আমার প্রিয় পোস্ট

কম্পিউটার বিশারদ পেশায়, নেশায় যুক্তিবাদী

বিবর্তনবাদের কয়েকটি প্রশ্ন

১২ ই জুলাই, ২০০৭ বিকাল ৪:৪৭

শেয়ার করুন:                   Facebook

আগেরদিন বিজ্ঞানে কিভাবে তথ্যসংগ্রহ করে প্রমাণ আহরণ করা হয় সে বিষয়ে লিখেছি। কিন্তু তাতে অনেকেই সন্তুষ্ট নন। তারা বিবর্তনবাদের পক্ষে প্রমাণ জানতে চেয়ে কিছু প্রশ্ন করেছেন। আমি একে একে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলাম।

মানুষ যদি বানরের উত্তরপুরুষ হয় তাহলে কোটি বছরে বানর গুলো কেনো কিছুটা মানুষের মত হলনা?
সহজ উত্তর, আমরা গাছে যে বানর ঝুলে থাকতে দেখি, সেই বানর থেকে আমাদের সৃষ্টি নয়। আমরা শুধু একই পূর্বপুরুষ থেকে তৈরি। ওপরের ছবিটা দেখলে ব্যাপারটা ভাল করে বোঝা সম্ভব। গরিলা, ওরাং ওটাং বা শিম্পাঞ্জী সবাই আনথ্রপয়েড থেকে বিবর্তিত হয়ে তৈরি হয়েছে। সহজ কথায়, আজ থেকে ১২ মিলিয়ন বছর আগে কোনো বানর ছিল না, তবে যারা ছিল তাদের সাথে বানরের সাদৃশ্যই বেশি। তাদের মধ্যে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন দল থেকে গরিলা, শিম্পাঞ্জী বা মানুষ তৈরি হয়েছে। এই দলগুলো মাইগ্রেট করে এক এক অঞ্চলে চলে যাওয়ায় একদলের পরিবর্তন আরেকদলের মধ্যে প্রভাব ফেলেনি – কোনো জিন বিনিময় হয়নি। আর এক এক অঞ্চলে পরিবেশ একেকরকম হওয়ায় তাদের বিবর্তনও একেকরকম ভাবে হয়েছে।

মানুষ আর বানরের অন্তর্বর্তী প্রাণি দেখা যায়না কেন?
বিবর্তনে আমরা সবাই অন্তর্বর্তী – নিজের বৈশিষ্ট্য কমবেশি পরের প্রজন্ম কে দিয়ে চলব। সত্যিকারের এক প্রাণি থেকে আরেক প্রাণিকে আলাদা করার কোনো পদ্ধতি জানা নেই। সাধারণভাবে একেক প্রজাতি আরেক প্রজাতির সাথে প্রজনন করেনা, এই ভিত্তিতে প্রজাতি তৈরি করা হয়। গোষ্ঠী আলাদা হওয়ার পরে মানুষ আর শিম্পাঞ্জী নিজেদের মত করে বিবর্তিত হয়েছে, তাই তাদের মধ্যে লিংক কেটে গেছে। কৃত্রিম উপায়ে মানুষ আর শিম্পাঞ্জীর সংকর ভ্রূণ তৈরি করা হয়েছে, মিল না থাকলে সেটা কি সম্ভব হত?
আরো একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরুন আন্দামানের উপজাতিরা – তারা আমাদের সাথে প্রজননক্ষম, কিন্তু আমাদের থেকে অনেক আলাদা। কেন? কারণ, আমাদের সাথে তারা ভৌগোলিক ভাবে বিচ্ছিন্ন থাকায় তাদের সাথে আমাদের জিন বিনিময় হয়নি অনেকদিন।

মানুষ আর শিম্পাঞ্জীর ৯৫-৯৯% জিনগত মিল আছে, এ থেকে কি বোঝা যায়?
বোঝা যাওয়ার জন্য বাকি ১-৫% জিন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই জিনগুলো যে মিউটেশনের ফলে আলাদা হয়েছে তাদের মলেকুলার ক্লক দিয়ে বয়স নির্ধারণ করা সম্ভব। মজার কথা হল, এভাবে প্রাপ্ত বয়স, সংগৃহীত ফসিলের কার্বন ডেটিং-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত বয়সের খুব কাছাকাছি। আগেই বলেছি, একাধিক সূত্র থেকে পাওয়া গেছে বিবর্তনবাদের প্রমাণ – এটা সেরকমই একটা উদাহরণ।

এই ১-৫% মানুষ আর শিম্পাঞ্জীর মধ্যে এতটা পার্থক্য কেন করে?
জিন আমাদের জন্মাবস্থা নিয়ন্ত্রন করতে পারে, কিন্তু পরবর্তীতে আমরা কিভাবে চলব সেটা আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের ওপর নির্ভর করে। মানব-সভ্যতার একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এক প্রজন্মে অর্জিত জ্ঞান আর ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ওপর পরের প্রজন্ম কাজ শুরু করে – এটাই মানুষকে অন্যের থেকে আলাদা করেছে। এই ১-৫% জিন-পার্থক্য মানুষের মস্তিষ্ক বিকাশে সাহায্য করেছে যা আমাদের পুরুষানুক্রমে জ্ঞান বহন করতে সাহায্য করেছে। ভাল করে ভেবে দেখলে, আমাদের জ্ঞানের অধিকাংশই পুরুষানুক্রমে পাওয়া মানবসমাজের দান, ঠিক না?

