মূল : মুহাম্মাদ যাফযাফ
অনুবাদ : ফায়সাল বিন খালিদ
ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভারসিটি, ত্রিপলী, লিবিয়া।
শোন, তুমি বলেছ এখানের সমুদ্র সৈকতটা খুব সুন্দর, তোমার দেখা সমুদ্র সৈকতগুলোর কোনটার সাথে যেন তার তুলনা চলে না। এটা ঠিক যে এখানের ঢেউগুলো খুব বড় নয়। ছোট ছোট ঢেউ, সৈকত জুড়ে ছড়িয়ে আছে ছোট ছোট সবুজ গাছ, তাতে ঝুলে আছে নানা রঙ্গের ফুল। এখানে ওরা সমুদ্র সৈকতের খুব যত্ন নেয়। তুমি এসেছ বসন্তকালে। গ্রীষ্মকালে এলে সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃশ্য দেখতে পাবে, যখন যত্ন নিয়ে গড়া সুন্দর নারী দেহগুলো সোনালি বালিতে শুয়ে রোদ পোহায়, খদ্দরে ঠেসে থাকে সমুদ্র পারের ওই ছোট ছোট পানশালাগুলো, খুব মনোযোগ দিয়ে এবং উৎফুল্ল হয়ে ওরা বিয়ার পান করে, দেখে তোমার মনে হতে পারে যেন তারা কোন দিন ‘কেয়ামত দিবস’ পান করবে না।
তুমি বলছ, আমাদের দেশেও এমন দৃশ্য দেখতে তোমার ইচ্ছে করে ? ! না না !! অসম্ভব। আমাদের নারীদের দেহগুলো স্লিম হতে, এবং শিশু ও মাতালরা গাছের ডাল ভাঙবে bv সে পর্যন্ত পৌঁছতে আমাদের আরো অনেক সময় লাগবে। তুমি ঠিকই ধরতে পেরেছ, চেহারার আদলে আমাদের সাথে ওদের অনেক মিল। অসম্ভব কি, আরবরা তো অনেক প্রাচীন কালেই জেনেভায় এসে বসত গেড়েছিল। জেনেভা অনেক পুরোনো শহর। তবে তা খুবই সুন্দর। সেদিন যে পথে আমরা বড় একটা গির্জা দেখে ছিলাম তার কথা তোমার মনে আছে। অপূর্ব স্থাপত্য। তাই না ? ! ইউরোপে তুমি আরো অনেক গির্জা দেখে থাকবে। কিন্তু জেনেভার গির্জা অতুলনীয়। ওখানে কি তারা প্রার্থনা করে ?
হা। ওরা খুব ধার্মিক। তবে তাদের মধ্যে অনেক নাস্তিক এবং ভাগ্যবাদীও আছে। অবাক হয়ো না। এখন সকাল সাতটা। এই জন্যই এই জ্যাম। ওরা কাজে যায় পিঁপড়ার মত। গতকাল ওদের দেখেছ বারে বসে জমিয়ে পান করছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠে যায়। মানে তারা কাজে যায়, কাজ করে, যাতে তারা পান করতে পারে খেতে পারে, কাপড়চোপড় পড়তে পারে এবং ফুটবল ম্যাচের ফলাফল নিয়ে গল্প করতে পারে। ওরা খুব বেশি পড়াশোনা করে না ? এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। দুনিয়ায় কি সব ঘটে যাচ্ছে, তা নিয়ে ওরা বেশি মাথা ঘামায় না। তারা রাষ্ট্রপতির পক্ষে স্লোগান দেয়, কিন্তু ক্যাফে, বার এবং বাসে ওরা সমসময় তার বিরুদ্ধে থাকে। ইটালিয়ান জাতি খেতে, পান করতে, পোশাক পড়তে এবং জুতোর নতুন নতুন ডিজাইন উদ্ভাবন করতে পছন্দ করে।
ইটালী মরক্কো bq এটা তোমাকে বুঝতে হবে, শেষবিচারে এই দেশের সাথে ওই দেশের কোন মিল নেই। তারা অনেক রাত করে ঘুমায় কিন্তু সকাল সকাল ওঠে পড়ে।
