somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প: যা হারিয়ে যায়

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টিভি নাটকে অভিনয়ের মতো সস্তা পেশা বেছে নেওয়ায় দু-বছর আগে ক্ষুব্দ হয়ে শান্তর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল কেয়া। চারুকলায় পড়ত শান্ত । পাস করে বেকার বসেছিল। অ্যাড ফার্ম কি অন্য কোথাও চাকরি পায়নি; মাঝে-মাঝে বইয়ের প্রচ্ছদ করত-আর টিউশনি। দেদার ধারদেনা হয়ে গিয়েছিল। শাহবাগের এক বন্ধুর মারফত হঠাৎ করেই টিভি নাটকে ছোট একটা রোলে অভিনয় করার সুযোগ জুটে গেল। শান্তর ব্যক্তিত্বে এক ধরনের আকর্ষন ক্ষমতা রয়েছে। একটার পর একটা কাজ পেয়ে যাচ্ছিল। পারিশ্রমিকের টাকায় ধারদেনা শোধ হল। নিজেকে শাহান শা মনে হচ্ছিল তখন। সেই সঙ্গে রিকন্ডিশন গাড়ির স্বপ্ন, সেগুনবাগিচায় চৌদ্দ ’শ স্কোয়ার ফুটের ফ্ল্যাটের সম্ভাবনা ধীরে ধীরে জেগে উঠছিল। ধীরে ধীরে অভিনয় জগতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছিল শান্ত। এই চটকদার জীবনে রোমাঞ্চ আছে। লোকে সমীহ করে। ‘আপনি শান্ত রহমান না?’ কিংবা ‘একটা অটোগ্রাফ দিন না, প্লিজ।’ এ সব মুহূর্তে বড় ভালো লাগত শান্ত।
এইসব ডামাডোলে ছিন্নপাতার মতো কখন যে ঘূর্নিজলে তলিয়ে গেল কেয়া।
চারুকলায় কেয়ার সহপাঠী ছিল শান্ত । ভীষণ চাপা স্বভাবের মেয়ে কেয়া । তারপরও ভালো লাগার একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। কেয়ার ধ্যানধারণা একটু অন্য ধরনের। টিভি নাটককে সস্তাই ভাবে কেয়া । এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এরকম দু-চারটে উলটো ¯্রােতের মানুষ যে কোনও জায়গায় পাওয়া যায়।
যাক। ২০০৯ আর ২০১০-এই দু’বছর কেয়ার সঙ্গে দেখা হয়নি শান্তর ।
এখন কেয়ার জন্য অস্থির লাগছে শান্তর । অভিনয়-জীবন আর ভাল্ লাগছে না। এ পেশায় টাকা থাকলেও নিজস্ব জীবন বলে কিছু নেই। ফাঁকা ফ্ল্যাটে ফিরতে ফিরতে গভীর রাত হয়ে যায়। (ওই সময়ের অভাবেই বিয়েটাও করা হয়নি) ... তা ছাড়া রোজ রোজ উটকো লোকজন দেখতে দেখতে হাঁপিয়ে উঠেছে শান্ত । টিভি নাটকের সঙ্গে যারা জড়িত সেই চক্রটি বড়ই গোলমেলে এবং সন্দেহজনক । দেশের বড় বড় দুর্নীতিবাজরা এই সেক্টরে কালো টাকা ঢেলে সাদা করে। শুটিংয়ের নামে কথায় কথায় নেপাল কিংবা মালয়েশিয়া যায়। পেট মোটা প্রয়োজক আর শিথিল চরিত্রের নায়িকা ভন ভন করে। এই নায়িকারা শপিং আর খাওয়া-দাওয়া ছাড়া কিছু বোঝেনা। ঘন ঘন মোবাইল সেটা আর বয়ফ্রেন্ড বদলায়। টিভির নাট্যজগৎ জুড়ে খল সব চরিত্র । এর সঙ্গে নেশাভাং, ইয়াবা, উগ্র যৌনতার তপ্ত নিঃশ্বাস তো আছেই। শান্ত এতকিছু বুঝে কিন্তু ওপাড়ায় পা দেয়নি। সে সময় আর্থিক কষ্টে অস্থির হয়ে উঠেছিল, অভিনয়ের চেয়ে টাকাই বড় হয়ে উঠেছিল, একটার পর একটা নতুন নাটকের চুক্তি করছিল; ফলে কেয়ার সঙ্গে দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছিল। দু-বছর কেয়ার খোঁজখবর নেয়নি। মাঝে-মাঝে মনে পড়ত-এই যা। এখন এসব নাটক-ফাটক ছেড়ে কেয়ার কাছে ফিরতে চাইছে শান্ত। শান্ত মোবাইল সেট বদলালেও কেয়ার মোবাইল নম্বরটা সিমকার্ডে সেভ করা ছিল । ফোন করলে নারীকন্ঠ বলে, দুঃখিত, এই মুহূর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব না।
কেয়া কি নম্বর বদলেছে?
