মাইক্রোসফট এর সাতকাহন - পর্ব ২ (ইন্টার্ণশীপ অভিজ্ঞতা)
০৯ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ১১:০২
প্রথম পর্ব...
মাইক্রোসফটএ যারা ফুল টাইম সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে জয়েন করে তাদের ওরিয়েন্টেশন হয় সোমবারে আর যারা ইন্টার্ণ হিসেবে জয়েন করে তাদের ওরিয়েন্টেশন হয় মঙ্গলবারে। গতো বছরের (এবং এই বছরেরও) অর্থনৈতিক মন্দার আগ পর্যন্ত সাধারণত এই ছিলো রেওয়াজ এবং সেই জন্য দেখা যেতো প্রতি সপ্তাহের সোম এবং মঙ্গলবার মাইক্রোসফট এর বিল্ডিং ৪৩ এর একতলার বড় কনফারেন্স রুমটি সবসময় নতুন জয়েন করা ইন্টার্ণ এবং ফুল টাইমারদের দ্বারা গিজগিজ করতো। (প্রসঙ্গক্রমে, গুগলেরও একটি বিল্ডিং ৪৩ আছে, এবং সম্প্রতি বিখ্যাত প্রযুক্তি ব্লগার রবার্ট স্কবল তার নতুন ব্লগ এর নাম রেখেছেন বিল্ডিং ৪৩(http://www.building43.com/about-building43/))। গতো বছর এবং এই বছরের অর্থনৈতিক মন্দার কারণে মাইক্রোসফট এর হায়ারিং অনেক কমে গেছে, তাই হয়তো সেখানে এখন আর অতো বেশি নতুন ইন্টার্ণ আর ফুল টাইমারদের দেখা যাবেনা।
তো ২০০৭ সালের জুন মাসের ১২ তারিখ মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় আমাদের ওরিয়েন্টশনে যোগ দেওয়ার জন্য বিল্ডিং ৪৩ এর নির্ধারিত কনফারেন্স রুমটিতে যেয়ে পৌঁছাই। আলরেডি সেখানে হুলস্থূল অবস্থা। অসংখ্য ইন্টার্ণ এর ভিড়ে গিজগিজ অবস্থা। হরেক রকম লাইন সেখানে। কেউ হয়তো প্রাথমিক ফর্ম পূরণ করছে, কেউ হয়তো ব্যাংক সম্পর্কিত ফর্ম পূরণ করছে, কেউ কেউ আইডি কার্ড বানানোর জন্য ছবি তুলছে। আমিও একটার পর একটা লাইনে দাঁড়িয়ে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করছিলাম। আমরা যারা বিদেশী ছাত্র/ছাত্রী ছিলাম তাদের কিছু অতিরিক্ত ফর্ম পূরণ করতে হয়েছিলো। ফর্ম পূরণের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আমাদের মূল অনুষ্ঠান শুরু হলো।
মাইক্রোসফটএ একটা টিমই থাকে ওরিয়েন্টশন করার জন্য। তারা একে একে মাইক্রোসফট এর কম্পানী পলিসি, নিরাপত্তা, বিভিন্ন বেনেফিট (স্বাস্থ্য/বীমা/জিম/স্টক ইত্যাদি), এম্পলয়ীদের দায়িত্ব, আধিকার এবং তার সীমা, কম্পানী কালচার, ম্যানেজার এর সাথে সম্পর্ক, ক্যারিয়ার এডভান্সমেন্ট, ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে বলে যান এবং অংশগ্রহনকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে খাবার-দাবার চলতে থাকে। নতুন আগতরা পরস্পরের সাথে পরিচিত হন। নতুন আসার কারণে সবারই মনে অসংখ্য প্রশ্ন থাকে, এবং আয়োজনকারীরা ধৈর্য ধরে সব প্রশ্নের উত্তর দেন।
ওরিয়েন্টেশন সাধারণত দেড়দিন এর মতো হয়। আমার ওরিয়েন্টেশন শেষে পরদিন দুপুরে আমি আমার নির্ধারিত অফিস বিল্ডিং ৪০ এ গেলাম। নিচে রিসেপশনিস্টকে আমার পরিচয় দিয়ে বললাম আমি আমার ম্যানেজার ক্যারেন এর সাথে দেখা করতে চাই। ঘটনাক্রমে আমার ম্যানেজার ক্যারেন অফিস এ ছিলো না। তখন আমাদের টিম এর আরেকজন আ্যলেক্স (গতো পর্বে যার কথা উল্লেখ করেছিলাম - আমার প্রথম ইন্টারভিউয়ার!) এসে আমাকে উপরে নিয়ে গেলো। এখানকার সব অফিস ইলেক্ট্রনিক আইডি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, দরজার সাথে লাগানো ছোট মডিউলটাতে নিজের আইডি মেলে ধরলে ক্লিক করে দরজা খুলে যায়। যেহেতু তখনো আমার আইডি হয়নি তাই কী একজন এসে আমাকে নিয়ে যেতে হয়েছিলো।