শনিবার যখন ভোট গ্রহণ শুরু হবে তখন কেউ কেউ ভোট দিতে যাবে। অনেকে যাবে না, কুকুরের গা জড়িয়ে বা কোন আদমের পাশে শুয়ে অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকবে। তাই ভোটের ফলাফল আশানুরূপ হবে না। কারণ ওরা অনেক ঘুমায়। তবে তাদের দোষ দেওয়া যায় না। কারণ তারা সারা সপ্তা কাজ করেছে এবং ভোটে যে লোকটা পাশ করবে সে তাদের জন্য কিছুই করতে পারবে না। কারণ সব কিছু যেমন আছে তেমনিই চলতে থাকবে। এবং কারণ আমেরিকান বিমান ঘাঁটিগুলো থেকে যাবে আগের মতই। এটা কি তুমি জান যে, মরক্কীদের পর ইটালীর সবচেয়ে বড়া সম্প্রদায় হচ্ছে আমেরিকান সম্প্রদায়, তারপর ফিলিপিনীরা। ওহ ! ভাল কথা, দেশে ফিরে গিয়ে যখন তাদের সাথে ইটালী সম্পর্কে গল্প করবে তখন তাদের বল, ইটালিয়ানরা যখন মাতাল হয়ে বন্ধুর সাথে ঝগড়া করে তখন তারা এই বলে গালি দেয় : “ভাগ নোংরা মরক্কী” আশ্চর্য !! সৌদীতে কাজ করত, এমন এক মরক্কীয়ান মহিলা আমাকে বলেছে, সৌদিয়ান মহিলারা ঝগড়ার সময় এই বলে গালি দেয় “মরক্কিনীর ঝি কোথাকার !!” অবাক হচ্ছ কেন ? জেনেভা, মিলানো এবং রোমে তুমি নিজেই কি দেখনি অনেক মরোক্কী মেয়ে নগ্ন হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে ? এবং সম্ভবত এই দৃশ্য তুমি ইটালীর অন্যান্য শহরেও দেখতে পাবে। তবে এই মেয়েরা অল্প কয়েক মাসেই অনেক টাকা কামাবে এবং বাড়ি, দোকন ও বেকার পুরুষ কেনার জন্য দেশে ফিরে যাবে। আমি যদি তোমাকে বলি অনেক বিবাহিত মেয়ে ¯^vgx‡K জানিয়েই এই কাজ করে তাহলে অবাক হয়েও না। তুমি বলতে পার এটা তো খুবই নোংরা ব্যাপার। আমি তোমার সাথে এক মত, মরক্কোতে এটা দোষের। কিন্তু এখানে এতে দোষের কিছু নেই। এখানে এই পেশার বিশেষ নৈতিকতাও আছে। তাছাড়া এই মেয়েরা মরক্কোয় থেকে গেলে কি করতে পারত ? রুটির টুকরো জোগাতে জোগাতে ওরা কুৎসিত হয়ে যেত। অনেক সময় সেই সব বেকার রক্ষাকর্তাদেরকে তাদের অনেক মূল্য দিতে হত। দিতে না পারলে রক্ষাকর্তারা অনায়াসে নাপিতের ক্ষুর দিয়ে তাদের চেহারা বিকৃত করে দিতে পারত। কিন্তু এখানে এরা নারীর চেহারা বিকৃত করে না। তারা বিকৃত করে নারীর দেহ কিংবা তাদের খুন করে ফেলে। কিন্তু কোন অবস্থাতেই তারা নারীর বগল তলার লোম ছিনিয়ে নেয় না। ওই যে মেয়েটা পাতাল পারাপার দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে, বলছ মেয়েটা সুন্দরী। সত্যিই মেয়েটা সুন্দরী। কিন্তু বয়স হলে ও হয়তো কুৎসিত এবং ভয়ংকর হয়ে যাবে। কে জানে ? সেও হয়তো এই পেশায় সাথে জড়িত। কিংবা হয়তো সে ভীষণ শিক্ষিতা কোন মেয়ে। মেয়েটা ছোট ও খুবই সুন্দরী এবং এখন এই বৃষ্টি-ঝড়া ঠান্ডা সকালে ও পাতাল পারাপার দিয়ে রাস্তার ওপারে যাচ্ছে, যেখানে ছোট ছোট গাছগুলোয় নানা রঙ্গের ফুল ঝুলে আছে। ভবিষ্যতে, যখন তার বয়স বেড়ে যাবে, তখনও হয়তো সে এই পারাপার দিয়ে রাস্তা পার হবে এবং দেশে ফিরে গিয়ে কোন এক জনের সাথে অন্য ভাষায় কথা বলবে। ওই যে ডাস্টবিনগুলো দেখছ, ওখানে ঘুমায় কাজ না পাওয়া বেকার কয়েকজন মরক্কিয়ান। ভেতরটা পরিষ্কার