সর্দারজী কৌতুকমালা হাফ সেঞ্চুরির দড়ি টপকালো । না এটা নিয়ে আমি বড় গলায় কিছু বলবো না, কারন যে কোনো কিছু শুরু করলে তা কোথাও না কোথাও গিয়ে ঠেকবে । তবে যারা পড়েছেন , কমেন্ট করেছেন, রেটিং দিয়েছেন তাঁদের ধন্যবাদ ।
প্রথম যখন আমি এখানে এসে পরিস্থিতি জরিপ করছিলাম, দেখলাম এ জায়গাটা কতিপয় রাতজাগা ইয়াবাখোরদের চড়ে বেড়াবার চমৎকার চারণভুমি । ইগোর শিকড়ে অল্পবিস্তর সবাই পানি সিঞ্চন করতে চায়, ইন্টারনেটের বেনামী পরিচয় সে ধরনের কর্মকান্ডের জন্য অবারিত পাসপোর্ট বলে অনেক আহত অহমের অধিকারী মনে করেন । কপিপেস্ট কর্মটি এই জখমি ইগোদের মলম বিশেষ ।
আরো দেখেছিলাম যে জায়গাটা ভার্চুয়াল ট্রেঞ্চ যুদ্ধের জন্য মহড়া নেবার বেশ সুন্দর একটা জায়গা, যাকে বলা যেতে পারে জিম কর্বেটের ভাষায় 'হ্যাপি হান্টিংগ্রাউন্ড' । আমাদের বিভক্ত, বিকলাঙ্গ সমাজের কদর্য মুখ যে যে কোনো আয়নাতে তার শতধা খন্ডিত প্রতিবিম্ব ফেলবে তাতে আশ্চর্য হবার কী আছে?
না, দ্বিতীয়টি নিয়ে আমার তেমন কিছু বলবার নেই । কারন সেখানে লড়াইটা হয় অনেকটা সেয়ানে সেয়ানে । আর মতাদর্শের ঝান্ডা যারা কাঁধে তুলেছে, মুখে ফেনা তাদের উঠবেই ।
কিন্তু প্রথমটি মনে হয়, অতীব বালখিল্য সুলভ...ঢাকাই স্ল্যাং এ আবাল প্রকৃতির মতি বিভ্রম । তাই মনে হলো তাদের এহেণ প্রচেষ্টায় বাধ সাধতে হলে তাদের ফাউল খেলাই খেলে দেখাতে হবে । স্প্যামিং কাহাকে বলে ও উহা কত প্রকার তা স্বচক্ষে না দেখলে ( দেখলেই বা কী!) বোধোদয় ঘটবে না ।
তবে সেখানেও একটা প্রচ্ছন্ন অপরাধবোধ ছিল । যে কাজটা করছি তা খুব ভালোমানুষীর কাজ নয়, নিজের কাছেই বুঝি মস্তিষ্কের প্রবৃদ্ধি যাদের থমকে আছে তাদেরকে শিক্ষা দিতে গিয়ে তাদের বা তাদের চেয়েও নীচে নামায় অস্বস্তি বোধ জাগায় মনে । হাজার হোক ঘেন্না-পিত্তি বলে একটা কিছু আছে ।
তাই প্রায়শ্চিত্ত হিসাবে রসিকতার অবতারণা । শুরু থেকেই ভেবেছিলাম যে এটাকে সিরিজ হিসাবে আনবো তাই এমন কিছু আনতে হবে যা অনেক দূর চালানো যায় ।
এই কৌতুক মালা বাস্তবিক শিখেদের নিয়ে নয় । পৃথিবীর বহু জায়গাতেই এরকম সাম্প্রদায়িক (সব সময় রেসিস্ট নয়!) রসিকতা অল্পবিস্তর চালু আছে । আইরিশদের নিয়ে আছে 'প্যাডি জোকস'...সোনালী চুলো মেয়েদের নিয়ে 'ব্লন্ড জোকস' ....শিখেদের নিয়ে আছে 'সর্দারজী জোকস' । এই সব রসিকতার উপজীব্য হচ্ছে স্টেরিওটাইপিং বা একটা জনগোষ্ঠির সবাইকে একছাঁদে ফেলে দেয়া ।
সর্দারজীদের নিয়ে খুব বেশি কিছু বলবার নেই । মুলতঃ ভারতীয় পাঞ্জাব বা পুর্ব পাঞ্জাবের বাসিন্দা শিখেরা । কিন্তু তারা লাহোর থেকে ভ্যাংকুভার দুনিয়ার অনেক খানেই ছড়িয়ে পড়েছে । ভারতের প্রায় সব প্রদেশেই মোটরগাড়ি চালানো ও মেরামতে শিখেদের পারদর্শিতা চোখে পড়ার মতো । তাদের দাড়ি-পাগড়ি শোভিত- আর্য অবয়বও তাদেরকে চিহ্নিত করে খুব দ্রুত । বাংলাদেশেও খুব স্বল্প সংখ্যক শিখের বাস ।
