আমার প্রিয় পোস্ট

কম্পিউটার বিশারদ পেশায়, নেশায় যুক্তিবাদী

নাস্তিকতার বিরুদ্ধে কিছু মিথ

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৯

শেয়ারঃ
0 5 0

নাস্তিক আর আস্তিক নিয়ে অনেক লেখা পড়ে ফেললাম। সেদিন স্যাম হ্যারিসের একটা লেখা খুব ভাল লাগল। অনেকেই নাস্তিকতাকে দেশের ও সমাজের পক্ষে সর্বনাশা বলে মনে করেন। তার অনেকগুলো কারণও তারা দর্শান। তবে যেহেতু আমাদের সমাজে সামগ্রিকভাবে ধার্মিক লোকের প্রাধান্য সেহেতু এই যুক্তিগুলো খন্ডানোর মত লোকজনের যথেষ্ট অভাব বলে মনে করি। যার ফলে, নিত্যনতুন অভিযোগ শোনা যায় নাস্তিকদের বিরুদ্ধে। এই নাস্তিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর অধিকাংশই এরকম - অমুকে নাস্তিক ছিল সে এই ওই করেছে, সুতরাং নাস্তিকেরা খারাপ। কিন্তু আরো দশজন নাস্তিক যদি উপকার করে থাকেন তাহলেও সে নিয়ে কোনো বিশেষ উচ্চবাচ্য নেই।

কিছুদিন আগেও এক ধর্মব্যবসায়ীর ভিডিওতে দেখলাম যে তিনি বলছেন নাস্তিকদের কোনো জীবনদর্শন থাকে না। যে জীবনদর্শন মানুষ ধর্মগ্রন্থ পাঠ করে আয়ত্ত করে, বা যে আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা ধার্মিকেরা অর্জন করে থাকে - নাস্তিকেরা তাকে অপছন্দ করে। কিন্তু আমার বক্তব্য হল নাস্তিকেরাই প্রকৃত জীবন-দর্শন অর্জন করে থাকে। আস্তিকদের জীবন তো পরকালের জন্য প্রস্তুতি-মাত্র। তাহলে সে জীবনে মানে কি? যদি জীবন-দর্শনের মানে এই হয় যে নিজেকে পরলোকে ভাল অবস্থানের বা স্বর্গলাভের জন্য প্রস্তুত করা - তবে তাকে জীবন-দর্শন না বলে তো পরলোক দর্শনই বলা ভাল - তাই না? আর আধ্যাত্মিকতার সাথে ঈশ্বরে বিশ্বাস করার কোনো সম্পর্ক নেই। বুকভরা ভালবাসা, চমকে ওঠার আনন্দ, বিষাদভরা কান্না -এইসব আবেগও নাস্তিকদের আর দশটা মানুষের মতই থেকে থাকে। শুধু নাস্তিকেরা কোনো কাল্পনিক বা পূর্বপরিকল্পিত সর্বশক্তিমানের সাহায্য নেয় না সেই অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যার জন্য। তারা তাকে বাস্তবের সীমার মধ্যে রেখে পর্যবেক্ষণলব্ধ সূত্র থেকে ব্যাখ্যার চেষ্টা করে। এটাই পার্থক্য। তাই অভিজ্ঞতায় কোনো ভেদাভেদ নেই, বিভেদ শুধু আছে ব্যাখ্যায়।