আ্যলেক্স হচ্ছে আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে মজার মানুষদের একজন। সবসময় হাসিখুশি, প্রায় সময়ই চিৎকার চেঁচামেচি করে কথা বলে। আমাকে নিয়ে ও আমার রুম দেখিয়ে দিলো। সৌভাগ্যক্রমে সেই রুমটি তখন খালি ছিলো এবং রুমটি ছিলো জানালার ধারে। এখানে নতুনদের সিঙ্গেল অফিস রুম পাওয়া একটা বিশাল ভাগ্যের ব্যাপার, আর পেলেও সেটি যে জানালার পাশে হবেনা সেটি প্রায় নিশ্চিত! মাইক্রোসফট অফিস এর ব্যাপারে কিউবিকল এর চেয়ে ব্যক্তিগত অফিস রুম এর পক্ষে। আমিও প্রোগ্রামারদের জন্য কিউবিকল এর চেয়ে ব্যক্তিগত রুম বেশি পছন্দ করি। কিউবিকলএ শব্দ বেশি হয় এবং সূক্ষ কাজে মনোনিবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে বলে আমার ধারণা। তাই জীবনের প্রথম ব্যক্তিগত রুম পেয়ে আমি যারপরনাই খুশি হয়ে উঠি!
আ্যলেক্স আমাকে টিম এর অন্য সদস্যদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। এরপর আমাদের নেটওয়ার্কিং টিম এর এডমিনিস্ট্রেটিভ এসিসট্যান্ট এসে আমার কম্পিউটার দিয়ে গেলো। আ্যলেক্স এর সাহায্য নিয়ে আমি আমার কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক ইতাদি সেটাপ করলাম। একটু পরেই আমার ম্যানেজার ক্যারেন আসলো আমার রুমএ। মাইক্রোসফটএ যেকোনো এম্পলয়ী (ইন্টার্ণ বা ফুল টাইমার) এর একজন ম্যানেজার থাকে। সোজা বাংলায় বস! তবে এখানে বস শব্দটির চল নেই। সবাই সবার নাম ধরে ডাকে। শুধু অপিরিচিত কেউ হলে Mr অমুক বলে ডাকে। আ্যলেক্স এর মতো আমার ম্যানেজার ক্যারেনকেও আমার বেশ পছন্দ হয়ে গেলো। আমাদের গ্রুপটি http নিয়ে কাজ করার কারণে ক্যারেন আমার জন্য http প্রোটকল এর উপর একটা বই নিয়ে এসেছিলো আমার জন্য।
এর পরের কয়েকদিন ক্যারেন আর আমার মেন্টর (mentor) আরি এসে আমার কাজ ঠিক করে দিলো। মাইক্রোসফটএ প্রত্যেক ইন্টার্ণ এর একজন ম্যানেজার এবং একজন মেন্টর থাকে। ম্যানেজার দেখেন ক্যারিয়ার এর দিকটা, আর মেন্টর দেখেন টেকনিকাল দিকটা। আমার মেন্টর আরি হচ্ছে আমার দেখা সবচেয়ে প্রতিভাবান সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারদের একজন। উইন্ডোজ এর এমন কোন দিক নেই যেটা সম্পর্কে ওর ভালো ধারণা নেই। আমার ভাগ্য ভালো আমি ওর মতো একজনকে আমার মেন্টর হিসেবে পেয়েছি। ও আমার সাথে প্রতিদিন সকাল নয়টায় আধঘন্টার একটা মিটিং করতো, যেটা প্রায়ই আধঘন্টার জায়গায় দুই/তিন ঘন্টা ধরে চলতো। আমার কাজের অংশ হিসেবে আমি ডাউনলোড ম্যানেজারের মতো একটি আ্যপলিকেশন লিখছিলাম, যেটির কী করতে হবে সেটা বলে দিতো আরি, আর কিভাবে করতে হবে সেটা আমি ঠিক করতাম। কিন্তু আমার অনভিজ্ঞতার কারণে প্রায় সময়ই আরি আমার ডিজাইনটি করে দিতো। ওর (এবং আমার) রুম এর সাদা বোর্ডটিতে কতো যে আঁকিজুঁকি করেছি আ্যপলিকেশন এর ডিজাইন এর বিভিন্ন দিক নিয়ে! ঘন্টার পর ঘন্টা চলতো আমাদের ব্রেইন স্টর্মিং। আ্যপলিকেশনটির ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট এর বিভিন্ন পর্যায়ে আরি টিম মিটিংএ আমাকে দিয়ে তখন পর্যন্ত যা যা করেছি সেটা উপস্থাপন করাতো।
