somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরিবর্তণ পরিকল্পনা ২০১২ কিস্তি - ১

০১ লা জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ৭:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ রাতে ঘুমাই নাই একবারের জন্য। ঘুমিয়ে কি হবে। শান্তির ঘুম না হয় মর্গেই ঘুমোব। সে যাই হোক। বছরের প্রথম সকালের প্রথম লেখাটা কে স্মরনীয় করে রাখা উচিৎ। আমার পড়ার বিষয় হচ্ছে পরিবর্তণ। সামাজিক পরিবর্তণ আনতে আমরা কি চাই ? আমাদের দরকার বিপ্লব তা সব দিক দিয়ে।


সবুজ বিপ্লবঃ সবুজ বিপ্লব বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে দরকারি। আমাদের তথাকথিত সরকারি তথ্য মতে আমরা ধান উৎপাদনে প্রায় স্বনির্ভর (!)। আমি আশ্চর্য হয়েছি আমরা ২০১২ তের বসেও ধানের কথা ভাবছি। গ্রিন হাউজ এফেকটের আঘাত এই লাগলো বলে। আমাদের বিকল্প কৃষি উৎপাদনের দিকে নজর দিতে হবে। যেমন ভুট্টা। আমরা শুষ্ক ভুমিতে ভুট্টার প্রাধান্য দেখি। আমাদের ভুট্টা , আলু , গম , জবের উৎপাদনের দিকে নজর দিতে হবে। কারণ বিকল্প খাদ্যাভাস ছাড়া আমাদের টিকে থাকা কঠিন। ডারউইনের মতে যে সবচেয়ে যোগ্য সে ই টিকে থাকবে বাকীরা হারিয়ে যাবে কালের গর্ভে। আমাদের দরকার পুর্ণ অভিযোজন। বার্ষিক কৃষি পরিকল্পনা ঢেলে সাজাতে হবে। প্রতি বছরে আমাদের কৃষকদের যে ইন্সেন্টিভ দেয়া হয় সেটা কে শুন্যের কোথায় নামিয়ে আনতে হবে। এর বদলে দেশীয় কারখানায় দেশীয় প্রযুক্তিতে কৃষি উৎপাদন দ্রব্য তৈরী করতে হবে এবং এর বাজার মুল্য একজন সাধারন বর্গা চাষীর নাগালের মধ্যে রাখত হবে। আমরা যে কৃষি প্রজুক্তি নিয়ে ১৯৪৭ এর আগে কাজ করতাম তা ১৯৭১ এর আগে পড়ে সে ভাবে বদলায় নায়। কিন্তু আমাদের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারেরা হাইব্রিড জাত নিয়ে কাজ করছেন যা মাটির জন্য একটা ভয়াবহ বিপদের কারণ হয়ে দাড়াতে পারে। কারণ হাইব্রিড বিজ দিয়ে এক বছরের বেশী দুই বছর চাষাবাদ করা যায় না। মানে সেই বীজ গুলো রি ইউজেবল নয়। কিন্তু আমাদের দেশীয় ধান গুলোর উৎপাদন কম হলেও এই সুবিধার জন্য এদের জাত গুলো শত বৎসর ধরে টিকে ছিলো। আমাদের ভূগর্ভস্ত পানি ও পানি পানি ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিতে হবে। আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে শেচ কল্পে রেশনিং করা উচিৎ। কারণ আমাদের অতি ভদ্র প্রতিবেশীদের জন্য আমরা আমাদের নদী গুলোকে হারাচ্ছি। আর ভূ গর্ভস্থ পানি সারা বছরের ব্যবস্থা হতে পারে না। আমাদের ২০১২ এ বসে ভাবতে হবে ২০৬০ এর কথা। এখন থেকেই পানি রেশনিং করা ও পানির বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিৎ। শহরের পাশে, রেলের খোলা জমিতে চাষাবাদের ব্যবস্থা করতে হবে। যার ফলে অনেক খারাপ সময় ও আমরা ভালোভাবে পার করতে পারবো। সুর্যমুখী তেল ও সেই জাতীয় পন্যকে জনপ্রিয় করতে হবে কারণ এর ফলে আমাদের তেল আমদানি ও বিভিন্ন বিষয় যেমন প্রোটিনের উপর চাপ কমে আসবে। আমাদের কৃষি বাজেটকে সেনা বাহিনীর উপরে শিক্ষা খাতের পাশপাশি স্থান দিয়ে হবে। কারণ যদি আমরা একবার রপ্তানি মুখী কৃষি অর্থনীতির দিকে নজর দিতে পারি তা হলে আমার মতে আমরা আফ্রিকার বাজারে এবং স্ক্যন্ডেনেভিয়ান অঞ্চলের বাজার ধরতে পারবো। যার ফলে আমাদের বাজেট ঘার্তি কমে আসবে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই বিপ্লব হবে কি করে? সোজা হিসেব সামরিক কৃষি ব্যবস্থাপনা। সেনা বাহিনীকে ব্যরাকে বসিয়ে মোটামুটি ৩০০০ কোটি টাকা নষ্ট না করে তাদের সরা সরি উৎপাদন ব্যবস্থায় নিয়ে আসতে হবে। কারণ আমাদের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ হচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তা। প্রত্যেক টা স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি কে অগ্রাধিকার দিয়ে কারিগরি কৃষি শিক্ষা দিতে হবে। সেই সাথে বিজনেস এ্যডমিনিস্ট্রেশন এ এগ্রো ইকোনোমিক্স কে বিশেষ গুরুত্ত্ব দিয়ে হবে। শুধু একজন থানা কৃষি কর্মকর্তার দিকে না তাকিয়ে আমাদের স্কুল শিক্ষদের এই বিষয়ে বিশেষ ট্রেনিং দিতে হবে। আর সেই সাথে লেনিনের থিওরী ‘সমবায় সমাজের’ দিকে নজর দিতে হবে। যদি আমরা জমির আল বাদ দিতে পারি আমাদের বিশাল পরিমান কৃষি জমি সাশ্রয় হবে এবং উৎপাদন ও কয়েক গুণ(আমার জানা মতে মোট উৎপাদনের ৭.২ % এই আলের জন্য কমে যায়) বৃদ্ধি পাবে।


যাই হোক আমি কৃষিবিদ নই। যা লিখেছি নিজের অভিজ্ঞতা আর ব্যক্তিগত দর্শন থেকে লিখা। ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন।
আজ এ পর্যন্তই আগামী পর্ব নিয়ে আসবো কোনদিন।সেখানে থাকবে কার্বণ বিপ্লব ও আমাদের বিপ্লন্ন ভবিষ্যত। সুযোগ পেলে এই বিষয় (কৃষি) নিয়ে আরো লিখতে চাই।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ২:৫৫
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×