মানুষের বোধশক্তির বাইরেও যে কিছু আছে - তা নিয়েও নাস্তিক আস্তিক বিবাদ দেখি। অনেক সময়েই আস্তিক ঈশ্বর-পন্থীরা দাবী জানান যে যেহেতু আমরা অমুক-তমুক জানি না, তাই আমাদের প্রচলিত ধারণা মেনে চলতেই হবে যতদিন না ওগুলো আবিষ্কার হয়। বকলমে বক্তব্য হল ঈশ্বরের অস্ত্বিত্ত্ব ভুল প্রমাণ করার দায়িত্ব নাস্তিকদেরই। সেখানে নাস্তিকদের অবস্থান অনেক সহজবোধ্য - তারা যেটা জানেননা - সেটাকে জানিনা বলতেই অভ্যস্ত। পরীক্ষার দ্বারা যা প্রতিষ্ঠিত হয় না, তারা তাকে মেনে নেন না। অন্যভাবে বললে - যেকোনো বিষয়ে নাস্তিকদের তিনরকম অবস্থান সম্ভব - ঠিক, ভুল ও জানিনা। কিন্তু আস্তিকদের ক্ষেত্রে - ঠিক আর ভুল। কারণ তাদের ঠিক-ভুলের গন্ডীটা কেটে দিয়ে যায় ধর্ম।

আমার আত্মীয়স্বজনের অনেকেই বলেন নাস্তিকেরা ধর্মকে ও তার অবদানকে তুচ্ছজ্ঞান করে। এটা আরো একটা ভুল ধারণা। ধর্মকে তুচ্ছজ্ঞান করা আর ঈশ্বরকে অবিশ্বাস করা একই ব্যাপার নয়। এটা সত্যি যে কোনো একটা বিশেষ ধর্মের সমস্ত কিছু নাস্তিকেরা মেনে চলে না, বরং নিজস্ব বিবেক বা চিন্তাই তাদের পরিচালিত করে। কিন্তু আমাদের সমাজে অনেক ভালো কাজের পেছনে যে ধর্মের বড় ভূমিকা আছে তাকে অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই। আবার উল্টোদিকে ধার্মিকেরা তাদের ধর্মের প্রতিটি পঙতিকে সঠিক ও নির্ভুল বলে দাবী জানিয়ে প্রতিনিয়ত নতুন ব্যাখ্যা এনে তার সত্যতা প্রতিষ্ঠার যে ব্যর্থ প্রচেষ্টা করে - নাস্তিকেরা তা থেকে বিরত থাকে।

প্রচলিত আরেকটি ভুল ধারণা হল নাস্তিকতার সাথে বিজ্ঞানের কোনো সম্পর্ক নেই। কথাটা আক্ষরিক অর্থে সত্যি হলেও বাস্তবে এর ব্যতিক্রম খুব কমই দেখা যায়। আমেরিকা ও ব্রিটেন - এই দুটি দেশই বর্তমানের আধুনিক বিজ্ঞানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সবথেকে বেশী সাহায্য করছে। আমেরিকার ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সের মধ্যে ভোটে ৯৩%-ই দাবী জানিয়েছেন যে তারা নাস্তিক। যেখানে আমেরিকার জনসংখ্যার ৯০%ই আস্তিক। তাহলে, বিজ্ঞানী হওয়ার সাথে নাস্তিকতাবাদের সম্পর্ক খুবই গভীর – নব্বই শতাংশ আস্তিকের জনতা থেকে বিজ্ঞানীদের মধ্যে উলটো নব্বই শতাংশ নাস্তিক হওয়া এই দৃঢ় সম্পর্কেরই পরিসংখ্যান।

আমি ব্লগে সাধারণভাবে দেখে এসেছি অনেক ধার্মিকই নাস্তিক বলতেই হিটলার, স্ট্যালিন, মাও আর পল পটের মত দাম্ভিক ডিক্টেটরের কথাই বলে থাকেন। এখানে একটা ব্যাপার বলে রাখা ভাল, ব্যক্তির ব্যাপারে পরিসংখ্যান কখোনো সামগ্রিক পরিসংখ্যানের জায়গা নিতে পারে না। দক্ষিণ এশিয়ায় মহিলা রাষ্ট্রপ্রধানের সংখ্যা বিশ্বের অন্য জায়গার থেকে বেশী বলে দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েরা অন্য জায়গার থেকে বেশী অগ্রসর - এটাও যেমন ভুল ধারণা, তেমনই কয়েকজন বিচ্ছিন্ন নাস্তিক ডিক্টেটরের আচরণ থেকে বাকি নাস্তিক বিজ্ঞানীদের মাপা যায় না। নিজ দেশ বা জাতির শ্রেষ্ঠত্বে অন্ধ অনেক ডিক্টেটর যেমন অন্য দেশ বা জাতির ওপর অত্যাচার চালিয়েছেন তেমনই নিজ ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর অত্যাচারের নমুনাও ইতিহাসে কম কিছু নেই। তাই আলাদা করে নাস্তিকদের এ জন্য দায়ী করার কোনো কারণ দেখি না।

