সকাল থেকে দিনটা খুব ভালই কাটছিল। অফিসের কলিগ, নেটের বন্ধুরা স্পেশিয়াল কেউ কেউ খুব ভাল ব্যবহার করছিল। সকাল থেকে তাই মেজাজ ছিল বেশ ফুরফুরে । ভাবলাম সব মানুষগুলো কেমন ভাল হয়ে যাচ্ছে - নাকি আমি বদলে যাচ্ছি। যাগ্গে এতমাথা ঘামাবার দরকার কী? ভালইত আছি। নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছি । আর এ সুবাদে নতুন নতুন সহকর্মী কাম বন্ধু যোগাড় হয়েছে । আমি সব সময়ে একটু বন্ধু কাঁতুরে। এখানে যোগদান করায় অনেকের সাথে সক্ষ্যতা গড়ে উঠে। কাজের ধরনটা এবং চাপ একটু বেশি হলেও মন্দ লাগছে না। এখানকার ক্যান্টিনের বুট মুড়ি বেশ মজা! প্রতিদিন বেলা ১১.০০ টার দিকে আমরা কয়েক জন মিলে বুট-মুড়ি খাই। আর এ ব্যবস্থাপনায় থাকেন মাহবুব ভাই। যাদের সাথে আমার বেশী ঘনিষ্টতা তাদের মধ্যে অন্যতম হলো শারমিন ম্যাডাম। গত কাল ছিল বিশ্ব মা-দিবস। মাহবুব ভাই, শারমিন ম্যাডাম সহ লান্স ব্রেকে নিউমার্কেটে গিয়েছিলাম প্রত্যেকের মাম্মুর জন্য গিফট কিনতে। তারপর ওখান থেকে ষ্টার্নপ্লাজায়। ষ্টার্নপ্লাজার ফাস্ট ফ্লরে মিট হয় শারমিনের এক পুরান বন্ধু, ঠিক বন্ধূ নয় এর থেকেও বেশী কিছু (পরে বুঝলাম)। লোকটা অনেক চেষ্টা করেছে আমাদের লান্স করাতে। আন্তরিকতা দেখে তার প্রতি সম্মান রেখে রিফিউজ করতে চাচ্ছিলাম না। কিন্তু আমাদের সবার ইচ্ছা থাকলেও শুধু মাত্র শারমিনের অনিচ্ছার কারনে তা আর হল না। লক্ষ্য করলাম লোক টার সাথে সাক্ষাতের পর থেকে শারমিন আর একটা কথাও বলে নি । অফিসে ব্যাক করে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে শারমিন যা বলল -
"ও ভালবাসত রুবেলকে। একই এলাকায় বসবাস করত ওরা। অসম্ভব মুক্ত মনের মানুষ। অসম্ভব সুন্দর গান গাইত। অবশ্য এখনো গায়। ভাল বিতর্কও করত। ডিবেট সোসাইটির মেম্বার ছিল সে। যে কোন যুক্তির পাল্টা যুক্তি দাড় করাতে সে ছিল বেশ স্মার্ট । সম্পর্কের শুরুতে একদিন রুবেল বলেছিল, ' আচ্ছা পুরুষরাই শুধু নারীকে প্রেমের অফার দিবে কেন? নারীরা অফার করতে জানে না? আমার জানামতে একটি নারীও পাইনি যে আগে তার পছন্দের মানুষকে প্রোপোজড করেছে।'
সে দিন তার কথা শুনে শারমিনও ভেবেছিল, সত্যি তো, মেয়েরা ভালবাসলে আগে কেন প্রোপোজ করে না? যা হোক তার সঙ্গে বন্ধুত্বের এক পর্যায়ে অনুভব করে সে রুবেলকে ভালবাসে। তখন ওর মনে পড়ে ওই দিনের কথাটা, মেয়েরা পুরুষদের আগে প্রোপোজড করে না কেন? শারমিন সিদ্ধান্ত নেয় রুবেলকে সারপ্রাইজ দিবে। ও তাই ই করল, প্রেমের অফারটা নিজেই করল। রুবেল যেন এমন একটা অফারের অপেক্ষাতেই ছিল। বলতেই রাজি। তারপর ওদের সম্পর্ক গভীরতার দিকে যেতে বেশি দিন লাগল না। তারপর আরো কতদিন গেল। একসময় শারমিন ওদের বিয়ের কথা তুলল। সে প্রথমে এ্যাভওয়েড করল। এদিকে বাসা থেকেও শারমিনকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়া হচ্ছিল। ফলে সেও রুবেলকে চাপ দিচ্ছিল। এরপর সে একদিন রাস্তায় সিন ক্রিয়েট করে বলল, 'যে মেয়ে আগে ছেলেদের প্রোপোজড করে তার চরিত্র নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।' এরপর শারমিন আর কোনদিন তার মুখামুখি হয় নি। শারমিনের মুখ থেকে শেষের কথাগুলো শুনে মাথায় আমার আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। পুরানো সেই ডায়ালগ বলতে হয় ছি! ছি! তোমরা (ছেলেরা) এত খারাপ! অবশ্য সবাই না।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই আগস্ট, ২০১০ দুপুর ১২:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