যেহেতু সময়টা ছিলো গ্রীষ্মকাল তাই সবসময় এটা সেটা প্রোগ্রাম লেগে থাকতো ওখানে। সবচেয়ে সেরা প্রোগ্রামটি ছিলো বিল গেটস এর বাসায় একটা ডিনারের দাওয়াত। সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখেছি এখানে । এছাড়া প্রডাক্ট ফেয়ার হয়েছিলো যেখানে মাইক্রোসফট এর সব প্রডাক্ট গ্রুপ তাদের প্রডাক্ট উপস্থাপন করেছিলো। প্রত্যেকটি গ্রুপ তাদের প্রডাক্ট এর টেকনিকাল এবং বাণিজ্যিক দিক সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলো। প্রডাক্ট ফেয়ার এর একটা প্রোগ্রাম ছিলো সিইও স্টিভ বালমার এর বক্তৃতা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব। মনে পড়ে এই প্রশ্নোত্তর পর্বে একজন ইন্টার্ণ স্টিভ বালমারকে প্রশ্ন করেছিলো মাইক্রোসফট এর এম্পলয়ীদের ফ্রি লাঞ্চ দেওয়া যায় কিনা। প্রশ্ন শুনে সবাই হেসে উঠেছিলো কারণ প্রশ্নটি করা হয়েছে গুগলের কথা মাথায় রেখে - গুগল তাদের এম্পলয়ীদের ফ্রি লাঞ্চ এবং ডিনার দেয়! স্টিভ বালমার বেশ স্মার্টলি উত্তর দিয়ে বলেছিলো মাইক্রোসফট এম্পলয়ীদের যথেষ্ট বেতন দেয় এবং তারা ঠিক করবে তারা কোথায় লাঞ্চ করবে এবং কী লাঞ্চ করবে। এরপর তিনি ইন্টার্ণদের প্রশ্ন করেন কারা চায় তাদের বেতন কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়া হোক আর কারা চায় বেতন ঠিক রেখে ফ্রি লাঞ্চ দেওয়া হোক! দেখা গেলো সবাই হাত তুলেছে বেতন বাড়ানোর পক্ষে! তিনি প্রমাণ করে ছাড়লেন এম্পলয়ীরা ফ্রি লাঞ্চ এর চেয়ে বেশি বেতন পছন্দ করে। মাইক্রোসফট এর বার্ষিক টেকনোলজি টাউনহল কনফারেন্সগুলি গ্রীষ্মকালে হয়। এই কনফারেন্সগুলির মূল বিষয় হচ্ছে পৃথিবীর প্রযুক্তি কোন দিকে যাচ্ছে এবং তার সাথে তাল মিলিয়ে মাইক্রোসফট কী কী পণ্য কিংবা সেবা আনছে, অথবা মাইক্রোসফট এর সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা। এইসব কনফারেন্সএ প্রায়শই মাইক্রোসফট এর উপরের দিকের ভাইস প্রেসিডেন্ট বা প্রেসিডেন্টরা উপস্থিত থাকেন এবং মাইক্রোসফট এর ব্যবসায়িক এবং টেকনিকাল বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। আরেকদিন মাইক্রোসফট সারফেইস টিম একটি সারফেইস কম্পিউটার নিয়ে এসে ডেমোনেস্ট্রেশন করে গেলো ইন্টার্ণদের জন্য। সারফেইস কম্পিউটার তখনো সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি (এখন অল্প কিছু কম্পানী এটি ব্যবহার করে), তাই বাইরের মানুষের আগে এটি দেখতে পেরে বেশ রোমাঞ্চিত হয়েছিলাম! যারা সারফেইস সম্পর্কে জানতে চান তারা এখানে ক্লিক করুণ।
আগস্ট এর ৩১ তারিখ ছিলো আমার ইন্টার্ণশিপ এর শেষ দিন। তার প্রায় এক সপ্তাহ আগে আমাকে আমার কাজের পূর্ণ ডেমন্সট্রেশন করতে হয় আমাদের টিম এর সামনে এবং উইন্ডোজ ডিভিশন এর কয়েকজন ভাইস প্রেসিডেন্টদের সামনে। টিম এর সাথে আগে থেকে পরিচয় থাকায় সহজেই ডেমন্সট্রেশন করতে পারি। কিন্তু ভাইস প্রেসিডেন্টদের সামনে যেয়ে রীতিমতো ঘাম ছুটে যাবার অবস্থা! ভাগ্যিস আরি আমার পক্ষে অনেক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আমাকে অনাবশ্যক লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলো!
