আমার প্রিয় পোস্ট

' অশ্বথের পাতাগুলো পড়ে আছে ম্লান শাদা ধুলোর ভিতর/এই পথ ছেড়ে দিয়ে এ-জীবন কোনোখানে গেল নাকো তাই।' (রূপসী বাংলা)

অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক: যাঁর চিন্তায় বাংলাদেশ নামক জাতি রাষ্ট্রটির অস্তিত্ব ছিল অনিবার্য।

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:২২

শেয়ারঃ
0 0 0

জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক
অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক-এর নাম আমরা সবাই কমবেশি জানি; কিন্তু তাঁর সম্বন্ধে কতটুকু জানি? আমরা কি জানি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশদ্রোহিতার অভিযোগে তাঁকে তাঁর অনুপস্থিতিতে ১৪ বছর সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছিল?

সেদিন আহমাদ মোস্তফা কামাল-এর লেখা (আমাদের মুক্তিযুদ্ধ: অনিবার্য ছিলো, আকস্মিক নয় ) পড়তে পড়তে আমার অনিবার্যভাবেই অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক-এর কথা মনে পড়ে গেল। কেননা, কামালের সে অনবদ্য লেখায় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক-এর প্রসঙ্গ উল্লেখিত ছিল।
আমি সে প্রসঙ্গে পরে আসছি।
অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক-এর জন্ম ১৯১৪ সালে। ঢাকার নবাবগঞ্জ জেলার পারাগ্রাম-এ। পারাগ্রাম এখন অবশ্য উপজেলা। বাবা আবদুল আলী-চাকরি করতের ব্রিটিশ ভারতের পুলিশ বিভাগে। আমরা জানি, পুলিশ বিভাগের চাকরি বদলীর চাকরি। সুতরাং ছেলেবেলায় নানা জায়গায় ঘুরেছেন আবদুর রাজ্জাক। ছেলেবেলার পড়াশোনা: যেমন রংপুরে, তেমনি হুগলীতে
ঢাকার সরকারি মুসলিম হাইস্কুল। রাজ্জাক ম্যাট্রিক পাস করেছেন ঐ স্কুল থেকেই।
আই. এ- পাস করেছেন ঢাকা কলেজ থেকে।
১৯৩১ সাল। ভর্তি হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক-অর্থনীতি বিভাগ নামে একটি পৃথক বিভাগ ছিল, সে বিভাগেই ভর্তি হলে।
এম. এ পাস করলেন ১৯৩৬ সালে । ঐ বছরই রাজনৈতিক-অর্থনীতি বিভাগে লেকচারার পদে যোগ দিলেন রাজ্জাক। পরে অবশ্য রাজনৈতিক-অর্থনীতি বিভাগ ভেঙ্গে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতি নামে দুটি পৃথক বিভাগ হল। রাজ্জাক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ বেছে নিয়েছিলেন। কখনও আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক বিভাগেও কাজ করেছেন। আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক বিভাগটি গঠিত হয়েছিল ইতিহাস বিভাগ ভেঙ্গে।
১৯৫০ সাল। লন্ডন গেলেন রাজ্জাক।। ভর্তি হলেন লন্ডন স্কুল অভ ইকনমিক্সে। অবশ্য কোনও ডিগ্রি না নিয়েই দেশে ফিরে এলেন। আসলে ডিগ্রির প্রতি বিন্দুমাত্র মোহ ছিল না রাজ্জাকের। তাঁর জীবনও ছিল অত্যন্ত সাধাসিধে। সংসারে জড়াননি, ছিলেন চিরকুমার। খুব বই পড়তেন। শুনেছি জ্ঞানতৃষ্ণার্তরা তাঁর কাছে এলে তিনি নাকি ভীষন উজ্জ্বীবিত বোধ করতেন। তবে রাজ্জাকের লেখার অভ্যেসও তেমন ছিল না। কেন? বলতে পারি না। কয়েকটি প্রবন্ধ ও লিখিত ভাষন ব্যতীত তাঁর কোনও প্রকাশিত লেখাই নেই!
রাজ্জাকের আগ্রহ এবং পান্ডিত্য ছিল প্রত্নতত্ত্ব, ইতিহাস ও রাজনীতি।
কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাস কী ছিল?
এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান লিখেছেন, The "pernicious" influence of his political ideas on the dissenting politicians of the 1960s once led the Ayub regime to dismiss him from his teaching position at Dhaka University on the allegation that he was not mindful of his duties as a teacher, but which the government failed to establish in the court. His "treasonable" acts during the War of Liberation earned him in absentia a fourteen-year rigorous imprisonment.(বাংলাপিডিয়া)
এবার আহমাদ মোস্তফা কামাল-এর লেখার প্রসঙ্গে আসি। (আমাদের মুক্তিযুদ্ধ: অনিবার্য ছিলো, আকস্মিক নয় ); আবদুর রাজ্জাক মনে করতেন যে, দেশ বিভাগের পরবাঙালির একাংশ (অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গ) বৃহত্তর ভারতীয় জাতিসত্ত্বায় মিশে যেতে সম্মত হলেও অপরঅংশটি (অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্থান) পাকিস্থানের অংশ হতে সম্মত হল বটে-তবে পূর্ববাংলার নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য (সাংস্কৃতিক) অক্ষুন্ন রেখেই। কামাল লিখেছেন, (অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের মতে) যে বৈশিষ্ট্য জন্ম দিল ভাষা আন্দোলনের-যার চূড়ান্ত পরিণতিই জাতীয় রাষ্ট্র বাংলাদেশ।
আহমাদ মোস্তফা কামাল-এর লেখাটির লিঙ্ক-