কেন?
শান্তু অনেক দিন পর বিষন্নতা টের পায়, সেই সঙ্গে মেরুদন্ডে শীতল স্রোত টের পায়। এক গা শিরশিরে অশুভ চিন্তা ওকে আচ্ছন্ন করে।
নরসিংদীর মেয়ে কেয়া । চারুকলায় ভর্তি হওয়ার পর ঢাকায় ফুপুর বাড়ি থাকত । তার আগে অবশ্য নরসিংদী ছিল। কেয়ার ফুপুর বাড়ি কাঁটাবনের ঢালের কাছে । শান্ত অবশ্য এর আগে সে বাড়ি কখনও যায়নি, তবে ঠিকানা জানা ছিল। বহুদিন রিকশায় পুরনো একটি চারতলা বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়েছে কেয়াকে। তখন, ঠিক সেই মুহূর্তে বুকটা কেমন ফাঁকা হয়ে যেত ...
অনেকটা মরিয়া হয়েই এক বিকেলে কেয়ার ফুপুর বাড়ি যায় শান্ত ।
দোতলায় উঠে কলিং বেল চেপে অপেক্ষা করে। বুক ঢিপ ঢিপ করে। যদি কেয়া খুলে দেয়। কেয়ার বদলে চশমা পরা ফরসা মতন একজন কিশোরী দরজা খুলল। শান্তকে দেখে মেয়েটি বিন্দুমাত্র উচ্ছ্বসিত না, সম্ভবত টিভি নাটক দেখে না, কিংবা অন্য কোনও কারণে ডিপ্রেসড।
শান্ত জিজ্ঞেস করল, এখানে কি কেয়া থাকে?
না। মেয়েটি মাথা নাড়ল।
কেয়ারা এখানে থাকত।
আমরা এখানে নতুন এসেছি। এক বছর হল।
ওহ্ । দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে শান্ত।
মেয়েটি বলল, বাড়িওলা চারতলায় থাকেন। আপনি বাড়িওলার সঙ্গে কথা বলতে পারেন।
ধন্যবাদ।
সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে লাগল শান্ত। ওর মনে পড়ল-কেয়ার ফুপুরা ভাড়া থাকত। তাহলে কি ওরা বাড়ি বদলেছে? কেয়া তাহলে কোথায় গেল? এখনও কি ফুপুর সঙ্গে আছে? নাকি নরসিংদী চলে গেল? নরসিংদী তো যাওয়ার কথা না। ওদের পারিবারিক সমস্যা ছিল, কেয়া যখন স্কুলে পড়ত তখন কেয়ার মা মারা গিয়েছিলে, ... ওর বাবা দ্বিতীয় বিবাহ করেছিলেন। সৎমায়ের সংসারে বহু কষ্টে দিনগুলি পাড়ি দিয়ে ঢাকায় এসেছিল চারুকলায় ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে।
কলিং বেল বাজানোর পর মাঝবয়েসি একজন মহিলা দরজা খুলল।
সালাম।
জ্বী। বলেন। মহিলার মুখে সামান্য বিস্ময় জমেছে। চিনতে পেরেছে সম্ভবত।
মানে, ... আপনাদের দোতলায় কেয়ায়া ছিল ...তারা কোথায় গেছে জানেন?
কেয়া মানে-মরিয়ম বেগমের ভাইঝি?