সবশেষে আসা যায় বিবেকের কথায়। এটা খুব প্রচলিত যে নাস্তিকেরা বিবেকদংশনে জর্জরিত হন না। কারণ নাস্তিকদের কাছে তাদের নৈতিকতার জন্য কোনো ভিত্তি নেই - আস্তিকদের কাছে ধর্মগ্রন্থ যেমন। এমন ভাব যেন - খুন, জখম বা ডাকাতির অভিযোগে যারা অভিযুক্ত হয় তারা অধিকাংশই নাস্তিক। বাস্তবে, যে নাস্তিকেরা কোনো বইকে ধর্মগ্রন্থ স্বরূপ গণ্য করে নিজ মত প্রতিষ্ঠা করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, তারাই বরং অনৈতিক কাজ করে এসেছে। আস্তিকদের দাবীমত যদি ধর্মগ্রন্থই তাদের নৈতিকতার ভিত্তি হয় - তাহলে সময়ে সময়ে ধর্মগ্রন্থের ব্যাখ্যা পরিবর্তিত হয় কেন? কেনই বা সমস্ত ধর্মপরিচালিত সমাজেও দাসপ্রথা, জাতিভেদ আর লিঙ্গবৈষম্য জায়গা করে নেয়? নাস্তিকদের নৈতিকতার ভিত্তি মানুষের স্বতস্ফূর্ত বিবেক, যে পরিবেশে বড় হয় তার শিক্ষা আর জাতিগত চেতনা। তাই একই ধর্মের বিভিন্ন রূপ দেখা যায় বিভিন্ন অঞ্চলে। আমার নৈতিকতার একটা বড় ভিত্তি আছে আমাদের জিনে - তাই বিচ্ছন্নভাবে বা একাকী বেড়ে ওঠা মানুষও অনৈতিক না হতেই পারে - যতটা একজন তথাকথিত নৈতিক বা ধার্মিক মানুষ হতে পারে।

সামগ্রিকভাবে দেখলে ভাল আর খারাপ এই দুটো বিশেষণ নাস্তিক আর আস্তিকতার সাথে জুড়ে দেওয়াটা ঠিক নয়। ধর্মের অন্ধ সমর্থকেরা নিজের ধর্ম আর বিশ্বাস বাঁচিয়ে রাখতে সদা-সচেষ্ট বলে তারাই এই ভাল-খারাপ ধার্মিকতা দিয়ে বিচার করার স্কেলটা আবিষ্কার করেছেন। নাস্তিকেরা বেশী প্রশ্ন করে বলে দুর্নাম আছে। আমি নাহয় কয়েকটা প্রশ্নের উত্তরই দেবার চেষ্টা করলাম। আমার ব্যক্তিগত মতামতে মানুষকে বিচার করতে গেলে তার মানবিক গুণাবলীর দিকে তাকানোই ভাল - বিশ্বাস নিজস্ব। নাস্তিকদের ঈশ্বর-অবিশ্বাস যদি নতুন নতুন বিজ্ঞানের তত্ত্ব উদ্ভাবনে সাহায্য করে তাহলে ঈশ্বর অবিশ্বাস করে ক্ষতিটা কি হয়?

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): নাস্তিকতা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: বিজ্ঞান  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:১২

লেখক বলেছেন: পড়ে কমেন্ট লেখাও হয়ে গেছে। যাহোক, সরকারিভাবে ধর্ম জানতে চাওয়ার বিরোধিতা করি আমি, সুতরাং আপনার সাথে আমার মতে মেলে না। জন্ম-নিবন্ধনের সময় কেন ধর্ম থাকবে?