Click This Link

অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের সান্নিধ্যে যাঁরাই এসেছেন তারা প্রত্যেকেই অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক কে বলেছেন: “শিক্ষকের শিক্ষক।” এই একটি মাত্র উক্তিতে আমরা বুঝতে পারি অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক-এর মননশীলতার গভীরতা পরিমান। যা তা লোক তাঁর পাশে ভিড় করেননি। তাঁর অনুগামীদের মধ্যে যেমন ছিলেন বঙ্গবন্ধুর মতন প্রাজ্ঞ নেতা, তেমনি আহমেদ ছফার মতন প্রাজ্ঞ লেখক।
আহমেদ ছফা তো বটেই- সলিমুল্লাহ খান, অধ্যাপক আহমেদ কামাল প্রমূখ -রাজ্জাক ঘরানার সার্থক উত্তরসূরী।
তখন বলছিলাম যে, আসলে ডিগ্রির প্রতি আবদুর রাজ্জাকের বিন্দুমাত্র মোহ ছিল না। তারপরও ১৯৭৩ সালের প্রথম দিকে ভারতের দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় আবদুর রাজ্জাককে পি এইচ ডি প্রদান করেন। তাঁর জ্ঞানসাধনার কথা তাহলে সীমান্ত অতিক্রম করেছিল?
১৯৭৫ সালে সিনিয়র লেকচারার হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেন রাজ্জাক।
১৯৭৫ সালে তৎকালীন সরকার আবদুর রাজ্জাককে জাতীয় অধ্যাপক পদে অধিষ্ঠিত করে।
আবদুর রাজ্জাকের মৃত্যু ১৯৯৯ সালের ২৮ নভেম্বর।
মাঝেমাঝে আমার মনে হয়-অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের জ্ঞানের আলোয় আলোকময় হয়েছেন অল্পসংখ্যক মানুষ। তাঁর ছাত্রছাত্রীরা, তাঁর সান্নিধ্যে যারা এসেছেন, তারা। অথচ, আবদুর রাজ্জাক বই লিখেননি বলে বৃহত্তর বাঙালি জাতি জানলই না কী তিনি ভাবতেন। আমার মনে হল, আবদুর রাজ্জাক এক মৌন পাহাড়, যে পাহাড়ের সোনার খনির সন্ধান অল্প সংখ্যক অভিযাত্রীই জানে।
পরে আবার মনে হল, পাহাড়েরও তো ছায়া থাকে, যা অতি গভীর।
গভীর ও বিস্তারিত।

