somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ ধরনের ব্লগারদের সবাইমিলে (মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান, সত্যিকারের নাস্তিক) বয়কট করি যাতে তারা আর যাই করুক ভন্ডামি না করতে পারে।

০৫ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সামুতে অনেকে অনেক বিষয় নিয়ে লেখে। কবিতা, গল্প থেকে শুরু করে রাজনীতি, ধর্ম থেকে নাস্তিকতা পর্যন্ত। যার মধ্যে হট টপিক্স হছে রাজনীতি ও ধর্ম।একেকজন তার শিক্ষা, ধর্মবোধ, আদর্শ থেকে এই সম্বন্ধে যৌক্তিক লেখা লিখবেন এটাই সবার আশা।

কিন্ত্ ইদানিং এমন সব ব্লগারদের ধর্ম নিয়ে লিখতে দেখা যাচ্ছে যারা নিজ আদর্শ থেকে লেখার চাইতে ভন্ডামিতে ব্যস্ত। তেমনি একটা লেখা পড়লাম ব্লগার সুমন মোহাম্মদের "যারা ঈশ্বরকে ভালোবেসেছে সবচেয়ে বেশি, মানুষের প্রতি ভালোবাসা তাদের সবচেয়ে কম।" তার লেখা্র মুল বিষয় ছিল "কিভাবে একজন ধর্মপ্রান নামাযি মুসলমানের ৪ বৎসরের ছেলে রক্তাক্ত আহত হয়ে চিৎকার করার পরও তিনি নামায ভাঙ্গেননি। পোস্টটি পরে প্রথমে যে কেও লেখককে একজন ধর্মপ্রান মুসলিম বলে মনে করবে।



কিন্তু পরক্ষনেই কিছুদুর পর একটু খটকা লাগে। যে নিজেকে নামাজি দাবী করে সে এভাবে কখনো লিখতে পারেনা।



অথচ তার বিভিন্ন কমেন্টে মুসলিম সুলভ আচরন প্রমান করেন তিনি মুসলমান শুধু নন ধর্মপ্রানও।



তার দুটো মন্তব্যের জন্য (যেমন "গত রবিবার সন্ধ্যায় কোরান হাদিসের আলোচনা শেষে এশার নামাজে দাড়াইছি, + ভাইরে আল্লাহর ভালবাসা বেশি হইলে এমনই হয়। আমাদের বাংলা ভাই কিংবা শায়খ রহমানরা আল্লারেই বেশি ভালবাসত!) প্রশ্ন করেছিলাম "আপনি কি জন্য নামাযে দারাইছিলেন বলবেন কি?"

তার উত্তর ছিলঃ এইটা আমার কালচার, আমার সামাজিকতা।আমি এর মধ্যেই বড় হইছি। আমি এরই অংশ।



তখনি খটকাটা লাগে। আমরা যারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করি তাদের অনেকেই আছেন যারা নিয়মিত নামায পরেন না অথবা অনেকেই জুম্মার নামায ছারা অন্য নামায কাজা করেন, যার জন্য তারা অনেক আফসোসও করেন। কিন্ত এমন কাউকে পাইনি যিনি শুধু মাত্র সংস্কৃতি বা সামাজিকতার জন্য নামায পরেন ( তাও এশার নামায)।তখনি মনে প্রশ্ন যাগলো তিনি কি নাস্তিক না অন্য ধর্মালম্বি।

এর পরেই আরেকটা পোস্ট পেলাম এই শিরোনামে "আল্লাহর messenger অপেক্ষা ইয়াহু messenger উত্তম" যা শুধু মাত্র আল্লাহর নবীগনকে অপমান ও কটাক্ষ করার জন্য দেয়া।

এছারা তার পুর্বে দুটো পোস্ট "শান্তির ধর্ম ইসলাম, পর্ব-১,২ " যার শিরনাম দেখলে আপাতত ইসলামের সৌন্দর্য নিয়ে একটি পোস্ট মনে হলেও তা চরমভাবে ইসলামকে হেয় করার জন্য একটি পোস্ট। যেখানে তার একটি মন্তব্য ছিল আমরা প্রচলিত অর্থে যাকে সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বর বলি তারই অনেকটা আরবি নাম আল্লাহ। তবে কোরান খুব মন দিয়ে পাঠ করলে দেখা যায়, কোরানে বর্নিত আল্লাহ আমাদের ধারনা করা প্রচলিত সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বর এর সাথে মেলে না। কোরানের বানী গুলো পড়লে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে এর আল্লাহ আসলে স্বয়ং মোহাম্মদ নিজেই। মোহাম্মদ তার নিজের কথাগুলোকেই আসলে আল্লার বলে চালিয়ে দিয়েছেন।" (১ম পর্বে)

এখন প্রশ্ন হল যে ব্লগার এরকম চরম ইসলাম বিদ্বেসী সে মসজিদে নামায পরতে যায় কি জন্য। কি তার ঊদ্দেশ্য? আমার কাছে মনে হয়েছে তার ঐ পোস্টটি ছিল সম্পুর্ন বানানো। ইসলামকে ও মুসলিমদের হেয় করার জন্য এই পোস্ট দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু তিনি কি নাস্তিক না অন্যধর্মের অনুসারি। যদি নাস্তিক হন তাহলে নাস্তিকতা নিয়ে যৌক্তিক একটি পোস্ট দেক। অথবা অন্য ধর্মের হলে সেই ধর্ম নিয়ে পোস্ট দেক। সেই ধর্মের ফিলসফি,সৌন্দর্য ইত্যাদি নিয়ে পোস্ট দেক।তা না করে ইসলামকে গালিগালাজ করে এরা নাস্তিকদের বা ভিন্য ধর্মালম্বিদের কি উপকার করছে। এগুলো পড়ে নাস্তিক্য সম্বন্ধে বা অন্যধর্ম সম্বন্ধে কতটুকু জানতে পারা যাবে?

আসলে মুল উদ্দেস্য হচ্ছে এধরনের পোস্ট দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নস্ট করা।এরা যখন এ ধরনের উস্কানিমুলক পোস্ট দেয় তখন অনেক ভিন্য ধর্মের ব্লগার হয়তো খুশি হয়ে যান, তেমনি অনেক মুসলিম ব্লগার ধৈর্য্য না রাখতে পেরে অমুসলিমদের গালি দেয়। তখনি অমুসলিমরাও পাল্টা গালি দিতে আরম্ভ করে। আর এটাই এদের মুল উদ্দেস্য। আর এ ইচ্ছা পুরন করতে কখনো তারা "আরিফুর রহমান", কখনো "সুমন মোহাম্মদ" আবার কখনো "অমুক ভট্যাচার্য" নিক ব্যাবহার করে। আর তাদের এই পাকে পরে আমরা সাধারন ব্লগাররা নস্ট করা শুরু করি ব্লগের পরিবেশ ও সাথে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।

তাই অনুরোধ করব এ ধরনের ব্লগারদের সবাইমিলে (মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান, সত্যিকারের নাস্তিক) বয়কট করি যাতে তারা আর যাই করুক ভন্ডামি না করতে পারে।
২৭টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×