তাহলে অনাথ আর ফেলে যাওয়া শিশুদের ধর্ম কি হবে? আর তাদের ধর্ম তারা নিজেরা নির্বাচন করবে।

২. ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:১০
মানব মানিক বলেছেন: বন্ধুবর দিগন্ত

ভালো লাগল এমন সুন্দর একটা বক্তব্যনিষ্ঠ পোস্টের জন্য।
আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।
প্রিয়তে রাখলাম আরো ভালো করে পড়ার জন্য।
এমন তথ্যবহুল আরো পোস্ট চাই।

ভালো থাকবেন
ভালোবাসা নিয়ে।
৩. ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:১৯
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: তবে তাকে জীবন-দর্শন না বলে তো পরলোক দর্শনই বলা ভাল - তাই না? --- ঠিক কথা
৪. ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৯
আরিফুর রহমান বলেছেন: চমৎকার লেখা।

ধন্যবাদ লেখককে।
৫. ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৯
সু-শান্ত বলেছেন: চমৎকার লেখা।+
২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৬. ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২১
কোবরা বলেছেন:
এত সুন্দর করে লেখার জন্য ধন্যবাদ দিগন্ত ভাই।
৭. ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:২২
নাজিম উদদীন বলেছেন: চমৎকার লেখা।

এরকম লেখা আরও চাই।
৮. ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:৩২
নেমেসিস বলেছেন: এমন চমৎকার বিশ্লেষনধর্মী লেখা আরও চাই ।
৯. ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৪৮
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: গুরু আপনের পোস্টে আমি প্রথমে পোস্ট টা পড়ি, তারপর মেজাজ মর্জি ভালো থাকলে শোকেসে টিপ মারি তারপর একটা প্লাসে।

আপনের লেখায় আমি কিছু শেয়ার করতে চাই!

একটা পরীক্ষা করা হইছিলো মেলাকাল আগে নাম ২২ গ্রাম পরীক্ষা। যদিও এই পরীক্ষায় কিছু প্রমানিত হয় নাই, কিন্তু একটা কথা উঠছিলো আত্নার ওজন নাকি ২২ গ্রামের মতোন। জিনিসটা বেশ ভালোই লাগছিলো আমার। এখন আমি একটা জিনিস বলি ধরেন একটা পিচকিকে আমি রাস্তায় কুড়িয়ে পেলাম। তাকে আমি চিন্তা করলাম এরে এরশাদ সিকদার বানাবো। পেইনের উপর রাখলাম। দেখা গেলো পিচকিটা বড় হয়ে তার সব মেধা এরশাদ সিকদার হওনে লাগালো। আবার যদি ধরা যায় একে আমি মহা জ্ঞানী বানাবো, তাহলে সেটাও সম্ভব। আসলে একটা পিচ্চি হলো একদলা নরম কাদা, যাকে একটু পানি দিয়ে হাতাহাতি করলেই যে শেপ দিতে চাই সে শেপ হবে।

অনেক ধার্মিক লোকের এক নির্দেশে পুরো একটা জনপদ সহসা ধুলোয় মিশতে পারে, অথবা এক নাস্তিকের সামান্য একটা কাজে দেখা গেলো বিশ্ব একটা সমূহ ক্ষতির হাত থেকে বাচতে পারে। এই কথাটা আপনেও জানে না আমিও জানি কিন্তু কিছু লোক জেনেও কিছু বলবে কারন এটাই তাদের পেশা!