তথ্য ও ছবি: বাংলাপিডিয়া।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): রাজ্জাক ;
প্রকাশ করা হয়েছে: প্রবন্ধ/নিবন্ধ  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৪৭
টিপু বলেছেন: মূল লেখাটির সাথে শিরোনামের প্রাসঙ্গিকতা অতি সামান্য।শিরোনাম পড়ে মনে হয়েছিল,স্বাধীনতা বিষয়ে অধ্যাপক রাজ্জাকের মতাদর্শ বা স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর সম্পৃক্ততা প্রভূতি বিষয়ের উল্লেখ থাকবে।কিন্তু তা না হয়ে এই পোষ্টের লেখাটি হয়ে দাড়িয়েছে মূলতঃ অধ্যাপক রাজ্জাকের জীবনী বিষয়ক।
তবুও লেখাটির জন্য ধন্যবাদ।
৩. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৫৭
খলিল মাহমুদ বলেছেন: বরাবরের মতোই ভালো লেখা।
ঢাকার নবাবগঞ্জ জেলা কথাটি বুঝিনি। নবাবগঞ্জ উপজেলা নয় তো? ওখানে অবশ্য 'পাড়াগ্রাম' উপজেলার নাম চলে আসায় আরো কনফিউসড। আমার বাড়ি দোহার উপজেলায় বলে আগ্রহ।

ও...........আপনার ধারণা ঠিক।
৪. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:০৪
বিবর্তনবাদী বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ পোস্টটির জন্য।

বাংলাদেশে অনেকেই হয়ত বিভিন্ন লেখালেখিতে বা আলোচনায় অধ্যাপক রাজ্জাকের কথা শুনে থাকেন, কিন্তু ওনার ব্যাপারে জানেন অনেক কম।

অধ্যাপক রাজ্জাক নিজে কখনই কোন বই লেখেন নি। তার সম্পর্কে সব চাইতে বেশি জানা যাবে আহমদ ছফার "যদ্যপি আমার গুরু" বইটি হতে। আহমদ ছফার শক্তিশালি লেখনির ছোঁয়া অধ্যাপক রাজ্জাকের মতাদর্শ স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠেছে সেই বইটিতে।

উনি লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্সের বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ হ্যারল্ড লাস্কির তত্ত্বাবধানে পিএইচডি করতে যান হার্ভার্ডে। সেখানে সহকর্মী হিসেবে পান একাত্তরের আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারকে। হ্যারল্ড লাস্কির মৃত্যুর পরে নতুন সুপারভাইজরের সাথে বনাবনানি না হওয়ায় অধ্যাপক রাজ্জাক কোন ডিগ্রি না নিয়েই দেশে চলে আসেন।

ঢাবির অধ্যাপক সরদার ফজলুল করিম অধ্যাপক রাজ্জাকের একটি বিখ্যাত সাক্ষাৎকার নেন। ওনার ব্যাপারে জানতে হল আহমদ ছফার "যদ্যপি আমার গুরু" বইটিই সবচাইতে উৎকৃষ্ট এবং অসাধারন।

জুবায়ের ভাইকে আবারো ধন্যবাদ।
১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৩৫

লেখক বলেছেন: @ বিবর্তনবাদী-

আপনি অধ্যাপক রাজ্জাক কে নিয়ে একটা পোষ্ট দিন।
মনে হচ্ছে ইয়াং জেনারেশনের অনেকেই ওঁর সম্বন্ধে আগ্রহী।
ধন্যবাদ।

৫. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:০৯
খলিল মাহমুদ বলেছেন: ডারউইনের সংযোজনটা খুব ভালো লাগলো।
৬. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৩৩
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: উনার সম্পর্কে জানতামই না!!
৭. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৪১
পারভেজ বলেছেন: কোথায় যেন ঐ দিন পড়লাম উনার সম্পর্কে।
++
৮. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:১১
ফিউশন ফাইভ বলেছেন: বিবর্তনবাদী বলেছেন: ....হ্যারল্ড লাস্কির মৃত্যুর পরে নতুন সুপারভাইজরের সাথে বনাবনানি না হওয়ায় অধ্যাপক রাজ্জাক কোন ডিগ্রি না নিয়েই দেশে চলে আসেন।

আমি তার কোনো এক প্রাক্তন ছাত্রের জবানি থেকে জেনেছি, পিএইচডি নিয়ে আবদুর রাজ্জাকের মধ্যে একধরনের বিতৃষ্ণা জন্মেছিল। তাই তিনি ফিরে এসেছিলেন। আহমদ ছফাও বোধহয় কোনো এক সাক্ষাৎকারে এই মত সমর্থন করেছিলেন।
৯. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩১
বিবর্তনবাদী বলেছেন: @ ফিউশন ফাইভ - হয়ত সেরকমই।

