আমার প্রিয় পোস্ট

পুঁজিবাদের থাবা,সমাজতন্ত্রের বাঁধা আর ভাষা দিবসে পুতুলের ধাঁধাঁ!

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৪

শেয়ারঃ
0 0 0

"দারিদ্রতা জাদুঘরে সংরক্ষিত হবে।" সম্ভবতঃ ডঃ ইউনুস ঘোষনাটি দেন। গ্রামিন ব্যাংকের মডেল কাজে লাগাতে বিশ্বের তাবৎ হিতাকাংখীরা মাঠে নেমেছেন। যুক্তরাষট্র ভিত্তিক "ফলাফল" নামের একটা সংগঠন, যাদের কাজ মুলতঃ লবিং করা, তাদের জার্মান শাখার আমন্ত্রনে আলোচনা সভায় যোগ দেই।
গ্রামিন ব্যাংকের গ্রামের মানুষ হিসাবে আমি সেখানে শুধু সাক্ষী। বিশেষজ্ঞগন এর মধ্যে বাংলাদেশ জরিপ করে এসেছেন। ডঃ ইউনুসের ভূয়সী প্রসংশায় আমি বাংগালী হিসাবে খুব তৃপ্ত। বাংলাদেশ সম্পর্কে এত ভাল ভাল কথা এর আগে এদের মূখে কখনো শুনিনি।
একজন অথর্নীতি বিদ বললেন: দেখুন আপনি সে দেশের মানুষ, আপনার কী মনে হয়? দারিদ্রতার কারণ অনেক আছে। আমরা দূরথেকে অভাব দেখে, তা মোচনে অনেক সময় মোটা অংকের টাকা সাহায্য দেই। কিন্তু পরের বছর আবার সেই, অভাব।
বলাই বাহুল্য: আমরা বিরতির সময় কফির পেয়ালায় চুমুক দিতে দিতে গল্প করছিলাম।
আমার তাৎক্ষনিক ভাবে যা মনে হল:
এক: বেশীর ভাগ মানুষ (এদেশেসর) মনে করে গরীবরা খুব ফাউল (অলস)।
আসলে ঠিক তা নয়; দৈনিক ১২ ঘন্টা কাজ গরীবদের জন্য কোন বিরল ঘটনা নয়। কিন্তু পারিশ্রমিক হিসাবে ধান, চাল, পরনের কাপড় ইত্যাদি পায়। নগদ অর্থ অনেক সময় হাতে আসে না।
দুই: নিজেদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় ঝগড়া-বিবাদ।
অনেক সময় তাদের কোন সার্থনেই এমন বিষয় নিয়ে ঝগড়া করে খুন জখম পর্যন্ত করে বসে।
তিন: শিক্ষার অভাব। প্রচলিত শিক্ষা ব্যাবস্থায় আংশ গ্রহণ এদের পক্ষে সম্ভব নয়। আর এদের শিক্ষার সুযোগ দেয়া যায় এমন কোন ব্যাবস্থা নিয়ে কেউ ভাবছে না। বেশীর ভাগ মানুষ ব্যাপারটি অসম্ভব বলে, এদিকে ভাবতেই চায় না।
সেই মানুষটি আমার কথা খুব বিশ্বাস করলেন বলেই মনে হল।
তিনি বলেন: দেখুন বাইরে থেকে আমরা হয়তো কিছু অর্থ সাহায্য দিতে পারব। কিন্তু একটা দেশের উপযোগী উন্নয়ন কাঠামো সে দেশের মানুষদেরই খুজে বের করতে হবে। তার কথাটি আমার মনে খুব দাগ কেঁটেছে।
ব্লগিং করতে না পারলে এ কথা কোন দিন কাউকে হয়তো বলতেই পারতাম না! জয়তু ব্লগিং।
ব্লগে অনেকের ইচ্ছাটি টের পাই। তাদের সমাজতন্ত্রের পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা অসম্ভব রকম জ্ঞনগর্ব। একেকজনের এ বিষয়ে পড়ালেখা ঈর্ষা করার মত।

কিন্তু সবাই মনে করেন সমাজতন্ত্র কায়েম হলে শোষন হীন সমাজ প্রতিষ্ঠিত হলে দারিদ্রতা নিরক্ষরতা আপনা থেকেই দূর হবে। হয়তো তাদের কথা ঠিক। বড় বড় মনিষী যেমন কমরেড মনিসিং এ স্বপ্ন দেখতে দেখতে জীবনটা পার করে দিয়েছেন।
একটাই মন্ত্র সমাজ তন্ত্র, একটাই যুক্তি শোষন মুক্তি।
কিন্তু সেটা কায়েম করতে আর কত শতাব্দী অপেক্ষা করব?

ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রের প্রবক্তারাও মনে করেন সৎ মানুষের শ্বাসন আর আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠিত হলে সব অনাচার দূর হবে। তাই নিয়ে আপাততঃ সংগ্রাম চলছে। চলুক।

জনগন বা প্রান্তিক, অনেকে বলেন আম জনতা, তাদের যে কোন একটা বিষয় বুঝাতে হলে অক্ষর জ্ঞানটি অন্ততঃ খুব সুবিধা দিতে পারে। আশা করি এব্যাপারে কারো কোন দ্বিমত নেই।

এবার আসুন কি করে নিরক্ষরতা দূর করা যায় তা নিয়ে দুটো কথা বলি।

অনেকে মনে করেন! সর্বহারা অধিকার সচেতন নয়। হয়তো ক্ষেত্র বিশেষে কথাটা ঠিক। কিন্তু তারা জানে কখন অধীকার আদায়ের সংগ্রামটি করলে ফল হবে। আপাততঃ কী ভাবে টিকে থাকতে হবে , সেটা অনুধাবন করলে অবাক না হয়ে পারা যায় না। একটা রিক্সাওয়ালা ঠিক জানে কখন বেশী ভাড়া আদায় করার চেষ্টা করতে হবে এবং কখন থাপ্পরটি খেয়েও চুপচাপ কেটে পড়তে হবে।

এদের শিক্ষার আওতায় আনতে হলে;

এক: দেশে প্রতিষ্ঠিত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈশ বিভাগ চালু করতে হবে। আপাততঃ সেচ্ছাসেবক ভিত্তিতে পাঠ দান করতে হবে। শিক্ষকদের একটা প্রশিক্ষনের ব্যাস্থা করতে হবে।

দুই: সরকার যাতে এটাকে তাদের কর্মসূচীর অন্তর্ভুক্ত করে তার জন্য চাপ বা লবিং করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের লক্ষ্য হিসাবে রাজনৈতিক ইসু হিসাবে কর্মসূচীতে বিষয়টি অর্ন্তভূক্ত করার জন্য চাপ দিতে হবে।
তিন: ব্লগে অনেক ব্লগার আছেন যারা আর্থিক ব্যাপারটি হিসাব করতে পারবেন। তার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ করার চেষ্টা করতে হবে।

পরিশেষে বলব: আমি হয়তঃ দিবা স্বপ্ন দেখছি, আমার দেখায় ভুল থাকতে পারে, সে জন্যই আপনাদের মতামত পরামর্শ একান্ত জরুরী। আসুন আমরা ভাষা দিবসে, "ভাষাটি" দেশের সব মানুষের লেখার ও পড়ার সুযোগ করে দেবার চেষ্টার অঙ্গীর করি!
ধন্যবাদ সবাইকে।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:৩০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:৫১
সত্যসন্ধান বলেছেন: মানুষ কেমনে হইতে হয়.....
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:৩১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ!

৩. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৭
ভাস্কর চৌধুরী বলেছেন:
প্রতিবাদী নারী। প্রতিবাদ কখনো কখনো লেখনিতেও হয় ....। আবার মঞ্চ, বক্তিতায়ও হয়। কিন্তু সেখানে কখনো কারও বাকরুদ্ধ করা হয়। কিন্তু লেখার বাকরুদ্ধ করা কঠিন। বাকশক্তি হলে লেখাশক্তি হারিযে যায়না। লিখার কর্মশক্তি'র কাছে আছি বলে হয়তো কথাগুলো বললাম! ভাল থাকবেন.................++
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৪

লেখক বলেছেন: আমি কিন্তু প্রতিবাদে বাধা বা প্রতিবাদের উদ্দেশ্য এই পোষ্ট লেখি নাই।
সিরিয়াসলী বিশ্বাস করি, আরো অনেক মানুষকে লিখে প্রতিবাদ জানানোর সুযোগ দেয়া যায়!

৪. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:২১
নবজন্ম বলেছেন: প্রতিবাদ সে-তো ভালো, কিন্তু সে যদি হয় নারীর মুখে তাহলে -তো আরও ভালো।----------------------------------+++।
হে কমরেড তোমাকে জানাই লাল সালাম।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৬

লেখক বলেছেন: আমার ধাঁধাঁটি শুধু প্রতিবাদ হিসাবে দেখলে কষ্ট পাব। এটি একটি প্রস্তাব।

তোমাকেও লাল সালাম। বিপ্লবের ধরনটি নিয়ে কিছু বললে ভাল লাগত!

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:৫০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আলী আরাফাত শান্ত। প্রস্তাবের সম্ভাব্যতা নিয়ে কিছু বললে খুশী হতাম।

৬. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৪
আহমেদ জালাল বলেছেন: দরিদ্রতাকে দরিদ্র লোক গুলো তাদের নিয়তি মনে করে।তাদের মুখে সামান্য আহার তুলে না দিয়ে তাদেরকে কিছু বাস্তব পথ দেখাতে হবে একে মোকাবেলা করার।

আপনার পথটা কাজে লাগতে পারে যদি তাতে রাজনৈতিক সমর্থন থাকে যাতে তারা বাধ্য হয় শিক্ষা নিতে।

আমি অনেক যুক্তি দিয়েও আমার কাছের গরীব লোকগুলানরে অধিক সন্তান নেয়া থেকে বিরত রাখতে পারিনাই, যেটাকে আমি দরিদ্র হয়ার একটা অন্যতম কারন মনে করি। শুধু অধিক সন্তানের জন্য অনেক সচ্চল পরিবারও এখন নিঃস্ব প্রায়।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৮

লেখক বলেছেন: ঠিক জায়গাটা ধনেছেন। আসলে যারা অনেক সন্তান মানুষ করার আর্থিক সংগতি রাখেন, শিক্ষার আলোকে তারা বুঝেন যে বেশী সন্তান নেয়া বোকামী।
যারা আসলে সন্তানের ভরন পোষনে সত্যিই অক্ষম তাদেরই বেশী সন্তান নিতে দেখা যায়।
নিয়তিতে বিশ্বাস গভীর বলে এবং কোন আশার আলো দেখতে পাননা বলে, এভাবেই ভাগ্যকে মেনে নেন।
আপাততঃ রাজনৈতিক দল গুলোর উপর চাপ সৃষ্টি করাই মুল লক্ষ্য।

৭. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৯
সত্যদা বলেছেন: পূজিবাদে বিপ্লব সহজে কেনা যায়!
আবদে খানের আজকের চিন্তা নিশ্চয়ই শুরুতে এমন ছিল না...তাই না?

কিংবা ড. ইউনুস... তারও শুরুর স্বপ্ন পড়তে কতই না রোমাঞ্চ লাগে..

কিন্তু বাস্তবতা.....? সে ভিন্ন। যখন এদশেরে দারিদ্রকে ভিডিও করে বিদেশে দেশের ইমেজ নষ্ট করা হয় কেবল ওই এনজিও ওয়ালাদের পাজেরো আর বিলাস বাড়াতে...তখন জাতি হিসবে নুয়ে পড়ে পুরো ১৬ কোটির মাথা...

কিন্তু তাতে তারা দমে না, তাদের ফান্ড চাই। যে কোন উপায়ে হোক।

তাই গোয়াল পোড়া গরু নসদূরে মেঘ দেখলেও ভয় পায়...

তবে ভাল। বাঙালীর এই যে মন..পরোপবার, সমাজ সেবা... কল্যান মনস্কতা.... যা সাধারনত যুবক বয়সে শতকরা ৯০ জনরে থাকে তাকে কাজে লাগালে কতইনা ভাল হত।

আপনার স্বপ্ন সফল হোক।


২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪১

লেখক বলেছেন: আসুন সবাই মিলে চেষ্টা করে দেখি!
দাতা সংগঠন গুলোর কথা নতুন করে কিছু বলার নেই। বিভিন্নভাবে দান কৃত অর্থ আবার তাদের কাছেই ফিরে আসে ঘুরে ফিরে।

৮. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৪
নবজন্ম বলেছেন: বন্ধু, বিপ্লব তা যেমন-ই হোক সে সবসময়-ই বিপ্লব। যেমন-টাকার এপিট আর ওপিঠ। তবে হ্যাঁ তোমার বিপ্লবের ধরন টায় রয়েছে আধুনিকতার ছোয়া , প্রযুক্তির ব্যবহার।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৮

লেখক বলেছেন: প্রিয় নবজন্ম, আধুন প্রযুক্তি নির্ভর মিডিয়া ব্যাবহার করতে পারার সুবাদে স্বপ্নটি তোমার সাথে শেয়ার করতে পারলাম। আজকাল মিডিয়ার খুব গুরাত্ব, তাই তাকে আমরা আমাদের কাজে ব্যাবহার করি।
তোমার মন্তব্যগুলোই সে বিপ্লবের হাতিয়ার।
দেশের অনেক বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করি। অনেক সময় সফল হই, অনেক সময় হইনা।
কিন্তু এতে এর সম্ভাব্যতা নিয়ে সবাই ভাবে।
হয়তো ভাল কিছু হতে ও পারে!
তোমার সমর্থন আমার মনে আশার আলো জ্বেলেছ। ধন্যবাদ তোমাকে।

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৯

লেখক বলেছেন: ধইন্যাপাতা রাশু।

১০. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৫
আবু সালেহ বলেছেন: এত বড় পোস্ট ...পরে পড়মুনে...
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫০

লেখক বলেছেন: ঠিক আছে।

১১. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৭
লাজুকবোকা বলেছেন: আমি বোকাসোকা মানুষ, এত কঠিন কথা বুঝিনা। স্বপ্ল বুদ্ধিতে মনে হল প্রস্তাবটা ভালই, যদিও বাস্তবায়নটা খুব কঠিন।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫১

লেখক বলেছেন: বাস্তবায়নটাই তো কঠিন। আসুন সবাই মিলে চেষ্টা করে দেখ!
সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

১২. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৫
রামন বলেছেন: আমাদের এই দারিদ্রতার পেছনে মূল করণ হচ্ছে দ্রুত ধনী হবার জন্য জেগে জেগে স্বপ্ন দেখার প্রবনতা।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৭

লেখক বলেছেন: একে বারে ফেলে দেবার মত নয়, আপনার কথা!
বাস্তব সম্মত কোন চিন্তা ভাবনা থাকলে জানানোর অনুরোধ থাকল!