হ্যাঁ।
ওঃ। এক বছর আগে কেয়ার ফুপা আবদুল হক সাহেব মারা গেলেন। তারপর তারা চলে গেল। শুনেছি এখন কল্যানপুর থাকে। আমি বড় বাঁচা বেচে গেছি।
কেন?
কি আর বলব- ঠিক মতো ভাড়া দিত না।
ওহ্ । আপনার কাছে কেয়ার ফুপুর ফোন নম্বর আছে ?
না, নাই। মহিলা ভীষণ ঝগড়াটে ছিল।
ওহ্ ।
আর কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। ‘আচ্ছা, আসি।’ বলে দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে নেমে নীচের গলিতে নেমে এসে শান্ত। বুকটা কেমন এক নিঃসীম অনুভূতিতে ভরে আছে। কেয়া অনেক কথাই বলেনি। ভীষণ দুঃখী ছিল কেয়া। অথচ দু চোখে গভীর মায়া ছিল। কি সুন্দর সব ছবি আঁকত। একাকী মেয়ের। ঝর্নার জলে স্নান করছে কিংবা জোছনার আলোয় প্রান্তরে সাদা পোশাক পরে হাঁটছে ...
শান্তর ফোনটা বাজল। নম্রতা। এই শান্ত ভাই ...
বল। শান্ত বিরক্ত হল।
নম্রতা বলল, আমরা আজ রাতে বান্দরবান যাচ্ছি। আপনি কি আমাদের সঙ্গে যাবেন?
আমি যাব না।
কেন?
আমার শুটিং নেই।
শুটিং নেই তো কি-আমি তো আছি। বলে খিলখিল হাসল নম্রতা।
শান্তর ভ্রুঁ কুঁচকে যায় । এই মেয়েটা নতুন। নায়িকা হিসেবে বেশ নাম করেছে। শান্তর প্রতি ঝুঁকছে। শান্ত নীতিবাধ প্রবল বলেই ঝুঁকছে। মিডিয়ার পুরুষেরা ভীষণ বেসামাল- কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারে না। নম্রতা টের পেয়ে গেছে-শান্ত রহমান অন্য রকম। তবে নম্রতার সমস্যা একটাই-ইয়াবার মজা পেয়ে গেছে। বড় এক প্রাক্তন অভিনেত্রী তৈরি করেছে নম্রতাকে। গুলশানের এক বড় ব্যবসায়ীর বাগানবাড়িতে নাকি প্রায়ই যায়। শান্ত মেয়েটিকে এড়াতে চায়। পারে না।
ফোন অফ করে দিল। মাথার ভিতরে হিম। কেয়াকে খুঁজে বার করার জন্য প্রাণপন একটি উপায় খুঁজছে। হঠাৎ শর্মীর কথা মনে পড়ে গেল। শর্মী চারুকলার ক্লাসমেট। কেয়া রিজার্ভ ছিল। সবার সঙ্গে মিশত না। শর্মীর সঙ্গে কেয়া অবশ্য ঘনিষ্ট ছিল। শর্মীকে ফোন করে শান্ত। হ্যালো শর্মী?
শান্ত!
হ্যাঁ। খবর কি?
ভালো। বাব্বা, কত দিন পর। তুই তো রীতিমতো হিরো হয়ে গেছিস। আমার বরকে বলি, আমরা একসঙ্গে পড়তাম। আমার বর বিশ্বাসই করে না।
শোন, শর্মী?
বল।
কেয়া কোথায় আছে জানিস?
কেয়া? না তো। আমি পাস করে এশিয়াটিকে ঢুকলাম। কেয়ার সঙ্গে বছরখানেক- বছরখানেক না তারও বেশি দেখা হয় না।
ওর কি নরসিংদী থাকার কথা?
নরসিংদী? না, না। নরসিংদীর সঙ্গে ওর সম্পর্ক নেই। তার ওপর ওর বাবা মারা গেছেন।
কবে?
বছর খানেক হবে।
কেয়াকে ফোন করিস না?
