমরা ছড়া লিখবে। পঞ্চপদী ছড়া। মুখস্ত নয়। নিজেরা বানিয়ে বানিয়ে লিখবে। একটা হলেই চলবে, তবে যারা দুইটা লিখতে পারবে তারা খুব ভালো ধরে নেব। লিখতে শুরু করে দিলাম। একে একে ৩৭টি লিখে ফেললাম। মনে মনে একটু গর্ববোধ করলাম। স্যারের কাছে জমা দিলাম। তিরস্কার করলেন তিনি। আমি তো হতভম্ব। কপি টপি করবো কী? আমি তো কারো ছড়া মুখস্ত করে রাখিনি। একেবারে তাৎণিক রচনা। কোথায় প্রশংসা কুড়াবো তা নয়। উল্টো তিনি আমাকে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন।

বম্বে শহরে বহু ভাষার চর্চা করা হয়। আপনার মাতৃভাষা কোনটি?

রুশদী: উর্দু। উর্দুই আমার মাতৃভাষা। পিতৃভাষাও বটে। উত্তর ভারতে হিন্দি বলারও চল ছিল। লোকজন অবশ্য কোনো একটা ভাষায় কথা বলতো না। বরং হিন্দি এবং উর্দুর ঘুটমিশেল দেওয়া হিন্দুস্থানি ভাষায় কথা বলতো তারা। এই ভাষার লিখিত কোনো রূপ নেই। বলিউডি চলচ্চিত্রের ভাষা এটা। বাড়িতে আবার আমরা হিন্দুস্থানির সঙ্গে ইংরেজি মিশিয়ে কথা বলতাম। সাড়ে তের বছর বয়সে ইংল্যান্ড আসার পর দুই ভাষাতেই কথা বলি। এখনও হিন্দি, উর্দুর মিশেল দেওয়া ভাষায় কথা বলতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করি। লেখার জন্য উর্দু কিংবা হিন্দিকে বেছে নিই না। ইংরেজিতে লিখি।

ভালো ছাত্র ছিলেন?

রুশদী: নিজেকে যতটা স্মার্ট ভাবতাম, ততটা ছিলাম না। বম্বে স্কুলের ভালো ছাত্রই ছিলাম কিন্তু ইংল্যান্ডের স্কুল রিপোর্ট দেখলে বোঝা যাবে, এখানে ততটা ভালো নয়। ভারতের আর দশটা বাবার মতোই আমার বাবা আমাকে কিছু অতিরিক্ত অনুশীলন করাতেন। বেশি বেশি রচনা লিখাতেন। মনে হচ্ছিল তিনি আমাকে শেক্সপীয়র বানাবেন। ভারতে এই চিত্র খুব দেখা যায়। বিশেষ করে পরিবারের বড় ছেলে কিংবা একমাত্র সন্তান হলে তো কথাই নেই, তাকে ঘিরে পরিবারগুলো বড় বড় স্বপ্ন দেখে। রাগবিতে ঢুকার পর একটু হাওয়া বদল ঘটে। ইতিহাসের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ি। দীর্ঘ গবেষণাপত্র এবং রচনা লিখে পুরস্কার লাভ করি। এদিকে বাবা মনে করতেন ইতিহাস পড়া কোনো কাজই না। তিনি চাইতেন ক্যামব্রিজে আমি এমন কিছু পড়ি যার একটা বাজার দর আছে।

আপনি তাকে প্রতিরোধ করেছিলেন?

