বাংলাদেশের এই দুর্ভাগ্য চিরন্তন। এবং দেশ হিসেবে আমদের আজন্ম অভিশাপ- বিভাজন, প্রতিহিংসা এবং প্রতিসংহার। এবং সবগুলোই বিবেকহীন। কখনোই আমরা বিবেকের কাছে ঘেষি না। কারণ বিবেকের কাছে গেলে অনেক কাজই করা যায় না। আমরা প্রবৃত্তির পূজারি। তাই নিজেদের বাহ্যিক প্রাপ্তিতেই খুশি। আনন্দিত।
বিগত ছায়া সেনাশাসনামলে যখন শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো, ন্যায় অন্যায় বিবেচনা না করেই তার বিরোধীরা তৃপ্তির হাসি ফুটিয়েছেন ঠোটের কোনায়। খালেদা জিয়ার গ্রেফতারেও একই ঘটনা। তারা কেউ-ই ধোয়া তুলসী পাতা নন। আমাদের দেশের কোন রাজনৈতিক নেতাই নন। এমন দরিদ্র দেশে ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকে থাকা সম্ভব কি-না তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। যারা হরহামেশা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেন তারা এক দুবার ক্ষমতা গিয়ে দেখতে পারেন আপনি দুর্নীতিমুক্ত, লোভমুক্ত থাকতে পারেন কিনা।
আজ নিজামী মুজাহিদের গ্রেফতারে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। যে মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তা অত্যন্ত খেলো এবং হাস্যকর তা যেকোন মানুষ একটু ভাবলেই বুঝতে পারবেন। কিন্তু আমি জানি তার বিরোধীরা তা ভাববেন না। তারা মনে মনে খুশি- যেকোন ভাবেই হোক পশুগুলোকে তো জেলে আনা গেছে। এবার রিমান্ডে বসে বাকি হিসেব। যেমন সবাই আনন্দ করেছিলো শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়ার গ্রেফতারে।
এই জায়গায় আমাদের কোন উন্নতি হলো না। নিজামী মুজাহিদের বিরুদ্ধে রাসূল (স) কে অবমাননার মামলা করা হয়েছিলো। সে অভিযোগের বিস্তারিত পত্রিকায় এসেছিলো। বলা হয়েছে, রাসূল (স)কেও অনেক নির্যতন করা হয়েছিলো ইসলাম প্রচার ও প্রসার করার চেষ্টার দায়ে। এখন নিজামীকেও যদি নির্যাতন করা হয় তাহলে তা ওই ঘটনারই ধারাবাহিকতা। মামলায় বলা হয়েছে এতে নাকি নিজামীকে রাসূল (স) এর সাথে তুলনা করে তাকে অবমাননা করা হয়েছে। এই মামলা যে করেছে সে নিজেও একজন বিরাট ধর্মব্যবসায়ী। কাক কাকের মাংস খায় না। কিন্তু আমাদের দেশে এক ইসলামী নেতা আরেক নেতার মাংসকে সুখাদ্য বিবেচনা করে। সে নিয়ে আমাদের আপত্তি থাকার কথা নয়। তারা যেহেতু ইসলাম নিয়ে নাড়াচাড়া করেন তাই তারা নিশ্চয়ই সবকিছু হালাল বিবেচনায় করেন। আমি নিশ্চিত তাদেরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তারা দু চারটা কুরআন হাদীসের বাণী হাজির করতে পারবেন।
যে মামলায় নিজামী মুজাহিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে তা হাস্যকর এবং প্রতারণামূলক। এর চেয়ে অনেক ভয়ংকর এবং সত্যিকার অর্থেই ইসলাম বিরোধী মন্তব্য করে আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং আইন প্রতিমন্ত্রী বহাল তবিয়তে ধরাধামে বিচরণ করছেন। তাদের উপর জাহেরী (সরকারী) কিংবা বাতেনী (ঐশী) কোন শাস্তি আসেনি তাদের মন্তবব্যের কারনে।
তাহলে নিজামী মুজাহিদের কেন আসলো? হতে পারে তারা যে আদৌ ইসলামী নেতা নন তা জনমনে আরো প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সরকার এই কাণ্ড করেছেন। এখন কয়েকদিন পত্রিকায় সবাই পড়বে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার কারণে নিজামী মুজাহিদ গ্রেফতার হয়েছেন। আমজনতা ভাববে- হায় হায় ইসলামের নামে এরা তবে এভাবে আমাদের ধর্মকে অবমাননা করে!
জানিনা সরকার এই উদ্দেশ্যকে কত খানি গুরুত্ব দিয়েছে তাদের বর্তমান সিদ্ধান্তে। হয়তো কিছু লোক এমন ধারণা গ্রহণও করতে পারে। কিন্তু যাদের মাথায় সামাণ্য বুদ্ধি আছে তারা এই ডকট্রিন গ্রহণ করবে বলে মনে হয় না। আর ইসলামের জন্য আওয়ামীলীগের কান্নাকে কুম্ভিরাশ্রু ছাড়া কিছু বলার উপায় নাই। এই নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশেও এখন মুসলিম শব্দটা ভীষন অপাংতেয়। যারা সরকারী কিছু কাজকর্ম করেন তারা এ বিষয়টা হাড়ে হাড়ে বুঝেন।
সুতরাং ইসলামের সম্মান রক্ষায় নিজামী মুজাহিদের গ্রেফতার হয় নি। এ মামলায় নিজামী মুজাহিদকে কাফের ঘোষণা করে ফাসি দিলেও লোকজন খুশি হবে না। অন্তত কোন বিবেকবান মানুষ।
মানুষ প্রত্যাশা করে সত্যিকার বিচার হোক তাদের। ৭১ এ তাদের ভূমিকা কারো অজানা নয়। কত শত প্রমাণ আছে তাদের অপরাধের। সে অপরাধে তাদের গ্রেফতার করা হতো যদি এবং তারপর বিচার করা হতো কারো প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকতো না। জানি না, এই ঠুনকো মামলায় গ্রেফতার করে হয়তো ওইসব মামলায়ও গ্রেফতার দেখানো হবে। সেটা আওয়ামীলীগের কাপুরুষতাই হবে। যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য জনগণ তাদের ভোট দিয়েছে, ধর্মীয় অনুভূতির বিচার করার জন্য নয়। মূল ইস্যু নিয়ে এগিয়ে যেতে না পারাটা সরকারের নৈতিক পরাজয়। আমি এ প্রজন্মের একজন মানুষ হিসেবে যুদ্ধাপরাধের ইস্যুটার একটা সুরাহা চাই। স্বাধীনতার এতো বছর পর এ বিষয়টাকে ইস্যু করে আর রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের মনোবৃত্তি দেখতে চাই না।
যে কোন অপরাধীর শাস্তি হওয়া উচিত তার প্রকৃত অপরাধের জন্য। অহেতুক বিষয়কে এভাবে সামনে এনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টাকে পেছনে ঠেলে দেয়া হলো। এখন যদি এই মামলায় নিজামী মুজাহিদ বের হয়ে আসে (এবং সেটাই আসা উচিত।কারণ মামলাটি খুবই অর্থহীণ) তাহলে তা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাষ্কর বিষয়।
তাদের প্রকৃত অপরাধকে আড়ালই করা হলো এই ভূয়া মামলাটি দিয়ে। প্রকৃত ইস্যুতে সরকারের এটা নৈতিক পশ্চাৎপসরণ।
ক্লিন
৮.৪০
২৯.০৬২০১০
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুন, ২০১০ রাত ১০:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