ওর ফোন বন্ধ থাকে। নাম্বার পালটেছে বোধ হয়।
আচ্ছা রাখি, পরে কথা বলব।
ওকে।
ফোন অফ করে সিগারেট ধরায় শান্ত । হাত কাঁপছে। ভীষণ ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। ইস্! তখন-কেয়া ফোন করত। নাটকের নেশায় ফোন অফ করে দিত শান্ত। আর এখন? কেয়া ভীষণ সেনসেটিভ। ভীষণ কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু, ও কোথায় গেল?
হঠাৎই শান্তর মনে হল- কেয়া বান্দরবানে যায়নি তো?
এই কথা মনে হওয়ার কারণ আছে। চারুকলায় পড়ার সময় একবার বান্দরবানে শিক্ষাসফরে গিয়েছিল । সাঙ্গু নদীর পাড়ে এক আদিবাসী গ্রামে দিন কয়েক ছিল। গ্রামটা ছিল রুমার কাছাকাছি। সাঙ্গু নদীর পাশ ঘেঁষে গ্রাম। গ্রামে ক’ঘর মারমা বাস করে। এরা ভারি অতিথিপরায়ন। এদের মৃত্তিকালগ্ন জীবন দেখে সবাই মুগ্ধ। তখনই মারমাজীবন সম্বন্ধে অল্প অল্প জেনেছিল । ‘মারমা’ শব্দটি ‘ম্রাইমা’ থেকে এসেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মারমারা মিয়ানমার থেকে এসেছে বিধায় তাদের ‘ম্রাইমা’ নাম থেকে নিজেদের ‘মারমা’ নামে ভূষিত করেছে। মারমারা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত। তারা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। কথা বলার ক্ষেত্রে মারমাদের নিজস্ব ভাষা থাকলেও লেখার ক্ষেত্রে তারা বার্মিজ বর্ণমালা ব্যবহার করে। মারমা সমাজ ব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক। পুরুষদের মতো মেয়েরাও পৈতৃক সম্পত্তির সমান উত্তরাধিকারী হয়। ভাত মারমাদের প্রধান খাদ্য। বান্দরবানে মারমা লোকসংখ্যা প্রায় এক লাখের কাছাকাছি। শিক্ষাদীক্ষা ও আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে মারমারা দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
বেশ কদিন মারমা গ্রামে ঘুরে বেড়াল। সে সময়ই কেয়া বলেছিল- চারুকলা থেকে পাস করার পর আমি কিন্তু এই গ্রামে ফিরে আসব শান্ত।
তারপর? শান্ত বেশ অবাক হয়ে গিয়েছিল।
তারপর আর কি! মারমা শিশুদের ছবি আঁকা শেখাব।
তারপর?
তারপর আর কি।
খাবে কি?
এরা যা দেবে তাইই খাব। লাল চালের ভাত, কুমড়ার ঘ্যাট, পেঁপে ভর্তা।
শূকরের রোস্ট?
ওমাঃ, না! ইয়াক।
শান্তর সেকী হাসি। হাসি থামিয়ে জিজ্ঞেস করে, এরা যদি ভাত না দেয়?
ভাত না দেয় তো উপোস থাকব। উপোস কি এমন? সৎমায়ের সংসারে কত বেলা যে উপোস থেকেছি।
এখন সেসব কথা মনে হলে বুকের ভিতরে শ্বাস আটকে যায়।
আসলে কেয়া পালাতে চেয়েছিল।
মারমা গ্রামে এসে পালাবার পথ খুঁজে পেয়েছিল?