১৩. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:১৯
মুকুল বলেছেন: দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে বরাদ্দ আরো বাড়াতে হবে। এখন জিডিপি'র সম্ভবত ২.৩% (সঠিক অংকটা মনে পড়ছে না) শিক্ষাক্ষেত্রে বরাদ্দ আছে। এটাকে ১৫% উপরে নিতে হবে।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:২৫

লেখক বলেছেন: মুকুল, এর কাছাকাছিই হবে কোথাও আমি শুনেছি ২.৬।
তাও আবার তার সঠিক ব্যাবহার হয়না।
অর্থটা আসলে একটা ছুতো, ইচ্ছে নেই, সেটাই বাস্তব।
একদিনে নিশ্চই বাংলাদেশের সকল মানুষকে অক্ষর দান সম্ভব নয়। কিন্তু আজকে পর্যন্ত কোন রাজনৈনিক দল কমপ্ষে বাধ্যমূলক প্রথমিক শিক্ষা নিয়েও কোন পরিষবকার ঘোষনা দেয়নি।

১৪. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৩১
মুকুল বলেছেন: আমি মনে করি আমাদের দেশে সরকার দুটো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করা উচিৎ। প্রথমত শিক্ষা এবং দ্বিতীয়ত স্বাস্থ্য সেবা। এ দুই ক্ষেত্রে অবশ্যই সবার সমান সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এ দুটো বানিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে গরীব মানুষকে আরো প্রান্তিক অবস্থানের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এমনকি মধ্যবিত্তের জন্যেও টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে গেছে।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৩৩

লেখক বলেছেন: মুকুল সহমত।

১৫. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:২৭
ফজল বলেছেন: ভালো লাগলো আপনার এ চিন্তাগুলো।

এক কথায় আমরা কোন দিক থেকেই এককভাবে সফল নই; কেবল পনরকোটি জনগণ টেনে হিচড়ে নিয়ে চলছে সোনার বাংলাদেশটিকে। মাঝখানে গুটিকতক ব্যতীত অধিকাংশ স্বার্থান্বেষীরা লুটেপুটে খাচ্ছে দান-অনুদান-উন্নয়নকে।
২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:০৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৬. ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:২১
আদৃতা আবৃত্তি বলেছেন: আপনার ব্লগে আমন্ত্রণ পেয়ে ভাল লাগলো। তবে এর আগেও আমি দু'একবার আপনার ব্লগ ভিজিট করেছি এবং ভাল লেগেছে।

দারিদ্র্য বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত অবস্থান হচ্ছে এটি কাঠামোগত সমস্যা। সুতরাং শ্রেণী বৈষম্যমূলক এ কাঠামোটি ভাংতে না পারলে দারিদ্র্য দূর হবে না। এ যেমন প্রতিদিন অসংখ্যা মানুষ না খেয়ে আছে, তার মানে এ নয় যে বাজারে খাবারের অভাব রয়েছে। তাতো না। অভাব যেটি তা হলো মানুষের ক্রয় ক্ষমতার। সমস্যাটা বন্টন ব্যবস্থার। বাংলাদেশে যে পরিমাণ খাসজমি আর জলমহাল আছে তার ও যদি সুষ্ঠু বন্টন নিশ্চিত করা যায় তবে আমরা দারিদ্র্যে বিমোচন আন্দোলনে একটা বড় ধাপ অগ্রসর হতে পারি। কিন্তু তার জন্য মেরুদন্ড সম্পন্ন যে রাজনৈতিক শক্তি দরকার তা আমরা কখনও পাইনি। বরং খাসজমি দখলদার সরকার আমরা সব সময় দেখেছি। আমাদের দারিদ্র্যের সাথে সুশাসন না থাকারও একটি বড় সম্পর্ক রয়েছে। একজন দরিদ্র মানুষ যদি কখনও থানায় যায় তবে তার সারাজীবনের সঞ্চয় খরচ করে আসতে হয়। এ ভাবে তার দরিদ্র অবস্থা তীব্রতর হয়। আমাদের সমাজে নারীর বিরুদ্ধে এবং নারী সম্পর্কিত যে প্রবল মূল্যবোধগুলো রয়েছে তা নারীকে সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে বড় বাধা। আর সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে মূল অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের বাইরে রেখে কীভাবে আমরা দারিদ্র বিমোচনের স্বপ্ন দেখতে পারি! আর এ সব প্রশ্নের উত্তর ও সমাধান খুজতে হবে রাজনৈতিকভাবে। আর এ জন্যই দরকার রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সমাজরূপান্তরে নিবেদিত শক্তিশালী রাজনৈতিক মতাদর্শ।
আপনাকে আবারও ধন্যবাদ
২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:৪০

লেখক বলেছেন: "সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে মূল অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের বাইরে রেখে কীভাবে আমরা দারিদ্র বিমোচনের স্বপ্ন দেখতে পারি! আর এ সব প্রশ্নের উত্তর ও সমাধান খুজতে হবে রাজনৈতিকভাবে। আর এ জন্যই দরকার রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সমাজরূপান্তরে নিবেদিত শক্তিশালী রাজনৈতিক মতাদর্শ।"
আপনার পুরো মন্তব্যটির সাথে একমত। কোড করা অংশটি কেবল আলোচনার সুবিদার্থে উল্লেখ করলাম।
শক্তিশালী রাজনৈতিক মতার্দশ তো এমনি তৈরী হয়না। সেটা তৈরী করার একটা প্রয়াস হিসাবে আমরা আমাদের ইচ্ছাগুলো দাবী হিসাবে রাজনৈতীক ফোরাম গুলুতে ঊথাপন করতে পারি। আগে একটা মিনিমাম লক্ষ্য স্থির করে (যেমন: যেহেতু আমরা জানি যে কোন উন্নয়নের প্রধান বাধা নিরক্ষরতা) এখানে নিরক্ষরতা দূরিকরণ। তার সাথে নিশ্চই আরো অনেক কিছু যোগ হতে পারে। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির দল গুলোকে আমাদের কিছু প্রস্তাব গ্রহন করতে চাপ প্রয়োগ কারা, এভাবেই এগুতে চাইলে আমরা কিছুটা সফলতার আশা করতে পারি।
একদিন একটি সমাজরূপান্তরে নিবেদিত শক্তিশালী রাজনৈতিক মতাদর্শ তো আপনা থেকে গঢ়ে উঠবে বলে আমার মনে হয় না!
তার জন্যও বিপ্লব লাগে!
আপনার সুচিন্তিতি মতামত খুব বাল লাগল। সময় নিযে পোষ্টটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

১৭. ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:০৫
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: আপনার চমৎকার ভাবনাগুলোকে অভিনন্দন ... তবে একটু খটকা লেগেছে এক জায়গায়

বলেছেন "দেশে প্রতিষ্ঠিত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈশ বিভাগ চালু করতে হবে। আপাততঃ সেচ্ছাসেবক ভিত্তিতে পাঠ দান করতে হবে।" --- এটা বুঝলামনা ...
দেশের সরকারী বিদ্যালয়গুলো তো বিনা পয়সায় পড়ায় বলেই জানি... বা যে সামান্য বেতন নেয় ()মাসে দশ-বিশ টাকা) সেটা বহন করার সামর্থ্য এখন রিক্সাওয়ালা বা কাজের বুয়াদের আছে ...
তাও বাচ্চাদের আলাদাভাবে পড়ানোর (নাইটক্লাস) কথা ভাবছেন কেন? ... বেতনভোগী শিক্ষক না হয়ে স্বেচ্ছাসেবী দিয়ে করাবেন কেন? ... দেয়ালটা কি থাকতেই হবে? ...

আর আমার মনে হয়না আমাদের দেশে ধনী-গরীব যে বৈষম্য তার জন্য সমাজতন্ত্রের অনুপস্থিতি দায়ী ... কারণ দেখা গেছে গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেই বরং এই ব্যবধানটা কম ... মনে হয়না সমস্যাটা ওখানে

আপনি দেখুন, এখনও আমাদের দেশে "মিনিমাম ওয়েজ" বলে একটা ব্যাপার নেই ... এইটা একটা রাষ্ট্রের বেসিক জিনিস ... এটা ছাড়া নাগরিকের অর্থনৈতিক নিশ্চয়তার শুরুই হয়না ... আমাদের অনেক বেসিক জায়গায় এখনও কোন কাজই হয়নি ... যাচ্ছেতাই সিস্টেম
১৮. ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:৪২
পুতুল বলেছেন: ১)বলেছেন "দেশে প্রতিষ্ঠিত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈশ বিভাগ চালু করতে হবে। আপাততঃ সেচ্ছাসেবক ভিত্তিতে পাঠ দান করতে হবে।" --- এটা বুঝলামনা ...


২)দেশের সরকারী বিদ্যালয়গুলো তো বিনা পয়সায় পড়ায় বলেই জানি... বা যে সামান্য বেতন নেয় ()মাসে দশ-বিশ টাকা) সেটা বহন করার সামর্থ্য এখন রিক্সাওয়ালা বা কাজের বুয়াদের আছে ...
তাও বাচ্চাদের আলাদাভাবে পড়ানোর (নাইটক্লাস) কথা ভাবছেন কেন?

৩) ... বেতনভোগী শিক্ষক না হয়ে স্বেচ্ছাসেবী দিয়ে করাবেন কেন? ... দেয়ালটা কি থাকতেই হবে? ...

আলোচনার সুবিদার্থে আপনার প্রশ্ন গুলো নাম্বার দিয়ে নিলাম। এখন জবাব দেয়ার চেষ্টা করছি!

১) নৈশ বিভাগ চালু করতে পারলে, নতুন কোন ইনফাস্ট্রকচার যেমন স্কুল ঘর, ছাড়াই পাঠ দান সম্ভব।
সেচ্ছাসেবক ভিত্তিতে বলছি যাতে; সরকার বা রাজনৈতীক দল গুলো অতিরিক্ত খরচের ধুয়া না তুলতে পারে!

২) যাতে: যে সব শিশু শ্রমিক আছে, তারা যেন সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়। অনেক শিশুর দিনের বেলায় কাজ করতে হয়। বয়স্ক শিক্ষা অন্তর্ভূক্ত করার চিন্তা এর সাথে যুক্ত আছে।

৩) প্রথম প্রশ্নের মত তার জবাব, দেয়ালটা রাখতে চাই? কোন অবস্থাতেই না। কিন্তু দেয়ালটা আছে, তাকে ভাংতে হলে অক্ষর জ্ঞান অপরিহর্য্য। তা প্রথমিক ভাবে আপনার আমার মত লোকেরাই শুরু করতে হবে! সেচ্ছাসেবক ভিত্তিতে।

এতো গেল আমার ভাবনা।
আমি আসলে আপনাদের কাছ থেকেই এর অনেক গুলো সমাথধান আশা করি।

আপনার প্রশ্ন গুলো আমার অবস্থানটা পরিস্কার করতে খুব সহায়ক ছিল।

ধন্যবাদ দিতে হবে?
১৯. ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:৪১
দস্যু বনহুর বলেছেন: পইড়া আমার দুইখান দাঁত ভাইঙগা গেল। তাও +
২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:০৬

লেখক বলেছেন: দস্যু ভাই, ধন্যবাদ।

২০. ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:৫৪
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: বুঝলাম ... এখন হয়ত প্রয়োজন ... ধন্যবাদ ...

এটা একটা খুবই ভালো টপিক ... দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আমরা কি কি করতে পারি ...

ইনফ্যাক্ট পুতুল, আরো এ্যালার্মিং হলো শিক্ষার মান ... জাপানের প্রাইমারী স্কুলগুলোতে আমি বেশ কয়েকবার গিয়েছি ... যাই আর মুগ্ধ হই ... ভাবি, আমাদের বাচ্চারা এভাবে বড় হতে পারবে কখনও?

২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:০৮

লেখক বলেছেন: হয়ত পারবে, হয়তো পারবে না, কখনো!
চেষ্টাতো করে দেখতে পারি!

২১. ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:৫৭
মুনীর উদ্দীন শামীম বলেছেন: আমাদের দারিদ্র রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্ট। এর একটি ঐতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিতও আছে। বরং দারিদ্র্যের ইতিহাসটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। এর আছে স্থানিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিত। যেমন আমাদের কৃষি অর্থনীতির কথাই বলি। এখানে কৃষি এখনও কৃষকের জন্য শুধু মাত্র অস্তিত্ব রক্ষার পেশা। বিকল্প নেই বলে সে কৃষিতে পড়ে আছে। অথব এ কৃষিকে বেগবান করার জন্য যে সরকারি সহযোগিতা দরকার তা নেই। সরকার উদ্যোগ নিতে চাইলেই বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফ উঠে পড়ে লাগে। বলে কৃষিতে ভূর্তিকী দেয়া যাবে না। বিশ্বব্যাংকের খবরদারির বাইরে মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াবার মতো সরকার প্রধান আমরা দেখতে পেলাম না এখন পর্যন্ত।
আপনি শিক্ষার কথা বলেছেন। এটি খু্বই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াই করবার জন্য। আবার আমাদের যে বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠী নিরক্ষর রয়েছে, শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত রয়েছে তা আমার কাছে দারিদ্র্যের ফলাফল মনে হয়। কারণ শিক্ষার সাথে সংযুক্ত হওয়ার জন্য যে অর্থনৈতিক ক্ষমতা দরকার তা নেই বলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকার সব সময় বলে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট রেখেছে। কিন্তু সেখানে থাকে শুভকংরের ফাঁকি। সামরিক শিক্ষাটাকেও এর আওতাভুক্ত করে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট দেখানের মধ্যে রাজনৈতিক অসততা আছে। আমরা বিগত বছর গুলোতে সে অসততাই দেখে যাচ্ছি। অন্যদিকে ক্রমাগত বেড়ে উঠছে শিক্ষা বাণিজ্য। এ শিক্ষা বাণিজ্য যেভাবে প্রসারিত হচ্ছে তাতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়েও একজন শিক্ষার্থী বা তার পরিবারের জন্য দারিদ্রমুক্ত হওয়ার সম্ভবনা ক্ষীণ হয়ে আসবে। কারণ মুক্তবাজার অর্থনীতিতে শিক্ষার যে গুনগত মান পরিবর্তন এসেছে তা পূরণ করতে পারবে না আমাদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা বাণিজ্য প্রসারের স্বার্থে নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে।

আপনার লেখাটি ভাল লেগেছে। অ-নে-ক ধন্যবাদ
২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:২৬

লেখক বলেছেন: "আপনি শিক্ষার কথা বলেছেন। এটি খু্বই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াই করবার জন্য। আবার আমাদের যে বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠী নিরক্ষর রয়েছে, শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত রয়েছে তা আমার কাছে দারিদ্র্যের ফলাফল মনে হয়। কারণ শিক্ষার সাথে সংযুক্ত হওয়ার জন্য যে অর্থনৈতিক ক্ষমতা দরকার তা নেই বলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।"

আপনার সব বক্তব্যের সাথেই একমত পোষন করছি। কোড করা অংশটুকু হল; দুষ্ট চক্রের মত। হয়তঃ এর হাত থেকে আমাদের মুক্তি খুবই কঠিন। কিন্তু অসম্ভব ভাবতে পারি না। দারিদ্রতা বিমোচন করে, সব মানুষকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে পারলে খুব খুশী হতাম। কিন্তু সেটা আপাততঃ অসম্ভব বলে: অন্ততঃ একটা জায়গায় শুরু করতে হবে মনে করি।

"সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা বাণিজ্য প্রসারের স্বার্থে নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে।"

আজকাল গ্রামেও প্রাইমারী স্কুল গুলোর পাশেই ব্যাংগের ছাতার মত কেজি স্কুল গুলো গজিয়ে উঠছে!
একটু সংগতি সম্পন্ন হলেই মানুষ ছেলে মেয়ে ঐ কেজিতে পাঠায়। নামে মাত্র বেতনে শিক্ষক নিয়োগ করে। আর শিক্ষকরা মুল আয় প্রাইভেট পড়িয়ে করে।
এর কুফল থেকে আমাদের কী পরিত্রান নেই?

