(দয়া করে পোস্ট না পড়ে মাইনাস দিবেন না)
গতকাল ধানমন্ডি স্টার কাবাব থেকে মিরপুর টেকনিক্যাল যাব।শারিরীক অসুস্থতা থাকায় সিএনজি ছারা গতি নাই।কিন্তু কোন সিএনজি ১৮০ টাকার নিচে যাবে না।অনেক মুলামুলি ও রিকোয়েস্টের পর (যদিও রিকোয়েস্ট শোনার মত মন ও সময় তাদের নাই) ১৫০ টাকায় যেতে পারলাম (মিটারটা আমার সামনে ড্রাইভার অনে করল, মিটারে উঠল ৫২ টাকা। এর আগেও এরকম উঠতে দেখেছি) রাতে মিরপুর-১ থেকে ধানমন্ডি গেলাম ২৫০ টাকায়।তাদের জিজ্ঞেস করলে বলে ঈদের সময়, জ্যাম ইত্যাদি। মানলাম ঈদ।তাহলে বকশীস হিসেবে দশ-বিশ টাকা নেয়া যেতে পারে কিন্তু ন্যায্য ভাড়ার পাচগুন না।তাদের এই যুক্তি শুনলে ঘুষখোর, ছিন্তাইকারি, ডাকাতরাও এই যুক্তি দেখিয়ে দাবী করতে পারে যে জিনিসপত্রের দাম, সিএনজি ভাড়া বেশি, অতএব তাদের এই অনৈতিক কাজের নৈতিক যুক্তি রয়েছে। এসব জোর জুলুম অন্যায় শুধু সিএনজি ড্রাইভার না আমাদের সমাজের সবাই যে যার সামর্থ অনুযায়ি করছি। একজন রিক্সাওয়ালার ক্ষমতা বৃস্টি বা আপনার কোন সমস্যায় দশ টাকার ভাড়া বিশ টাকা চাওয়া, সে তার সেই ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যাবহার করে।আপনি একজন ব্যাবসায়ি আপনার ক্ষমতা সুযোগমত বিশেষ করে রমজানের সময় জিনিসপত্রের দাম বাড়ানো আপনি তাই করবেন।আমি বাড়িওয়ালা দুইবার হ্বজ করছি কিন্তু বাড়ির ভাড়াটেদের নামাজের সময়ও সঠিকভাবে পানি সরবরাহ করি না, বিভিন্ন নিয়মের বেড়াজালে ফেলে তাদের অসহায়ত্ব উপভোগ করি (যদিও আইন, নৈতিকতা ও ধর্ম অনুযায়ি তা অন্যায়)। আরেকজন এলাকার নেতা। সে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে কবে রাস্তার টেন্ডার পাবে আর নিম্নমানের কাজ করে কোটি টাকা বানাবে। চাই রাস্তা দুদিন পরে নস্ট হয়ে যাক বা না টিকুক। অথচ এই তাকেই দেখা যাবে মসজিদ কমিটির প্রধান হয়ে পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে।একজন ঘুষখোর আ্মার আসহায়ত্বের সুযোগে আ্মার কাছ থেকে ঘুষ নেয় আমিও সুযোগ মত খাদ্যে ভেজাল দিয়ে ঐ পয়সা উশুল করি।যে যাকে যেভাবে পারছি সাইজ করছি।যে বড় মাছ সে মিডিয়াম মাছকে গিলছে, মিডিয়াম গিলছে ছোট মাছকে। অথচ আমাদের দেশের প্রায় নব্বই পার্সেন্ট লোকই মুসলমান বলে জানি।
আমাদের পোশাক পরিচ্ছদ, আচার ব্যাবহার, নৈতিকতা সব কিছুই ইসলাম থেকে অনেক দুরে।পাচ ওয়াক্ত নামাজ পরতে যে টুকু সময় লাগে বা পরিশ্রম করতে হয় তার চেয়ে ঢের পরিশ্রম আমরা করি। তাই নামাজ কায়েম করার চাইতে নামাজ পড়াটা অনেক সহজ। আর তাই পাচ ওয়াক্ত নামাজ পরতে পারব কিন্তু নিজের ইভটিজার ছেলের বিচার করতে পারব না, নিজের বউ বা মেয়েকে শালীনতার সাথে চলার আদেশ দিতে পারব না।সামান্য পয়সার লোভে অনৈতিক কাজকে অন্যায় মনে করব না।মুনাফেকের মত ডবল রোল প্লে করব, গিবত করব (ইসলামের চোখে এই দুটো কাজ চরম অন্যায় বিশেষ করে হাশরের ময়দানে ডবল রোল প্লে করা লোকেরা হবে আল্লাহ এর কাছে সবচেয়ে ঘৃনিত),প্রভাবশালিদের অন্যায়ের বিরদ্ধে কথা বলার সাহস করব না কিন্তু কোথায় কে কাকে তিন তালাক দিয়ে দিছে তা নিয়ে মাথা খারাপ করে ফেলব (অবশ্যই নরম, অসহায় হলে)কিছুদিন আগে আশুলিয়ায় মুসল্লিরা অসামাজিক কাজের দোহাই দিয়ে কিছু গরীব মানুষের নৌকা পুড়িয়া দিল।অথচ এরাই কখনো গুলশান বনানীতে পার্টির নামে যায় হয় তা বাধা দেয়া দুরের কথা এর বিরদ্ধে কথাও বলে না।