তবে "যদ্যপি আমার গুরু" বইতে আহমদ ছফা আর একটি মজার ব্যাপার উল্লেখ করেন। আহমদ ছফা তার পিএইচডির সুপারভাইজর হিসেবে অধ্যাপক রাজ্জাককে বেছে নেন। যদিও ঢাবির নিয়ম অনুযায়ী প্রফেসর ছাড়া কাউকে পিএইচডি সুপারভাইজর নেওয়া যায় না।

আহমদ ছফা অধ্যাপক রাজ্জাকের কাছে যখনই কোন বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য যেতেন, তিনি ছফাকে একটা না একটা বই ধরিয়ে দিতেন। একের পর এক বই পড়তে পড়তে ১৪ বছর কেটে যায়, কিন্তু ছফার পিএইচডিও আর শেষ হয় না।

বইটা পড়ে খুবই আনন্দ পেয়েছিলাম।
১০. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৪
বিবর্তনবাদী বলেছেন: @ জুবায়ের ভাই, ইচ্ছা আছে লিখবার। তাড়াতাড়ি লিখতে চেষ্টা করব।
১১. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৮
আওয়াজ বা উচ্চারণ বলেছেন:



ইমন যুবায়ের কে ধন্যবাদ । তবে সাবধান হতে বলছি নিচের করা মধ্যবিত্তসুলভ ফাঁকা কথাবার্তা না বলতে ।------

'অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের সান্নিধ্যে যাঁরাই এসেছেন তারা প্রত্যেকেই অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক কে বলেছেন: “শিক্ষকের শিক্ষক।” এই একটি মাত্র উক্তিতে আমরা বুঝতে পারি অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক-এর মননশীলতার গভীরতা পরিমান। যা তা লোক তাঁর পাশে ভিড় করেননি। তাঁর অনুগামীদের মধ্যে যেমন ছিলেন বঙ্গবন্ধুর মতন প্রাজ্ঞ নেতা, তেমনি আহমেদ ছফার মতন প্রাজ্ঞ লেখক।
আহমেদ ছফা তো বটেই- সলিমুল্লাহ খান, অধ্যাপক আহমেদ কামাল প্রমূখ -রাজ্জাক ঘরানার সার্থক উত্তরসূরী।'

এই সব ঢালাও মন্তব্য বরং আব্দুর রাজ্জাককে বুঝতে বিভ্রান্তি ভাড়াবে
। আর অধ্যাপক আহমদ কামাল ত একজন ইতর শ্রেণীর আহাম্মাক । আব্দুর রাজ্জাকের আও উনি বুঝেননি ।




বিবর্তনবাদীর সাথে সহমত---
'ওনার ব্যাপারে জানতে হল আহমদ ছফার "যদ্যপি আমার গুরু" বইটিই সবচাইতে উৎকৃষ্ট এবং অসাধারন।'

অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক মুসলিম মধ্যবিত্তের আত্মবিকাশের পারফেক্ট চিন্তাশীল প্রতিনিধি । নানান সাম্প্রদায়িক কারনে তার কর্মক্ষেত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও তাকে ঘিরে থাকা সুবিধাভোগী কলিগরূপি মাষ্টাররা তার বেদনার-লড়াইয়ের জায়গা বুঝতে অক্ষম ।

কেউ আগবাড়ালে বিস্তারিত বলব ।



১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১৬

লেখক বলেছেন: আপনার কথায় কৌতূহলী হয়ে উঠলাম। আশা করি কৌতূহল মেটাবেন।
ধন্যবাদ।

১২. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ ভোর ৫:৪৭
নাজিম উদদীন বলেছেন: রাজ্জাককে জানার জন্যে 'যদ্যপি আমার গুরু' খুবই কাজের। রাজ্জাকের সাথে কিসিন্জারের কি যেন একটা কানেকশান ছিল। কোথায় যেন পড়েছিলাম, কিসিন্জার বাংলাদেশে এসে তাঁর সাথে হোটেল ইন্টারকন্টিনালে ক্লোজড ডোর বৈঠক করেছেন। তখনকার সরকার এটা ভালভাবে নেয়নি।

যাই হোক রাজ্জাকরে আমার মনে হয় বাংলাদেশের সক্রেটিসের মত, হাঁটতে , চলতে জ্ঞান বিলিয়ে বেড়াতেন। নিজে কিছু লেখেন নাই, শিষ্যরা তার হয়ে লিখেছেন।

