আমার প্রিয় পোস্ট
- বাঙ্গালি দের হিন্দি কথা!!!!!!!!!! - লাবনি
- শাবাশ নতুন ভারত! - অরুন্ধতি রায় - ত্রিভুজ
- Elmina Castle...Where thousands of African slaves died. - প্রীটি সোনিয়া
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের অসাধারন কিছু ছবি - সু-শান্ত
- আমি নাস্তিক। - পুতুল
- ইসলামে বিবাহ এবং বাল্যবিবাহে আজকের চোখে- - অপ বাক
- সতত জনম; মূল: মৃণাল সেন - ফাহমিদুল হক
- অর্থনীতির সহজ পাঠঃ বিষয়- বিদেশি বিনিয়োগ - দিনমজুর
- বাঙালি মুসলমানরাই সবচেয়ে লিবারেল? - ফাহমিদুল হক
- 'মকছুদোল মো'মেনীন ও নারী শিক্ষা বা বেহেশতের কুঞ্জী' বইটি কি নিষিদ্ধ হওয়া উচিত নয়? - মুজিব মেহদী
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - একটি অহেতুক বিতর্কের জবাব - সু-শান্ত
- ব্ল্যাক হোলের সাথে ম্যানহোলের এবং হোয়াইট হোলের সাথে সুড়ঙ্গমুখের মিল আছে- সত্যি কথা কিন্তু! - অনিশ্চিত
- ব্লগারদের মিলন মেলার কিছু ছবি !!! - সুখী মানুষ
- ত্রিশ লক্ষ শহীদ : মিথ নাকি বাস্তবতা ? - লাইটহাউজ
- ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতির বইয়ে নবীর ছবি!! - মুকুট
- পরীক্ষাগারে বিগ ব্যাং: উত্তর মিলবে অনেক প্রশ্নের - অনিশ্চিত
- বিদেশী সাহায্য ছাড়া কি বাংলাদেশ চলতে পারে? - ফাহমিদুল হক
- বিবর্তন বাদঃ প্রজাতির জন্ম? - উৎস
- বঙ্গবন্ধু কি সত্যিই দালালদের ক্ষমা করেছিলেন? আসুন নতুন করে ট্রুথ কমিশন গঠনের দাবি জানাই - শওকত হোসেন মাসুম
- রিফ্যুজি ক্যাম্পের শিশুরা : ১৯৭১ - অমি রহমান পিয়াল
- সৃষ্টিকর্তার সন্ধানে (প্রথম পর্ব) - ত্রিভুজ
- আঙ্গুলের প্রতীকী ভাষা - সাইমুম
- আমেরিকার চামচামি এবং আমাদের মানসিকতা! - মানবী
বিবর্তনবাদের কয়েকটি প্রশ্ন
১২ ই জুলাই, ২০০৭ বিকাল ৪:৪৭
আগেরদিন বিজ্ঞানে কিভাবে তথ্যসংগ্রহ করে প্রমাণ আহরণ করা হয় সে বিষয়ে লিখেছি। কিন্তু তাতে অনেকেই সন্তুষ্ট নন। তারা বিবর্তনবাদের পক্ষে প্রমাণ জানতে চেয়ে কিছু প্রশ্ন করেছেন। আমি একে একে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলাম।
মানুষ যদি বানরের উত্তরপুরুষ হয় তাহলে কোটি বছরে বানর গুলো কেনো কিছুটা মানুষের মত হলনা?