করে তারা সেখানে দিব্যি শুয়ে পড়বে। তবে তাদের কেউ কেউ এই সংকটের ভিন্ন সমাধান করে। তারা নষ্ট অকেজো গাড়ি কিনে রাতে তাতে ঘুমানোর জন্য। কখনো কখনো তারা আশ্রয় নেয় দেউলিয়া কোম্পানিগুলোর বারান্দায়। তুমি বলতে চাচ্ছ, ওরা দেশে ফিরবে গলায় এক রাশ সোনালি শেকল নিয়ে, ব্যাপারটা হয়তো সে রকমই। কারণ এখানে ওরা সব কিছুই করে। তবে এমনও অনেক আছে যারা যা ইচ্ছে তাই করতে পারে না। উদাহরণত : ওই দেখ একটা বাচ্চা ছেলে গাড়ির সামনের কাচ মুছছে। ও মরক্কিয়ান। খুবই সম্ভব যে, তার মা অন্য কোথাও অন্য কোন কাজ করে। তার মত এমন আরো অনেক শিশু আছে এখানে। ওখানে, দেশে, যেমন ভিক্ষা করার জন্য শিশু ভারা করা হয়, তেমনি এখানে গাড়ির সামনের কাচ মোছার জন্য শিশু ভারা করা হয়। তারা এখানে কীভাবে এল তাই জানতে চাইছ ? আমি জানি না। তবে যেভাবেই হোক তারা এখানে এসেছে এবং আমি জানি ভিসা পেতে তাদের অনেক ঢাকা খরচ করতে হয়েছে। যাইহোক, আমি এখানে আছি অনেক বছর ধরে। হয়তো এক দিন ফিরে যাব, কিংবা হয়তো কোন দিন ফেরা হবে bv এটা কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। কিন্তু ভালই বেঁচে আছি। আমার মনে হয় তাদের বিষয়ে তোমার সাথে আলোচনা করাটা জরুরি। তুমি তাদের জান না। আমি এখানে অনেক বছর ধরে আছি। আমার কোন সংকট নেই, তবে তাদের অবস্থার জন্য আমার আফসোস হয়। তাদের অনেকে রাতারাতি অনেক পয়সার মালিক হয়ে যায়। কেউ জানতে পারবে না, কীভাবে ঘটনা ঘটে। তবে ব্যাপারগুলো খুবই স্পষ্ট। তারা হয় মাদক ব্যবসা কিংবা আদম ব্যবসা করে, কিংবা অন্য কোন কাজ করে আল্লাহ কিংবা শয়তান ছাড়া অন্য কেউ তার টের করতে পারে না। এখানে গাড়ির কাচ মোছা শিশুর সংখ্যা অনেক। তাদের ভারা করা হয় বা বিক্রি করা হয় খোলা সিগারেটের মত। এর থেকে বের হওয়ার উপায় ? জেনেভার অনেক গমন গলি এবং নির্গমন পথ আছে। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, কোন দরজা দিয়ে ঢুকবে আর কোন জানালা দিয়ে বের হবে, তা বুঝতে শেখা। অদ্ভুত একটা গন্ধ পাচ্ছ ?! এটা সমুদ্র থেকে উঠে আসা জেনেভার বাতাসের ঘ্রাণ। সৈকত থেকে একটু দূরে গেলেই আর এই ঘ্রাণটা পাবে না। এদের পূর্বপুরুষরা সম্ভবত এই ঘ্রাণের লোভেই এখানে বসত গড়েছিল। মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর অন্যতম হচ্ছে সে কোথায় বাস করবে ¯^vaxbfv‡e তা নির্বাচন করার AwaKvicvnv‡oi গুহা বা কবরের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য... আমার সাথে তোমার এক মত হওয়াটা জরুরি কিছু নয়। আমি জানি অনেক বিষয়ে তুমি আমার সাথে এক মত। তা না হলে এতটা সময় আমরা এক সাথে থাকতে পারতাম না। এক ধরনের মাদকতা বোধ করছ ?! খুব ¯^vfvweK| শান্ত এই সমুদ্রটার সামনে গিয়ে দাঁড়াও, ওই প্রাচীন দুর্গটার দিকে তাকাও এবং ¯^cœ দেখ : কিছুক্ষণ পর জিরালাতিরা বারে গিয়ে বিয়ার পান