বিকেল ৪টার দিকে যখন শুনলাম কারফিউ শুরু হবে- সে সংবাদ শুনে অবাক হই নি তেমন। যখন শুনলাম রাত ৮টার মধ্যে হল ভ্যাকেন্ট করে দিতে হবে, সে খবরেও বেশ একটা অবাক হইনি। আমরা যারা হলে আছি, আমরা জানতাম এমন কিছুই হবে শেষ পরিণতি। কেন তা পরে বলছি। তবে ধাক্কা-টা খেয়েছি এ জন্য যে, এত তাড়াতাড়ি এমন বিপর্যয় আসবে বুঝতে পারি নি। তাই, তাড়াতাড়ি করে ১০-১৫ দিনের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে ছুটলাম চাচার বাসায়। বাড়ি তো আর যাওয়া যাবে না। বাসে উঠতে পারলেও মাঝরাতে কারফিউর মধ্যে বাস নামিয়ে দেয়ার পর যাবো কি করে?
বিষয়-টা খুব সাধারণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও আর্মিদের আমাদের প্রতি "ব্লাডি সিভিলিয়ান" ভাবটা আঘাত করেছিল আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্রকে। তাই আমরা প্রতিরোধ মুখর ছিলাম, মিছিল করেছি, গলা ভেঙ্গে স্লোগান দিয়েছি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পতন ঘটনো আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না মোটেও, তারা সফল না ব্যর্থ, তা নির্ধারন করার যোগ্যতাও আমাদের নেই বোধহয়। আমরা শুধু ওই জলপাই রঙাদের ত্রাস থেকে মুক্তি চেয়েছি, স্মরণে ছিল একটি '৭৫ কিংবা '৯০ এর বিভীষিকা, জ্বালাতে চেয়েছিলাম দেশবাসীর জন্য অনুপ্রেরণার দীপাবলী। দেরিতে হলেও যখন সেনা-ক্যাম্প প্রত্যাহারের এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত দেয়া হলো.......উল্লসিত আমরা ফিরে এসেছিলাম যার যার হলের ক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠে। কিন্তু রাস্তায় তখনো রয়ে গেলো আমাদের মূল ধারার রাজনীতির লেজুড়বৃত্তি করা, গত ৬-৭ মাস ধরে বেকার হয়ে যাওয়া, রাজনীতির ভবিষ্যত অন্ধ দেখা- ছাত্রনেতারা। আমাদের চোখের সামনেই তারা ভেঙ্গেছে বাস-গাড়ি-দোকান, এমনকি দরিদ্র অভুক্ত রিকশাওয়ালার ভাড়া করা রিক্সাটিকেও ছাড় দেয় নি তারা। সাথে যোগ দিয়েছে বিভিন্ন এলাকা ও মহল্লার নেতা, কর্মী, মাস্তানরা। একে ঠেকাতে এমন পরিণতি হবে... এটাই তো ধরে নিয়েছিলাম আমরা।
তবে দুঃখ একটাই, আমরা নপুংসক সাধারণ ছাত্ররা চেয়ে দেখেছি আর পরিণতি ভোগ করছি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অরাজকতার.........আর নপুংসক দেশবাসী দরজা বন্ধ করে শুনতে থাকুন রাস্তায় বুটের শব্দ!!
নূর হোসেন আমাকে ক্ষমা করো।
তোমার রক্তের ঋণ শোধ করার ক্ষমতা যে দেননি বিধাতা..
দিয়েছেন তোমাকে অপমান করার গ্লানি.. বার বার..
জন্মই বুঝি আমাদের আজন্ম পাপ!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গ: একটি ব্যক্তিগত ক্ষমাপ্রার্থনা!
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১২২টি মন্তব্য ২টি উত্তর
পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন
আলোচিত ব্লগ
চলতি পথের গল্পঃ দুই

‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।
এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক
‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন
Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ
![]()
প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাকি রইলো; কাঁচা কলা

স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।