২২. ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৩১
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
লেখক বলেছেন: "দারিদ্রতা জাদুঘরে সংরক্ষিত হবে।" সম্ভবতঃ ডঃ ইউনুস ঘোষনাটি দেন।

ড. ইউনুসের নোবেল পুরস্কারটি ছিল বিশ্ব পুজিপতিদের পুজিবিনিয়োগের ট্রেড লাইসেন্স। কারণ বিশ্ব পুজিপতিরা তাদের অর্থ ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চেয়েছিল বিশ্বজোড়া একটি প্রচার, তায় তারা ড. ইউনুসকে নোবেল পুরস্কার দিয়ে আজ তারা সার্থক। এখানে নোবেল পুরস্কার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানটি হচ্ছে একটি এড ফার্ম আর ড.ইউনুস হচ্ছে একজন মডেল মাত্র। এ সত্য ড. ইউনুসের তৎকালীন আচরনেই প্রমান করেছিল। কারণ দেশ তখন চরম ক্রান্তিকালের মধ্যে অতিক্রম করছিল আর উনি বিশ্ব ভ্রমনে বেড়িয়েছিলেন তার নোবেল পুরস্কারে প্রচারণায়। অতএব ঐ ব্যক্তির প্রদত্ত প্রকল্পের দ্বারা দারিদ্রতা জাদুঘরে সংরক্ষন তো দূরের কথা দারিদ্রতা আরও সম্প্রসারন ঘটবে এটায় স্বাভাবিক। কারণ তার প্রকল্পের সুদের হার হচ্ছে ২৮%-৩৬%। যে দেশে সাধারণ কৃষক ১১% সুদে কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহন করে সে ঋণের বোঝা তার সন্তান থেকে নাতিপুতির ঘাড়ে পর্যন্ত রেখে যায়, সেই দেশে ২৮%-৩৬% সুদে অর্থ গ্রহন করে কি উন্নয়ন ঘটাতে পারে তা একমাত্র অর্থনীতি যারা বুঝেনা অথবা অর্থনীতি নিয়ে যারা দালালী করে তাদেরকেই বোঝানো সম্ভব। দারীদ্রতা দূরীকরনের সঙগা যদি সুদি মহাজনী ব্যবসা হয়ে থাকে তাহলে বলার কিছু নেই।


লেখক বলেছেন: একজন অথর্নীতি বিদ বললেন: দেখুন আপনি সে দেশের মানুষ, আপনার কী মনে হয়? দারিদ্রতার কারণ অনেক আছে। আমরা দূরথেকে অভাব দেখে, তা মোচনে অনেক সময় মোটা অংকের টাকা সাহায্য দেই। কিন্তু পরের বছর আবার সেই, অভাব।

যারা ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহন করে তারা কারা। যাদের পরিবারে সচ্ছলতা নেই তারা তাদের পরিবারে সচ্ছলতা আনয়নের জন্যে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করে থাকে। কিন্তু ক্ষুদ্র ঋণদাতারা এক ব্যক্তিকে এক নামে সর্ব্বোচ্চ ৫০০০/- টাকা পর্যন্ত ঋন দান করেন। ফলে ঘটনা ঘটছে কি? ঋণ গ্রহিতা ঋণ গ্রহনের পরে সে তার নুন্যতম চাহিদা যেমন দুই তিন মাসের খাদ্য, কিছু কাপড় চোপড়, কিছু সংসারের প্রয়োজনের জিনিস পত্র ক্রয় করে, এতে সে যে কাজের জন্য ঋণ গ্রহন করেছিল তা কারর আর অর্থ থাকে না। ফলে গ্রহিত ঋনের অর্থ দিয়ে উপার্জন করে সে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা হয় না ঋণ গ্রহিতার। এতে করে বছর শেষে আবার প্রয়োজন পরে নুতন করে অর্থের। ফলে একবার যে এ ঋণ গ্রহন করে থাকেন সে তার জীবদ্দশায় তো দুরের কথা তার প্রজন্মের জন্যেও তাকে দাসত্বের ক্ষৎ রেখে যেতে হয়। দাস প্রথায় ক্রীতদাসরা তাদের শারীরিক পরিশ্রম দান করে তাদের প্রভূর কাছ থেকে দু'বেলা খাবার পেতেন জীবন ধারনের জন্য, কিন্তু ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহন করে কত পরিবার এখন এসব সুদে মহাজনদের কাছে তাদের বংশ পরমপরায়কে দাসত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে রাখছেন তার ইয়ত্তা নেই। যাদের পরিনাম আত্ম হত্যা করা ছাড়া আর কিছুই না।


লেখক বলেছেন: এবার আসুন কি করে নিরক্ষরতা দূর করা যায় তা নিয়ে দুটো কথা বলি।

যদি এখানে এই উদ্দেশ্যে বলা হয়ে থাকে যে, নিরক্ষরতা সমাজ পরিবর্তনের অন্তরায় তাহলে আমি এতে দ্বিমত প্রকাশ করবো। কারণ নিরক্ষতা আর সচেতনতা এক জিনিস নয়। সকল নিরক্ষর ব্যক্তি অসচেতন যেমন সত্য নয়, ঠিক তেমনি সকল অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিও সচেতন নয়। বাংলাদেশেরই কথা বলি, আপনি গ্রামে ভ্রমন করেছেন কিনা বা গ্রামের সহজ সরল নিরক্ষর ব্যক্তিদের সাথে মেলামেশা করেছেন কিনা আমি জনি না। তবে আমাকে মাঝে মাঝে গ্রামে যেতে হয়। আমি দেখেছি বহু নিরক্ষর ব্যক্তিকে, তারা এত সহজ সরল যা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। আবার তারা যে একেবারই অসচেতন তা নয়। তারা জানে কিভাবে জমি চাষ করতে হয়, কিভাবে ফসল আবাদ করতে হয়, সবকিছুই। অতএব নিরক্ষর হওয়াটা তাদের অপরাধ তা নয়। বরং অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন অসচেতন ব্যক্তিই সমাজের জন্যে প্রধান ক্ষতিকারক। যেমন আমাদের দেশের বর্তমান রাজনৈতিক দলের নেতারা। কারণ তারা কথায় কথায় জাতির উন্নয়ন, দেশের উন্নয়নের কথা বলে, অথচ উন্নয়ন সম্পর্কে তারা কতটুকু সচেতন তাতে আমার সন্দেহ আছে।

সমাজ পরিবর্তনের নেতৃত্বের জন্য সমাজের সকল মানুষের অংশ গ্রহনের প্রয়োজন তা ঠিক নয়। নেতৃত্বের সঙগায় তা বলে না। একটি সমাজকে উন্নতি করতে হলে সচেতন কিছু ব্যক্তির প্রয়োজন হয়, যারা নেতৃত্ব দেবে সমাজের সকল মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে গড়ে তুলতে। যেন তারা তাদের অধিকার তেকে বঞ্চিত না হয় কখনো। সেক্ষেত্রে নিরক্ষর ব্যক্তিও হতে পারে আবার অক্ষর জ্ঞন সম্পন্ন ব্যক্তিও হতে পারে।

তবে যদি এটা ভাবা হয় যে, মানুষকে আগে অক্ষর জ্ঞান দান করে সচেতন করে তোলা হবে তারপর সামাজিক আন্দোলন হবে তাহলে সামাজিক পরিবর্তনের আন্দোলন আখেরাতের আগে হবে কিনা আমার তাতে সন্দেহ আছে।
২৩. ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:৫১
পুতুল বলেছেন: "নিরক্ষর হওয়াটা তাদের অপরাধ তা নয়।"
" বরং অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন অসচেতন ব্যক্তিই সমাজের জন্যে প্রধান ক্ষতিকারক। যেমন আমাদের দেশের বর্তমান রাজনৈতিক দলের নেতারা। কারণ তারা কথায় কথায় জাতির উন্নয়ন, দেশের উন্নয়নের কথা বলে, অথচ উন্নয়ন সম্পর্কে তারা কতটুকু সচেতন তাতে আমার সন্দেহ আছে।"

স্বা.তু; আমি মনে করি তথাকথিত রাজনীতিবিদদের অপরাধ যে: গ্রামের এই সরলমতি মানুষগুলো শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। আমি মনে হয় নিরক্ষর মানুষগুলোকে এর জন্য কোথাও দায়ী করিনি। বরং কি ভাবে বেঁচে থাকতে হয় তা তারা আমাদের চাইতে ভাল জানে। সেটাই বলেছি।
এমন মানুষ দেখেছি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই বলে, নিজের প্রয়োজনে কিছু চিন্হ আবিষ্কার করে, প্রয়োজনীয় বিষয় গুলো নোট করে রাখে। আমার কাছে তাদেরকে আমার চেয়ে জ্ঞানী এবং বুদ্ধিমান মনে হয়! শ্রদ্ধায় মাথানত হয়। আর লজ্জিত হ্ই! এই মানুষগুলোকে আমরা অক্ষর জ্ঞানের আওতায় নিতে পারছিনা!

"সমাজ পরিবর্তনের নেতৃত্বের জন্য সমাজের সকল মানুষের অংশ গ্রহনের প্রয়োজন তা ঠিক নয়। নেতৃত্বের সঙগায় তা বলে না। একটি সমাজকে উন্নতি করতে হলে সচেতন কিছু ব্যক্তির প্রয়োজন হয়, যারা নেতৃত্ব দেবে সমাজের সকল মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে গড়ে তুলতে। যেন তারা তাদের অধিকার তেকে বঞ্চিত না হয় কখনো। সেক্ষেত্রে নিরক্ষর ব্যক্তিও হতে পারে আবার অক্ষর জ্ঞন সম্পন্ন ব্যক্তিও হতে পারে।"

মানুষকে শিক্ষার আওতায় আনার চেষ্টাওকি একটা সমাজ পরিবর্তনের ভেতর পরে না? একটা উন্নত সমাজ ব্যাবস্থার বেশীর ভাগ মানুষই শিক্ষিত।
নেতৃত্বের ব্যাপারে একমত্। কারণ: ভাল কিছু করতে গেলে ইচ্ছাটা থাকতে হয়। শিক্ষাটা সহায়ক হয় বটে, কিন্তু সর্ত নয়।

দেখুন একটা সমাজ একদিনে পরিবর্তণ হয়না। সেটা জে রকমের পরিবর্তণের কথাই বলাহোক। সমাজ পরিবর্তণের চেষ্টা অনেকে অনেক ভাবে করেগেছেন, করছেন। আমার মত ক্ষুদ্র মানুষ সে ব্যাপারে কী করতে পারব! আপাততঃ যদি আমাদের দেশের সব শিশু পঠন পাঠনের সুযোগ পেত! তাতেই খুব খুশী হতাম।
শিক্ষাকে সমাজ বদলের শর্ত হিসাবে দেখছিনা। কিন্তু একটা সমাজ বদলের সহায়ক ভাবতে ভাল লাগে।

আপনার বাদবাকী কথার সাথে একমত।

২৪. ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৮
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
আপনার শিরনাম ছিল "পুঁজিবাদের থাবা,সমাজতন্ত্রের বাঁধা আর ভাষা দিবসে পুতুলের ধাঁধাঁ!"। আমি সেই উদ্দেশ্যেই সমাজ পরিবর্তনের প্রসংগ টেনে এনেছিলাম।

হাঁ, নিরক্ষরকে অক্ষর দান সমাজ উন্নয়নের একটা অংশ, তবে সামাজিক বিপ্লবের পাশাপাশিও সেটা করা যায়। তবে এটা না পূরণ হলে বিপ্লবের দিকে আগানো যাবে, তাহলে বিপ্লব কোন দিনই আসবে না। এসব বিষয়ে কার্যক্রমের জন্য এন জি ও ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গুলোই যথেষ্ট, আর আমি একজন এন জি ও কর্মী হতে কখনই পছন্দ করবো না। তবে পরামর্শ চাইলে দিতে পারি।
২৫. ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৫
পুতুল বলেছেন: হাঁ, নিরক্ষরকে অক্ষর দান সমাজ উন্নয়নের একটা অংশ, তবে সামাজিক বিপ্লবের পাশাপাশিও সেটা করা যায়।

আমি নিজেও তাই মনে করি।

এনজিও ভিত্তিক নয়। সামাজিক বিপ্লবের পাশাপাশি করা যায়, এমন কোন পরামর্শ দিলে খুশী হব। আমার আলোচনার মূল উদ্দেশ্যও এটাই। যদিও আমি পরিস্কার করে তা বলে পারিনি।
২৬. ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৩
নিপা বলেছেন:

চিনতে পারলেন দাদা?
২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৬

লেখক বলেছেন: খুব ভাল করেই চিনলাম। অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

২৭. ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৩
প্রণব আচার্য্য বলেছেন: কিন্তু সেটা কায়েম করতে আর কত শতাব্দী অপেক্ষা করব?...

