আমারা অনেকেই কোন বিষয় পুরোপুরি না জেনে সে সম্পর্কে কিছু বলে ফেলি। তাই আমাদের সকলেরই উচিৎ আগে বিষয়টি সম্পর্কে আগে ভাল করে জানা। বিশেষ করে ধর্ম বা ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে কথা বলার সময় আমাদের মনে রাখা উচিৎ বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। এখানে আমাদের অজ্ঞতা বশত কোন মন্তব্য অন্য একজন মানুষের অনুভুতিকে আঘাত করতে পারে। যে যার বিশ্বাস নিয়ে থাকুক, তাতে আমাদের কারও তো কোন সমস্যা হবার কথা না। কেউ কোন ধর্মে বিশ্বাস করে বা করেনা তার পেছনে নিশ্চই তার কোন না কোন নিজস্ব কারণ আছে। তাই আমি মনে করিনা এ নিয়ে জোর করে খোচাখুচি করা শোভন হয় বা কাউকে জোর করে এ জাতীয় বিতর্কে জড়ানো ঠিক।
ব্যক্তিগত ভাবে আমি আল্লাহকে বিশ্বাস করি। তার কারণও আছে। এ পৃথিবীতে বা এ বিশ্বজগতে কোন কিছুই কারণ ছাড়া হয় না। সবকিছুরই কোন না কোন উৎস আছে। গাছ ছাড়া কখনোই ফল হয় না। নিশ্চই একজন মহা শক্তিধর আছেন যিনি আমাদের বা এই বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। একথা সত্যি কেউ কখনো আল্লাহ কে দেখেনি, আমিও দেখিনি; কিন্তু আমার চারপাশের সবকিছু গাছপালা, পশু-পাখি, প্রকৃতি, এ পৃথিবী প্রতিনিয়তই আমাকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আমরা কিন্তু জন্মের সময় আমাদের মা কে তা জানি না। কিন্তু যে আদর ও মমতা দিয়ে মা আমাদের লালন করেন তাতে কিছুদিনের মধ্যেই আমাদের আর বলেদিতে হয়না কে আমাদের মা। তেমন আল্লাহ আমাদের যেভাবে সবকিছু দিয়েছেন, আমাদের এ সুন্দর জীবন দিয়েছেন তাতে পরম করুণাময় আল্লাহকে কিভাবে আমি অবিশ্বাস করি!!
এ হল আমার কথা। কিন্তু যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করেনা তাদের প্রতি আমার কোন ক্ষোভ নেই। তবে নিজেদের যদি এই প্রশ্ন করি কিভাবে শূন্য থেকে আমরা এই পৃথিবীতে এলাম, কিভাবে এই মহাজগৎ সৃষ্টি হল, তাহলে উত্তর পেয়ে যাওয়ার কথা। একথা সত্য আমরা জনিনা কেন আল্লাহ এই বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। হয়তো এটা আল্লাহর জন্য কোন খেলা, হয়তো বা অন্য কিছু।
তাই নজরুলের মত বলতে ইচ্ছা করে:
"খেলিছ, এ বিশ্ব লয়ে বিরাট শিশু আনমনে
শূন্যে মহা আকাশে, মগ্ন লীলা বিলাসে
ভাঙ্গিছ গড়িছ নিতি ক্ষণে ক্ষণে
নিরজনে প্রভু নিরজনে।"
আর আমাদের একটা কথা ভুললে চলবেনা, বাক স্বাধীনতার মানে কারও অনুভুতি বা ভাবনাকে আঘাত করা না। গণতন্ত্র মানে কাউকে অবজ্ঞা করা নয়। বরঞ্চ নিজের সাথে সাথে অন্যের ভাবনাকেও শ্রদ্ধা করতে শেখা। আমাদের সেটা শিখতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