রুশদী: সেবার প্রাণে রা করেছিলেন ড. জন ব্রডবেন্ট। তাকে গিয়ে বললাম, দেখেন, বাবা চান না আমি ইতিহাসে পড়াশুনা করি। কারণ ইতিহাস পাঠ ভবিষ্যতে কোনো কাজে দেবে না বলেই তিনি মনে করেন। অতএব, আমাকে অর্থনীতিতে পড়ার সুযোগ দেন। তা না হলে, বাবা আমার টিউশন ফি পাঠানো বন্ধ করে দেবেন। পরিচালক সাহেব বললেন চিন্তা করো না ব্যাপারটা আমার ওপর ছেড়ে দাও। বাবাকে একটা ভয়ানক চিঠি পাঠালেন তিনি। জনাব রুশদী আপনার ছেলে আমাকে সব জানিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে ক্যামব্রিজে অর্থনীতিতে পড়ার মতো যোগ্যতা তার নাই। যদি মনে করেন, ইতিহাস বিষয়ে তার পড়াশুনা অব্যাহত রাখার আবশ্যকতা নাই, তাহলে আমরা বরং আপনাকে আহ্বান জানাব তাকে ক্যামব্রিজ থেকে ফিরিয়ে নেন। তার জায়গা যোগ্যতর কাউকে ঠাঁই করে দেন। তখন ১৯৬৫ সাল। পাক-ভারত যুদ্ধ চলছে। খুব বিপদ। অথচ ভারত উপমহাদেশ ছেড়ে ক্যামব্রিজে পড়তে গেলাম। টেলিফোনে যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছিল না। সব লাইনই তখন সেনাদের নিয়ন্ত্রণে। সব ধরনের চিঠিই সেন্সর করা হতো। তারপর পৌঁছতে লাগতো কয়েক সপ্তা। তারওপর, বোমা হামলা বিমান হামলার খবর শুনছিলাম। যাক ব্রডবেন্টের চিঠি পাওয়ার পর অর্থনীতিতে পড়ার ব্যাপারে বাবা টু শব্দটি আর করলেন না। স্নাতক ডিগ্রি লাভ করার পর তাকে বললাম, আমি উপন্যাস লিখছি। তিনি মর্মাহত হলেন। হাহাকার করে উঠলেন: আমার বন্ধুদের কী বলবো? আসলে তিনি যা বোঝাতে চেয়েছিলেন, তা হলো, তার বন্ধুদের অপোকৃত কম মেধাসম্পন্ন সন্তানেরা বিরাট বিরাট চাকরি করবে। আর আমি কি না চাচ্ছিলাম, কপর্দকহীন উপন্যাস লেখক হতে? লেখালেখিকে তিনি শখের কাজ বলে গণ্য করতেন। সোভৗগ্য আমার, তিনি বেঁচেছিলেন দীর্ঘদিন। ফলে, তার জীবদ্দশাতেই দেখে গেছেন, তার ছেলের পছন্দটা মোটেও বাজে ছিল না।

তিনি তা বলেছিলেন?

রুশদী: আমার লেখা বইগুলোর প্রশংসা করেননি কখনো: আবেগে আর উৎসাহে রুদ্ধশ্বাস অবস্থায় ছিলেন। আমি তার একমাত্র ছেলে। আর সে কারণেই আমাদের সম্পর্কটা ছিল কঠিন। বাবা মারা যান ১৯৮৭ সালে। ইতোমধ্যে, মিডনাইটস চিলড্রেন এবং শ্যাইম উপন্যাস দুটি প্রকাশিত হয়ে গেছে। স্যাটানিক ভার্সেস তখনো বেরোয়নি। তার মৃত্যুর এক কি দুই সপ্তাহ আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আমার লেখালেখি নিয়ে একটা কথাও বলেননি। অথচ আমার লেখা বইগুলো শতশতবার পড়েছেন তিনি। সম্ভবত, বইগুলোকে আমার চেয়েও বেশি জানতেন। আসলে কী, তার বিরক্তি ছিল অন্য জায়গায়। মিডনাইটস চিলড্রেন উপন্যাসে যে বাবা চরিত্র আমি সৃষ্টি করেছি, তিনি এটাকে তারই স্যাটায়ার ধরে নিয়েছিলেন। বাবা কিন্তু ক্যামব্রিজে পড়াশোনা করেছিলেন। সাহিত্যে। আর এই কারণে আমার বইগুলো সম্পর্কে তিনি কিছু বলবেন এমন আশায় মুখিয়ে থাকতাম। প্রশংসা বাক্য অবশ্য শুনেছি। তবে মায়ের কাছ থেকে। আমি ভেবেছিলাম উপন্যাসে যে পরিবারের প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায় তাতে বরং মা সবচেয়ে বেশি বিরক্ত হবেন। অথচ বইটাকে তিনি ফিকশন হিসেবেই নিয়েছিলেন। আর বাবা আমাকে মা করার আগে একটু সময় নিচ্ছিলেন।

আপনি যে-রকম বললেন, স্যাটানিক ভার্সেস পড়ার সুযোগ তিনি পাননি?