মাইক্রোসফটএ সাধারণত গ্রুপএ খালি পজিশন থাকলে এবং ইন্টার্ণশীপ এর সময় ইন্টার্ণদের কাজ পছন্দ হলে তাদেরকে ফুল টাইম সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকুরীর অফার দেওয়া হয়। এবং এটা করা হয় কোনো ধরণের নতুন ইন্টারভিউ নেওয়া ছড়াই। সেজন্যই মাইক্রোসফট এর ইন্টার্ণশীপ ইন্টারভিউ প্রায় ফুল টাইম ইঞ্জিনিয়ারদের ইন্টারভিউ এর মতো হয়ে থাকে। চাকুরীর অফার দেওয়ার ঘটনাটি ঘটে ইন্টার্নশীপ এর শেষ সপ্তাহে।কম্পিউটার বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে আমার সারা জীবনের স্বপ্ন মাইক্রোসফট বা এ জাতীয় কোনো কম্পানীতে চাকুরী করা। তাই ইন্টার্ণশীপ এর শেষ সপ্তাহে এসে আমার হার্ট বিট নিয়ম করে অনিয়মিত হয়ে গেলো! কাজেই আমার সাথে যোগ দেওয়া ইন্ডিয়ান ছাত্রটিকে ফুল টাইম জব অফার দেওয়ার পর আমি আর স্থির থাকতে পারলাম না। আমার ম্যানেজারকে ইমেইল করলাম এই বলে - "আমি আমার ইন্টার্ণশীপ এর শেষ সপ্তাহে এসে পড়েছি। আমি জানিনা তোমরা আমাকে ফুল টাইম জব অফার দিবে কিনা। না দিলে কোনো সমস্যা নাই, আমি জানি মাইক্রোসফট এর মতো কম্পানীতে টেকনিকাল স্কিলস ছাড়াও অনেক কিছু দেখে ফুল টাইম জব অফার দেওয়া হয়। কিন্তু অন্তত আমাকে জানিয়ে দাও অফার না দিলেও। তাহলে আমি এই সপ্তাহে অন্যান্য গ্রুপ যারা হায়ার করছে তাদের সাথে ইন্টারভিউ দিবো"। ইমেইল দেওয়ার বেশ কিছুক্ষণ পরও কোনো উত্তর না পেয়ে ভাবলাম ছোট মুখে বড় কথা বলে ফেললাম নাতো! কিন্তু আরো কিছুক্ষণ পর আমাকে অবাক করে দিয়ে ক্যারেন ইমেইল করলো - "আমরা তোমাকে আমাদের গ্রুপ এ ফুল টাইম সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে জয়েন করার জন্য অফার দিচ্ছি! শীঘ্রই তোমার রিক্রুটার এ ব্যাপারে তোমার সাথে যোগাযোগ করবে।"
এর পরদিন আমার নতুন রিক্রুটার ড্যানিয়েল আমাকে বিল্ডিং ১৯ এ ডেকে নিয়ে মাক্রোসফটএ ফুল টাইম এম্পলয়মেন্ট এর জব অফার দেয়। যদিও এখানকার আবহাওয়া আমার একেবারে অপছন্দ (গ্রীষ্মকাল ছাড়া প্রায় সারাবছর গুঁড়িগঁড়ি বৃষ্টি কিংবা মেঘলা আকাশ থাকে), কিন্তু মাইক্রোসফট এর অফার বলে কথা! অফার এর সময় কম্পানীর নানারকম প্রশংসা ছাড়াও অন্যান্য কম্পানী থেকে যে কতো বেশি সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে ইত্যাদি নানা রকম কথাবর্তা বললো রিক্রুটার। আমার শেষ দিনটিতে ক্যারেন আমার জন্য ছোটখাটো একটা কেক-আইসক্রিম এর পার্টি দিয়েছিলো আমাদর অফিস এর বারান্দায়। গ্রুপ এর সবাই এসে আমাকে বিদায় জানালো আর কবে জয়েন করছি এইসব খোঁজখবর নিলো। আগস্ট মাসের ৩১ তারিখে প্রায় পৌনে তিনমাস ইন্টার্ণশীপ শেষে আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসি।