Ki‡e তাতেই হবে, গলা পর্যন্ত পান করলেও ওতটা নেশা হয় না। ওই মেয়েটাকে কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না ? আমি মাঝে মাঝেই তাকে এখানে দেখি। সম্ভবত ও এখানের কোন কর্মচারীর বান্ধবী। ও প্রতিদিন সকালে আসে, সংবাদপত্র পড়ে অত:পর গাড়িতে উঠে চলে যায়। আমি জানি না ও কি কাজ করে। সত্যিই ও খুব উত্তেজক। কারণ ও বেশি কথা বলে না, সব সময় নিস্তব্ধতায় ডুবে থাকে, কর্মচারীদের সাথে টুকটাক কথা বলে অত:পর সংবাদপত্র খুলে বসে, হয়তো পড়ে এরপর গাড়িতে ওঠে চলে যায়। পৃথিবীর নারীরা একেক জন একেক রকমের। তাদের পরস্পর কোন মিল নেই। আমি জানি না এই মেয়েটি কি জেনেভা না অন্য কোন শহরের। তবে সে নারী এবং অবশ্যই অন্যান্য নারীদের সাথে ওর মিল নেই। তুমি বলছ মরক্কিয়ান নারীরা প্রায় একই রকম ? না.. আমি তোমার সাথে এক মত হতে পারছি না। একজন নারী অন্য আরেক নারীর মত হতে পারে না। আল্লা তায়ালা প্রতিটি জীবকে আলাদা আলাদা ¯^fve দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। ওই ফুলগুলো খুব সুন্দর লাগছে ? ¯^vfvweK| সত্যিই অপূর্ব। এরা যে কোন সুন্দরকে ভালোবাসে। কিন্তু কীভাবে সুন্দরের গল্প করতে হয়, তারা সেটা জানে না। ওদের কবিরা তাদের পক্ষ থেকে এই কাজটি করে দেয়। ফুলের কথা ওঠায় মনে পড়ল। আমি একবার আমার এক বন্ধুর সাথে হোয়াইট হাউজে গিয়ে ছিলাম। আমরা এক বারে গিয়ে বসলাম। সুন্দরী এক তরুণী এসে আমাদের চুমো খেল এবং আমাদের সাথে পান করল। ও প্রচুর পান করল এবং প্রতি নতুন গ্লাস শুরু করার আগে আমাদের চুমো দিতে লাগল। কিন্তু মাতাল হওয়ার পর, আশেপাশের যে সব খদ্দররা তার দিকে তাকিয়ে ছিল, ও তাদের সবাইকে চুমো খেতে লাগল। একজন ফুল বিক্রিতা বারে ঢুকল। তার একটি ফুলও বিক্রি হল না। কারণ তাদের সাথে ফুলের কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু আমার বন্ধু অনেক টাকায় একটি ফুল কিনে মেয়েটিকে উপহার দিল। ও ফুলটির দিকে তাকাল, গন্ধ নিল এবং বিয়ারে গ্লাসে চুমুক দিল, ফুলটি টেবিলের উপর রেখে দিল। যে কোন বন্দী যাকে কামনা করতে cv‡i মেয়েটি ছিল সেই টাইপের। আমরা বার থেকে বেড়িয়ে এক ডান্সক্লাবে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গাড়ি নিলাম। মেয়েটি ফুলটা সাথে করে নিয়ে এসেছিল। দীর্ঘক্ষণ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ফুলটি দেখল ও। তারপর আমার বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করল : “এই ফুল দিয়ে আমি কি করব ? প্রেশার কুকারে রান্না করে আমার নয় বোনকে খেতে দেব ?” এই বলে ফুলটি মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে পায়ে মাড়াতে লাগল, দেখে মনে হচ্ছিল যেন ও তার কোন শত্রুর লাশ মাড়াচ্ছে। এভাবে ও ফুলটি থেঁতলে ফেলল। কিন্তু এখানে ওরা গাছ থেকে ফুল ছিঁড়তেও পাপবোধ করে। এরা খুব ফুল