হাতপা গুটিয়ে অপেক্ষা করলে সমাজতন্ত্র কোনদিনই আসবে না; যার যার অবস্থানে থেকে আমাদের সকলকে শোষক আর শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। তবেই সমাজতন্ত্র আসবে, না হলে নয়।


আপনার পোষ্টটি ভালো লাগলো;
০১ লা মার্চ, ২০০৮ রাত ৩:২০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ প্রণব আচার্য।

২৮. ০২ রা মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৭
দিনমজুর বলেছেন:
পুতুল,

আসলে আমি সা.ইনে এখন নিয়মিত লগ ইনও করিনা (ধীরে ধীরে সা.ইন কে বিদায় জানাচ্ছি), ফলে আপনার এই পোস্ট চোখে পড়েনি আগে। হাতেগোনা যে কটি পোস্টের জন্য আমার লগ ইন করতে হলো আজ- তার মধ্যে এটিও অন্যতম। কেননা, আপনার পোস্ট পড়ে আমার কিছু কথা বলা দরকার মনে হচ্ছেঃ

প্রথমত, আপনার আলোচনার ধরণটিতে মনে হয়েছে আপনি বলতে চেয়েছেন- সমাজতন্ত্রীরা শুধু সমাজতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করে, এবং মনে করে সমাজতন্ত্র কায়েম না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষাসহ অন্যান্য নাগরিক অধিকার কায়েম হওয়া সম্ভব নয়- বিধায় তারা এই পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার মধ্যে যেসব সমস্যা-সংকট থাকে সেসব নিয়ে নিশ্চুপ থাকে। ফলে- আপনার প্রশ্ন :
"একটাই মন্ত্র সমাজ তন্ত্র, একটাই যুক্তি শোষন মুক্তি।
কিন্তু সেটা কায়েম করতে আর কত শতাব্দী অপেক্ষা করব?"

আমার মনে হয়েছে- এখানে একটু বুঝার ভুল হয়ে গেলো। সমাজতন্ত্রীরা সমাজ পাল্টানোর কথা বলে বা স্বপ্ন দেখে এই কারণেই যে, বর্তমানের পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক কাঠামো- মানুষের মৌলিক-নাগরিক অধিকারগুলোর নিশ্চয়তা দিতে পারেনা।
সুতরাং, যখন মানুষের অধিকারগুলোকে যখন কেড়ে নেয়া হয়, তখনই সমাজতন্ত্রীরা গর্জে ওঠে, গণমানুষকে সংগঠিত করে লড়াই-সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়- যখন যেখানে যে মাত্রায় পারা যায়। এই লড়াই সংগ্রামের সাথে সাথে- তারা এ জনমতও তৈরি করার চেস্টা করে যে, এই আজকের যে- আমাদের বিভিন্ন অধিকার আদায়ের লড়াই- এটির মূলে কিন্তু এই পুঁজিবাদী সমাজ-কাঠামো, ফলে গণমানুষের সমস্ত অধিকার আদায়ের জন্য সমাজব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের কোন বিকল্প নেই।

সুতরাং, এটি ভাবার কোন স্কোপই নেই যে, সমাজতন্ত্রীরা পুঁজিবাদী সমাজকাঠামোতে বিভিন্ন নাগরিক অধিকার নিয়ে কথা বলে না।

কিছু উদাহরণ দেই- আপনার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েই বলি। আমাদের এখানে প্রকৃত শিক্ষা আন্দোলন নিয়ে যদি বলতেই হয়- তবে বাপন্থীদের ভূমিকাই সবার আগে স্বীকার করতে হবে। আপনি সেই পাকিস্তান আমলের শরীফ কমিশন, হামদুর রহমান শিক্ষা কমিশন যখন জনমানুষের শিক্ষার অধিকার কেড়ে নিয়ে রিপোর্ট পেশ করলো- তখন বামপন্থীরাই তার বিরুদ্ধে শিক্ষা আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, একই ভাবে এরশাদের আমলে মজিদ খান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে এই বামপন্থীরাই সর্বাগ্রে আন্দোলনে নামে- ১৯৮৩ সালের মধ্য ফেব্রুয়ারি (১৪ ও ১৫)তে বুকের রক্ত দিয়ে সেই কমিশনকে ঠেকিয়ে দেয়। স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনে যে দশদফা আমরা পাই- সেটির পেছনেও বামপন্থীদের ভূমিকা আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না। সেসময় মধুর কেন্টিনে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের ঐতিহাসিক দশ দফা প্রণয়ন করার গল্পটি শুনলেই বুঝতে পারবেন। পাশাপাশি টেবিলে একটি ছাত্রদল, অন্যটি ছাত্রলীগ আরেকটিতে বাম ছাত্রসংগঠন গুলো (এখনও ঢা.বির সেআমলের যেকোন ছাত্রনেতা ফারুক ভাইয়ের নাম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন!!), ছাত্র ইউনিয়ন- ছাত্র ফ্রন্ট- মৈত্রী দের টেবিল থেকেই রচিত হয় সেই দশ দফা।

এবং দেখেন- এরশাদের পতনের পর- ঠিকই খালেদা জিয়া দশ দফার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে- এবং যে হাসিনা- খালেদা আমলে ঘোষণা দেন (অসংখ্য ঘোষণার মত) ক্ষমতায় গেলে দশ দফার আলোকে শিক্ষা নীতি প্রণয়ন করবেন- সেই হাসিনা ক্ষমতায় গিয়ে ঠিকই দশদফা ভুলে বসেন- ভুলে খুদা কমিশনের আলোকে শিক্ষা কমিশন করার ঘোষণা দেন।

এই গণতান্ত্রিক বুর্জোয়াদের তৈরি মনিরুজ্জামান বা শামসুল হকের শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধেও লড়াইটি করে বামপন্থীরা।

এখন, বামপন্থীরা বলে ঠিকই যে, সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত এই বুর্জোয়া সরকারগুলো কখনই সমস্ত মানুষের শিক্ষার অধিকার দিবে না, সমস্ত মৌলিক- নাগরিক অধিকার এ ব্যবস্থায় পাওয়া সম্ভব নয়; কিন্তু শুধু এটুকু বলেই তারা চুপ করে যায় না- সবকটি গণতান্ত্রিক-নাগরিক অধিকার নিয়ে ক্রমাগত কথা বলে যায়- লড়াই সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়।

এভাবেই এই বামপন্থীদের লড়াই সংগ্রামের কারণেই আজও আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে- কলেজগুলোতে আমরা এত কম খরচে শিক্ষার্জনের সুযোগ পাচ্ছি। তারা সমাজতান্ত্রিক সাজব্যবস্থার জন্য অপেক্ষা না করেই- দাবি তুলেছে সবার জন্য শিক্ষা চাই, শিক্ষার আর্থিক দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে... প্রভৃতি।


দ্বিতীয়ত, আপনার প্রস্তাবসূহের দিকে দৃষ্টি দেয়া যাক.......
২৯. ০২ রা মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩০
অনিশ্চিত বলেছেন: আপনার লেখাটি সময়ের অভাবে ভালো করে পড়তে পারলাম না। কিন্তু পড়ে মন্তব্য করার মতো উপাদান আছে। পরে মন্তব্য করবো। আপাতত শোকেসে তুলে রাখলাম।

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর আমি একটি ধারাবাহিক লেখা দিচ্ছি। সময় পেলে পড়ে মন্তব্য করলে উপকৃত হই।
০৩ রা মার্চ, ২০০৮ ভোর ৪:৩১

লেখক বলেছেন: আপনার প্রথম কিস্তি পড়েছি। মন্তব্য সহ। আলোচনার সূচনা না করলে অনেক কিছুই জানতে পারতাম না। আরো কয়েকটা পর্ব আসুক। আমার ধারনা জানাব।
আপনাকে ধন্যবাদ।

৩০. ০২ রা মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫২
দিনমজুর বলেছেন:
আপনার আলোচনা মূলত শুরু হয়েছে আমদের দেশের দারিদ্র্য নিয়ে- তার একটি কারণ হিসাবে আপনি বলেছেন শিক্ষার অভাব(নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদের কথাটি অহেতুক- সেটি নিয়ে কথা বলাটাও তাই অপ্রয়োজনীয় মনে হলো)। দারিদ্র্যের মূল কারণটি আদৃতা আবৃতি সংক্ষেপে চমৎকার বলেছেন- তার সাথে একমত।

এরপরে নিরক্ষরতা দূরীকরণে আপনি যেটি আপনি বলেছেন- সে সম্পর্কে কিছু বলিঃ

আপনার প্রস্তাব সম্ভবত মূলত বয়স্ক-দরিদ্র নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে সাক্ষর করার উদ্দেশ্যে।

নৈশ শিক্ষার প্রস্তাব ও স্বেচ্ছাসেবার কথা প্রথমে আনায় কিছুটা ভুল বুঝার সম্ভাবনা তৈরি হয়। কেননা, রাষ্ট্রের যেকোন নাগরিকের শিক্ষার দায়িত্বটি প্রধানত ও মূখ্যত রাষ্ট্রের। ফলে, যে সরকারসমূহ এ দায়িত্ব অস্বীকার করে- তারা দেশের সংবিধানকেই অস্বীকার করেন, এটা আগে বুঝতে হবে। ফলে- সমস্যা সমাধানের জন্য যেকোন ধরণের আলোচনার মূল ভারকেন্দ্র হওয়া উচিত- রাষ্ট্রের উদ্যোগ ও ভূমিকা সংক্রান্ত। আপনি ঐ যে নিরক্ষর রিকশাচালক বা দরিদ্র মজুরের যে শিক্ষার কথা বলছেন- মনে রাখতে হবে- এই শিক্ষা পাওয়াটা তাদের জন্য কোন ভিক্ষার বিষয় নয়, এটা রাষ্ট্র স্বীকৃত তাদের মৌলিক অধিকার। ফলে- আমরা উপযাজক হয়ে অনেকে তাদের শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারি- অনেক এনজিও সেরকম শিক্ষা ভিক্ষা দান করে- তবে এটা কখনও একটা রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ নিরক্ষর মুক্ত করতে পারে না। এই বিষয়টি মনে রাখা দরকার সর্বাগ্রে।

মুকুল যে ক্থাটি বলেছেন- সেটিকেও মাথায় রাখা অধিক কর্তব্য- আমাদের শিক্ষায় সরকারের বরাদ্দ কতখানি এবং সেই বরাদ্দের কত অংশ কোন খাতে ব্যয় করা হলো। সর্বোপরি- আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি, শিক্ষা নীতি এসবও আলোচনায় আসা প্রয়োজন বলে মনে হয়।

এখন প্রশ্ন হতে পারে, রাষ্ট্র বা সরকারসমূহ এ উদ্যোগ না নিলে আমাদের করণীয় কি? সেখানেও বলবো- রাষ্ট্র তথা সরকারকে বাধ্য করা, ব্যাপক গণআন্দোলন/ শিক্ষা আন্দোলন গড়ে তোলা প্রভৃতি। আমি স্বেচ্ছা-কার্যক্রমকে বন্ধ করার কথা বলছি না, তবে এ ধরণের কার্যক্রম যারা পরিচালনা করেন তাদেরও কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার বলে মনে হয়-
১। তারা কোনভাবেই এই স্বেচ্ছা-শিক্ষাদান কার্যক্রমের মাধ্যমে আত্মপ্রসাদে ভুগতে পারবেন না (এটা অনেকের মধ্যেই হয়- মনে করেন সমাজের জন্য অনেক করে ফেললাম- এবং মিডিয়া ও বুর্জোয়া শাসক গোষ্ঠী এসবকে অনেক হিরোয়িক করে প্রচার করে),
২। তাদের মাথায় রাখা দরকার- এটা কোন মতেই শিক্ষাগ্রহণকারী মানুষের জন্য ভিক্ষা কার্যক্রম নয়, অবশ্যই এই মর্যাদার জায়গায় শিক্ষা-গ্রহণকারী মানুষদের অধিষ্ঠিত করতে হবে যে, শিক্ষাগ্রহণ তাদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার- যেটি প্রদানের দায়িত্ব মূলত সরকারের এবং সরকার ব্যর্থ হওয়ার কারণেই তাদের এভাবে শিক্ষা গ্রহণ- ফলে, সরকারকেও বাধ্য করা শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার ব্যাপারে।
৩১. ০২ রা মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৬
দিনমজুর বলেছেন:
আপাতত, এতটুকু থাকলো, পরে আরো কথা বলা যাবে.........

(আপনাকে আমার কয়েকটি পোস্ট পড়ার আহবান জানিয়েছিলাম- মনে হয় সময় পাননি, অথবা আমার পোস্ট পড়ার আগ্রহ পাননি। তারপরেও আপনার সাথে বেশ কিছু বিষয়ে ডিবেট হওয়ার কারণে আমার আসলেই মনে হয়েছে- আমার কয়েকটি পোস্ট আপনার পড়া থাকলে ভালো হতো- যাহোক আপনার অভিরুচি!! আমি অবশ্য কিছুদিনের মধ্যে আমার পোস্টগুলো সরিয়ে ফেলবো। সচলায়তনে একসেস পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছি।)
৩২. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:১৫
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
@পুতুল ও @দিনমজুরকে

শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার, কথাটি প্রায়ই আলোচিত হয়ে থাকে। কথাটির যুক্তিকতা কতটুকু? আশাকরি পুতুল ও দিনমজুরের কাছ থেকে এর ব্যাখ্যাটি পাব।
০৩ রা মার্চ, ২০০৮ ভোর ৪:৩৩

লেখক বলেছেন: আমি দিনমজুরের কাধে সে দায়ীত্ব চাপিয়ে দিলাম।

৩৩. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:১৮
১৯৭১ আমার চেতনা বলেছেন: খুব ভাল লিখছেন, প্লাস।
০৩ রা মার্চ, ২০০৮ ভোর ৪:৩৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

৩৪. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ রাত ১:১৯
দিনমজুর বলেছেন:
অনিশ্চিতের এই পোস্টে কিছু কথা হয়েছে- শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে, আশা করি পড়বেনঃ
Click This Link
০৩ রা মার্চ, ২০০৮ ভোর ৪:৩৬

লেখক বলেছেন: পড়েছি, লিংকটি দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। সেখানে আপনার আলোচনাও অনেক তথ্যমূলক, অন্ততঃ আমার জন্য।

৩৫. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ ভোর ৪:২৮
পুতুল বলেছেন: 'জ. দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রয়োজনীয় পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে প্রদান ও অসংগতিসম্পন্ন ছাত্রদের নিয়মিতভাবে শিক্ষাভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের বিনামূল্যে টিফিন ও ইউনিফরম সরবরাহ করতে হবে। প্রাথমিক-মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলগুলির গৃহ, আসবাবপত্র, বইপত্র ইত্যাদির সংস্থান করা সহ উচ্চশিক্ষার প্রসারে দেশের আর্থ-সামাজিক বিকাশের সহায়ক চিকিৎসা, প্রকৌশল, কৃষি, কারিগরি মহাবিদ্যালয় সহ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।

ঝ. জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দের পরিমাণ কপক্ষে জাতীয় আয়ের শতকরা ৮ ভাগ বা জাতীয় বাজেটের ২৫ ভাগ করতে হবে (ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ি)।'

অনিশ্চিৎ এর পোষ্ট পরে আপনার মন্তব্যে দশদফার পছন্দনীয় আংশটুকু তুলে দিলাম।

শিক্ষা ব্যাবস্থা নিয়ে হয়তো কথায় কথায় আসলে, দু'একটি কথা বলব।

প্রথমে বলে নেই; একটি শোষন হীন সমাজ ব্যাবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে আমি যথেষ্ট সময় দিয়েছি। সেটা এখনই সম্ভব হলে, উঠেপরে তা বাস্তবায়নে লেগে যেতাম। আপাততঃ সেটা সম্ভব হচ্ছে না। সে কারণে আমার প্রস্তাব: আমাদের নিরক্ষরতা দূর করতে হবে।

ভাত কাপড় বাসস্থানের মত মৌলিক সমস্যার সমাধান স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোন সরকার করতে পেরেছে?
তাই বলে কি মানুষ না খেয়ে মরেছে? কোন না কোন ভাবে তার ব্যাবস্থা হয়েছে। সরকার করেনি বা করবে না, তার জন্য শিক্ষার মত একটা অপরিহার্য্য বিষয় অবহেলিত থাকবে?