রুশদী: না। বাবা আমার পে পাঁচশ ভাগ থাকতেন এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। তিনি ছিলেন ইসলামী পণ্ডিত। হযরত মুহাম্মদ (স:)’র জীবন এবং ইসলামের অরিজিন সম্পর্কে অগাধ জ্ঞান ছিল তাঁর। কোরান কীভাবে নাজিল হলো, আরো কতশত বিষয়ে প্রজ্ঞাবান ছিলেন। আমরা বছরে মাত্র একবার মসজিদে যেতাম। মৃত্যুবরণ করার সময় এমন কোনো মুহূর্ত ছিল না যখন তিনি ধর্মকে প্রত্যাখ্যান করেছেন কিংবা এমনও নয় আর্তনাদ করে আলাহকে ডাকছিলেন, কিছুই না। মৃত্যু একটা পরিসমাপ্তি নয় এমন মোহ তার কোনো দিনই ছিল না। দারুণ চিত্তাকর্ষক ব্যাপার। আমি ইসলামের উৎসের সন্ধানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তা কিন্তু কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। আমার ঘরেই এর চর্চা ছিল। বাবাই তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

ক্যামব্রিজ থেকে বের হয়ে কোথায় গেলেন?

রুশদী: প্রথমে অভিনেতা হওয়ার চেষ্টা করলাম। লন্ডনে থাকতাম। আমার চার বন্ধু একসাথে এক রুমে। লিখবো লিখবো ভাবছি। চিন্তা করছি অভিনয় করবো। এ সময় খুব নার্ভাস লাগতো। থিয়েটার করে বেড়ায় এমন কয়েকজন বন্ধু ছিল আমার। লন্ডনে কলেজের বন্ধু। থিয়েটার পাড়ায় তখন লেখকদেরও ভিড় ছিল। কেউ কেউ আবার ভালো অভিনেতাও। আমার অবস্থা ওদের মতো ছিল না। হাতে টাকা কড়ি নাই। কী করি? দাস্তি হাগেস নামে আমার এক বন্ধু ছিল। ক্যামব্রিজে একসঙ্গে পড়তাম। সে আবার লেখক। থিয়েটার করে বেড়ায়। একদিন দেখি, সুপার মডেলদের সঙ্গে শ্যাম্পুর বিজ্ঞাপন দৃশ্যে কাজ করছে। রাতারাতি বাজি মাত। টাকা হলো তার। গাড়ি কিনলো। আমাকে বললো, সালমান এ লাইনে চেষ্টা করে দেখ। ব্যাপারই না। সবই আয়োজন করলো সে। আমি ফেল মারলাম। অবশ্য, ম্যাকমেনাস নামের অন্য একটা বিজ্ঞাপন সংস্থায় চাকরি পাই। জীবনের প্রথম চাকরি।

তখন কি উপন্যাস লেখাও চালিয়ে যান?

রুশদী: শুরু করি বটে। তবে ব্যর্থ হই। সামনে কোনো দিক নিদের্শনা নাই। লিখি আর লিখি। কাউকে দেখাই না। সব বাজে মাল। এই রকম চলতে থাকে। এরপর আমার প্রথম উপন্যাস গ্রিমাস প্রকাশিত হয়। তার আগে অবশ্য আরেকটা উপন্যাস লিখি। জয়েস-এর চেতনাপ্রবাহ রীতি অনুসরণ করে। নাম দিই দ্য বুক অব দ্য পীর। পীর উর্দু শব্দ। যার অর্থ সাধক। প্রাচ্যের কোনো একটা দেশের এই পীর অনেক মতাধর। দারুণ জনপ্রিয়। ধনী লোকজন তার পেছনে। একজন জেনারেল তার পেছনে। তারা ভাবে ওই পবিত্র লোকটিকে মতায় বসাবে: মতায় বসিয়ে ওদের চোখ তো চরকগাছ; এই ব্যাটা দেখি তাদের চেয়ে অনেক বেশি ধরিবাজ। এই যেমন ইরানের লোকজন ভেবেছিল ইসলামী বিপবের মধ্য দিয়ে তাদের স্বপ্নপূরণ হবে। অতএব, ইসলামিক, র‌্যাডিক্যালিসম তারা সমর্থন করলো। হলো কী, খোমেনির মতো মতাধর ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটলো। যাক, বইটা লিখলাম। ভাষা খুব গোলমেলে ঠেকলো। ফেলে রাখলাম। বিজ্ঞাপন নিয়ে মেতে উঠলাম।