বস আরো লেখেন!
০৫ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:০৬

লেখক বলেছেন: ভাল বলেছেন উদাসী ভাই।

১০. ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:৩৪
আমি বাঙ্গালি বলেছেন: ধন্যবাদ পোস্টের জন্য। আমি আরো কিছু যোগ করি।

আস্তিকতা আসলে জন্মসূত্রে পাওয়া। এটা অর্জনের জন্য মানুষকে কিছুই করতে হয়না। জন্ম নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের ধর্ম আরো সঠিকভাবে বললে পিতার ধর্মকে সন্তানের ওপর অজান্তেই চাপিয়ে দেয়া হয়।

কিন্তু নাস্তিকতা মানুষকে অর্জন করতে হয়। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া নিজের বিশ্বাস, পরিবারের সংস্কার, প্রচলিত ধ্যান-ধারণাকে অস্বীকার করার মতো যুক্তি একজন মানুষকে প্রকৃতই শিক্ষিত করে তোলে। বিজ্ঞানের চর্চা যারা প্রকৃতই করেন, নিজের পর্যবেক্ষণকে যারা ব্যাখ্যা করতে পারেন তারা কোনোকিছুকে অন্ধভাবে মেনে নিতে পারেন না।

নাস্তিকরা নিজের যুক্তিকে অন্যের ওপর কখনোই চাপিয়ে দেন না, যেমনটা করেন আস্তিকরা। নাস্তিকরা তর্ক করেন, যুক্তি দেন, বিশ্লেষণ করেন- আর আস্তিকরা জ্ঞান-যুক্তির অভাবে অন্ধভাবে নিজের বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে থাকেন। নিজের মত ও বিশ্বাসের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠায় আস্তিকরা রক্তপাতেও দ্বিধা বোধ করেন না। এভাবে দুই পক্ষকে দেখা যায়।
১১. ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:২৪
পুতুল বলেছেন: ভাল পোস্ট।+
০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:৫৮

লেখক বলেছেন: হবে হয়ত ...

১৩. ০৬ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ৯:২৩
লাইটহাউজ বলেছেন: আমি বাঙ্গালি বলেছেন:
নাস্তিকরা নিজের যুক্তিকে অন্যের ওপর কখনোই চাপিয়ে দেন না, যেমনটা করেন আস্তিকরা। নাস্তিকরা তর্ক করেন, যুক্তি দেন, বিশ্লেষণ করেন- আর আস্তিকরা জ্ঞান-যুক্তির অভাবে অন্ধভাবে নিজের বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে থাকেন।

একমত।

+

১৪. ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১২:২১
হার্টবিট বলেছেন: দিগন্ত কে thanks এরকম post এর জন্য।
"তবে তাকে জীবন-দর্শন না বলে তো পরলোক দর্শনই বলা ভাল - তাই না?" --- ঠিক কথা।
আস্তিকেরা হলো লোভী...কেননা তারা পরলকালের লোভে যাতা করে।
১৫. ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৯:১৪
শামস শামীম বলেছেন:

আমি বিবেকশাসিত। এই পথে চললে যে যাই বলুক...

ধন্যবাদ ভালো পেস্টের জন্য।
১৬. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:০৬
দিগন্ত বলেছেন: "আমি বিবেকশাসিত। " --- একদম সঠিক পথ, আমার শুভেচ্ছা রইল।
১৮. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:২৩
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: নাস্তিকের চরিত্র নিয়া যেসব আস্তিক মাথা ঘামান তাদের পথ হইল চরিত্র দিয়া নিজের রাস্তারে শ্রেস্ঠ কওনের।
হাস্যকর লাগে এইটাই যে চরিত্র মতবাদের চাইতে গুরুত্বপূর্ণ হইয়া গেছে। কি আর করা এই চরিত্র নিয়াই তারা বড় হইছেন।


পুরান কাল হইলে এই পোষ্ট নিয়া একসময় খুব উচ্ছসিত হইতে পারতাম কিন্তু এখন পারিনা। কারণ.....

