গত পরশু একটা পোষ্টে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার বরাতে দেখলাম এবার নাকি সমুদ্রপথে জাহাজ যোগে কমখরচে হজ যাত্রী পাঠানোর উদ্দোগ নেওয়া হচ্ছে ।
ভালই লাগলো । কেননা এমনিতেই হজ মানেই ব্যপক টাকার শ্রাদ্ধ কিন্তু অত টাকা খরচ করেও হজযাত্রীরা প্রতিবছরই কোন না কোন একটা আতংকে থাকেন । হয় প্লেনের অভাব নয়ত হজ এজেন্সিগুলোর বাটপারি কিছু না কিছু লেগেই থাকে । হয়তোবা এবার এসব ঝামেলার কিছুটা হলেও অবসান ঘটবে । বাংলাদেশে অধিকাংশ হজ পালনেচ্ছুই বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত হয়ে থাকেন । অর্থাৎ শেষ বয়সে উনারা এই কর্মটি করার ইচ্ছা পোষন করেন । অথচ এই সব সিনিয়র সিটিজেনদের উপরই নেমে আসে অহেতুক নানারকম ঝামেলা এবং উৎকন্ঠা ।
এনিওয়ে নিজের আগ্রহেই খবরটার আরেকটু গভীরে গেলাম । গিয়েই হোচট খেলাম বড়সড় একটা । ঘটনা কি ?ঘটনা আর কিছুই নয় । জাহাজ যোগে যাত্রী পরিবহনের প্রতিষ্ঠান ইডেন লাইন -এর ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার এর নামটি । ড. মীর মোহাম্মদ বিন কাশেম । সন্দেহ ঘনীভুত হলো । আরেকটু খুঁজতেই আরও কিছু ইনফো পেলাম । আলিবাবা ডটকম এ প্রকাশিত এ্যাবাউট আস অনুযায়ী ইডেন লাইনস এর অফিস ঠিকানা ঃ Address: Al Razi Complex, 8th & 15th Floor, Syad Nazrul Islam Sarani
আর কিছু জানার কি দরকার আছে ?
জী !!! এবার হজ কেও জামাতীকরনের অপচেষ্টা হবে । মনে পরলো 1997 এ আমার মা এর হজ যাত্রার ঘটনাগুলি । বেসরকারী একটা হজ গ্রুপের মাধ্যমে উনি সেবার গিয়ে ছিলেন হজে । গ্রুপটার সিংহভাগ হজযাত্রীই ছিলেন এক বিশেষ পীর এর মুরীদান । ঐ পীরদের বাৎসরিক একটা ধান্ধাই ছিল এভাবে গ্রুপ তৈরী করে হজ কাফেলা পাঠানো । কিছু লাভের পাশাপাশী প্রতি বৎসরই পীর পরিবারের দুজন যেতে পারতেন হজে । হুমম । সম্পুর্ন বিনা খরচে । মানে গ্রুপের বাকীদের টাকায় । এটাই সব নয় । হজে যাওয়ার পনেরদিন আগে থেকে হজে অবস্থানের সময়গুলিতে গ্রুপ সদস্যদের উপর চলত পীর সাহেবের তরিকা অনুযায়ী নানারকম উৎভট হজ সম্পর্কিত রিচুয়াল চালানোর অপচেষ্টা । আম্মা খুব সতর্ক ছিলেন বিধায় রক্ষা পেয়েছিলেন সেবার । কিন্তু বাকি সবাই ?? হুমম । অর্ধেকের উপর গ্রুপ সদস্য হজ থেকে ফিরে এসে আজও ঐ সব উৎভট পীরালি কাজকর্মে ব্যপ্ত আছেন ।
আমার আশংকা জাহাজ যোগে পাঠানো সহজ সরল হজযাত্রীরা কি রেহাই পাবেন মওদুদীবাদের ঘৃন্য তরিকা থেকে নিজেদের বাঁচাতে ?হজ থেকে ফিরে এসে ওনারাও কি এক একজন জামাতের সমর্থক হিসাবে সমাজে আবির্ভুত হবেন ???

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