মাইক্রোসফটএ ফুল টাইম এম্পলয়ী হিসেবে জয়েন করি ২০০৮ সালের জানুয়ারীতে এক প্রচন্ড তুষারপাত এর সকালে। পরের পর্বগুলোতে থাকবে মাইক্রোসফট এর ব্যবসা, প্রযুক্তি, এবং কম্পানী কালচার নিয়ে টুকিটাকি - ব্যক্তিগত কথাকে এখানেই বিদায়!
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
বিলাশ বিডি বলেছেন:
সারফেইস আসলেই দারুণ জিনিস। শুধু দামটা একটু বেশিকী নিয়ে কাজ করেছি সেটা ডিটেইলস লিখিনি বেশি টেকনিকাল হয়ে যাবে ভেবে, এখানকার সবাইকেই তো বুঝতে হবে! প্লাস, কম্পানীর ভেতরের কাজ নিয়ে বাইরে বলার ব্যাপারেও বিধিনিষেধ আছেঃ(
কোন ল্যাংগুয়েজ -- কি সব ডিজাইন প্যাটার্ন -- ফেইমওয়ার্ক কি
এসব আর কি ।
তবে খামোকায় বলছি -- আমি নিজেও এর কনা পরিমান গুছিয়ে লিখতে পারতাম না ।
শাবি তে পড়া কারনে নাকি -- লেখাতে জাফর ইকবালের গন্ধ পাওয়া যায়
একে সিয়াটল - আবার টেকি জব
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
গুগলে একটা কন্ট্রাকট জব পাইতাম আহা ।
মনে বড় আশা ছিলো যাবো গুগলে
খিক খিক খিক !
লেখক বলেছেন: উইন্ডোজে প্রায় ৯৫ ভাগ কোডই সি/সি++ লেখা। আমার ল্যাঙ্গুয়েজও ছিলো মূলত সি++। তবে সি শার্প দিয়ে একটা ফ্রন্ট এন্ডও বানিয়েছিলাম শেষের দিকে। কোনো বিশেষ ফ্রেইমওয়ার্ক বা ডিজাইন প্যাটার্ণ ব্যবহার করিনি। আমার আ্যপলিকেশনটি মূলত লেখা হয়েছিলো উইন্ডোজ এর পরবর্তী ভার্শন এর এইচটিটিপি লেয়ারকে টেস্ট করার জন্য।
কুয়াশায় ডাকা বলেছেন:
অসাধারন... আগের লিখাটাও ভালো লেগেছিল... পরের লিখার অপেক্ষায় ...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আহ, বিখ্যাত ব্লগাররা আমার আবজাব লেখা পড়ে তাহলে![]()
ধন্যবাদ নুশেরা আপু (ভাবী?)!
আরজু বলেছেন:
ধন্যবাদ বস। +++
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আরজু!
ইচ্ছে বলেছেন:
দারুন, আমরা কত পিছিয়ে আছি মাঝে মাঝে তাই ভাবি।আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ...
আশা করি নতুন অনেক কিছু শিখতে পারব..
+++
লেখক বলেছেন: পিছিয়ে তো আছিই কিছুটা। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আগামী পাঁচ'শ বছরও এভাবে পিছিয়ে থাকতে হবে। আমাদেরকে নিজেদেরকেই আগাতে হবে, অন্য কেউ এসে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে না। সেজন্য সবার আগে জীবনকে ভালোবাসতে আরো বেশি, বেঁচে থাকাকে সেলিব্রেট করতে হবে, আরো এডভেঞ্চারাস হতে হবে আমাদের!
