
এর আগে টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়েছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। আর সাকিবের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা বোঝাতেই যেন ইংলিশদের ওপর পরিপূর্ন বোলিং আধিপত্য বজায় রাখে টাইগাররা। ৫৩ রানেই ৩ উইকেট পড়ে গিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় ইংলিশরা। সেখান থেকে ট্রট-মরগান ১০৯ রানের জুটি করে ইংলিশদের সম্মানজনক স্কোর গড়ার ভিত গড়ে দেন। ট্রট ৯৯ বলে ৬৭ এবং মরগান ৭২ বলে ৬৩ করে আউট হলে ইংলিশরা আবারও ভেঙ্গে পড়ে। ফলে ৪৯.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২২৫। দলীয় বোলিংয়ের চমৎকার এক উদাহরন গড়ে টাইগাররা। শফিউল, রুবেল, নাইম ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, মাহমুদুল্লাহ এবং সাকিব সব বোলারই উইকেট পেয়েছেন। এর মধ্যে সাকিব, রাজ্জাক এবং নাইম ইসলাম নেন ২টি করে উইকেট।
জয়ের জন্য ২২৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। দেখেশুনে ব্যাটিং করছিলেন তামিম ইকবাল এবং ইমরুল কায়েস। বল বাছাই করে বাউন্ডারি হাঁকছিলেন তামিম। তামিম'কে সময়োপযোগী সঙ্গ দিচ্ছিলেন ইমরুল কায়েস। এই জুটির দৃঢ়তায় ৭ ওভার শেষেই বিনা উইকেটে অর্ধশত রান করে বাংলাদেশ। ব্রেক থ্রুর জন্য মরিয়া ইংল্যান্ড অষ্টম ওভারেই স্পিন আক্রমনে নামায় গ্রায়াম সোয়ানকে। সোয়ান প্রথম ওভারে ব্যর্থ হলেও বদলি পেসার হিসেবে নেমে ঠিকই ইংল্যান্ডকে ব্রেক থ্রু এনে দেন টিম ব্রেসনান। ২৬ বলে ৩৮ রান করে ব্রেসনানের করা দারুন এক বলে বোল্ড হন তামিম। এরপর নেমে ভালই ব্যাট করছিলেন জুনায়েদ। ১২ বলে ১২ রান করার পর ব্রেসনানের একটি বল কোনরকম ঠেকিয়ে একেবারেই রান নেয়ার ইচ্ছা ছিলো না জুনায়েদ সিদ্দিকীর। কিন্তু ততক্ষনে ক্রিজের অর্ধেকটা পেরিয়ে গেছেন ইমরুল কায়েস। বাধ্য হয়ে দৌড় শুরু করেন জুনায়েদ কিন্তু এন্ডারসনের সরাসরি থ্রোতে রানআউট হন জুনায়েদ। এরপর আজমল শেহজাদের দুর্দান্ত এক ইনসুইং বলে শুন্য রানে বোল্ড হন রকিবুল হাসান। ডিউ ফ্যাক্টরের কারনে বল করতে সমস্যা হচ্ছিলো ইংলিশদের। তাই ২১ ওভারের সময় বল পরিবর্তন করেন ইংলিশ অধিনায়ক এন্ড্রু স্ট্রাউস। অসাধারন ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়ে ৯১ বলে হাফসেঞ্চুরি করলেন ইমরুল কায়েস। ওয়ানডেতে ইমরুল কায়েসের ১০০০ পুরন হলো। ১০০ বলে রান আউট হন ইমরুল কায়েস। এর আগে অযথা রান নিতে গিয়ে রান আউট করেছিলেন জুনায়েদকে এবার নিজেই রান আউট করে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলেন। গ্রায়েম সোয়ানের বলে বোল্ড হয়ে ফিরলেন সাকিব সাথে বাংলাদেশের জয়ও অনিশ্চতায় পরে গেলো। ২০ বলে ৬ রান করে মুশফিক কট বিহাইন্ড হলেন। ৫ বল খেলে কোন রান না করেই বোল্ড হলেন নাইম ইসলাম। ৫ বলে ১ রান করে সোয়ানের বলে ক্যাচ তুলে আউট হলেন আব্দুর রাজ্জাক।
এরপরই শুরু হয় সেই ফিনিক্স পাখির গল্প। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে যেমন শেষ দিকে বোলিংয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ বের করে আনেন তেমন এই ম্যাচেও শফিউলের হার না মানা ২৪ বলে ২৪ এবং মাহমুদুল্লাহর ৪২ বলে ২১ রানের সৌজন্যে বাংলাদেশ বাঁচিয়ে রাখলো বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল অভিযাত্রা।
ইংল্যান্ড
ওভার - ৪৯.৪
মোট রান - ২২৫/১০
বাংলাদেশ
ওভার - ৪৯
মোট রান - ২২৭/৮
----------------------------------------------------------------------------------
বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে সামহোয়ারইনব্লগ এবং বিডিস্পোর্টসনিউজডটকম এর যৌথ উদ্যোগে এই লাইভ নিউজ প্রচার করা হচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