পছন্দ করে, যেমন তারা অন্য আরো অনেক কিছু পছন্দ করে, উদাহরণত: খুন করা। এটা তাদের ¯^fve| ওরা ঝটপট খুন করে ফেলে। তবে আমরা খুন করে ধীরে ধীরে। বলতে চাচ্ছ তুমি আমার কথা বুঝতে পেরেছ ? সেটা ভাল। খুনোখুনি শুরু করার পূর্বে আমাদের পরস্পরকে বুঝা উচিত। দেখ কত গাড়ি। কিন্তু কোন গাড়িই কাউকে চাপা দিয়ে যাচ্ছে না। কারণ মাতাল না হলে এখানের পথচারীরা নিজেদের সম্মান করে চলে। তারা রাস্তা পার হয় পাতাল পারাপার দিয়ে। কিন্তু মরক্কোর পথচারীরা নিজদের সম্মান করতে শিখেনি। তারা পথের মাঝখান দিয়ে সরাসরি রাস্তা পার হয়। যে পরিমাণ টাকা দিয়ে একটা দালান তোলা যায়, যার নীচে থাকবে গাড়ির গ্যারেজ কিংবা মশলার দোকান কিংবা ইঁদুরের লেজ, টিকটিকি, ব্যাঙ, মরণোন্মুখ ছোট্ট নিরীহ কচ্ছপ বিক্রির †`vKvb এই পরিমাণ টাকার সাথে আত্মাটাত্মার কোন তুলনা চলে না। জেনেভাতে যেমন মানুষ মারা যায় তেমনি ওখানে, মরক্কোতেও মানুষ মারা যায়। কোন পার্থক্য নেই। মানুষ বিয়ে করে, বাচ্চা জন্ম দেয়, বেঁচে থাকে, বিশ্বাসঘাতকতা করে, ঘৃণা করে, অনেক সিদ্ধান্ত নেয়... এবং ভুলে যায় মৃত্যু নামের কিছু একটা আছে এই দুনিয়াতে।
মৃত্যু সম্পর্কে আলোচনা তোমার পছন্দ না। এটা খুবই প্রাকৃতিক ব্যাপার এবং মৃত্যু সম্পর্কে তুমি আমার চেয়ে অনেক বেশি জান। উহ ! এই সাতসকাল আমাদের এ সম্পর্কে আলোচনা না করাই উচিত। তাহলে সে সম্পর্কে আমরা কখন আলোচনা করব ? মৃত্যু তো প্রতিটি মুহূর্তে উপস্থিত। এই যে এই মুহূর্তে তোমার সাথে কথা বলছি, এর মধ্যে মরে গেছে অনেক মানুষ, জন্ম নিয়েছে আরো অনেক। দ্রুত ছুটি চলা ওই গাড়িগুলোর দিকে তুমি তাকিয়ে আছ, অবাক হয়েও না ! অন্য কোথাও, অন্য কোন মানুষরাও একই কাজ করছে এবং সকাল আটটা বেজে যাওয়ার পরও অনেকে এখনও ঘুমিয়ে আছে। কিন্তু কারো পক্ষে জানা সম্ভব নয় এই গাড়িগুলো কোথায় যাচ্ছে, তবে কোন অবস্থাতেই এরা ওদের সময় নষ্ট করে না। এমনকি কোন কোন মরক্কিয়ান নারীও এখানের আসার পর তাদের সময় নষ্ট হতে দিচ্ছে না। এটা তাদের অধিকার, যতক্ষণ না আরোগ্যহীন অভিশপ্ত ব্যাধিটা তাদের দেহে ঢুকছে।
কিন্তু, অভাব নামের ব্যাধিটিই কি পৃথিবীর সবচেয়ে অভিশপ্ত ও মারাত্মক ব্যাধি নয় ? অভাব না থাকলে তারা ইটালী আসত না। ওরা মিছকীন, কিন্তু তারা ভদ্র এবং পরিচ্ছন্ন, যে কোন মরক্কী পুরুষ এই বাক্যটা মুখে নিয়ে কুলকুচি করে তার মুখ পরিষ্কার করতে পারে। তার যদি ব্যাপারটা পছন্দ না হয় তাহলে সে তার বোন বা হজ করে আসা মায়ের সংসার চালানোর দায়িত্ব নিক এবং তাদেরকে নাছারাদের দেশে যেতে বারণ করুক। সেই মেয়েটা, যে পায়ে ফুল মাড়িয়ে ছিল, সে যদি এখানে আসে তাহলে ও কি করবে ? তোমাদের রাষ্ট্র - দু:খিত আমাদের রাষ্ট্র- কি তাকে রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগ দেবে ? ক্ষেপে যেও না। এটা নিছকই আমার দৃষ্টিভঙ্গি। তোমাকে আরো উদারমনা হতে হবে।