এখন কোরবানির সময়।সবাই মেতে আছে কে কত টাকার গরু কিনল। নিজেরটা কম দামী হলেই মন খারাপ।অন্যলোক চুরি করা টাকায় গরু কিনল না কি করল তা জানার দরকার নাই। পারলে নিজেও আরেকজনকে জুলুম করে কিছু পয়সা বানিয়ে বিরাট এক গরু কুরবানি দেই।রমজানের সময় রোজা নস্ট হল কিনা জানার দরকার নাই, একে পারিয়ে ওকে মারিয়ে ধুমছে কেনা কাটা করতে যাই আর বিক্রেতা হয়ে হাজার মিথ্যা কথা বলে ক্রেতা ঠকাই।এই যে এখন ঈদের কারনে বাড়িগামি যাত্রিদের নিয়ে যে যেভাবে পারছে টু-পাইছ কামিয়ে নিচ্ছে তাদের শতকরা নব্বই পার্সেন্ট লোক কিন্তু মুসলমান।
এয়ারপোর্টের সামনে লালনের ভাস্কর্য হবে শুনে হুযুরদের মাথা খারাপ হয়ে যায় (এই ভাস্কর্য পূজার উদ্দেশ্যে বানান হয় নাই বিধায় অনেকেই আমাকে বলেছে এতে “মাকরুহ” হয়, তবে আমি জানি হারাম) অথচ ইসলামে সবচেয়ে গোনাহের কাজ “শিরক” যা প্রতিদিন আমাদের মাজারগুলোয় হচ্ছে বা পীরদের দরগাহে হচ্ছে তা নিয়ে কোন হুজুরের, ইসলামি দলগুলোর মাথা ব্যাথা নাই। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি উদ্ধোধন করে দোয়া পড়ান খুবই ভাল কাজ কারন ওখান থেকে টু পাইছ কামানো যায়।
কিছুদিন আগে খালেদা জিয়ার বাড়ি নিয়ে যে কান্ড হলো তাতে সরকার ভাল করেই জানে বিরোধি দলের রিয়েকশ্যান ভাল হবে না।তাতে ঈদে বাড়ি যাওয়া মানুষের দুর্ভোগ হতে পারে, অপরদিকে বিরোধি দল হরতাল দেওয়ার সময় একবারও চিন্তা করলো না সাধারন মানুষদের নিয়ে, তাদের একটাই চিন্তা গরম গরম হরতাল দিতে হবে।অথচ এদের অনেকে প্রায়ই বেড়াতে যাওয়ার মত সৌদি আরবে ওমরা করতে যায়।
অথচ যখনি সংবিধান সংশোধন করার চিন্তা কথা ওঠে তখন সবারই এক দিকে চোখ বিসমিল্লাহ থাকবেতো।সংখাগরিষ্ঠ হিসেবে ও মুসলিম হিসেবে দেশের যে কেউ এ ধরনের দাবি করতে পারে (আমি মনে করি থাকা উচিত)কিন্ত কে যে কি উদ্দেশ্যে তা চায় তা আমাদের সার্বিক আচরন দেখলে গোলকধাধায় পরতে হয়।
যাই হোক রাজনৈতিক ক্যাচাল টেনে আনার জন্য এই পোস্ট দেই নাই। আমার শুধু খারাপ লাগল কিভাবে ধর্মের দোহাই দিয়ে আমরা একজন আরেকজনকে সুযোগ ও কায়দামত সাইজ দিয়ে যাচ্ছি আর নিজেকে ভাবছি সাচ্চা মুসলমান।
সবাইকে ঈদ মোবারক।ঈদের আনন্দ ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সবার হোক,ঈদের শিক্ষা সবাই গ্রহন করুক কিন্তু ঈদের নামে যে অন্যায় আচরন, অহঙ্কার, লোক দেখানোর প্রতিযোগিতা হয় এসব থেকে আমরা সবাই দূরে থাকি এটাই আমার একমাত্র কামনা।সবাইকে ঈদ মোবারক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



