somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নেকড়ের কবলে রাখাল গভর্নর

০১ লা নভেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঈশপের রূপকথার রেফারেন্স টানার প্রয়োজন নেই। এখন এই বাংলাদেশে এমন ঘটনা ঘটছে যা রূপকথাকে হার মানায়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এক পক্ষে আওয়ামীলীগ (কথিত এবং পরীক্ষিত), আর অপরপক্ষে আছে জনগণ। এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে সরকারী দলের নাম ভাঙিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়নি এবং হচ্ছে না। পুরো দেশটা যেন সরকারী দলের ক্যাডারদের হাতে বন্দী হয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতার শুরুতেই ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে বীতশ্রদ্ধ হয়ে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু তার অভিমানকে সুযোগ হিসেবেই নিয়েছে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট ভোগীরা। সরকারের সাথে আরেকটি নৈরাজ্যমূলক প্রশাসন গড়ে তুলেছে তারা। এখন সরকার আর তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। কুকুর প্রভুর নিয়ন্ত্রণের সম্পূর্ণ বাইরে।

এতসব কথা মনে আসলো আাবার গত কয়েক দিনের খবর পড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান আজ সরকারী গুণ্ডাদের দখলে। সিবিএ নামক সংগঠনের ব্যানারে তৃতীয় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর আর কিছু আওয়ামী কর্মকর্তারা এখন ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করছেন। দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানটি এখন কিছু মূর্খ ক্ষমতালোভীর হাতে বন্দী।

সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর থেকেই তারা পরিচালক পর্যায়ের বেশ কয়েকজন শীর্ষকর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করেছে। মারধোর করেছে। তাদের ভয়ে এখন ব্যাংকের সর্বত্র আতঙ্ক। ঘুষ, অনিয়ম, দুর্নীতি, পেশীশক্তি প্রদর্শন- এসবই এখন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

গত কয়েক বছরে দেশের সর্বত্র সবক্ষেত্রে এত অবনতি হয়েছে যে এসব খবর এখন আর তেমন প্রতিক্রিয়া তৈরী করে না। মনে হয় এটাই তো স্বাভাবিক। আমার স্বল্প জীবনে এমন নৈরাজ্য চোখে পড়েনি। দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো অকার্যকর হবার যোগার হয়েছে। কয়েকদিন আগে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অপদস্ত করেছে তার দলেরই রাজনীতিবিদ চিকিৎকরা। সরকারী দলের সাংসদেরা নিজ নিজ এলাকার জনগণ ও জনসম্পদের প্রধান অধিকারী। তাদের কথাতেই সেখানে সূর্য ডোবে এবং অস্ত যায়। সারাহ বেগম কবরী কিংবা হানিফদের মতো লোকজনই এখন আওয়ামীলীগের প্রথম আসনে। তাদের কাজেই আওয়ামীলীগের কাজের পরিচয় প্রকাশিত হয়।

সব ঠিক আছে। কোন বিস্ময় নেই- এমন হচ্ছে তাতে।

আমি কেবল একটা বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভণরকে নিয়ে আমার সে উদ্বেগ। গভর্ণর হওয়ার পর জেনেছিলাম তিনি ছেলেবেলায় রাখাল ছিলেন। রাখালের প্রধান কাজ নেকড়ের কবল থেকে ভেড়ার পাল রক্ষা করা। আমাদের বর্তমান গভর্ণর সরকারী দলের নেকড়েদের কাছ থেকে কীভাবে তার ভেড়াদের রক্ষা করছেন? পারছেন কি? না পারলে তার উচিত হবে সরে পড়া। এ সরকার যেভাবে হিংস্র নেকড়েদের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে তাতে রাখাল গভর্ণরের গায়ে নেকড়ের আচড় পড়া বিচিত্র নয়।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৫
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×