অপরিচিত_আবির বলেছেন:
কম্পিউটার বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে আমিও চাই আজ থেকে দুই তিন বছর পরে এইরকম একটা লেখা দিতে!! অবশ্য আমার প্রথম পছন্দ হবে গুগল। তবে আদার ব্যাপারীর আর .... বুয়েটে দুই বছর কাটিয়ে কি শিখলাম খোদাই জানেন খালি, আমার নিজেরতো কিসু মনে নাই লেখক বলেছেন: অবশ্যই দুই তিন বছর এরকম লেখা দিতে পারবা তুমি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছেলেমেয়েরা এখানকার বেশির ভাগ ভারতীয় ছেলেমেয়েদের থেকে কোনো অংশেই কম নয় এটা আমি নিশ্চিত। শুধু সচেতনতা আর একটু চেষ্টার অভাবে আমরা পিছিয়ে আছিঃ(
এই অবস্থা বদলাতে হবে।
শিরনামহীন বলেছেন:
খুবই ভালো লাগলো। ই-মেইল ঠিকানাটা কি দেওয়া যায়। Please
লেখক বলেছেন: আপনার ইমেইলটি দিলে আমি ইমেইল করতে পারতাম!
শান্ত সাষ্ট বলেছেন:
nice বস
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শান্ত।
লেখক বলেছেন: সব মিলিয়ে এখন প্রায় ১০০ এর মতো হবে। ইন্ডিয়ান এবং চাইনিজ আছে কমপক্ষে ১০,০০০!
ইন্ঞ্জিনিয়ার বলেছেন:
মাইক্রোসফট, গুগল, সান, ওপেরা ইত্যাদিতে বাংলাদেশীদের সংখ্যা আরও বাড়ুক এই কামনাই করি। মাইক্রোসফটে এখন ফুলটাইম কতজন বাংলাদেশী আছেন?
লেখক বলেছেন: সব মিলিয়ে এখন প্রায় ১০০ এর মতো হবে। ইন্ডিয়ান এবং চাইনিজ আছে কমপক্ষে ১০,০০০!
রাগিব বলেছেন:
চমৎকার লাগলো। @গাইতে ভালো লাগে ও ইঞ্জিনিয়ার, কয়েক বছর আগের হিসাবে কেবল বুয়েটের সিএসই বিভাগেরই প্রাক্তন ছাত্র ছিলো ২০ জন (http://www.csebuet.org/alumni.html#Industry ), এখন আরো বেশি। তাছাড়া অন্যান্য বিভিন্ন বিভাগের প্রকৌশলীও আছেন। এছাড়াও দেশের অন্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী আছেন, এবং আমেরিকাতে আন্ডারগ্রাড করা অনেকে আছেন।
লেখক বলেছেন: তো কয়েক বছরে বাংলাদেশী এম্পলয়ী এর সংখ্যা বেশ বেড়ে গেছে। অর্থনৈতিক মন্দা না থাকলে যে আরো বাড়তো এতে কোনো সন্দেহ নেই।
রাগিব বলেছেন:
@অপরিচিত_আবির প্রবলেম সল্ভ করা ও এসিএম এর প্রোগ্রামিং করার উপরে জোর দিতে পারো। পুঁথিগত বিদ্যা দিয়ে পরে কাজ হবে না, বরং সমস্যা সমাধানের বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও ভালো কোড করার দক্ষতাই কাজে দেয়।
লেখক বলেছেন: একদম ঠিক!
নুশেরা বলেছেন:
ভাই বিলাশ, বিখ্যাত ব্লগার বলায় ব্যাপক শরমিন্দা হইলাম। আমি নিজে হাবিজাবি ছাড়া কিছু লিখতে পারিনা। মন্তব্য করতেও নানারকম বিপদ। কারণ টেকি-বিষয়ক জ্ঞান শূন্যেরও কম। কবিতা বুঝিনা। আজকাল দেখি গল্পপ্রবন্ধের গদ্যও বুঝতে কষ্ট হয় লেখক বলেছেন: ![]()
লেখক বলেছেন: ![]()
লেখক বলেছেন: ![]()
নির্বাসন বলেছেন:
ধন্যবাদ গালিব ভাই......