নিশ্চই সরকারেরই তা করা উচিৎ। সেটা আমি জানি, কাজেই এ নিয়ে কোন বির্তক নেই।

আমার শুধু মনে হয়; আমাদের বিপ্লবের একটা অংশ যদি এই অক্ষর জ্ঞান দান করা হয়, তাতে অতন্তঃ ক্ষতিকর কিছুতো নেই। তার সুফের কথা না হয় নাই বা আলোচনা করলাম।

কেন সেচ্ছাসেবক ভিত্তিতে তার ব্যাবস্থা করার সুপারিশ করলাম, আশা করি এবার তা পরিস্কার হয়েছে।

দেখুন! একটা ক্লাশে আমরা সবাই বিদেশী। সেখানে প্রশ্ন করা হল: এখানকার অনেক বিষয়তো তোমাদের দেশের অনুপযোগী, তা তোমরা দেশে ফিলে তা ব্যাবহার করবে কিভাবে?

এই প্রশ্নটির মাঝেই উত্তরটিও আছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় একটা দেশের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হয়। আপনার দশদফা পড়তে পেরেছি বলে, তা পছন্দ করেছি। আর অন্য দুটো শিক্ষা কমিশনের তুলনাটা তুলে ধরায় অনুমান করতে পারছি যে, একটা সার্বজনীন বাধ্যতামূলক শিক্ষা ব্যাবস্থা কেউ চায়নি।

আমি বোকার মত শুধু ইচ্ছাটি খুঁজি। কারন দশ দফায় উল্লিখিত বাধ্যতামূলক মাধমিক শিক্ষাটি অসম্ভব বলে মানতে পারি না।

যদি আর্থিক ভাবে অসম্ভব হয়, তা হলে সেচ্ছাসেবক দ্বাড়া তা করানো যেতে পারে।

সমাজতন্ত্র বা শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনার মত জ্ঞান আমার নেই। কিন্তু যে কোন জাতীয় উন্নয়নে শিক্ষার বিক্লপ নাই, সে কথাটি খুব বিশ্বাস করি।

আর প্রস্তাবছিল আদোও এর বাস্তবায়ন সম্ভব কিনা তা নিয়ে আলোচনা করি।

আপনার পোষ্ট গুলো এখনো পড়া হয়নি, কিন্তু পড়ব। অনেকদিন আগে কার্লমাক্স পড়েছি, নতুন চিন্তাভাবনার সাথে একটু পরিচয় দরকার।

জানেন! পোষ্টটা দিয়ে একটু মুষরে পরি। এব্যাপারে মানুষের আগ্রহ এত কম কেন!

সা.ইন ছেড়ে দিচ্ছেন শুনে খারাপ লাগছে! সচলায়তনে এব বন্ধুর কল্যানে আমিও সচল। সেখানে আলোচনা হতে পারে।
আমার লম্বা উত্তর দেখে আপনি অন্ততঃ ভয় পাবেননা সেটা জানি। আলোচনার জন্য ধন্যবাদ। আপনি চাইলে আমরা এ নিয়ে আরো কথা বলতে পারি। ভাল থাকবেন।
৩৬. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ সকাল ৮:৩০
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
লেখক বলেছেন: আমি দিনমজুরের কাধে সে দায়ীত্ব চাপিয়ে দিলাম।


পুতুল, দিনমজুর তো উত্তর করেনি এখনও। আশাকরি আপনার কাছ থেকে এর উত্তর পাব।
৩৭. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:০৬
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
পুতুল বলেছেন: 'জ. দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রয়োজনীয় পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে প্রদান ও অসংগতিসম্পন্ন ছাত্রদের নিয়মিতভাবে শিক্ষাভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের বিনামূল্যে টিফিন ও ইউনিফরম সরবরাহ করতে হবে।


শিক্ষাকে অবৈতনিক ও পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে প্রদান ইত্যদি কে করবে?
৩৮. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:৩৬
দিনমজুর বলেছেন:
স্বাধীনতা তুমি,
শিক্ষাকে মানুষের মৌলিক অধিকার বলা কতখানি যুক্তিযুক্ত এটা নিয়ে বলার আগে মৌলিক অধিকার বিষয়ে আপনার অবস্থান জানলে ভালো হয়।

বা, আপনার কাছে কি মনে হয়- শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার হতে পারে না?? এরকম মনে হলে- সেটার যুক্তিগুলোও আশা করছি।

আপনাকে ধন্যবাদ।
৩৯. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:২৭
দিনমজুর বলেছেন:
যাহোক, আপনার উত্তর পাওয়ার আগে আমাদের সংবিধানটির দিকে একটু নজর দেই........

Part 2, Fundamental Principles of State Policy 15. Provision of basic necessities
It shall be a fundamental responsibility of the state to attain, through planned economic growth, a constant increase of productive forces and a steady improvement in the material and cultural standard of living of the people, with a view to securing to its citizens-
a. the provision of the basic necessities of life, including food, clothing, shelter, education and medical care;
b. the right to work, that is the right to guaranteed employment at a reasonable wage having regard to quantity and quality of work.
...................

17. Free and Compulsry education.
The state shall adopt effective measures for the purpose of-
a. establishing a uniform, mass-oriented and universal system of education and extending free and compulsory education to all children by law;
b. relating education to the needs of society and producing properly trained and motivated citizens to serve those needs;
c. removing illiteracy within such time as may be determined by law.
৪০. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:২০
দিনমজুর বলেছেন:
রাষ্ট্রের জন্য যেটা fundamental responsibility - সেটিই তো নাগরিকের জন্য অধিকার।

নাগরিকের জন্য বেসিক নেসেসিটি হিসাবে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা তো রাষ্ট্র স্বীকৃত, ফলে- নাগরিকের এই বেসিক নেসেসিটি পূরণ করা রাষ্ট্রের ফাণ্ডামেন্টাল রেসপনসিবিলিটি- এবং রাষ্ট্র পরিচালনাকারীরা সেই দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য থাকার কথা সংবিধান অনুযায়ী। নাগরিকের যেসকল চাহিদা সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত ও যেগুলো সে রাষ্ট্রের নিকট থেকে চাইবে, সেটাই তো তার অধিকার। এবং এই অধিকার গুলো মৌলিক অধিকার কারণ- সেটি রাষ্ট্রের ফাণ্ডামেন্টাল রেসপনসিবিলিটি।

এবার আসি, কেন শিক্ষা নামের বেসিক নেসেসিটি পূরণ করা রাষ্ট্রের ফাণ্ডামেন্টাল রেসপনসিবিলিটি হবে- সে বিষয়ে। কিছুটা ধারণা পাওয়া যাবে- .........relating education to the needs of society and producing properly trained and motivated citizens to serve those needs; - এখান থেকে।

সোসাইটির প্রয়োজনে বা সমাজকে এগিয়ে নেবার জন্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে ট্রেইনড ও মোটিভেটেড নাগরিক, আর এ জন্য রাষ্ট্রের গরজ সবচেয়ে বেশি- নাগরিকের মধ্যে শিক্ষার প্রসারের।

নাগরিকের জন্য শিক্ষা কেন বেসিক নেসেসিটি হবে? হবে এ কারণে যে, প্রথমত ফিজিক্যলি বেচে থাকার জন্য খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান-চিকিৎসা প্রভৃতির প্রয়োজন, এবং মানসিক ভাবে বেচে থাকার জন্য প্রয়োজন শিক্ষার (আজতো শিক্ষাই অন্য বেসিক নেসেসিটিরও নিশ্চয়তা প্রদান করে!!)। সার্ত্রের ভাষায়- শিক্ষা মানুষের জন্মকালীন ত্রুটি দূর করে। ফলে, 'মানুষ' হয়ে ওঠার জন্যই তার শিক্ষার প্রয়োজন। কেননা, মানুষ পশুর মত শুধু ক্ষুন্নিবৃত্তি আর প্রবৃত্তি নিবারণের জন্যই মানুষ নয়। তার আছে- রুচি-সংস্কৃতি-মনন; যা গড়ে ওঠে শিক্ষার মধ্য দিয়ে, এবং এই শিক্ষার মধ্য দিয়ে সে নিজেকে ধীরে ধীরে আরো বিকশিত করতে থাকে। ফলে- শিক্ষা ছাড়া কোন মানুষকে আর সব চাহিদা মিটিয়ে বাচিয়ে রাখা যাবে হয়তো- কিন্তু সে বাঁচা হবে পশুর মত বাঁচা। সেকারণে শিক্ষা মানুষের প্রধানতম বেসিক চাহিদা।

যেহেতু- মানুষ সমাজবদ্ধ জীব, এবং মানুষের প্রয়োজনেই সমাজ; এবং রাষ্ট্র বর্তমানে সবচেয়ে বড় ও অরগানাইজড সামাজিক প্রতিষ্ঠান- এই রাষ্ট্রেরও উৎপত্তি মানুষকে কেন্দ্র করেই। মানুষ ব্যতিত রাষ্ট্রের অস্তিত্ব কল্পনারও অতীত। মানুষ তার নিজের প্রয়োজন সমাজ তথা আজকের আধুনিক রাষ্ট্র গঠন করেছে- সেই প্রয়োজনটি হলো, আরো ভালো করে বাঁচা তথা মানুষের বেসিক নেসেসিটিগুলোর নিশ্চয়তা লাভ। সে জায়গা থেকেই রাষ্ট্র মানুষের বেসিক নেসেসিটি পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ।

সকলকে ধন্যবাদ।
৪১. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৫৩
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন: দিনমজুর বলেছেন:
স্বাধীনতা তুমি,
শিক্ষাকে মানুষের মৌলিক অধিকার বলা কতখানি যুক্তিযুক্ত এটা নিয়ে বলার আগে মৌলিক অধিকার বিষয়ে আপনার অবস্থান জানলে ভালো হয়।

বা, আপনার কাছে কি মনে হয়- শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার হতে পারে না?? এরকম মনে হলে- সেটার যুক্তিগুলোও আশা করছি।



দিনমজুর,
আমার যুক্তিগুলি পরবর্তীতে পেয়ে যাবেন ধীরে ধীরে, যদি আপনি এ আলোচনা চলিয়ে যান তাহলে। আপাতত আপনি আমার প্রশ্নের উত্তর গুলি যদি ঠিক ঠিক মত দেন।

পরবর্তী দু'টি মন্তব্য পোষ্টে আপনার বক্তব্যের মধ্যে বেশী জোর দিয়েছেন মানুষের জন্যে শিক্ষার প্রয়োজনীতা কি তা এবং সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের কি দায়িত্ব তা। কিন্তু আমার উত্তর এতে পরিপূর্ণ হয়নি। কারণ আপনি এখানে "অধীকার"-এর সঙ্গাটা দেননি। আশাকরি আপনি "অধীকার"-এর সঙ্গাটা দিবেন।
৪২. ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ রাত ২:৪৫
পুতুল বলেছেন: আপনাদের আলোচনা চলুক।
আমি রান্না করছি, খয়ে যোগ দেব!
৪৩. ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ রাত ৩:৪৩
পুতুল বলেছেন: দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে এক লোকের অবস্থা এমন যে, তিনি স্ট্রো দিয়ে শুধু জলটুকু পান করতে পারেন। জীবনের জাবতীয় বিষয় এমনকি প্রকৃতির ডাকে সারা দেয়া পর্যন্ত অন্যার সাহায্যে করতে হয়!
চিকিৎসকরা আরোগ্যের সব রকমের আশা ছেড়ে দিয়েছেন। এ
হীন জীবন পঙ্গু মানুষটি আর যাপন করতে না রাজ! কিন্তু আত্ম হননের উপায় জেনেও, নিজের শারিরীক ক্ষমতায় তা করা সম্ভব হচ্ছে না।
আশে পাশের প্রিয়জনেরা শোকে কাতর! কিন্তু অর্থহীন একটা জীবনের বোঝা আর দীর্ঘায়ীত হোক এটাও কাম্য নয়।

এবং আত্ম হনেনে সহযোগীর শাস্তি, খূনের সহযোগীর সমান। সবচেয়ে প্রিয় মানুষটি একটা উপায় খূঁজে পেল;
পঙ্গু মানুষটির সামনে একটি ভিডিও কেমেরা অন করে রেখে দিল।
পঙ্গু মানুষটি কেমেরার দিকে চোখ রেখে বলল;

আমার একমাত্র ব্যাক্তিগত সম্পদ, যার অধিকার শুধুমাত্র এবং একমাত্র আমার! যার উপড় এ পৃথিবীর আর কারো কোন নিয়নত্রন নেই, আমি আমার সে অধিকার এখন থেকে ত্যাগ করলাম!

