somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাও সেতুং এর একটি কবিতা

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মাও সেতুং। গনচিনের বিপ্লবী নেতা-নয়া চিনের অন্যতম রুপকার। তরুণ বয়স থেকেই চিনের ঘুনে ধরা সমাজটির আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে কেটেছে দারুন ব্যস্ত ও বিপদজনক সময়। তা সত্ত্বেও, আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে অবলোকন করেছি- কবিতার জন্য ওই মহান বিপ্লবীটি সময় বের নিয়েছেন, কবিতা লিখেছেন, আর সে কবিতা যেন তেন ধরনের কবিতা নয়; এমন কী মাওয়ের কট্টর সমালোচকরাও স্বীকার করবেন- মাও সেতুং এর কবিতায় একদিকে যেমন ফুটে উঠেছে প্রকৃতির নান্দনিক রুপ লাবণ্য; তেমনি প্রকাশ পেয়েছে জগৎ সম্পর্কে গভীর জীবনবোধ ...
আমরা মাও সেতুংয়ের তুষার কবিতাটি পাঠ করব। তার আগে কটি শব্দের মানে জেনে নেওয়া জরুরি।


১ লি: ১ লি= ৫৪৭ গজ।

২ তুন্দ্রা: মেরুপ্রদেশের বৃক্ষশূন্য বিস্তীর্ণ সমতল।

৩ শিহ হুয়াঙ: প্রাচীন চিনের সম্রাট। সময়কাল: ২৫৯ খ্রিস্টপূর্ব থেকে ২১০ খ্রিস্টপূর্ব ।ইনিই
প্রথম চিনকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।

৪ য়ূ তি: বিখ্যাত হান সম্রাট। সময়কাল: ২০৭ খ্রিস্টপূর্ব-৯ খ্রিস্টাব্দ।

৫ তাং সাম্রাজ্য: চিনের বিখ্যাত রাজবংশ। সময়কাল: ৬১৮ থেকে ৯০৭ খিষ্টাব্দ।

৬ সুঙ সাম্রাজ্য: চিনের বিখ্যাত রাজবংশ। সময়কাল ৯৬০ থেকে ১২৭৯ খ্রিস্টাব্দ।

৭ চেঙ্গিস খান: ত্রয়োদশ শতকের মঙ্গল নেতা। ইনিই মঙ্গল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।

তুষার

উত্তরাঞ্চলের দৃশ্য।
হাজার হাজার লি বরফে ঢেকে আছে,
দশ হাজার লি তুষার ঝড়ে লাঞ্ছিত।
চিনের প্রাচীর থেকে ভিতরে-বাইরে দেখছি
কেবলি ব্যাপক তুন্দ্রা চারিদিকে।

ঢেউ খেলানো হলুদ নদীটির
কুলকুল জলও জমাট।
রুপালি সাপের মতন নাচছে পাহাড়েরা
বার্নিশ করা উজ্জ্বল হাতির মতন লাফিয়ে লাফিয়ে
ওপরের আকাশে চড়ার চেষ্টা করছে।
দিনের সূর্যের আলোয়
সাদা পোশাক পরা এ গ্রহটি তার রঙীন গালে আমাদের কটাক্ষ করছে।
নদী আর পাহাড়েরা সুন্দর
বীরদের নতজানু করে মেয়েদের স্পর্শ করতে শেখায়-লাবণ্যময়ী ধরিত্রী।
যদিও সম্রাট শিহ হুয়াঙ ও য়ূ তি
মোটেও লিখতে জানতেন না।
তাং এবং সুঙ বংশের প্রথম সম্রাটেরাও ছিলেন বর্বর।
চেঙ্গিস খান, তার সময়ের মানুষ
স্বর্গীয় আর্শীবাদপুষ্ট
কেবলি জানতেন কি করে মহৎ ঈগল শিকার করা যায়।
তারা আর নেই।

আজ আমরা আছি। আমরা, অনুভূতিশীল মানুষ।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:২৬
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×