আচ্ছা বাসে উঠলে দীর্ঘ সময় কাটানোর জন্য আপনারা কে কি করেন? আমি গান শুনি, চ্যাট করি অথবা নেটে গুতাগুতি করি। কাজগুলো এমনভাবে করি যাতে পাশের মানুষগুলোর অসুবিধা না হয়। গত বুধবার রাতে বাসে করে বাসায় ফিরছিলাম। আমার সাথে একই রো তে কিন্তু পাশের কলামে একটা ছেলে বসেছে, তার কানে হেডফোন লাগানো। এটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার, এখন সবাই গান শুনে, আমিও শুনি। আমি তার দিকে বেশি নজর দিলাম না, আমি চ্যাট করছি মোবাইলে। হঠাৎ এমন কিছু কথা কানে আসছিল যে মনে হচ্ছিল ওই ছেলেকে ধরে মাইর দেয়া উচিৎ।
কথাগুলো অনেকটা এই রকম, "আরে দোস্ত! সাথে পলিথিন ছিল না, নাহলে আজকেই কাম সাইরা দিতাম! মাইয়া আমারে কয়, তুমি না বলেছিলে আমার হাত ধরবে দেখা হলে, এখন ধরছ না কেন? আমি মনে মনে বলি তুই তো আমার বাসার কাজের মেয়ের মত! দোস্ত আর বলিস না! মেয়ের কোন কমন সেন্স নাই, একজনের সাথে দেখা করতে আসছে একটু সাইজা গুইজা আইবোনা? কি রকম মাইয়া! মনে হইতাছিল গার্মেন্টস থেইকা উইঠা আইছে! আমারে আগে কইছে, আমাকে দেখলে তোমার পছন্দ হবেই! আমি জিগ্যেস করছিলাম, তুমি একটু সেজে আসনি কেন? মেয়ে বলে পড়ার অনেক চাপ তাই সময় পাইনি! কি কস! আর দেখা করুম মানে? মাথা খারাপ নাকি? আমি সিমটা ভাংমু এখন গিয়া!" কি ধরনের ছেলে মেয়ে এরা? মেয়েটাই ছেলেটাকে চান্স দিচ্ছে! ছেলে মেয়ের বন্ধুত্ব ব্যাপারটাকেই অনেকে কালিমা লেপন করেছে তাদের ফালতু কাজের মাধ্যমে। এটাকে কি বন্ধুত্ব বলে?
আরো অনেক কথাই আছে সেগুলো না হয় নাই বা বললাম। এই কথাগুলো এত জোরে জোরে বলছে, সবাই শুনছে, অনেকে পিছনে ফিরে ছেলেটাকে দেখছে কিন্তু তার কোন ভ্রূক্ষেপ নেই! আরেকদিন বাসে শুনলাম একটা ছেলে ফোনে আরেকজনকে জোরে জোরে বলছে, "আমি তোমার বোরকা খুলব, তোমার বোরকার নিচে শয়তান আছে!" কি আজব সমাজে আমরা বাস করছি! কে কি মনে করল তাতে আমাদের কিছু আসে যায় না। বাসে উঠে অনেকেই দেখি জোরে জোরে ফোনে কথা বলে। কি দরকার ভাই? পরে কথা বলা যায় না?
আরেকটি ঘটনা বলি। একদিন বাসে আমার পাশে বসেছে একজন মধ্য বয়সী লোক, তিনি লাউড স্পিকার দিয়ে জোরে জোরে গান শুনছিলেন বাসে। স্পিকারটির মুখ আমার দিকে ঘুরানো! নড়ে চড়ে বসলাম, আকারে ইঙ্গিতে বোঝাতে চাইলাম আমার সমস্যা হচ্ছে, কিন্তু ওই লোকের আইকিঊ এত কম যে, এটা বুঝবার ক্ষমতা তার নেই!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