বাজে লেখা স্তূপ দেওয়ার জন্য প্রত্যেক লেখকেরই একটা করে ড্রয়ার থাকে, তাই না?

রুশদী: আমার আছে তিনটা। মিডনাইট'স চিলড্রেন শুরুর ৭৫ কি ৭৬ সালে আগে লিখতাম আর ড্রয়ারে ফেলে রাখতাম। সব ভূষিমাল মনে হতো। আপনি কে? এই প্রশ্নের মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত কিছুই লিখতে পারবেন না। ভারত-পাকিস্তান এদিকে ইংল্যান্ড সব মিলিয়ে আমার জীবনটা ছিল একটা জগাখিচুড়ি। ফলে, যা লিখতাম তাও হতো খিচুড়ি মার্কা। আমার প্রথম উপন্যাস গ্রিমাস কে কোনো লেখাই মনে হয় না। যাক ছাপা হয়ে গেছে। আমি প্রত্যাখ্যানও করিনি। কিছু পাঠক অবশ্য জুটলো। তারা বললেন উপন্যাসটা ভালো।
সমালোচকরা অবশ্য ধোলাই দিতে কারপণ্য করেননি। এতে উপকার হয়েছে। এরপর থেকে কোনোকিছু লিখতে গিয়ে সাঁতপাঁচ ভেবে, তবে নেমেছি। সব সময়ই একটা ভয়ে ভয়ে থাকতাম। মার্টিন এ্যামিস, ইয়ান ম্যাকওয়ান, জুলিয়ান বার্নেস, উইলিয়াম বায়িদ, কাজাও ইশিগুরু, তিমথি মো, এ্যাঞ্জেলা কার্টার, ব্রসি চ্যাটউইন প্রমুখরা তখন চুটিয়ে লিখছেন। ইংরেজি সাহিত্যের এ এক বিশেষ মুহূর্ত। আমি তখন সবে শুরু করেছি। কোন পথে যেতে হবে জানা নাই। অতএব, ব্যাপার খুব সহজ ছিল না।

(রুশদী ও ওরহান পামুক)

মিডনাইটস চিলড্রেন, বিনিথ হার ফিট, ফিউরি, শলিমার দ্য কাউন-এর মতো সফল উপন্যাস লিখলেন। রচনা করলেন স্যাটানিক ভার্সেস। রুশদী ততদিনে এক কিংবদন্তির লেখক। তো স্যাটানিক ভার্সেসের শুরুর কথা একটু বলবেন?

রুশদী: একদল লোক আসমান থেকে পড়লেন। এই দৃশ্যটা, উপন্যাসটি শুরুর দিকের। এখন যেমন আছে। অথচ, এই দৃশ্য ফুটিয়ে তোলার আগে, শত শত পৃষ্ঠা লিখেছি। আর ভাবছি, দৃশ্যটা আঁকলাম। হচ্ছেটা কী? এ দৃশ্য কোথাকার? এখানকার নয় তো।

এই দৃশ্য দিয়ে, এভাবেই শুরু করলেন?