রুমায় পৌঁছতে পৌঁছতে পরদিন দুপুর ।
মারমা গ্রামটি রুমার কাছেই, সামান্য উত্তরে। শান্ত হাঁটতে থাকে। চারিদিকে মাঘ শেষের মিষ্টি রোদ। হাতের বাঁ দিকে নদী। রোদ পড়ে চিকচিক করছে। সরু পিচের রাস্তা। এক পাশে বাঁশ ঝাঁর, লাল মাটির পথ। আনারস ক্ষেত, আদা ক্ষেত। মারমা নারী। কোলে শিশু। শিশুর মাথায় লাল টুপি। মনে হচ্ছে কোনও পার্বণ চলছে। এখন কি জাইক উৎসবের সময়? শান্ত জানে- পাংখুং, জাইক, কাপ্যা ইত্যাদি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মারমা সমাজে জনপ্রিয়। তাদের প্রধান উৎসব ও পার্বণগুলো হচ্ছে সাংগ্রাই পোয়ে, ওয়াছো পোয়ে, ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে এবং পইংজ্রা পোয়ে।
মারমা গ্রামে পৌঁছতে পৌঁছতে শীত বিকেলের আলো অনেকটাই ম্লান হয়ে এল।
গ্রামের বাইরে চাছাঁ বাঁশ জড়ো করছিল মুর্ম মারমা। মাঝবয়েসি লোকটা মুখ তুলে তাকাল। হাসল। চিনতে পেরেছে। চেনার কারণ আছে। পেন্সিলে কেয়া এর একটি পোট্রেট করেছিল। শান্ত ওর সামনে হাঁটু গেড়ে বসল। জিজ্ঞেস করল, কেমন আছ মুর্ম?
ভালো।
এবারে ফসল কেমন হল?
ভালো।
পার্বণ কেমন হল?
সেও ভালো হয়েছে।
আচ্ছা, যে মেয়েটি তোমার ছবি এঁকেছিল সেই মেয়েটি তোমার মনে আছে?
হ্যাঁ।
সে কি তোমাদের গ্রামে আর এসেছিল?
না। মাথা নাড়ল মুর্ম।
তার মানে কেয়া মারমা গ্রামে আসেনি!
শান্তর পায়ের তলা থেকে মাটি সরে সরে যেতে থাকে। যেন ভূমিধ্বস। শান্ত অতল গহ্বরে পড়ে যাবে। সব আশা শেষ। ও উঠে দাঁড়ায়।
কেয়া তাহলে এখন কোথায়?
এই ভাবনায় আচ্ছন্ন হয়ে ও হাঁটতে থাকে।
সন্ধ্যা নামছে। আকাশে পাখির ঝাঁক। আকাশের রং বদলে যাচ্ছে দ্রুত। নিকটস্থ বৌদ্ধ মন্দির থেকে ঘন্টার আওয়াজ শুনতে পেল। সেই সঙ্গে ধূপের গন্ধ পেল। এই মুহূর্তে অদ্ভূত শান্ত এক অনুভূতি টের পায় ভিতরে। যেন কেয়া কোথাও যায়নি। কাছাকাছিই আসে।
কি আর করা। রামু শহরের দিকে হাঁটতে থাকে। হাতের ডানে সাঙ্গু নদী। সেই জলে বিন্দু বিন্দু আলোর মেলা। লঞ্চের ভটভট শব্দ। সেই শব্দ দূরে মিলিয়ে গেলে ঝিঁঝির ডাক প্রকট হয়ে ওঠে।
পিছন থেকে একটা গাড়ি আসছিল। শান্ত পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখল মাইক্রোবাস
শান্ত সরে যায়।
মাইক্রোবাসটা কিছু দূর যাওয়ার পর থেমে পড়ল।
শান্ত অবাক হল। কি ব্যাপার?
একদল রংবেঙের পোশাক পরা ছেলেমেয়ে হইহই করে ছুটে আসল ওর দিকে।
এরা সবাই পরিচিত।
শান্ত ভাই? আপনি এখানে? নম্রতা বলল। ইয়াবা গিলেছে বোধহয়, চোখ দুটি লালচে হয়ে আছে মেয়েটির।
শান্ত হাসে। বলে, তোমাদের সারপ্রাইজ দেব বলে দাঁড়িয়ে আছি।
যাঃ।
সত্যি।
তাহলে এখন মাইক্রোতে উঠুন। ক্যামেরাম্যান ইয়াফি বলল।
উঠুন। উঠুন। অন্যরা তাড়া দিল।
দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাইক্রোবাসে উঠে পড়ল শান্ত।
ক্রমেই অন্ধকার হয়ে ওঠা দূরের মারমা গ্রামের দিকে তাকাল একবার।
কেয়াকে আর কোনওদিনই ফিরে পাবে না সে।
ও চিরতরে হারিয়ে গেছে।
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×