পাড়া গাঁয়ের শেষ রাত। ডুবুডুবু করছে চাঁদ। এই চাঁদ জীবনানন্দের। আধখানি।প্রান্তরের সেই জোছনায়! যেখানে আদি ও আসল গল্কেপ্পরা প্রাণ পায়, জেগে টের পেলাম ঘোটকী আমার কাঁধ কামড়ে ধরেছে। আধো ঘুম আধো জাগরণে নদী পাড়ের কাশবন দুলিয়ে হাওয়া ছুটছে। ক্ষীণধারা ঝর্নার মতো একটু একটু জাগছে নদী।
শুভ্র ঘোটকী আমার স্নান চায়। সাঁতার কামনা করে। মুখোমুখি দাঁড়ালাম।
হাঁটুজলে। জল ছিটিয়ে, ডলে ডলে ধুয়ে দিচ্ছি কাশবন। ঘোটকীর কেশর।
ব্যাস্ শুরু হয়ে গেল তুফান। রক্তে বাণ। হ্রেষা ধ্বনি তুলছে ঘোটকী। যার
মানে মেরে ফেল, খুনাখুনি হোক। বনধ চোখ । শ্বেত-পাথরের বাটি মাজন
করছি, গা ধুয়ে দিচিছ। রাত্রি বেলা। খেলছি জল খেলা। মিহি সুরে বলে সে
আরো স্রোতে আরো বেগে ভাসিয়ে নিয়ে যাও। আমাকে মেরে ফেল।
জলের গভীরে ঘোটকী কামড়ে ধরেছে। বন্ধ চোখ দম বন্ধ প্রায়। জলের চাপে ফেটে যাচ্ছে কান। শ্বাস নিতে সহিস শুদ্ধ ঘোটকী ভোঁস করে উপরে উঠে আসতে চায়। এমন সময় দুর আসমানে উল্কা বৃষ্টি শুরু হয়। চরাচর বিধ্বস্ত হয়ে পড়ার জোগার। বলছে সে থামো।ক্ষান্তি দাও। ভোরের শীতল বাতাস রওনা হয় নি তখনো । ভুমিকম্প হলো। তারপর সব চুপচাপ। তলিয়ে যাওয়ার অনুভূতি। ডুবছে চাঁদ। শেষ রাতে যাচিছ জলের অতলে। শ্যাওলা স্তর পার হয়ে কাদায় তলিয়ে যাচ্ছি আমি আর আমার মৃতপ্রায় ঘোটকী। একটু আগেও যার হ্রেষা ধবনি প্রান্তরের আধখানি চাঁদ বৈতরণী পার করতে চেয়েছিল কিনা কে জানে। যে আমার কাঁধ কামড়ে ধরে ছিল বৃষ্টি আর ঝড় চেয়ে ! দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘুমুচ্ছে এখন।
তারপর আর কী! সেই একই দৃশ্য, পিঠভর্তি মাল বোঝাই করা ঘোটকী যাচেছ বাজারে। লাগাম ধরে আগে আগে যাচ্ছে সহিস।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