রুশদী: ভারি মজার দৃশ্য। শুরুটা অপূর্ব হয়েছে এমন ভেবে ছিলাম। আমার এখনো তাই ধারণা। যাক্ বই প্রকাশিত হলো। বহুলোক বইটাকে ঘৃণা করলো। অনেকে ভালোবাসলো। একজন লেখকের জন্য মজার অভিজ্ঞতা হলো, একটা বই তিনি লিখছেন, হঠাৎ আবিষ্কার করলেন, যেভাবে লিখবেন বলে মনে মনে ঠিক করেছিলেন, এ বস্তু ঠিক তার থেকে আলাদা হচ্ছে। গতিপ্রকৃতি যাচ্ছে পাল্টে। এর মধ্য দিয়েই তিনি বইটির সমস্যাগুলো চিহ্নিত করবেন। সমাধান দেবেন। ফিউরি লিখছি শিরোনাম বদলে যাচ্ছে। প্রতিদিন। কী বিপদ! অনেক দিন ভেবে পাইনি বইটা কী বিষয়ে লিখছি। নিত্যদিন ঘুম ভেঙে দেখি উপন্যাসটা বদলে যাচ্ছে। এর নাম ঠিক করার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বুঝে উঠতে পারিনি বইটার উপজীব্য কী। কী নিয়ে লিখছি? পুতুল সম্পর্কে এ উপন্যাস, নাকি নিউইয়র্ক, সন্ত্রাস নাকি স্রেফ বিবাহ বিচ্ছেদ কাহিনী বর্ণনা করছি? মিডনাইট'স চিলড্রেন লেখার ক্ষেত্রেও একই মুশকিলে পড়ি। নাম স্থির করার ঝামেলা পোহাই। এক সময় ভাবলাম আগে নাম তো ঠিক করি। তারপর লেখালেখি। নাম ঠিক করতেই কয়েক দিন কেটে গেল। এইবার, দুইটা জুটলো। চিলড্রেন অব মিডনাইট এবং মিডনাইটস চিলড্রেন। নাম দুইটাকে একটার পর একটা টাইপ করতে থাকলাম। একদিন পর মনে হলো, চিলড্রেন অব মিডনাইট বাজে ধরনের। মিডনাইটস চিলড্রেনই খাসা। মনে ধরলো। উপন্যাসটির কেন্দ্রবিন্দু দেখতে পেলাম। স্যাটানিক ভার্সেস লিখতে গিয়ে দেখা দিল আরেক সমস্যা। ভেবে পাচ্ছিলাম না উপন্যাস কি তিনটা হবে না একটা। একে একটা উপন্যাস হিসেবে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে অনেকটা সময় পার করে দিই। দীর্ঘ উপন্যাস। লিখতে লিখতে ছেদ পড়তে পারে। বিরতি দিতে হতে পারে। তারপরও ঝুঁকি নিলাম। সাহস করলাম। আত্মবিশ্বাস ছিল দৃঢ়। ইতোমধ্যে দুটো উপন্যাস লিখে অসাধারণ সাফল্য লাভ করলাম। টের পেলাম ট্রাঙ্কে বিপুল জ্বালানি মজুদ আছে। আমার যা খুশি লেখার মতো মতা আর রসদ আছে।

খ্যাতি আর ফতোয়া সালমান রুশদীকে ইতোমধ্যে একটা কাল্ট-এ পরিণত করেছে। এই দুই বস্তু লেখার টেবিলেও হাজির হয়?

রুশদী: না। নিঃশব্দ নিরিবিলি ঠাঁই করে নেওয়ার হিম্মত লেখকদের থাকে। আমি আমার ঘরে। দরোজা বন্ধ। কোনোকিছু লিখছি। সেই মুহূর্তে লেখাই তাৎপর্যপূর্ণ আর কিছু নয়। লেখালেখি শক্ত কাজ। লেখা আপনাকে চাইবে খুব করে। অথচ মাঝে মধ্যে আপনার মনে হবে সব কথা ফুরিয়ে গেছে। বলার আর বাকি নেই। বাকশক্তিহীন মূক বলে নিজেকে অবিষ্কার করবেন। কোনো বই লেখার েেত্র, আমার মনে হয়, শেষ অংশটা থেকে শুরু করাই ভালো। স্টুপিড অংশটা দিয়েই শুরু করবেন। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে, একটা স্মার্ট সমাপ্তি টানবেন। লেখা শুরুর পর অনুভব করবেন, আপনার কাজ খুব বেশি নয়। অপর্যাপ্তই। কখনো দেখা দেবে অন্য উৎপাত। বুঝতে পারবেন না আপনার কাজটা কী। কঠিন ব্যাপার! একবার কাজে মগ্ন হয়ে পড়লে, খ্যাতিমান হওয়ার জন্য হাহুতাশ করার মতো বেহুদা সময় আপনি আর পাব
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪১
১৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×