তোমরা আমার এই ইচ্ছাটি পূরণ কর। আমাকে পটাশিয়াম সায়ানাইটের সরবত খেতে দাএ

মৌলিক এবং অধিকার এ দুটি শব্দের কিছুটা আভাষ উপরে দেয়ার চেষ্টা করলাম।

মৌলিক বিষয়টা যতটা পরিস্কার, অধিকার শব্দটা হয়তো ততটা নয়।

তার কারণ বিশাল;
অধিকার এক এক জায়গায় একটু ভিন্ন। প্রাকৃতিক অধিকার ছাড়া!
যেমন, মা শিশুকে স্তন্য দান করবেন (স্বাভাবিক অর্থে)।

এমন সমাজ পৃথিবীতে এখনো আছে, যেখানে বিয়ের আগে একজন মেয়ে তিনটি পুরুষের সাথে একই সময়ে ( সকাল বিকাল রাত্র) থাকতে পারবে, কিন্তু মা হতে পারবে না। বিয়ের পরে শুধু স্বামীর সাথেই থাকবে এবং চাইলে মা হবে। সেটা সেখানে সাধারণ ব্যাপার।

বাচ্চা স্কুলে না গেলে অভিবাকদের, পুলিশ খোঁজ করতে আসে। বাচ্চার স্বাভাবিক বিকাশে বাবা মাকে অযোগ্য মনে হলে, সে বাচ্চার দেখাশোনা রাষ্ট্র করে।

আমাদের দেশে মৌলিক অধিকার আমরা কাকে দিতে পেরেছি!

পৃথিবীর সব সম্পদের মালিক কে? আমরা। পৃথিবীর সব সম্পদে আমাদের সমান অধিকার আছে?

একটি মানুষ আমাদের প্রয়োজনে পৃথিবীতে এল। আমাদের আচার আচরণ রীতি নীতি ভাষা সব শিখল। আমাদের সামাজীক জীবনে তার যোগ্যতা অনুজায়ী অবদান রাখল। আমাদের অক্ষর জ্ঞানটা আমরা শুধু আর্থিক সঙ্গতি সম্পন্ন মানুষের জন্য সংরক্ষন করে রাখব!

নিশ্চই সব শিশু আইনষ্টাই হবে না। কিন্তু মানুষের আবিষ্কৃত লিপিটিতেও তার অধিকার রয়েছে!

আমার জ্ঞান খুব সীমিত। কিন্তু আমার মনে হয়, আমাদের প্রয়োজনে আমরা কিছু মানুষকে অন্ধকারে রাখতে চাই, সে জন্য পৃথিবীতে অনেক মানুষিক ভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ নিরক্ষর। তার পেছনে আর্থিক অসংগতি সম্পন্ন সমাজ নয়, সে সমাজের আত্মিক অসংগতি সম্পন্ন সমাজপতিরা দায়ী।

দুঃখিত এত কথা বলেও কোন কিছুই পরিস্কার হলনা বোধ হয়!
সবাইকে ধন্যবাদ।
৪৪. ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ সকাল ১১:৪১
দিনমজুর বলেছেন:
আমার এই পোস্ট পড়ার আহবান রইলো- খুদা কমিশন নিয়েই লেখাঃ
http://www.sachalayatan.com/guest_writer/12955
০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৭

লেখক বলেছেন: আমাদের প্রয়োজনে আমরা কিছু মানুষকে অন্ধকারে রাখতে চাই, সে জন্য পৃথিবীতে অনেক মানুষিক ভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ নিরক্ষর। তার পেছনে আর্থিক অসংগতি সম্পন্ন সমাজ নয়, সে সমাজের আত্মিক অসংগতি সম্পন্ন সমাজপতিরা দায়ী।

আপনার পোস্ট পড়ে আমার ধারণার সত্যতা খুঁজে পেলাম।
ধন্যবাদ লিংকটি দেয়ার জন্য। আপনার সা.এই-এর সব লেখা পড়লাম। সময় নিয়ে কিছু লিখব। আপাততঃ পারছিনা।

৪৫. ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:৪৭
দিনমজুর বলেছেন:
স্বাধীনতা তুমি,
আপনি আমাকে যে প্রশ্নটি করেছেন (অধিকারের সংজ্ঞাটি দিবেন)- সেটিতো আমিই আপনাকে করেছিলাম। কেননা, আমার মনে হয়েছিল- আপনার প্রশ্ন (শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার, কথাটি প্রায়ই আলোচিত হয়ে থাকে। কথাটির যুক্তিকতা কতটুকু?) এর উত্তরের জন্য মৌলিক অধিকার বলতে বা অধিকার বলতে আপনি কি বুঝাতে চেয়েছেন- সেটা জানা প্রয়োজন।

কিন্তু- আপনি সে উত্তর দেয়ার প্রয়োজন তো মনে করেননি, এবং উপরন্তু আমাকেই সে প্রশ্নটি করছেন। তা করতেই পারেন- মোটের উপর আপনার অবস্থানটি ঠিক পছন্দ হলো না- কিছু মনে করবেন না। আগে অন্যদের মত শুনে নেই- শেষে আমার অবস্থান তুলে ধরে বাজিমাত করে দিবো - এধরণের সভাপতি ধরণের মানসিকতা পরিত্যাজ্য মনে করি। যাহোক- আমার কথায় কিছু মনে করবেন না, আমি আসলে আপনার প্রশ্ন করার চেয়ে আলোচনা বা বিতর্কে অংশগ্রহণ আশা করছি।

এবারে অধিকার বলতে কি বুঝি- সেটা সংক্ষেপে বলছি.......
৪৬. ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ রাত ৯:২৪
দিনমজুর বলেছেন: শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার যখন বলা হয়- তখন 'অধিকার' একটি আইনগত টার্মোলজি। প্রাকৃতিক-স্বাভাবিক ঘটনাকে অধিকার বলা হয় না। এবং অধিকার এই টার্মোলজিটি অধুনা ধারণা। গ্রীক আমলে এটি কিছু কিছু এসেছে, কিন্তু বর্তমান যে সংজ্ঞা ও চেহারা নিয়ে এটা দাঁড়িয়েছে- সেই পূর্ণতা পায় ষোড়শ শতকে। বিশেষত- বুর্জোয়া বিপ্লবে, আধুনিক রাষ্ট্র সম্পর্কিত ধারণাসমূহ পরিপুষ্ট হওয়ার সময়।

এবারে, সরাসরি অধিকারের সংজ্ঞায় ঢুকি।
অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে অধিকারের(right) সংজ্ঞা নিম্নরুপঃ
"a just, proper or legal claim; a thing that one one is entitled to do or have by law. legal authority or claim for something".

বাকি আলোচনা পরে করবো, আপনার কিছু কথা শুনে নিই.......
৪৭. ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৪২
অমলকান্তি বলেছেন:
শিক্ষার অধিকার বিষয়ে জাতিসংঘ যে ধারনা পোষন করে

Universal Declaration of Human Rights:
Adopted and proclaimed by General Assembly resolution 217 A (III) of 10 December 1948

Article 26.
(1) Everyone has the right to education. Education shall be free, at least in the elementary and fundamental stages. Elementary education shall be compulsory. Technical and professional education shall be made generally available and higher education shall be equally accessible to all on the basis of merit.

(2) Education shall be directed to the full development of the human personality and to the strengthening of respect for human rights and fundamental freedoms. It shall promote understanding, tolerance and friendship among all nations, racial or religious groups, and shall further the activities of the United Nations for the maintenance of peace.

(3) Parents have a prior right to choose the kind of education that shall be given to their children.


জনাব সা. তু'র অধিকার বিষয়ক জ্ঞানগর্ভ আলোচনার অপেক্ষায় রইলাম।

৪৮. ০৫ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১:০৯
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
দিনমজুর বলেছেন: কিন্তু- আপনি সে উত্তর দেয়ার প্রয়োজন তো মনে করেননি, এবং উপরন্তু আমাকেই সে প্রশ্নটি করছেন। তা করতেই পারেন- মোটের উপর আপনার অবস্থানটি ঠিক পছন্দ হলো না- কিছু মনে করবেন না। আগে অন্যদের মত শুনে নেই- শেষে আমার অবস্থান তুলে ধরে বাজিমাত করে দিবো - এধরণের সভাপতি ধরণের মানসিকতা পরিত্যাজ্য মনে করি।


ভাইজান, আমি এখানে পান্ডিত্য জাহির করতে আসিনি। পুতুলের এই শিক্ষা ব্যবস্থা মুলোক পোষ্টের প্রেক্ষিতে আমি ওকে এবং আপনাকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছিলাম প্রথম, পুতুল সে প্রশ্ন উত্তর না দিয়ে আপনার ঘাড়ে চাপিয়ে দেয় (উপরের মন্তব্য গুলো আরও একবার ভাল করে পড়ে দেখুন)। কিন্তু আপনি আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে উল্টো আমাকেই আমার প্রশ্নটি করে বসলেন। তর্কে যদি আপনি জিততে চান তাহলে আপনি এখনই জিতে গেছেন, কারণ আপনি আপনার মন্তব্যে যে শব্দ গুলো ব্যবহার করেছেন ("আগে অন্যদের মত শুনে নেই- শেষে আমার অবস্থান তুলে ধরে বাজিমাত করে দিবো - এধরণের সভাপতি ধরণের মানসিকতা পরিত্যাজ্য মনে করি।") তাতে আমার আর অগ্রসর হবার কিছুই থাকলো না। কারণ গালে চড় মেরে বলছেন sorry ("যাহোক- আমার কথায় কিছু মনে করবেন না")।
৪৯. ০৫ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১:৩৬
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
অমলকান্তি বলেছেন: জনাব সা. তু'র অধিকার বিষয়ক জ্ঞানগর্ভ আলোচনার অপেক্ষায় রইলাম।


দাদা, আপনি জতিসংঘের যে resolution উল্লেখ করেছেন তাতে শিক্ষা যে মানুষের মৌলিক অধিকার তার কোন ব্যাখ্যা সেখানে পেলাম না। সেখানে য উল্লেখ আছে:

১) শিক্ষা ব্যবস্থা কেমন হবে তা। এখানে একটি বাক্য আছে "Education shall be free, at least in the elementary and fundamental stages." অথচ এর কোন বিস্তারিত ব্যাখ্যা নেই এখানে।

২) শিক্ষা মানুষের জন্য কেন প্রয়োজন তার উল্লেখ আছে এখানে।

৩) contradictroy.

অতএব আমি উক্ত resolution-এ অধিকারের সঙ্গা কিন্তু পাইনি। আলোচনা যদি বাড়াতে চান তাহলে আপনাকেই পরিস্কার করতে হবে অধিকারের সঙ্গাটি।
৫০. ০৫ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ২:০৮
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:

দিনমজুর, আপনি যে সঙ্গা উল্লেখ করেছেন তা সঙ্গা নয়, তা অধিকার (right)-এর অর্থ। যাহোক আপনার অর্থ অনুসারে মুলত যে জিনিসটি দাঁড়ালো তা হলো, কোন জিনিসের উপর আইনগত কতৃত্ব বা দাবীই হচ্ছে অধিকার। তবে অধিকার শুধু বস্তুর উপরেই বর্তায় না, সত্তার উপরেও বর্তায়।

এখন আমার আবারও প্রশ্ন হলো, "কোন বস্তু বা সত্তার উপর আইনগত কতৃত্ব বা দাবী কখন হতে পারে?"

তবে আমার অনুরোধ থাকবে এই যে আলোচনায় আপনি প্রচলিত কোন আইনী ব্যাখ্যা দিবেন না, আপনি শুধু আপনারই নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করবেন। মনে করেন দেশে বা সারা বিশ্বে কোন আইন তৈরী হয়নি, অধিকারের সঙ্গাটি আপনি তৈরী করছেন এবং সেই সঙ্গার সাথে সামঞ্জস্য রেখে অধিকারের আইনটি আপনিই তৈরী করছেন।
৫১. ০৫ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ১১:৫২
দিনমজুর বলেছেন:
স্বাধীনতা তুমি,

আপনার অবস্থানটি আমার পছন্দ হয়নি এটা কারণ সহ জানানোকে আপনার যদি চড় গোছের মনে হয়- তবে সেটা দুঃখজনক। আমার যেটা মনে হয়েছিল- সেটা আমি বলেছিলাম, আমার ভুল হতে পারে, বলার ভাষায়, কিন্তু প্রকৃতই আপনার অবস্থান আমার মনে হয়েছে কনফিউজিং। আপনি আগের দুটি পোস্টে কয়েকবার বলে গেছেন- "চলছে ভালই। চালিয়ে যান। জবাব দিব শেষে"। এবং শেষে জবাবটি এখনও পাইনি, বরং পেয়েছি -"এখানে কি আলোচকদের আলোচনার সব ভান্ডার শেষ হয়ে গেল?....."
এই মানসিকতাটিই আমার ভালো লাগেনি। আলোচনায় প্রবেশ করতে হয়- স্বাভাবিক গতিতেই। এই পোস্টেও দেখেন- আপনি এসে শুরু করলেন একটি প্রশ্ন দিয়ে। কেন?

জানার জন্য? না-কি, তোমরা কি জানো সেটা দেখার জন্য??

আপনার প্রশ্ন ছিল, শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার বলাটা যৌক্তিক কি-না? আপনি অন্য কোন অধিকারকে নিয়ে বলছেন না- খাদ্য / বস্ত্র / বাসস্থান.... এসবকে বাদ দিয়ে যখন শিক্ষা নিয়ে বলেছেন, তখন আমার উত্তরটি তাই সে জায়গা থেকেই দেয়ার চেস্টা করেছিলাম- আর, যেহেতু অধিকারের কথাটি প্রথমে আমিই উপস্থাপন করেছিলাম, ফলে সেটি কোন প্রেমিজ থেকে করেছিলাম- সেটিই পরিস্কার করার চেস্টা করেছিলাম। তারপরেও শুরুতে আপনার প্রতি আমার প্রশ্নটি করার উদ্দেশ্য, আপনার মূল প্রশ্নটির জবাব দিতে গেলে- আপনি কোন অর্থে অধিকারকে ব্যবহার করছেন- তা বুঝাটা দরকার।

আপনার অবস্থানটি আমার ভালো মনে হয়নি এ কারণে যে, আপনি যদি- নতুন কোন বিষয়ের অবতারণা করতে চান- সেটা প্রশ্ন করে কেন করবেন? আপনি প্রচলিত ধারণার বাইরে কোন সংজ্ঞা যদি দিতে চান- সে আলোকে যদি শিক্ষা আসলে মৌলিক অধিকার কি-না এসব বলতে চান, তবে সেটাতো আগে আপনার তুলে ধরা উচিৎ, তাই নয় কি??
৫২. ০৫ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:২১
দিনমজুর বলেছেন:
যাহোক, আবার আলোচনায় ফিরি......