হা, আমি ইটালির নাগরিকত্ব পেয়েছি, কিন্তু আমি এখনও মরক্কিয়ান আছি। তা না হলে তো আর্জেন্টিনার লোকেরা কারলোস মুনাঈমকে তাড়িয়ে সিরিয়ায় ফিরিয়ে দিত এবং ... ইত্যাদি ইত্যাদি। তুমি কি বিরক্ত হচ্ছ ? সত্যিই আমি দু:খিত। আমি হয়তো স্নায়ুর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছি, কারণ গতরাতে আমি খুব বেশি পান করেছিলাম। তুমিও কি তাই ? তাহলে তো তুমি এই পৃথিবীতে যা ইচ্ছে তাই করতে পার।
এই জীবনটা আমাদের উপভোগ করা উচিত। এটা তার পাওনা। কারণ আমরা জন্ম গ্রহণ করেছে অচেতনভাবে, নিজেদের ইচ্ছা ছাড়া। কীভাবে জীবন যাপন করতে হবে, তা না শিখে জীবনে জন্ম গ্রহণ করার কি অর্থ ? তুমি বলছ জীবন উপভোগ এবং আমাদের মাঝে অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে ? আমিও তার বিপরীত কিছু বলছি না। কিন্তু মগজ কাজে লাগিয়ে আমাদের এই সব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে যেতে হবে। মনে হচ্ছে তুমি আমার কথা বুঝতে পার নি। আমি বলছি এক কথা আর তুমি বলছ আরেক কথা। আমি মানব সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করছি আর তুমি বিমানবন্দরের কথা বলছ। ঠিক আছে, জেনেভা বিমানবন্দর কাছেই, এবং তা খুব সুন্দর, সমুদ্রের উদ্দেশ্যে প্রসারিত একটি ভূ-জিবের উপর অবস্থিত জেনেভা বিমানবন্দর। চিন্তিত হওয়ার কোন কারণ নেই। সামান্য ট্যাক্সি ভাড়া লাগবে, অচিরেই তুমি তোমার ¯^‡`‡ki উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। বিমান যখন উড়াল দিতে শুরু করবে তখন নীচে তাকালে দেখবে জেনেভাকে পাহাড়ের উপর অবস্থিত একটা বিশাল দুর্গের মত মনে হয়, তোমাদের শাফশাউন শহরের মত। পাহাড়ের উপর, সমুদ্র সৈকত এবং নদীর পারে অস্থিত এমন আরো অনেক শহর আছে। যেখানেই তাদের মনে ধরেছে সেখানেই তারা তাঁবু ফেলেছে, এমনকি ... গ্রামেও। জেনেভার মত .. ও পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। কি বললে ? আমি ঠিক শুনতে পাইনি তোমার কথা ! ওহ ! ওই ডাস্টবিনটা নড়ছে ? দেখ দেখ ট্রাকটা এখনই তাকে উপড়ে তুলে আনবে এবং তার ময়লাগুলো ঢেলে আবার জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। আমি আশা করব তুমি বলবে না এই গাছগুলো একদিন শুকিয়ে যাবে এবং মরে যাবে ফুলগুলো। তুমি কি মৃত্যুকে ভয় পাও ? তাহলে তুমি নির্বোধ। এখানে ওরা মৃত্যুকে ভয় পায় না। তাই তারা অনেক খায় এবং প্রচুর পান করে।
জেনেভার সমুদ্র সৈকতে : একটি আরবী গল্পের অনুবাদ
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৮টি মন্তব্য ২টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন
=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন
রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল
আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।