পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের মাধ্যমে পাহাড়ে বাঙালীদের যেসব অধিকার খর্ব করা হয়েছিল সেসব অধিকার পূনঃপ্রতিষ্টিত হল। এবং পাহাড়ে বাংলাদেশের স্বার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্টিত হল।
১৯৯৮ সালের পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধিত) তিনটি আইনে ৬(ঙ) ধারা অনুযায়ী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর হেডম্যানের দেয়া সনদ ছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের বাঙ্গালীরা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ বা পাসপোর্ট তৈরিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে না।
১১ ধারা অনুযায়ী পাহাড়ি ছাড়া কোন বাঙালির ওই অঞ্চলের জমির মালিকানা না থকেলে ওখানের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বিবেচিত হবে না এবং ভোটার হতে পারবে না। কিন্তু জায়গার মালিকানা ও স্থায়ী বাসিন্দা না হলেও দেশের যেকোন নাগরিক পার্বত্য অঞ্চল ছাড়া দেশের অন্য যেকোন স্থানে ভোটার হতে পারে। ফলে এই ধারার মাধ্যমে অউপজাতিদের ওই অঞ্চলের ভোটার হওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
১৫(খ) ধারা অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলার সকল নিয়োগের ক্ষেত্রে উপজাতিরা অগ্রাধীকার পাবে।
এছাড়া ২৮ ধারার কারণে পার্বত্য অঞ্চলে পুলিশ নিয়োগের ক্ষেত্রে উপজাতিরা একতরফা ভাবে অগ্রাধীকার পায় এবং জেলা পরিষদ তাদের নিয়োগ দেয়।
এ বিষয়গুলো সংবিধানের ২৭, ২৮(১), ২৯(১) এবং ৩১ অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন।
আদালত তার রায়ে ৫টি পর্যবেক্ষণও দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ হলো
১. পার্বত্য শান্তি চুক্তির আলোকে চারটি আইন প্রনয়ন করা হয়েছে এবং এই চুক্তির শর্তাবলী ওই আইনের মাধ্যমে কার্যকর হয়েছে। ফলে চুক্তিটির এখন আর কোন কার্যকারিতা নেই। এ কারণে এই চুক্তিটি আদালতের বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা হারিয়েছে।
২. এই চুক্তির আলোকে প্রণীত পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ আইন প্রনয়ণ ও আঞ্চলিক পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এই পরিষদ নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে গঠন করা হয়। এই পরিষদের মাধ্যমে রাষ্ট্রের একক চরিত্র ক্ষুন্ন হয়েছে। ফলে এই আইন ও পরিষদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা বাতিল করা হল। তবে সরকার চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ণের জন্য ইচ্ছা করলে পার্বত্য পরিষদের আদলে বিধিবদ্ধ সংস্থা তৈরি করতে পারে। ,
৩. শান্তি চুক্তি সম্পাদনের পর দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য এখনও প-রণ হয়নি। আদালত মনে করে, সকল রাজনৈতিক দলের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। সকলের অংশিদারিত্ব প্রতিষ্ঠা ও গনতান্ত্রিক শাসন প্রক্রিয়াই হল এই অঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়ার প্রাণ। তাই এই অঞ্চলের সকল ক্ষেত্রে গনতন্ত্র চর্চাকে উৎসাহিত করতে হবে।
৪. সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদে দেশের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কথা বলা হলেও এই গোষ্ঠি কিভাবে নির্ধারিত হবে সে বিষয়ে কোন দিক নির্দেশনা নাই। প্রতিবেশী দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট বিষয়টি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নির্ধারিত কমিশন বা সংস্থা অনগ্রসর জনগোষ্ঠী কারা হবেন তা নির্ধারণ করে। এই কমিশন বা সংস্থা জীবন যাত্রা, জীবন যাত্রার মান, শিক্ষা, আয়, পোষাক, সামাজিক প্রেক্ষাপটসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে অনগ্রসর জনগোষ্ঠী নির্ধারণ করে। ফলে দেশের অনগ্রসর জনগোষ্ঠী নির্ধারণ করতে রাষ্ট্রকে একটি যৌক্তিক ও সুবিধাজনক পদ্ধতি বের করতে হবে যেন রাষ্ট্র তাদের জন্য কার্যকর ভাবে কাজ করতে পারে। এবং
৫. শান্তি চুক্তি সম্পাদন ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং ভু-কৌশলগত অবস্থান বিবেচনা করে পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যৌক্তিক হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৩:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