প্রথমেই বলি, আমি যখন মৌলিক অধিকার বলেছি- সেটি প্রচলিত অর্থেই বলেছি- এবং শব্দ সংক্রান্ত প্রচলিত ভাব-ধারণা দিয়েই সে শব্দকেই ব্যবহার করেছি। দেশে বা বিশ্বে কোন আইন তৈরি হয়নি এরকম মনে করাটা তাই আমার কাছে অহেতুক মনে হয়, কেননা- যেসময় কোন আইন তৈরি হয়নি- সেসময় অধিকার বলে কোন বিষয় থাকতে পারে বলে মনে হয় না।

ভেড়া, গরু, ছাগল, মাছ .... প্রাণী জগতে আপনি অধিকারের প্রসঙ্গটি এপ্লাই করতে পারবেন না- কেননা তাদের মধ্যে কোন সমাজ নেই। গরু তার বাছুরকে দুগ্ধ দান করবে- এটা বাছুরের কোন অধিকার না, এটা একটা প্রাকৃতিক স্বাভাবিক ঘটনা, তেমনি মাছ খুদা পেলে তার ডিম খেয়ে ফেলবে- এটা অনাগত শিশু মাছের অধিকার খেলাপের ঘটনা নয়- কেননা এটাও ন্যাচারাল ঘটনা।

তাহলে, মানুষের মধ্যে অধিকার সংক্রান্ত বিষয় বা ধারণাটি আসে কি করে? সেটার মূলে হচ্ছে, সমাজবদ্ধতা। সমাজে মানুষ বসবাস করে নিজের স্বার্থেই, এবং এই স্বার্থেই সে কিছু নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য হয়। এই যে- সমাজের নিয়ম মেনে চলা- এটার মধ্যে আছে আইনের ধারণা, এবং তার বদলে সে সমাজ থেকে যেটা প্রত্যাশা করে- তার মধ্যে আছে- অধিকারের ধারণা। একদম আদিম সমাজ থেকেই বলছি।


আপনার প্রশ্ন, কখন মানুষ অধিকার লাভ করে? অধিকার লাভ করার মধ্যে গিভ এণ্ড টেক এর একটা বিষয় অবশ্যই জড়িত। যেহেতু, একজন মানুষের অধিকার লাভের মূলেই আছে- তার সমাজবদ্ধতা; সেহেতু সমাজের একজন সদস্য হওয়া মাত্রই সে সমাজের অনেক গুলো অধিকার লাভ করে। একজন মানব শিশুকে মানব সমাজের বাইরে একা ফেলে রাখলে - সেই শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য কোন অধিকারই সে পায় না। একজন শিশু টারজানকে শিম্পাঞ্জিরা তাদের ইচ্ছানুযায়ি লালন করতে পারে কিন্তু সেটা শিশু টারজানের জন্য কোন অধিকার নয়, শিম্পাঞ্জিরা শিশু টারজানকে মেরে খেয়ে ফেললে, বলা যাবে অধিকার ভায়োলেটেড হয়েছে। কিন্তু সেই শিশু যদি একটি সমাজে জন্ম নেয়, তখন তার জন্মানোর সাথে সাথেই বেশ কিছু অধিকার তৈরি হয়ে যায়।

সে-ই অধিকারটি হলো, প্রথমত বেঁচে থাকার অধিকার এবং দ্বিতীয়ত ভালো ভাবে বেঁচে থাকার অধিকার। কেন এই অধিকারটি সে লাভ করে? এর উত্তরে যেতে হবে- আদিম অবস্থায়, যে কারণে মানুষ সমাজ গঠন করে সে কারণে। সে-ই কারণটি হলো- বেচে থাকা। মানুষ প্রথমেই এটা দেখলো যে, সে একা বাস করতে পারে না- বেঁচে থাকার জন্য তার সমাজ গঠন করা প্রয়োজন। এবং এই সমাজবদ্ধ ভাবে থাকার কারণেই মানুষ ধীরে ধীরে আরো ভালোভাবে বাঁচার রসদ পেয়েছে প্রতিনিয়তই।


৫৩. ০৫ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:৪৯
দিনমজুর বলেছেন:
শিম্পাঞ্জিরা শিশু টারজানকে মেরে খেয়ে ফেললে, বলা যাবে অধিকার ভায়োলেটেড হয়েছে====> শিম্পাঞ্জিরা শিশু টারজানকে মেরে খেয়ে ফেললে, বলা যাবে না অধিকার ভায়োলেটেড হয়েছে।

না বাদ পড়েছে!!
৫৪. ০৬ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:৪৫
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
ধন্যবাদ দিনমজুর। আপনার মন্তব্য পড়লাম, অনেক পয়েন্ট আছে। আগামীকাল লিখবো, আজ আমি ভীষন ক্লান্ত। চোখ জুড়ে ঘুম আসছে। আবারও ধন্যবাদ।
৫৫. ০৬ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:৪৭
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
পুতুল আপনি কোথায়? দু'দিন থেকে আপনাকে অনুপস্থিত দেখছি। শরীর ভালো তো?
০৬ ই মার্চ, ২০০৮ ভোর ৪:৩৫

লেখক বলেছেন: শরীর ভাল, একটু ব্যাস্ত আছি।
খবর নেয়ার জন্য ধন্যবাদ।
আপনারা আলোচনা চালিয়ে যান।

আমার অধিকার নিয়ে কিছু বললেন যে?

৫৬. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১:০৩
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
দিনমজুর বলেছেন: আপনি আগের দুটি পোস্টে কয়েকবার বলে গেছেন- "চলছে ভালই। চালিয়ে যান। জবাব দিব শেষে"। এবং শেষে জবাবটি এখনও পাইনি, বরং পেয়েছি -"এখানে কি আলোচকদের আলোচনার সব ভান্ডার শেষ হয়ে গেল?....."
এই মানসিকতাটিই আমার ভালো লাগেনি।


ঐ পোষ্টে আমার আলোচনা করার ইচ্ছা ছিল এবং এখনও আছে। সে জন্য সে পোষ্টা আমি এখনও পর্যবেক্ষনে সংরক্ষন করে রেখেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো আমি আলোচনায় অংশ গ্রহন করিনি এই কারনে যে, আলোচনাটা চলছিল এলোমেলো ভাবে। ভেবেছিলাম আলোচকরা বিষয় বস্তুর আরও গভীরে ঢুকলে তাহলেই আমিও শুরু করবো। কিন্তু দেখলাম আলোচনাটা আর চলছেনা, বন্ধ হয়ে গেছে। সে জন্যেই বলেছিলাম "এখানে কি আলোচকদের আলোচনার সব ভান্ডার শেষ হয়ে গেল?"
৫৭. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১:১০
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
দিনমজুর বলেছেন: আপনি অন্য কোন অধিকারকে নিয়ে বলছেন না- খাদ্য / বস্ত্র / বাসস্থান.... এসবকে বাদ দিয়ে যখন শিক্ষা নিয়ে বলেছেন,



যেহেতু পুতুলের এ পোষ্টা হচ্ছে শিক্ষা বিষয়ক একটি পোষ্ট সেহেতু আমি এখানে শিক্ষাকেই প্রধান্য দিয়েছি, ফলে অন্য বিষয়কে আমি টানিনি এবং এখনও সে সব বিষয়কে টানতে চাই না। প্রাসঙ্গিক ক্রমে হয়তো আসতে পারে, তবে মৌলিক ভাবে নয়।
৫৮. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১:৩৩
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
দিনমজুর বলেছেন: আপনার অবস্থানটি আমার ভালো মনে হয়নি এ কারণে যে, আপনি যদি- নতুন কোন বিষয়ের অবতারণা করতে চান- সেটা প্রশ্ন করে কেন করবেন? আপনি প্রচলিত ধারণার বাইরে কোন সংজ্ঞা যদি দিতে চান- সে আলোকে যদি শিক্ষা আসলে মৌলিক অধিকার কি-না এসব বলতে চান, তবে সেটাতো আগে আপনার তুলে ধরা উচিৎ, তাই নয় কি??



ধরুন আপনার কাছে কিছু উল আর সোয়েটার বুনার কাটা আছে। এখন আপনি একটা সোয়েটার বুনতে চান। প্রথমে আপনাকে কি করতে হবে? প্রথমে আপনাকে উলের মাথায় একটা ফাঁস গিরা দিয়ে তারপর সোয়েটার বুনার কাটার সাহায্যে আপনার মনের মাধুরী মিশিয়ে আপনার ইচ্ছে মত ডিজাইন করে ধীরে ধীরে একটা সুন্দর সোয়েটার বনিয়ে ফেলুন এবং সেটা যখন গায়ে দিয়ে মানুষের সামনে আসবেন তখন মানুষ দেখে বলবে 'দেখ দিনমজুর কত সুন্দর একটা সোয়েটার পড়ে এসেছে"। মানুষের প্রশংসা শুনে আপনারও মনটা ভরে উঠবে এবং মনে মনে বলবেন "যাক আমার পরিশ্রমটা স্বার্থক হয়েছে"।

কিন্তু এটা বানানো সোয়েটারের উলের মাথাটা যদি খুঁজতে চান তাহলে সে সোয়েটারের বহু জায়গাতে আপনাকে ক্ষত করতে হবে। শেষে যদি মাথাটা না খুঁজে পান তাহলে আবার সেটাকে ভাল করার জন্যে রিপু করতে হবে। এই সোয়েটারটা যখন পড়ে মানুষের সামনে আসবেন তখন মানুষ বলবে 'দেখ দিনমজুর তালি দেয়া সোয়েটার পড়ে এসেছে"। তখন আপনার মনটা একেবারই খারাপ হয়ে যাবে। এমনও হতে পারে পরবর্তীতে ঐ সোয়েটারটা আর কখনও আপনার পড়ার ইচ্ছা থাকবে না।
৫৯. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ২:৪৯
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
দিনমজুর বলেছেন: ভেড়া, গরু, ছাগল, মাছ .... প্রাণী জগতে আপনি অধিকারের প্রসঙ্গটি এপ্লাই করতে পারবেন না- কেননা তাদের মধ্যে কোন সমাজ নেই।


কথাটা আমি স্বীকার করে নিতে পারলাম না। কারণ প্রকৃতির সকল বস্তু বা প্রাণী কোন না কোন ভাবে সমাজবদ্ধ। আর সামাজিক শব্দের সঙ্গা হচ্ছে সঙ্গবদ্ধ ভাবে সহাবস্থান করার নামই হচ্ছে সামাজিক। যেমন ধরুন, বৃক্ষ যদি বায়ুকে বলে আমি তোমার কার্বনডাই অক্সাইড গ্রহনও করবো না এবং আমার অক্সিজেন তোমাকে দিব না। তাহলে কি ঘটবে? ঘটবে এটায় এই যে, কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের মধ্যে গোটা পৃথিবীটা পোলুউশনে ভরে যাবে, এতে প্রাকৃতিক দূর্যোগ সৃষ্টি হবে, এমন কি পৃথিবী ধ্বংসও হয়ে যেতে পারে কয়েক মূহুর্তের মধ্যে। আপনি হয়তো বলবেন এটা প্রাকৃতিক নিয়মেই হচ্ছে। ধরে নিলাম ওটা প্রাকৃতিক নিয়মে হচ্ছে। তবে এটা কিভাবে হয়, আপনাকে ক্ষুধা লাগে, ক্ষুধা লাগলে আপনার খেতে ইচ্ছে করে, খেতে ইচ্ছে করেই বলেই আপনি খান, খাওয়ার পরে প্রকৃতির টানেই আপনার মল ত্যাগ করতে ইচ্ছে হয়, তায় আপনি মল ত্যাগ করেন, ফলে আপনার আবার ক্ষুধা লাগে, ক্ষুধা লাগে বলে খেতে ইচ্ছে করে, খেতে ইচ্ছে করে বলেই আবার আপনি খান। এটাকে কি আপনি মানুষ বলে খাওয়ার অধিকার আছে বলেই আপনি খাবেন আর মল ত্যাগ করবেন বলে চালিয়ে দিবেন, না প্রাকৃতিক নিয়মে হয় বলে মেনে নিবেন। সবই প্রকৃতির নিয়মেই হচ্ছে। বরং মানুষ ব্যতিত অন্যান্য সকল প্রাণী বা বস্তু স্ব স্ব অবস্থানে সহাবস্থান করে যে ভাবে সঙ্গবদ্ধ আছে তাতে তারা তাদের অধিকারের প্রয়োজনটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ, কোন ক্ষেত্রে তারা অধিকারের অপব্যবহার করে না। যেমন ধরুন বনে বাঘ হরিণ দল বদ্ধ ভাবে এক সঙ্গে চলাচল করছে, যখন বাঘের ক্ষুধা লাগছে তখন বাঘ তার ক্ষুধা নিবারনের জন্য হরিণকে ধরে খাচ্ছে, তবে তাদের ক্ষুধার প্রয়োজন অনুসারে একটি বা দু'টি হরিণকে একবারে ধরে, এক সঙ্গে বনের সব হরিনকে ধরে মেরে ফেলে না। অর্থাৎ প্রয়োজন বা চাহিদার অতিরিক্ত কোন কিছুই তারা করেনা। কিন্তু আমাদের এই সভ্য মানুষের চাহিদার তো লিমিটেশনই নেই, পারলে সমস্ত পৃথিবীটাকেই যেন একজনই নিতে চায়। বরং আমি বলবো মানুষ ছাড়া অন্য সকল প্রাণী বা বস্তু স্ব স্ব অবস্থানে সঙ্গবদ্ধ ভাবে সহাবস্থান করে নিয়মের মধ্যে থেকে চলাচল করছে, কিন্তু মানুষ প্রতিনিয়তই নিয়ম ভঙ্গ করছে।
৬০. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ২:৫১
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
দিনমজুর, আজ এই পর্যন্ত, আপনার মন্তব্যের আরও জবাব আছে, আগামী কাল সে গুলো দেবো, এখন অনেক রাত হয়ে গেছে। ধন্যবাদ।
৬১. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ২:৫৬
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
লেখক বলেছেন: আমার অধিকার নিয়ে কিছু বললেন যে?