অকৃতকার্য বলেছেন:
আরে!!!!! মাইক্রোসফট এর একখান লোগো লাগাইলেন পোস্টে, তারপরও কেউ কিছু কইলো না... মাইক্রোসফটরে তো এখানকার অনেকেই ভালা পায় না
লেখক বলেছেন: হে হে, এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্য, সবার মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে![]()
মাইক্রোসফটকে ভালো না পাওয়াটা কারো কারো কাছে একটা ফ্যাশন, সবাই যে জেনে বুঝে ভালো পায়না সেটি সম্ভবত সত্যি নয়!
অকৃতকার্য বলেছেন:
শুধু টেকনিকাল কথাবার্তা চালাইয়েন না... পরবর্তী কোন পর্বে ওখানকার খাওয়া দাওয়ার বর্ণনা চাই... খাবারের নাকি ছড়াছড়ি.... আহা...
লেখক বলেছেন: নারে ভাই, খাবার দাবার দেশেই মজা। এখানকার ফলমূল/জুস ফাস্ট ফুড এগুলা মজা। কিন্তু ফাস্ট ফুড দিয়ে মাসের পর মাস লাঞ্চ আর ডিনার করা খুবই কষ্টের ব্যাপারঃ(
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শামীম!
দীপান্বিতা বলেছেন:
অনেকগুলো প্রশ্ন করব ভেবেছিলাম...কিন্তু পুরটা পড়ে ও আলোচনাগুলো পড়ে লজ্জায় আর করছি না...খুব ভাল লাগছে পড়তে...আমার কাছে অন্য জগৎ ......এ ভাবেই লিখুন, পড়তে২ অবাক হচ্ছি.....লেখক বলেছেন: প্রশ্ন আসলে করে ফেলুন![]()
পড়ার জন্য ধন্যবাদ!
মারূফ মনিরুজ্জামান বলেছেন:
মাইক্রোসফটের যে ব্যাপারটা আমার কাছে সবচে' ভাল লাগে তা হচ্ছে এরা রেজাল্ট কি জিজ্ঞাসা করে না- অথবা অগ্রাহ্য করে। গুগল মনে হয় রেজাল্ট দেখে প্রথমে (ভুল হইতে পারে অবশ্য)।দুর্দান্তু একটা প্রজেক্ট করে তারপর ওপেন সোর্স সাইটে দিলে মনে হয় কাজ হয়। আবার ফোরামে অংশগ্রহনও + হতে পারে।
বাংলাদেশ থেকে সরাসরি মাইক্রোসফটে আসার প্রধান বাধা মনে হয় ভিসা। ইন্টারভিউ না দিলে অফার দিবে ক্যামনে?
বিলাস ভাইয়ের কাহিনী অনেক মজা +
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, পরীক্ষার গ্রেইড কোনো ব্যাপার না এখানে, এটা একটা দারুণ সুবিধাঃ) গুগল তো প্রথম দিকে আইভি লীগ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া নিতেই চাইতো না। এখনো ওরা জিপিএ দেখে!
কোন চান্স নাই তবুও ব্যাপারটা ভাল লাগল
লেখক বলেছেন: ![]()
মারূফ মনিরুজ্জামান বলেছেন:
রাগিব বলেছেন: @অপরিচিত_আবির প্রবলেম সল্ভ করা ও এসিএম এর প্রোগ্রামিং করার উপরে জোর দিতে পারো। পুঁথিগত বিদ্যা দিয়ে পরে কাজ হবে না, বরং সমস্যা সমাধানের বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও ভালো কোড করার দক্ষতাই কাজে দেয়।
------
অনেক দুঃখের কথা মনে পড়ে গেল- ১০২ টা সল্যুশন এ.সি.এম এ সাবমিট করে যে ধরা খাইছিলাম। কাউকে পছন্দ হইলে তারে মুগ্ধ করার জন্য আর যাই হোক প্রোগ্রামিং সবচে' খারাপ আইডিয়া
লেখক বলেছেন: সখি ভালোবাসা কারে কয়... ![]()
ত্রিভুজ বলেছেন:
মুগ্ধ হয়ে পড়লাম। ছোটবেলা থেকে যারা কম্পিউটার নিয়ে আছে এবং তাদের ভেতরে যারা প্রোগ্রামিং এ ইন্টারেস্টেড, তাদের প্রায় সবারই স্বপ্ন থাকে মাইক্রোসফটের মত কোথাও জব করার। বলা বাহুল্য সেই স্বপ্ন আমারো ছিলো... তবে বাস্তবায়নে অতটা সিরিয়াস কখনো হইনি। তাই এই স্বপ্ন কখনো বাস্তব হবে না তাও জানি...অভিনন্দন আপনাকে। আর অবশ্যই আপনি বাংলাদেশের গর্ব। পরের পর্বগুলোর জন্য অপেক্ষায় রইলাম। ভাল থাকবেন।
লেখক বলেছেন: আপনি এখনো আপনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করতে পারেন, সময় চলে যায়নি নিশ্চয়।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ!