সহজ উত্তর, আমরা গাছে যে বানর ঝুলে থাকতে দেখি, সেই বানর থেকে আমাদের সৃষ্টি নয়। আমরা শুধু একই পূর্বপুরুষ থেকে তৈরি। ওপরের ছবিটা দেখলে ব্যাপারটা ভাল করে বোঝা সম্ভব। গরিলা, ওরাং ওটাং বা শিম্পাঞ্জী সবাই আনথ্রপয়েড থেকে বিবর্তিত হয়ে তৈরি হয়েছে। সহজ কথায়, আজ থেকে ১২ মিলিয়ন বছর আগে কোনো বানর ছিল না, তবে যারা ছিল তাদের সাথে বানরের সাদৃশ্যই বেশি। তাদের মধ্যে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন দল থেকে গরিলা, শিম্পাঞ্জী বা মানুষ তৈরি হয়েছে। এই দলগুলো মাইগ্রেট করে এক এক অঞ্চলে চলে যাওয়ায় একদলের পরিবর্তন আরেকদলের মধ্যে প্রভাব ফেলেনি – কোনো জিন বিনিময় হয়নি। আর এক এক অঞ্চলে পরিবেশ একেকরকম হওয়ায় তাদের বিবর্তনও একেকরকম ভাবে হয়েছে।
মানুষ আর বানরের অন্তর্বর্তী প্রাণি দেখা যায়না কেন?
বিবর্তনে আমরা সবাই অন্তর্বর্তী – নিজের বৈশিষ্ট্য কমবেশি পরের প্রজন্ম কে দিয়ে চলব। সত্যিকারের এক প্রাণি থেকে আরেক প্রাণিকে আলাদা করার কোনো পদ্ধতি জানা নেই। সাধারণভাবে একেক প্রজাতি আরেক প্রজাতির সাথে প্রজনন করেনা, এই ভিত্তিতে প্রজাতি তৈরি করা হয়। গোষ্ঠী আলাদা হওয়ার পরে মানুষ আর শিম্পাঞ্জী নিজেদের মত করে বিবর্তিত হয়েছে, তাই তাদের মধ্যে লিংক কেটে গেছে। কৃত্রিম উপায়ে মানুষ আর শিম্পাঞ্জীর সংকর ভ্রূণ তৈরি করা হয়েছে, মিল না থাকলে সেটা কি সম্ভব হত?
আরো একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরুন আন্দামানের উপজাতিরা – তারা আমাদের সাথে প্রজননক্ষম, কিন্তু আমাদের থেকে অনেক আলাদা। কেন? কারণ, আমাদের সাথে তারা ভৌগোলিক ভাবে বিচ্ছিন্ন থাকায় তাদের সাথে আমাদের জিন বিনিময় হয়নি অনেকদিন।
মানুষ আর শিম্পাঞ্জীর ৯৫-৯৯% জিনগত মিল আছে, এ থেকে কি বোঝা যায়?
বোঝা যাওয়ার জন্য বাকি ১-৫% জিন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই জিনগুলো যে মিউটেশনের ফলে আলাদা হয়েছে তাদের মলেকুলার ক্লক দিয়ে বয়স নির্ধারণ করা সম্ভব। মজার কথা হল, এভাবে প্রাপ্ত বয়স, সংগৃহীত ফসিলের কার্বন ডেটিং-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত বয়সের খুব কাছাকাছি। আগেই বলেছি, একাধিক সূত্র থেকে পাওয়া গেছে বিবর্তনবাদের প্রমাণ – এটা সেরকমই একটা উদাহরণ।
এই ১-৫% মানুষ আর শিম্পাঞ্জীর মধ্যে এতটা পার্থক্য কেন করে?
জিন আমাদের জন্মাবস্থা নিয়ন্ত্রন করতে পারে, কিন্তু পরবর্তীতে আমরা কিভাবে চলব সেটা আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের ওপর নির্ভর করে। মানব-সভ্যতার একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এক প্রজন্মে অর্জিত জ্ঞান আর ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ওপর পরের প্রজন্ম কাজ শুরু করে – এটাই মানুষকে অন্যের থেকে আলাদা করেছে। এই ১-৫% জিন-পার্থক্য মানুষের মস্তিষ্ক বিকাশে সাহায্য করেছে যা আমাদের পুরুষানুক্রমে জ্ঞান বহন করতে সাহায্য করেছে। ভাল করে ভেবে দেখলে, আমাদের জ্ঞানের অধিকাংশই পুরুষানুক্রমে পাওয়া মানবসমাজের দান, ঠিক না?