 

 

  • ১২ টি মন্তব্য
  • ৪৩৯ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৫ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ১২ ই জুলাই, ২০০৭ বিকাল ৫:১০
comment by: জিজ্ঞাসু বলেছেন: বেশ লিখেছেন। কোথায় পেলেন এসব তথ্য?

আপনার এ বিষয়ের উপর আগ্রহ কিভাবে হলো???
২. ১২ ই জুলাই, ২০০৭ বিকাল ৫:১৪
comment by: দিগন্ত বলেছেন: এক বছর আগেও আমি বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করতাম না। অনেক ইন্টারনেট ঘেটে তথ্য বের করে আমি এখন বুঝেছি। আমার ধারণা সবারই ভুল ধারণা গুলো ভাঙ্গা উচিত।
৩. ১২ ই জুলাই, ২০০৭ বিকাল ৫:১৭
comment by: ফ্লোরা ফেরদৌসী বলেছেন: ভালো লিখেছেন। আমরা অনেকেই জানি, তবে এত স্পষ্ট ভাবে না
৪. ১২ ই জুলাই, ২০০৭ বিকাল ৫:৩১
comment by: আশেক ইব্রাহীম বলেছেন: গুরুত্বপূর্ণ লেখা। ভালো লাগলো।

"মানব-সভ্যতার একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এক প্রজন্মে অর্জিত জ্ঞান আর ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ওপর পরের প্রজন্ম কাজ শুরু করে"
"এই ১-৫% জিন-পার্থক্য মানুষের মস্তিষ্ক বিকাশে সাহায্য করেছে যা আমাদের পুরুষানুক্রমে জ্ঞান বহন করতে সাহায্য করেছে।"

জিন কি পুরুষানুক্রমে জ্ঞান বহন করে?
৫. ১২ ই জুলাই, ২০০৭ বিকাল ৫:৩৬
comment by: দিগন্ত বলেছেন: একদম না, জিন জ্ঞান বহন করে না, বৈশিষ্ট্য বহন করে। এরকমই একটা বৈশিষ্ট্য হল পুরুষানুক্রমে জ্ঞান বহন করা। আমাদের ধর্ম বা বিজ্ঞান অধিকাংশই এই শ্রেণীতে পড়ে।
৬. ১২ ই জুলাই, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১৩
comment by: অলীক মানুষ বলেছেন: একটু গোলমাল লাগছে। "পুরুষানুক্রমে অর্জিত বৈশিষ্ট্য" বহন করাটা তো ল্যামার্কের থিওরি ছিল, যেটা এখন মানা হ্য় না। এই ব্যাপারটা বোধহয় বিবর্তনের ওপর মিমের প্রভাব, যা ডকিন্স বিবর্তনের এক নতুন একক হিসাবে চিন্হত করেছেন।
৭. ১২ ই জুলাই, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:২৩
comment by: দিগন্ত বলেছেন: আপনি ঠিকই ধরেছেন, এটা মিমের কথাই বোঝাচ্ছে। কিন্তু মানুষের মাথায় মিম কাজ করে, শিম্পাঞ্জীর মাথায় কেন করেনা? সেটাই আসছে ওই ১-৫% জিনগত পার্থক্য থেকে। জিনগত পার্থক্যের জন্য মানুষের মস্তিষ্কের গঠন আলাদা হয়ে গেছে যা মিম বহন করে পরের প্রজন্মের পৌছে দেয়।
৮. ১২ ই জুলাই, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:২৬
comment by: আশেক ইব্রাহীম বলেছেন: জীন হল ইনফ্রাষ্টাকচার, তুলনা করা যেতে পারে কৃষি জমির উর্বরা শক্তির সাথে; তার ভেতরকার জৈব-রাসায়নিক উপাদানসমুহের বিন্যাস এর সাথে। জমিতে বীজ বপন করা হলে, জৈব-রাসায়ায়নিক বিন্যাসের উপর নির্ভর করে কতটুকু প্রয়োজনীয় পুষ্টি বীজ পাবে মাটি থেকে।

প্রাথমিক দিকে মুখে মুখে জ্ঞানের চর্চা এবং সঞ্চারণ শুরু হয়েছিল। গুহাচিত্রের মাধ্যমে যেমন মানুষ একজনের অভিজ্ঞতা সবার সাথে শেয়ার করতো। আমার মনে হয় পুরুষানুক্রমে জ্ঞানের সঞ্চারণ এর প্রয়োজনেই ভাষার উদ্ভব, ক্রমান্য়য়ে লিখিত ভাষা এবং বর্তমানের অসংখ্য উপকরন।
৯. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ২:১১
comment by: বিবর্তনবাদী বলেছেন: ভাল লিখেছেন... ...
১০. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ২:১৫
comment by: ডাক্তার অব শিলাটাঈটিস বলেছেন: আমাদের পিতা হজরত আদম আর নোহা। এ ব্লগারের ফাসী চাই
১১. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১১:২৩
comment by: লাইটহাউজ বলেছেন: ধন্যবাদ চমৎকার লেখাটির জন্য।
১২. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:০৮
comment by: নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
ভালো লাগলো.......



অফ টপিকঃ
কেমন আছেন??
পোস্ট কোথায়??????????

 



 


পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ১৪৪৮০