লুথা বলেছেন:
আমি একটা ফালতু প্রশ্ন করি ?? কিছু মনে কইরেন না...
মাইক্রোসফটে ইন্টার্ন করলে এবং নতুন জবে ঢুকলে প্রথমে কেমন বেতন দেয় ??
লেখক বলেছেন: বেতন আমেরিকার স্ট্যান্ডার্ডে টেক কম্পানীগুলার এভারেজ এর কাছাকাছি। চলে যায়![]()
মারূফ মনিরুজ্জামান বলেছেন:
লুথা বলেছেন: মাইক্রোসফটে ইন্টার্ন করলে এবং নতুন জবে ঢুকলে প্রথমে কেমন বেতন দেয় ??
অলিখিত নিয়ম অনুযায়ী বিলাশ ভাই এই প্রশ্নের উত্তর মনে হয় এখানে দিবেন না।
তবে এভারেজ এর বেশ উপরে।
অনেক দুঃখের কথা মনে পড়ে গেল- ১০২ টা সল্যুশন এ.সি.এম এ সাবমিট করে যে ধরা খাইছিলাম। কাউকে পছন্দ হইলে তারে মুগ্ধ করার জন্য আর যাই হোক প্রোগ্রামিং সবচে' খারাপ আইডিয়া (বিল গেটস ও এই কাজ করে ধরা খাইছে- সুতরাং আমার থিওরী নির্ভুল)
-------------------------------------------------------------------------
হাহাহাহাহা ....ভাই অহনও ভুলেন নাই।তবে আইডিয়াটা মন্দ ছিলনা। আপনে বিডিতে এই লাইনে পথিকৃত
গেটসেরটা জানতে চাই।
পাপী বলেছেন:
এটা যদিও আমার ট্র্যাক না তারপরও মাইক্রোসফট বলে কথা। খুবি ভালো লাগলো।
মারূফ মনিরুজ্জামান বলেছেন:
শ।মসীর বলেছেন: গেটসেরটা জানতে চাইবিলজি তখন হাই স্কুলে - এক মেয়েকে দেখে মুগ্ধ- তো স্কুলের জন্য দুর্দান্ত একটা প্রোগ্রাম লিখে ফেলে- আশা মেয়েটা মুগ্ধ হবে। কিন্তু ওই মেয়ে বিন্দুমাত্র উৎসাহ দেখায় নাই। বেচারা বিল!
শিরনামহীন বলেছেন:
আমার email : । বস যদি ইমেইল করতেন তাহলে খুবই খুশি হতাম।
ভাবনাহীন আমি বলেছেন:
ভাই আপনার লিখা পড়ে মনে হচ্ছিল আমি আপনাদের সাথে ছিলাম সব চোখের সামনে দেখতে পারছি।কি বলব ভাই বলার কোন ভাষা নাই । জটিলসসসসসসসসসসসসসস....................
আমেরিকায় পড়াশোনার ব্যাপারে বিস্তারিত জানিয়ে আপনার লেখা চাই.... আমরা যারা বিদেশে আইটি নিয়ে পড়তে চাই, তাদের প্রথম বাধা হচ্ছে ইনফরমেশনের অভাব.... সঠিক নির্দেশনার অভাবে অনেকেই এজেন্টের খপ্পরে পরে সর্বস্ব হারাচ্ছে....
আশাকরি, শীঘ্রই এ বিষয়ে আপনার লেখা পাব.... ধন্যবাদ।
হাবিবুর রহমান তারেক বলেছেন:
পড়ে ভালো লাগলো।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...


















ভালোই লাগলো --
তবে কার নাম কি -- এটা জানানোর চে কি কি নিয়ে কাজ করলেন জানতে আমি বেশী মজা পেতাম
++