‘এত্ত বড় ফুল।’
ছোট্ট মেয়েটি বলল
দু-হাত ছড়িয়ে।
এরকম তিন লাইনের জাপানি কবিতাকে ‘হাইকু’ বলে।
কোবায়য়াশি ইসা (১৭৭৩-১৮২৭) ছিলেন জাপানের বিশিষ্ট হাইকু কবি। ‘নরক’ কী জিনিস তা বোঝাতে মাত্র তিন লাইনে কোবায়য়াশি লিখেছেন-
হেমন্তের উজ্জ্বল চাঁদ
পুকুরের শামুকেরা চিৎকার করছে
হাঁড়িতে।
তাঁর অনবদ্য একুশটি হাইকুর বাংলা অনুবাদ আপনাদের জন্য উপস্থাপন করা হল -
ভালো লাগে
ছেঁড়া কাগজের জানালা দিয়ে
নক্ষত্রের নদী দেখতে।
বুদ্ধমূর্তির
নাকের কাছ দিয়ে
উড়ে গেল একটা চড়ুই।
তুষার গলছে।
শিশুসহ বন্যায়
ভেসে যাচ্ছে গ্রাম ।
বসন্তের বৃষ্টি।
গাছের নীচে
ফেলে দেওয়া চিঠি।
তিন দিনের চাঁদ
জড়িয়ে আছে
শীতে।
মাছিটি মেরোনা!
এর হাতগুলি নড়ছে,
এমন কী পাগুলোও!
লাল চাঁদ,
যদি
শিশুরা পেত।
হঠাৎ বৃষ্টিতে
লেংটা হয়ে
নগ্ন ঘোড়ার পিঠে চড়লাম।
এমন কী এক হাঁটু পানিও
সন্ধ্যাকে
শীতল করে দেয়।
বড় জোনাকি,
ছড়ছড় ...ছড়ছড়
নেই!
শামুক
ধীরে ধীরে উঠছে
ফুজি পাহাড়ে।
দূরের পাহাড়কে
এখান থেকে
মনে হয় বড় একটা মাছি ।
দরজায় দাঁড়িয়ে মুতি
তুষারের গায়ে
নিখুঁত গর্ত।
মেয়েটি কোমড়ে পোকার কামড় গুনছে
তার শিশুটি
স্তন চুষছে।
এতই ছোট যে-
মেয়েটির কোমরে পোকার কামড়ের দাগও
সুন্দর দেখায়।
বিড়ালটি
প্রসারিত হচেছ, হাই তুলছে
সঙ্গীনি খুঁজছে।
শিশুটি বাগানে
প্রজাপতি দেখে হামাগুড়ি দেয়-সরসর ... সরসর
হামাগুড়ি, সরসর ...সরসর ...
শোবার ঘরে মশার
বিনবিন
পুড়ল!
ব্যাং
মনে হল
উগড়ে দিল মেঘ।
‘এত্ত বড় ফুল।’
ছোট্ট মেয়েটি বলল
দু-হাত ছড়িয়ে।
হেমন্তের উজ্জ্বল চাঁদ
পুকুরের শামুকেরা চিৎকার করছে
হাঁড়িতে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



