মাও সেতুং। গনচিনের বিপ্লবী নেতা-নয়া চিনের অন্যতম রুপকার। তরুণ বয়স থেকেই চিনের ঘুনে ধরা সমাজটির আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে কেটেছে দারুন ব্যস্ত ও বিপদজনক সময়। তা সত্ত্বেও, আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে অবলোকন করেছি- কবিতার জন্য ওই মহান বিপ্লবীটি সময় বের নিয়েছেন, কবিতা লিখেছেন, আর সে কবিতা যেন তেন ধরনের কবিতা নয়; এমন কী মাওয়ের কট্টর সমালোচকরাও স্বীকার করবেন- মাও সেতুং এর কবিতায় একদিকে যেমন ফুটে উঠেছে প্রকৃতির নান্দনিক রুপ লাবণ্য; তেমনি প্রকাশ পেয়েছে জগৎ সম্পর্কে গভীর জীবনবোধ ...
আমরা মাও সেতুংয়ের তুষার কবিতাটি পাঠ করব। তার আগে কটি শব্দের মানে জেনে নেওয়া জরুরি।
১ লি: ১ লি= ৫৪৭ গজ।
২ তুন্দ্রা: মেরুপ্রদেশের বৃক্ষশূন্য বিস্তীর্ণ সমতল।
৩ শিহ হুয়াঙ: প্রাচীন চিনের সম্রাট। সময়কাল: ২৫৯ খ্রিস্টপূর্ব থেকে ২১০ খ্রিস্টপূর্ব ।ইনিই
প্রথম চিনকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।
৪ য়ূ তি: বিখ্যাত হান সম্রাট। সময়কাল: ২০৭ খ্রিস্টপূর্ব-৯ খ্রিস্টাব্দ।
৫ তাং সাম্রাজ্য: চিনের বিখ্যাত রাজবংশ। সময়কাল: ৬১৮ থেকে ৯০৭ খিষ্টাব্দ।
৬ সুঙ সাম্রাজ্য: চিনের বিখ্যাত রাজবংশ। সময়কাল ৯৬০ থেকে ১২৭৯ খ্রিস্টাব্দ।
৭ চেঙ্গিস খান: ত্রয়োদশ শতকের মঙ্গল নেতা। ইনিই মঙ্গল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।
তুষার
উত্তরাঞ্চলের দৃশ্য।
হাজার হাজার লি বরফে ঢেকে আছে,
দশ হাজার লি তুষার ঝড়ে লাঞ্ছিত।
চিনের প্রাচীর থেকে ভিতরে-বাইরে দেখছি
কেবলি ব্যাপক তুন্দ্রা চারিদিকে।
ঢেউ খেলানো হলুদ নদীটির
কুলকুল জলও জমাট।
রুপালি সাপের মতন নাচছে পাহাড়েরা
বার্নিশ করা উজ্জ্বল হাতির মতন লাফিয়ে লাফিয়ে
ওপরের আকাশে চড়ার চেষ্টা করছে।
দিনের সূর্যের আলোয়
সাদা পোশাক পরা এ গ্রহটি তার রঙীন গালে আমাদের কটাক্ষ করছে।
নদী আর পাহাড়েরা সুন্দর
বীরদের নতজানু করে মেয়েদের স্পর্শ করতে শেখায়-লাবণ্যময়ী ধরিত্রী।
যদিও সম্রাট শিহ হুয়াঙ ও য়ূ তি
মোটেও লিখতে জানতেন না।
তাং এবং সুঙ বংশের প্রথম সম্রাটেরাও ছিলেন বর্বর।
চেঙ্গিস খান, তার সময়ের মানুষ
স্বর্গীয় আর্শীবাদপুষ্ট
কেবলি জানতেন কি করে মহৎ ঈগল শিকার করা যায়।
তারা আর নেই।
আজ আমরা আছি। আমরা, অনুভূতিশীল মানুষ।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




