somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ সমাজে বাস করার যোগ্যতা/অধিকার কোনটাই আমার নাই।

২০ শে জুন, ২০০৮ রাত ১০:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার বিবৃতির পুরো এক ঘন্টা হয়নি। এরই মাঝে চাপা অস্বস্তি, শোরগোল বিব্রত শ্রোতাদের মাঝে। এক সহকর্মী বড় ভাই উঠে সশব্দে বলে উঠলেন,

"শেরিফ, এটা কি বল তুমি? তুমি না মুসলমান? তোমার আদর্শ হওয়া উচিৎ রাসূল!! কোথাকার কাকে তুমি আদর্শ বানাও?"

আমি বিনয়ের সাথে বললাম, "দু:খিত! রাসূলকে আজকে যারা প্রিয় ব্যক্তিত্বের শীর্ষে স্থান দেয় তাদের প্রায় সবাই রাসূলের কথা ও কাজের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিরুদ্ধাচারণ করে বেড়ায়। মধ্যযুগ, মৌলবাদ, ও মানবতা বিরোধের প্রসঙ্গ তোলে। এ স্ব বিরোধী ভন্ডামি আমি করতে পারিনা। "

হৈ চৈ এর মাত্রা বেড়ে গেল। "বের করে দাও এ উন্মাদকে...ব্যানিস হিম...বয়কট হিম..."

সব কথার শেষে সমাজ বদ্ধ মানুষের মন্তব্য থাকে অভিন্ন,... "আপনার মানসিকতা অত্যন্ত নীচ ও সংকীর্ণ ....অতি সত্ত্বর চিকিৎসা দরকার।"

কিছু পুরনো পাপ আছে, ভীষণ পাপ, সময়ের প্রবাহে সমাজে আসে, চালু হয়, চলতে থাকে, বাড়তে থাকে তার পরিধি।এক কালের জঘন্য পাপ আজ ঢকঢক করে এক গ্লাস পানি খাওয়ার মতই স্বাভাবিক বলে বোধ হয়।ব্যাপক প্রচলনের কারণে পাপ বোধ উদ্বায়ী হয়ে একটা উৎসব মুখর পূণ্যের অনুভূতি তৈরি করে দেয় সমাজ। নিয়ম, শাস্ত্রের কথা সেখানে অচল। স্বাধীন মানুষ নিয়মতান্ত্রিকতা ও পরিণতির পরোয়া করেনা।

আমার এক গুরু [প্রসঙ্গত উল্লেখ্য তিনি হিন্দু বংশোদ্ভুত ধর্ম নিরপেক্ষ] বলেছিলেন, "আমি সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে উচ্চকিত স্থান গুলো এড়িয়ে চলি সবসময়।" কারণ টা আজও জানা হয়নি সময়ের অভাবে।প্রচন্ড একটা ভাল লাগা জনিত শ্রদ্ধা জেগেছিল মনে। সমাজ আমাদের যা করতে শখায় ও দেখায় তার গড্ডালিকা অনুসরণের ঘোর বিরোধিতাই আমাকে তার কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল। অদৃষ্টের পরিহাস, দুদফা প্রচেষ্টার পরেও তার সম্মুখ দর্শন পাইনি।

কানাডা প্রবাসী এক প্রাক্তন সহপাঠীর সাথে তাৎক্ষণিক বার্তা আদান কালে জানায়, "শেরিফ, আমাদের পরিচিত মহলে তোকে কেউ সহ্য করতে পারেনা। কিন্তু তোর চিন্তাধারার সাথে আমার মিল হয়, তাই তোকে ভাল লাগে। ভদ্রতার খাতিরে আমি তর্ক করিনা, আর তুই করিস বলে সমস্যা।"

কিছু কথা বলিঃ

'জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অর্থাৎ মোটা দাগে "মানুষের জন্ম ও অস্তিত্বে আসাটা" আজ অভিশপ্ত মনে করা হয় একটি গরীব দেশের জন্য, গৃহপালিত জন্তু গুলোর ব্যাপক জন্ম-বংশ বৃদ্ধি সেখানে মহা সাদরে কাম্য।' আমি বুঝিনা চালের কেজি ৪০ আর তেলের লিটার ১০০ এর উপরে নিয়ে বেচে আছে কিভাবে এ দেশের কোটি জনতা? কিভাবে চলছে তাদের পেট? জন সংখ্যাকে জনসম্পদ করতে না পেরে, দুর্নীতির দিকে না তাকিয়ে 'মানুষের জন্ম' কেই যে সমাজে অনাহূত মনে করা হয়, আমি সে সমাজের অন্তর্ভুক্ত নই, হতে চাইনা।

সংজ্ঞায়িত পাপের গন্ডি থেকে কেউ বেরিয়ে আসতে চায়, পারেনা 'সমাজ', 'পরিবার' নামের কিছু সংকীর্ণ বাধন থেকে বেরিয়ে আসতে। 'ঈদে'র নামে কিছু ভোগবাদের ভোজবাজির নিয়ম সংস্কার আমি সবসময় অনাগ্রহভরে এড়িয়ে চলি। একই ভাবে আত্মীয় স্বজন, বিয়ে-জন্মদিনের দাওয়াত কবুল করিনা ।নিজের বাবা মার আদর্শের সাথে এক মত হতে পারিনা, সমাজ বদ্ধ রক্ত সম্পর্কের আর দশজনের কথা বাদই দিলাম।

চুল দাড়ি বড় হচ্ছে, বহুদিন কাটা হয়না, প্রয়োজন বোধ করিনা। এসব নিয়ে সমাজ বদ্ধ মানুষের কথাও শুনতে ভাল লাগেনা,
"কি ব্যাপার শেরিফ!!! চেহারার এ কি দশা!!!"

ভদ্র কামানো মুখ ও পরিপাটি পরিচ্ছদের আড়ালে কুৎসিত নোংরা মানুষ টাকে আড়াল করে রাখতে ঘৃণা বোধ হয়।আমার ভিতর বাইরে সমান দর্শন, অভিব্যক্তি।

এম্নিতেই তিন হাত শরীরে প্রাণ নিয়ে খেয়ে পরে পোকা মাকড়ের মত বেচে থাকার কোন সার্থকতা বা কার্যকারণ পাইনা। স্রষ্টার উপর তার সৃষ্টি নিয়ে ধ্বংসাত্মক কিছু অভিমান আছে আমার। আবার উপদেশ,

"শেরিফ তুমি পৃথিবীটাকে ভীষণ কঠিন করে দেখ! জীবনটা সহজ কর!"

শ্রোতারা এবার চেয়ার ছেড়ে দাড়িয়ে পড়ে সমস্বরে বলতে থাকে,

"ক্রুশিফাই হিম, ক্রুশিফাই হিম, ক্রুশিফাই হিম"

বৃদ্ধ, জীর্ণ বস্ত্রধারী শ্মশ্রুধারী ক্রুশ বিদ্ধ ভিক্ষুক হতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু যুগের সাথে আপোস করে, সংস্কৃতির দাসত্ব করে, সমাজের গড্ডালিকায় গা ভাসিয়ে নিজের অদ্বিতীয় সত্ত্বাকে বিসর্জন দিতে রাজি নই আমি।

জঙ্গলে নির্বাসিত হলেও প্রার্থনা ও অন্বেষার জোরে স্রষ্টার অফুরান খাদ্য ভান্ডার থেকে বঞ্চিত হবনা, সে বিশ্বাস আমার আছে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০০৮ সকাল ১০:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×