somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি একি শুনিলাম!!!!!!

০৯ ই মে, ২০১০ বিকাল ৩:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকের প্রথম আলোর এই খবরটি শুনে শক খাইলাম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত দলিল নাকি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ধংশ করে ফেলেছে..

প্রথম আলো রিপোর্ট
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রয়োজনীয় দলিল ধ্বংস হয়ে গেছে। এসব দলিল কলকাতায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তরে রাখা ছিল। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরপরই তা ধ্বংস করে ফেলা হয়। কিন্তু এত দিন তা গোপন রাখা হয়েছিল। ধ্বংস করে ফেলা এসব দলিলাদির মধ্যে ছিল বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর গঠন এবং যুদ্ধের সময়কার বিভিন্ন তথ্য।
পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তরের দুজন সাবেক প্রধান এবং অন্য ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, হয়তো জেনে-বুঝেই এসব দলিল ধ্বংস করা হয়।

তাঁরা আরও জানিয়েছেন, তত্কালীন ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিত্ সিং অরোরা এই দলিল নষ্ট করার বিষয়টি জানতেন। যদি এ কথা সত্যি হয়, তাহলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর বিজয়ের অন্যতম বীরসেনানী জেনারেল অরোরার বীরত্ব ও ভাবমূর্তি মলিন হতে পারে। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল অরোরার নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর কাছে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আত্মসমর্পণ করে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানের ৯৭ হাজার সৈন্য। এরপর থেকেই জেনারেল অরোরা ভারতের সামরিক বাহিনী তথা জাতীয় ইতিহাসের অংশ হয়ে আছেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের জন্য সংবর্ধনার আয়োজন করতে গিয়ে কলকাতায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা দলিলাদি ধ্বংস করে ফেলার এই স্পর্শকাতর বিষয়টি জানতে পারেন। বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর বিভিন্ন শিবির কোথায় ছিল এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে গিয়েই এ ব্যাপারটি প্রকাশিত হয়ে পড়ে।

এক ঊর্ধ্বতন সামরিক সূত্র টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছে, বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানতে গিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তর দেখে এ সংক্রান্ত অনেক তথ্য অথবা দলিল, যেগুলো সংরক্ষিত থাকার কথা ছিল, সেগুলো নেই। এরপর দলিলগুলো খুঁজতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিলেও সেগুলো আর পাওয়া যায়নি।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জে এফ আর জ্যাকব একাত্তর সালের যুদ্ধের এসব অমূল্য দলিল হারিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি জানতেন বলে স্বীকার করেছেন। তিনি টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, ‘১৯৭৪ সালে আমি যখন পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তরে প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করি, সে সময় আমি বাংলাদেশ যুদ্ধের বিভিন্ন দলিলপত্র দেখতে চেয়েছিলাম। আমাকে জানানো হয়, সেসব দলিল নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।’ তবে কার নির্দেশে এসব দলিল কেন নষ্ট করে ফেলা হয়েছে সে সম্পর্কে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

একজন ঊর্ধ্বতন ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে আরও জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় বাহিনীর ভূমিকার ব্যাপারে আরও কিছু দলিল সেনাসদর ও সেনাবাহিনীর অন্যান্য দপ্তরে সংরক্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে কলকাতার পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তর যদি এসব দলিল হারিয়ে ফেলা সেটা অত্যন্ত গর্হিত ব্যাপার। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের যুদ্ধ ও এর ফলাফল হিসেবে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ভারতীয় সামরিক বাহিনীর ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। এটি ভারতীয় সামরিক বাহিনীর শ্রেষ্ঠ সমর ও গোয়েন্দা সফলতা।
এ সাফল্যের কেন্দ্রস্থল পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড থেকে এসব দলিল হারিয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।’
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×