দিগন্ত বলেছেন:
এক বছর আগেও আমি বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করতাম না। অনেক ইন্টারনেট ঘেটে তথ্য বের করে আমি এখন বুঝেছি। আমার ধারণা সবারই ভুল ধারণা গুলো ভাঙ্গা উচিত।
ফ্লোরা ফেরদৌসী বলেছেন:
ভালো লিখেছেন। আমরা অনেকেই জানি, তবে এত স্পষ্ট ভাবে না
আশেক ইব্রাহীম বলেছেন:
গুরুত্বপূর্ণ লেখা। ভালো লাগলো। "মানব-সভ্যতার একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এক প্রজন্মে অর্জিত জ্ঞান আর ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ওপর পরের প্রজন্ম কাজ শুরু করে"
"এই ১-৫% জিন-পার্থক্য মানুষের মস্তিষ্ক বিকাশে সাহায্য করেছে যা আমাদের পুরুষানুক্রমে জ্ঞান বহন করতে সাহায্য করেছে।"
জিন কি পুরুষানুক্রমে জ্ঞান বহন করে?
দিগন্ত বলেছেন:
একদম না, জিন জ্ঞান বহন করে না, বৈশিষ্ট্য বহন করে। এরকমই একটা বৈশিষ্ট্য হল পুরুষানুক্রমে জ্ঞান বহন করা। আমাদের ধর্ম বা বিজ্ঞান অধিকাংশই এই শ্রেণীতে পড়ে।
অলীক মানুষ বলেছেন:
একটু গোলমাল লাগছে। "পুরুষানুক্রমে অর্জিত বৈশিষ্ট্য" বহন করাটা তো ল্যামার্কের থিওরি ছিল, যেটা এখন মানা হ্য় না। এই ব্যাপারটা বোধহয় বিবর্তনের ওপর মিমের প্রভাব, যা ডকিন্স বিবর্তনের এক নতুন একক হিসাবে চিন্হত করেছেন।
দিগন্ত বলেছেন:
আপনি ঠিকই ধরেছেন, এটা মিমের কথাই বোঝাচ্ছে। কিন্তু মানুষের মাথায় মিম কাজ করে, শিম্পাঞ্জীর মাথায় কেন করেনা? সেটাই আসছে ওই ১-৫% জিনগত পার্থক্য থেকে। জিনগত পার্থক্যের জন্য মানুষের মস্তিষ্কের গঠন আলাদা হয়ে গেছে যা মিম বহন করে পরের প্রজন্মের পৌছে দেয়।
আশেক ইব্রাহীম বলেছেন:
জীন হল ইনফ্রাষ্টাকচার, তুলনা করা যেতে পারে কৃষি জমির উর্বরা শক্তির সাথে; তার ভেতরকার জৈব-রাসায়নিক উপাদানসমুহের বিন্যাস এর সাথে। জমিতে বীজ বপন করা হলে, জৈব-রাসায়ায়নিক বিন্যাসের উপর নির্ভর করে কতটুকু প্রয়োজনীয় পুষ্টি বীজ পাবে মাটি থেকে।প্রাথমিক দিকে মুখে মুখে জ্ঞানের চর্চা এবং সঞ্চারণ শুরু হয়েছিল। গুহাচিত্রের মাধ্যমে যেমন মানুষ একজনের অভিজ্ঞতা সবার সাথে শেয়ার করতো। আমার মনে হয় পুরুষানুক্রমে জ্ঞানের সঞ্চারণ এর প্রয়োজনেই ভাষার উদ্ভব, ক্রমান্য়য়ে লিখিত ভাষা এবং বর্তমানের অসংখ্য উপকরন।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
ভাল লিখেছেন... ...
ডাক্তার অব শিলাটাঈটিস বলেছেন:
আমাদের পিতা হজরত আদম আর নোহা। এ ব্লগারের ফাসী চাই


















আপনার এ বিষয়ের উপর আগ্রহ কিভাবে হলো???