তবে বিজ্ঞানীবাদীতা বা যুক্তিবাদীতা কোনটাই বস্তুনিরপেক্ষ না। কেননা এটাতে মানুষ সম্পৃক্ত। নাস্তিকেরও যখন নিজের চিন্তার জন্য ডারউইনই একমাত্র আশ্রয় হয় সেটা অনেক বড় পরিসরকে ছোট করে ফেলে।

তবে আমি আশাবাদী যে যুক্তির ঐতিহাসিকতারেও আপনি বিবেচনায় আনবেন একসময়। যদি না পইড়া থাকেন, তাইলে একটু ফুকো পইড়েন।
০৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:৪১

লেখক বলেছেন: যুক্তির ইতিহাসটাতেও অনেক ফাঁজ চলে আসে। সবথেকে বড় ফাঁক আমার মতে ইউজেনিক্স ... আপনি আমার ডারউইন থেকে ডাবল হেলিক্স সিরিজটা পড়ে দেখতে পারেন -
http://www.sachalayatan.com/diganta

ছ'টা পর্ব লিখেছি এখনো আশা করছি দুটো আসবে।

১৯. ১৪ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৮:৪৬
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: লেখাটা ভালো লাগলো ।

তবে আরেকটু যোগ করতে চাই , আস্তিকরা ধর্ম আর তার বিশ্বাসের ব্যাপারে অনেকটা প্যাশনেট থাকে , তাদের বিশ্বাস নিয়ে যদি প্রতিনিয়ত আক্রমণ হতে থাকে অন্য পক্ষ থেকে স্বাভাবিকভাবে তাঁদের অনেকেই সংযত হওয়ার শক্তি হারিয়ে ফেলেন।

তবে সব নাস্তিকরা কেবল এমনটাই করে থাকেন , এমন জেনেরালাইজেশন করাটা বোকামি ।অজস্র অবিশ্বাসী আছেন , যারা নিষ্ঠা আর সততার পরীক্ষায় বিশ্বাসীদের চাইতে অগ্রগামী।

আপনাকে নববর্ষের শুভেচ্ছা
২০. ২৬ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:৫৩
দ্বিধা বলেছেন: প্রায় সব নাস্তিকই একসময় আস্তিক থাকে...
২২. ২১ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৫১
আমিই স্রোত বলেছেন: নাস্তিকতার বিরুদ্ধে কিছু মিথ
মিথই
২৩. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:২৩
দুরের পাখি বলেছেন: স্যালুট ।

তবে দীর্ঘদিন কিছু লিখছেন না । অভিমান ? নাকি ব্যস্ততা।
২৫. ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩৭
তানভীর চৌধুরী পিয়েল বলেছেন: সবার উপরে মানুষ সত্য...
২৬. ১১ ই জুলাই, ২০১০ ভোর ৪:৪৬
ফাহরুখ খান বলেছেন: "নাস্তিকদের অবস্থান অনেক সহজবোধ্য - তারা যেটা জানেননা - সেটাকে জানিনা বলতেই অভ্যস্ত। পরীক্ষার দ্বারা যা প্রতিষ্ঠিত হয় না, তারা তাকে মেনে নেন না"
পরীক্ষার দ্বারা প্রমাণ হয়নি যে সৃষ্টিকর্তা নেই তারপরো নাস্তিকরা মানেন যে সৃষ্টিকর্তা নেই ।
মুলত নাস্তিকতাও একধরনের বিশ্বাস।
১৩ ই জুলাই, ২০১০ ভোর ৪:৫৩

লেখক বলেছেন: পরীক্ষার দ্বারা প্রমাণিত হয়নি যে পরী, জ্বিন, ভূত বা রূপকথার চরিত্রেরাও নেই, তাই সেগুলোতেও সমানভাবে বিশ্বাস করা উচিত, কি বলেন? বিশ্বাসীরা কেন সেগুলোতেও বিশ্বাস করেনা?

২৭. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১২:৫২
মিটুলঅনুসন্ধানি বলেছেন: চমৎকার লেখা। এটা আমার আগামী পাঠচক্রে পাঠ করবো, যদি আপনার আপত্তি না থাকে।


শুভ কামনা।।।
০৫ ই অক্টোবর, ২০১০ ভোর ৪:১৮

লেখক বলেছেন: নিশ্চয়ই।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৯১৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