ডিগ্রীর ব্যাপারে আমার মনে হয়, প্রফেসর মারা যাওয়ায় মন খারাপ করে দেশে চলে এসেছেন।

প্রফেসর রাজ্জাকের একটা কথা মনে পড়ল, তিনি বলেছেন নতুন কোনদেশে গেলে সবার আগে তাদের লাইব্রেরীতে যাবে এতে জানা যাবে তারা কি চিন্তা করে, এরপরে যাবে কাঁচাবাজারে দেখবে তারা কি খায়। একেবারে মোক্ষম, "ইউ আর হোয়াট ইউ ইট।"
১৩. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫০
সুবিদ্ বলেছেন: আমার খুব প্রিয় মানুষ........অবশ্য উনি বোধ হয় কারোরই অপ্রিয় নন......
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৬

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৫. ১২ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৩:৪৫
হাফিজুর রহমান মাসুম বলেছেন: পড়ব নিশ্চিত আপাতত হাতের নাগালে রাখলাম।
১২ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:১৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৬. ২৩ শে জুলাই, ২০১০ রাত ১০:২০
জেমস আনজুস বলেছেন: @খলিল মাহমুদ, সরদার স্যারের জন্মস্থান নবাবগঞ্জের পাড়াগ্রামে। কিন্তু তাঁর বাড়ি হল বুড়িগঙ্গার কাছে কেরাণীগঞ্জের কলাতিয়া।
১৭. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:৩২
হাফিজুর রহমান মাসুম বলেছেন: অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক......কালের জ্ঞানতাপস। হুমায়ুন আজাদের নেয়া সাক্ষাৎকারটিও অসাধারণ। সলিমুল্লাহ খান রাজ্জাকের কিছুটা সমালোচনা করে একটি বই লিখেছেন...'বাংলাদেশের জাতীয় অবস্থার চালচিত্র' নামে।
রাজ্জাক স্যারের শ্রেষ্ঠ শিষ্য সম্ভবত আমদের আরেক নিভৃতচারী জ্ঞানতাপস সরদার ফজলুল করিম। তার আলাপচারিতায় আমরা রাজ্জাক স্যার সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছি।

ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালিন বারবার মনে হত কেন আব্দুর রাজ্জাকের ছাত্র হতে পারলাম না। নৃবিজ্ঞানে তার দখল ছিল অনন্য। শুনেছি তার বাড়িতেই কামাল হোসেনের সাথে হামিদা হোসেনের সংযোগ ঘটে।

কাজী আব্দুল ওয়াদুদ পরবর্তী বাঙালী মুসলিম পণ্ডিত হিসেবে তিনিই শ্রেষ্ঠ। আর ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের স্বর্ণযুগের পাঠ নিতে হলে তাকে রাজ্জাক স্যারকে বোঝা আবশ্যক। তার শোবার ঘরের চৌকিটি কোথায় আছে কে জানে?
২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৬

লেখক বলেছেন: কাজী আব্দুল ওয়াদুদ পরবর্তী বাঙালী মুসলিম পণ্ডিত হিসেবে তিনিই শ্রেষ্ঠ। আর ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের স্বর্ণযুগের পাঠ নিতে হলে তাকে রাজ্জাক স্যারকে বোঝা আবশ্যক।

একমত।
ধন্যবাদ।

১৮. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১১ ভোর ৬:২৮
তৌফিক জোয়ার্দার বলেছেন: খুব ভাল লাগল লেখাটি পড়ে। আমার চিন্তাগুরু 'রাশিদ নাঈম' ভাইয়ের কাছে উনার সম্পর্কে শুনেছিলাম। মোটামুটি আপনার পোস্টের কথাগুলোই। আপনার পোস্টে সেসব তথ্য সুন্দরভাবে গোছানো আঙ্গিকে পেয়ে অনেক উপকার হল। কৌতূহলও বেড়ে গেল উনার ব্যাপারে। এখন সেটা মেটাই কি করে তা-ই ভাবছি।
১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ৭:১২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৫৫৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
জীবন মানে শুধুই যদি প্রাণ রসায়ন/
জোছনা রাতে মুগ্ধ কেন আমার নয়ন।

zubairhossain@msn.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