আজ রাতে ঘুমাই নাই একবারের জন্য। ঘুমিয়ে কি হবে। শান্তির ঘুম না হয় মর্গেই ঘুমোব। সে যাই হোক। বছরের প্রথম সকালের প্রথম লেখাটা কে স্মরনীয় করে রাখা উচিৎ। আমার পড়ার বিষয় হচ্ছে পরিবর্তণ। সামাজিক পরিবর্তণ আনতে আমরা কি চাই ? আমাদের দরকার বিপ্লব তা সব দিক দিয়ে।
সবুজ বিপ্লবঃ সবুজ বিপ্লব বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে দরকারি। আমাদের তথাকথিত সরকারি তথ্য মতে আমরা ধান উৎপাদনে প্রায় স্বনির্ভর (!)। আমি আশ্চর্য হয়েছি আমরা ২০১২ তের বসেও ধানের কথা ভাবছি। গ্রিন হাউজ এফেকটের আঘাত এই লাগলো বলে। আমাদের বিকল্প কৃষি উৎপাদনের দিকে নজর দিতে হবে। যেমন ভুট্টা। আমরা শুষ্ক ভুমিতে ভুট্টার প্রাধান্য দেখি। আমাদের ভুট্টা , আলু , গম , জবের উৎপাদনের দিকে নজর দিতে হবে। কারণ বিকল্প খাদ্যাভাস ছাড়া আমাদের টিকে থাকা কঠিন। ডারউইনের মতে যে সবচেয়ে যোগ্য সে ই টিকে থাকবে বাকীরা হারিয়ে যাবে কালের গর্ভে। আমাদের দরকার পুর্ণ অভিযোজন। বার্ষিক কৃষি পরিকল্পনা ঢেলে সাজাতে হবে। প্রতি বছরে আমাদের কৃষকদের যে ইন্সেন্টিভ দেয়া হয় সেটা কে শুন্যের কোথায় নামিয়ে আনতে হবে। এর বদলে দেশীয় কারখানায় দেশীয় প্রযুক্তিতে কৃষি উৎপাদন দ্রব্য তৈরী করতে হবে এবং এর বাজার মুল্য একজন সাধারন বর্গা চাষীর নাগালের মধ্যে রাখত হবে। আমরা যে কৃষি প্রজুক্তি নিয়ে ১৯৪৭ এর আগে কাজ করতাম তা ১৯৭১ এর আগে পড়ে সে ভাবে বদলায় নায়। কিন্তু আমাদের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারেরা হাইব্রিড জাত নিয়ে কাজ করছেন যা মাটির জন্য একটা ভয়াবহ বিপদের কারণ হয়ে দাড়াতে পারে। কারণ হাইব্রিড বিজ দিয়ে এক বছরের বেশী দুই বছর চাষাবাদ করা যায় না। মানে সেই বীজ গুলো রি ইউজেবল নয়। কিন্তু আমাদের দেশীয় ধান গুলোর উৎপাদন কম হলেও এই সুবিধার জন্য এদের জাত গুলো শত বৎসর ধরে টিকে ছিলো। আমাদের ভূগর্ভস্ত পানি ও পানি পানি ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিতে হবে। আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে শেচ কল্পে রেশনিং করা উচিৎ। কারণ আমাদের অতি ভদ্র প্রতিবেশীদের জন্য আমরা আমাদের নদী গুলোকে হারাচ্ছি। আর ভূ গর্ভস্থ পানি সারা বছরের ব্যবস্থা হতে পারে না। আমাদের ২০১২ এ বসে ভাবতে হবে ২০৬০ এর কথা। এখন থেকেই পানি রেশনিং করা ও পানির বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিৎ। শহরের পাশে, রেলের খোলা জমিতে চাষাবাদের ব্যবস্থা করতে হবে। যার ফলে অনেক খারাপ সময় ও আমরা ভালোভাবে পার করতে পারবো। সুর্যমুখী তেল ও সেই জাতীয় পন্যকে জনপ্রিয় করতে হবে কারণ এর ফলে আমাদের তেল আমদানি ও বিভিন্ন বিষয় যেমন প্রোটিনের উপর চাপ কমে আসবে। আমাদের কৃষি বাজেটকে সেনা বাহিনীর উপরে শিক্ষা খাতের পাশপাশি স্থান দিয়ে হবে। কারণ যদি আমরা একবার রপ্তানি মুখী কৃষি অর্থনীতির দিকে নজর দিতে পারি তা হলে আমার মতে আমরা আফ্রিকার বাজারে এবং স্ক্যন্ডেনেভিয়ান অঞ্চলের বাজার ধরতে পারবো। যার ফলে আমাদের বাজেট ঘার্তি কমে আসবে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই বিপ্লব হবে কি করে? সোজা হিসেব সামরিক কৃষি ব্যবস্থাপনা। সেনা বাহিনীকে ব্যরাকে বসিয়ে মোটামুটি ৩০০০ কোটি টাকা নষ্ট না করে তাদের সরা সরি উৎপাদন ব্যবস্থায় নিয়ে আসতে হবে। কারণ আমাদের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ হচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তা। প্রত্যেক টা স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি কে অগ্রাধিকার দিয়ে কারিগরি কৃষি শিক্ষা দিতে হবে। সেই সাথে বিজনেস এ্যডমিনিস্ট্রেশন এ এগ্রো ইকোনোমিক্স কে বিশেষ গুরুত্ত্ব দিয়ে হবে। শুধু একজন থানা কৃষি কর্মকর্তার দিকে না তাকিয়ে আমাদের স্কুল শিক্ষদের এই বিষয়ে বিশেষ ট্রেনিং দিতে হবে। আর সেই সাথে লেনিনের থিওরী ‘সমবায় সমাজের’ দিকে নজর দিতে হবে। যদি আমরা জমির আল বাদ দিতে পারি আমাদের বিশাল পরিমান কৃষি জমি সাশ্রয় হবে এবং উৎপাদন ও কয়েক গুণ(আমার জানা মতে মোট উৎপাদনের ৭.২ % এই আলের জন্য কমে যায়) বৃদ্ধি পাবে।
যাই হোক আমি কৃষিবিদ নই। যা লিখেছি নিজের অভিজ্ঞতা আর ব্যক্তিগত দর্শন থেকে লিখা। ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন।
আজ এ পর্যন্তই আগামী পর্ব নিয়ে আসবো কোনদিন।সেখানে থাকবে কার্বণ বিপ্লব ও আমাদের বিপ্লন্ন ভবিষ্যত। সুযোগ পেলে এই বিষয় (কৃষি) নিয়ে আরো লিখতে চাই।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ২:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