এ কথা মনে করার কোনো কারন নেই শিখেরা অন্য দের থেকে বেশী মাথা মোটা বা স্থুল বুদ্ধির । বরং উল্টোটাই বেশী সত্যি । শিখেদের মধ্যে ভিখারী নেই, শিখেরা পরিশ্রমী, অনেক ব্যাবসা বানিজ্যে সফল...পুর্ব পাঞ্জাব ( বা ভারতীয় পাঞ্জাব) প্রদেশের গ্রামগুলো যারা দেখেছে তারা জানে চাষবাষেও শিখেদের দারুন হাত যশ আছে ।
আগেই বলেছি, নামে সর্দারজী হলেও চরিত্রগত ভাবে কৌতুকগুলো আসলে নেটে পাওয়া 'সর্দারজী জোকস' স্পষ্টতই ভিন্ন । আবারো বলছি সর্দারজীরা খালিস্তান কায়েম হোক বা না হোক সুখে থাকুক । ঢালকানগরের ঢালী! তাদের প্রতি কোনো অসুয়া ভাব পোষণ করেন না ।
এইখানে একটু মাথা খাটাতে হলো । আমি ঠিক করেছিলাম খুব বেশি পরিচিত চুটকি দেবো না, বেশী আদিরসের আধিক্য যেসবে আছে সেগুলো ও এড়িয়ে যাবো ।
তা করতে গিয়েই সমস্যাটা দেখা দিলো । চুটকিগুলো যতদূর সম্ভব 'ফানি স্টোরি-অ্যানেকডোটাল ধাঁচের করতে গিয়ে অনেক ভাংগা গড়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হলো । আর তা করতে গিয়ে একেবারে মৌলিক কিছু চুটকিও বানিয়ে ফেললাম ! (ফলিটিক্স-লৌড়!)
একেবারে পিচ্চি বয়েস থেকেই রিডার্স ডাইজেস্টে আংগুল পড়েছে । আরেকটু বড় হয়ে বুঝেছি এ পত্রিকাটা আসলে ইনকিলাব আর জনকন্ঠের একটা ইয়াংকি সংস্করণ । এস্টাবলিশমেন্টের উলঙ্গ দালাল...এবং জঘন্য প্রোপাগান্ডিস্ট । এখন ডাইজেস্ট দেখলে মুখ ফিরিয়ে নেই ।
সে যাই হোক ডাইজেস্ট থেকে ভাল কিছু জিনিসও পেয়েছি । পিটার ফাংকের "ওয়ার্ড পাওয়ার" বা "লাইফস লাইক দ্যাট"
এবং বিশেষ করে "লাফটার দ্য বেস্ট মেডিসিন", "হিউমার ইন ইউনিফর্ম " । শেষ বিভাগদুটো এককালে আমার অবশ্য পাঠ্য ছিল ।
প্রথম তিরিশটা সর্দারজী আসলে কোন এক সুদূর অতীতে পড়া রিডার্স ডাইজেস্ট হিউমার সেকশনের চুটকি-বাস্তব জীবনের ঘটনারই আরেকটু পরিবর্তিত রুপ । তবে সমস্যা দেখা গেল পঁয়ত্রিশ পার হবার পর!
অন্তত দুটো ক্যারেকটার লাগবে, কিছুটা অপরিচিত হলে ভাল হয়, আগেই বলেছি সফট পর্ন এড়িয়ে গেছি । তারপরে পাঞ্চলাইনের একটা ব্যাপার আছে, যেটা ছাড়া কোনো চুটকিই চলে না । তাই বেশ কঠিন হয়ে পড়ল কাজটা । রডনি ডেঞ্জারফিল্ড থেকে দুয়েকটা চালিয়ে দিলাম । নাহ, তারপরেও কাজটা কঠিন হয়ে আসছে !
(প্রথমে বলে রাখি আমি কোনো কালে প্রথম আলো বা তার সাপ্তাহিক সাপ্লিমেন্ট আলপিনের ভক্ত ছিলাম না । অনেকে বলছেন বটে তাঁরা নাকি এসব আগেই আলপিনে পড়েছেন । পুরোপুরি সততার সাথেই বলতে পারি এগুলো আলপিন-কপি নয়. সারা জীবনে আমি সাত-আটটার বেশী আলপিন হাতে তুলিনি )
এরপরে সর্দারজী সিরিজ অনিয়মিত হয়ে পড়তে পারে । আরেকটা সংক্ষিপ্ত কৌতুকের সিরিজ ছাড়ার ইচ্ছা আছে । আশা করি আপনাদের ভাল লাগে ।
ভাল থাকবেন সবাই ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




