মনগড়া এক তুলি দিয়ে আলতো আঁচে এক মানবী।
দীর্ঘ পথের লম্বা সফর- জীবন তরী ভিড়ছে তটে,
নানান মনের লক্ষ মানুষ যাত্রা-পথের শত ঘাটে।
হরেক রঙের হরেক বাহার- দু'চোখ তাই যাচ্ছে ভেসে,
যা কিছুই লাগছে ভালো নিচ্ছে টেনে নির্নিমেষে।
ধার করা সেই রঙের স্রোতেই আমার মনের ছবি সাজাই,
"তিলোত্তমা চিত্রকর্ম"- মনের মানুষ এমন যে চাই!
দৃষ্টি থাকে পথের বাঁকে, দৃষ্টি ফেরে দূর সীমানায়,
কোথায় আছে সেই মানবী? সে কি কাছে ডাকবে আমায়?
ঘটনাবহুল জীবন মাঝে হঠাত করেই তাকে পাওয়া-
বাস্তবেরই দৃশ্যে সে যে হয়তো মনের ছবির ছায়া!
হলো দেখা এবং আরো অনেক পরে স্বল্প-কথন,
এভাবেই চলছিল বেশ, সম্পর্কের উথ্থান-পতন।
মাস গড়িয়ে বছর এলে অনুভূতির প্রকাশ পেলো,
একাকী এই জীবন-পথে পথিক এবার দু'জন হলো।
তার মাঝেই গেলাম ডুবে, বিভোর হলাম তার খেয়ালে-
মনের ছবির আদল ভেঙ্গে তারে আঁকি সেই দেয়ালে।
চলন-বলন-ভাবনা-রুচি ঢেলে সাজাই তার আঙ্গিকে,
বদলে যাওয়ার ঢেউ দোলা দেয় আশেপাশে-চতুর্দিকে।
তারপরও সে অদ্বিতীয়া, আমার স্বপ্নে তার বিচরণ-
সুধাময় সেই বাচনভঙ্গি, দৃষ্টি কিংবা তার আচরণ।
মন্ত্রমুগ্ধ প্রেমিক-প্রবর, আমি যে তাই দিশেহারা,
নাওয়া-খাওয়া সব ভুলেছি, ভালোবাসায় হৃদয় ভরা!
কালের চাকা দ্রুতই ঘোরে- সময় বড্ড চপলমতি,
মুগ্ধতার আবেশ কাটে, স্থবির ভালোবাসার গতি।
এখন সবই বিষাদময়; চলন, বলন কিংবা কথন;
তবে কেন বদলে গেলাম? কিসের জন্য এই আয়োজন?
হঠাত করেই মনে পড়ে তিলোত্তমা আলেখ্যকে-
এখনকার এই ছবির সাথে যোজন-যোজন ফারাক আছে!
মর্মাহত আমায় সে যে ইচ্ছেমতো আঘাত হানে,
এতো ভালোবাসে তবু দূরে সরায় সঙ্গোপনে!
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