আমি আপনার অধিকার সম্পর্কে বলিনি। আমি আপনার কাছ থেকে জানতে চেয়েছিলাম "শিক্ষাকে অবৈতনিক ও পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে প্রদান ইত্যদি কে করবে?"
৬২. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ৩:২৩
পুতুল বলেছেন: আমার জ্ঞান খুব সীমিত। কিন্তু আমার মনে হয়, আমাদের প্রয়োজনে আমরা কিছু মানুষকে অন্ধকারে রাখতে চাই, সে জন্য পৃথিবীতে অনেক মানুষিক ভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ নিরক্ষর। তার পেছনে আর্থিক অসংগতি সম্পন্ন সমাজ নয়, সে সমাজের আত্মিক অসংগতি সম্পন্ন সমাজপতিরা দায়ী।

আমি আপনি আমরা সবাই দেব।

অধিকারের সংজ্ঞা দেয়ার চেষ্টা করেছালাম। আমার পোষ্টে। সেটা পড়ে আপনার কি প্রতিক্রিয়া, জানতে চেয়েছি।
৬৩. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:১৫
দিনমজুর বলেছেন:
স্বাধীনতা তুমি,

আপনার মনে হলেও করার কিছু নেই- কেননা সমাজ বা সোসাইটির সংজ্ঞা অনুযায়ীই পশু - পাখির মধ্যে যুথবদ্ধতাকে সমাজ বলা হয় না। সেগুলোকে বলা যেতে পারে- পাল- ফ্লোক- ঝাঁক প্রভৃতি। কিছু গল্পকথায় মজা করে 'পশুসমাজ' শব্দটির উল্লেখ থাকে- কিন্তু সেই গল্পে দেখবেন ঐ পশু সমাজের পশুরা নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের মধ্যে সভা হয়, আলোচনা হয়, সিদ্ধান্ত হয়, .... প্রভৃতি। কিন্তু সাধারণভাবে আমরা ভেড়ার পালই বলি, ভেড়ার সমাজ বলিনা- মাছের ঝাঁকই বলি- মৎস্য সমাজ বলিনা।
৬৪. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:৪২
দিনমজুর বলেছেন:
মানুষের খাদ্য গ্রহণটিও প্রাকৃতিক- তার পরিপাক ক্রিয়া, তার ক্ষুধা লাগা থেকে শুরু করে- জৈবিক ঘটনা সমূহ প্রাকৃতিক- সে অনুযায়ি ক্ষুধা পেলেই- সে খাবারের খোঁজ করে- খাদ্য গ্রহণ করে ক্ষুধা নিবারণ করে- এটা স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনা; এ বিষয়ে আপনার সাথে আমার দ্বিমত নেই; কিন্তু পশু বা প্রাণী জগতের তুলনায় মানুষের পার্থক্যটি ঘটে যাচ্ছে- দেখেন এই খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়া, খাদ্য বন্টন, এবং উৎপাদন ও বন্টনকে কেন্দ্র করে পরষ্পরের প্রতি সম্পর্ক। এ থেকেই আসলে কিন্তু সমাজের ধারণার খোঁজ পাবেন।

মানুষের একদম শুরুর দিকের সমাজটি দেখুন, যেটিকে বলা হচ্ছে- আদিম গোষ্ঠীবদ্ধ সমাজ। সেটি কিন্তু সমাজ তৈরির সূচনাকাল। তারও আগে মানুষ যে অবস্থায় ছিল- সেটিকে নিশ্চয় মানব সমাজ বলা হয় না! তাহলে কি? এই মানব সমাজের সাথে উৎপাদন ও মস্তিস্কের বিষয়টি অঙ্গাঙ্গি যুক্ত। মানুষের মানুষ হওয়ার পেছনে হাতের ভূমিকা বিশাল। আগে, মুখের ব্যবহার ছিল প্রধান (গরু-ভেড়া-মাছ-প্রভৃতি দ্রষ্টব্য), ফলে- মস্তিস্কে ঘিলুর জায়গাটি ছিল- ক্ষুদ্র, ধীরে ধীরে মানুষ(তখনও পুরো মানুষ নয়) যখন হাতের ব্যবহার শিখলো, মুখের ব্যবহার কমতে থাকে। হাত যত কর্মক্ষম হয়েছে- মুখ তত নিষ্ক্রিয় হয়েছে, এবং এর মাধ্যমে মুখের সামনের দিকে বিশেষ করে চোয়ালের দিকের জায়গা কমেছে এবং পিছনে- ঘিলুর জন্য বরাদ্দকৃত জায়গা বেড়েছে। আবার, হাতের নিত্য নতুন ব্যবহারের জন্যও ঘিলুর চর্চার প্রয়োজনেই- সেই ঘিলুর উৎকর্ষও সাধিত হয়েছে। এভাবেই কিন্তু মানুষের মানুষ হয়ে ওঠা। সুতরাং, বুঝতে মানুষ হয়ে ওঠার সাথে হাত ও মস্তিষ্কের সম্পর্ক বিশাল।

এখন, প্রশ্ন এর সাথে সমাজের সম্পর্ক কি? সম্পর্ক এখানেই যে, এটার মধ্যেই আছে- মানুষ ও পশুর পার্থক্য এবং এই পার্থক্যটি বুঝলেই মনে হয় বুঝাটা সহজ হবে- কেন পশু সমাজ গঠন করতে পারলো না, মানুষ সমাজ গঠন করতে পেরেছে।

যেটি বলছিলাম- মানুষের সমাজ গঠনের পেছেন - মূল বিষয় উৎপাদন প্রক্রিয়া, উৎপাদন বন্টন ও উৎপাদন সম্পর্ক। আর, এই তিনটির পেছনেই দেখবেন আছে- হাত ও মস্তিষ্কের ভূমিকা। এই ভূমিকার জন্যই এই তিনটি বিষয় সর্বদাই পরিবর্তনশীল। একদম শুরুর দিকে- মানুষের সাথে পশুর কোন পার্থক্য ছিল না- তার উৎপাদন ছিল সংগ্রহ (পশু ও ফলমূল) টাইপের, বন্টন ছিল- কাড়াকাড়ি করে যে যতটুকু নিতে পারে, এবং সম্পর্ক ছিল মূলত জৈবিক প্রয়োজন কেন্দ্রিক (যেকোন পশুর দিকে পর্যবেক্ষণ করলে বুঝতে পারবেন)।

সেই প্রাচীণ আমলে কোন প্রাণী যে জীবন যাপন করতো- আজও তার কোন পার্থক্য পাবেন না- প্রাকৃতিক পরিবর্তনের সাথে সাথে টিকতে গিয়ে তার ন্যাচারালি কিছু পার্থক্য হয়েছে ঠিকই, কিন্তু কোন পরিবর্তনই প্রাণীর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কজাত নয়। এবং এখানেই পার্থক্য মানুষের সাথে পশুর। সেকারণেই সমাজের প্রধানতম বৈশিষ্ট্যই হলো পরিবর্তনশীলতা।
৬৫. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:৪৪
অমলকান্তি বলেছেন:
মানুষের সমাজ বিষয়টা কি প্রাকৃতিক না মানুষের অর্জন?
Article 26.
(1) Everyone has the right to education. Education shall be free, at least in the elementary and fundamental stages. Elementary education shall be compulsory. Technical and professional education shall be made generally available and higher education shall be equally accessible to all on the basis of merit.
জনাব স্বা. তু. কি আর্টিকেল ২৬ এর ১ম ধারার ১ম বাক্য টা ইচ্ছাকৃত ইগনর করলেন নাকি অনিচ্ছাকৃত।

যাইহোক, মানুষের সমাজ আর পশুর সমাজ একই পাল্লায় বিচার করা যায় কিনা কিংবা অন্যান্য প্রানী কূল প্রকৃতই কোন সমাজ গঠন করে কি না -এসব তর্ককে এই পোস্টের প্রেক্ষিতে আমার কাছে খুবই অগুরুত্বপুর্ণ মনে হয় ।
তারচেয়ে বরং শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার কিনা আলাচনা সেখানে সীমাবদ্ধ থাকলেই মনে হয় ভাল হয়।আর সেটা বিচার করা উচিত মানুষ্য সমাজের ইতিহাস কে মনে রেখেই।
সেই সাথে চিকিৎসা কি ধরনের অধিকার তাও আলোচনা করতে পারেন।
আমার অবস্হান হলো আজকের সমাজ বাস্তবতায় শিক্ষা এবং চিকিৎসা দুইই মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে।
৬৬. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩১
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
দিনমজুর বলেছেন: তাহলে, মানুষের মধ্যে অধিকার সংক্রান্ত বিষয় বা ধারণাটি আসে কি করে? সেটার মূলে হচ্ছে, সমাজবদ্ধতা। সমাজে মানুষ বসবাস করে নিজের স্বার্থেই, এবং এই স্বার্থেই সে কিছু নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য হয়। এই যে- সমাজের নিয়ম মেনে চলা- এটার মধ্যে আছে আইনের ধারণা, এবং তার বদলে সে সমাজ থেকে যেটা প্রত্যাশা করে- তার মধ্যে আছে- অধিকারের ধারণা। একদম আদিম সমাজ থেকেই বলছি।


সমাজবদ্ধ শব্দের সাথে নিয়ম শব্দটা ওতোপ্রতো ভাবে যুক্ত। নিয়ম যেখানে অনুপস্থিত সেখানে সমাজবদ্ধ কথাটাও অমুলোক হয়ে যায়। তায় শুধু মানুষ মাত্রই সমাজবদ্ধ এটা একেবারই ভূল ধারনা। কারণ সমগ্র প্রকৃতির প্রাণী এবং বস্তুর সমন্বয়ে সৃষ্ট ব্যবস্থাটাই হচ্ছে প্রকৃত সমাজবদ্ধ পরিবেশ। সেক্ষেত্রে মানুষ প্রকৃতির একটা অংশ মাত্র।

তবে মানুষ প্রকৃতির অন্যান্য অংশের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে আছে অর্থাৎ মানুষ কথা বলতে পারে কিন্তু অন্যরা বলতে পারে না। মানুষ কথা বলতে পারে বলে একে অন্যের সাথে মত বিনিময় করতে পারে কিন্তু অন্যরা সেটা করতে পারে না। সেজন্য প্রকৃতির পরিবেশ রক্ষায় মানুষের নিয়ম মেনে চলার দায়িত্ব অন্যান্যের চেয়ে অনেক বেশী।

আমি প্রকৃতিকে টেনে নিয়ে আসলাম কারণ প্রকৃতি ছাড়া মানুষের সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করা একেবারেই কঠিন। মানুষকে সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করার জন্যে যে রসদের প্রয়োজন তা তাকে অর্জন করতে হয় প্রকৃতি থেকেই। ঠিক যেমনি অন্যান্য অংশও একে অন্যের উপর নির্ভরশীল। তায় মানুষ প্রয়োজনে যতটুকু প্রকৃতি থেকে অর্জন করে, মানুষেরও উচিৎ ঠিক ততটুকু প্রকৃতিকে দান করা, এটায় নিয়ম। আর নিয়ম সঠিক ধারায় চলতে থাকে তখনই যতক্ষন বিনিময়ের সাদৃশ্যতা বজায় থাকে ঠিক ততক্ষন পর্যন্ত। যখনই প্রকৃতির সাথে মানুষের বিনিময়ের বৈসার্দশ্য ঘটে তখনই নেমে আসে প্রাকৃতিক দূর্যোগ। অর্থাৎ প্রকৃতিও মানুষকে ছেড়ে কথা বলে না। এ কারনেই আমি মানুষ ও প্রকৃতিকে এক সারিতে দাঁড় করিয়েছি।

এখন আসুন মানুষের আভ্যন্তরিন সমাজ ব্যবস্থার কথায়। যেহেতু আপনি আদিম সমাজের কথা দিযে শুরু করেছেন সেখান থেকেই শুরু করি। আদিম সমাজে যখন মানুষের কাছে নিয়মের প্রয়োজনীতা বোধ হয়নি কারণ তখন বন্টন প্রক্রিয়া সম্পর্কে মানুষ ছিল অজ্ঞ। তখন মানুষের কাছে মুখ্য প্রয়োজন ছিল শুধু বেচে থাকা। আর বেচে থাকার জন্যে যতটুকু প্রয়োজন তা ছিল খাদ্য সংগ্রহ করা এবং আত্ম রক্ষা করা। এ থেকে সঙ্গবদ্ধ হয়ে একত্রে বসবাস করা শুরু করলো মানুষ। যা বন্য পশুরাও এখনও করে।

কিন্তু মানুষের সংখ্যা যখন ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকলো তখন মানুষ মধ্যে প্রয়োজন বোধ হলো কর্ম বন্টনের প্রক্রিয়া। কর্ম বন্টন প্রক্রিয়ার পরেই প্রয়োজন বোধ হলো নিয়ম প্রক্রিয়ার, কারণ নিয়ম ছাড়া কর্ম সুষ্ট ভাবে পরিচালিত হতে পারে না এবং কর্মের ফল ভোগের সঠিক প্রাপ্তি অর্জন লাভ হয়না। ফলে নিয়মের পরেই মানুষের মধ্যে বিনিময়ের প্রক্রিয়া শুরু হলো অর্থাৎ শ্রম ও সঠিক প্রাপ্তি অর্জন। কিন্তু এই বিনিময় প্রক্রিয়ার মধ্যেই মানুষ স্বার্থের প্রক্রিয়ার গন্ধ খুঁজে পেলো। ফলে সৃষ্টি হলো এক ধরনের স্বার্থবাদী গোষ্ঠির, যারা পরবর্তীতে নিজ স্বার্থের জন্যে শুরু করলো গোষ্ঠি গুলোর মধ্যে শ্রেনী বিভক্তি। এই শ্রেণী বিভক্ত থেকেই শুরু হলো বিনিময়ের বৈসাদৃশ্য প্রক্রিয়া। যখনই স্বার্থগত কারনে বিনিময় প্রক্রিয়ার মধ্যে বৈসাদৃশ্য দেখা দিলো তখনই শুরু হলো অধিকার আদায়ের প্রক্রিয়া অর্থাৎ সঠিক প্রাপ্তি অর্জন যখন লঙ্ঘিত হলো। ফলে অধিকার হয়ে গেল প্রাতিষ্ঠানিক আইনের একটি রূপ।

এখানে মনে রাখতে হবে নিয়ম আর আইন এক জিনিস নয়। নিয়ম হচ্ছে প্রকৃতগত ভাবে যার যা প্রাপ্য তার প্রপ্তি লাভের নিশ্চয়তাই হচ্ছে নিয়ম। কিন্তু আইন হচ্ছে শ্রেণী বিভক্তিত সমাজকে সংরক্ষন করার প্রক্রিয়া। অর্থাৎ নিয়ম মানুষকে তার সঠিক প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দেয়, কিন্তু আইন সে নিশ্চয়তা দেয় না। এখানে একটি ছোট্ট উদাহরণ দিলে বিষয়টি ক্লিয়ার হবে, গার্মেন্টস কর্মীর ক্ষেত্রে আইন করা হয়েছে যে একজন গামেন্টস কর্মী তার পারিশ্রমিক হিসাবে ১৬৫০.০০ টাকা পাবে। এই ১৬৫০.০০ টাকা দিয়ে তার জীবন ধারনের জন্য চাহিদা পুরণ হোক বা না হোক সেটা দেখার বিষয় নয়। কিন্তু নিয়ম হচ্ছে একজন গামেন্টস কর্মীর পারিশ্রমিক নির্ধারন নয়, সে তার শ্রম দান করবে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীকে এবং গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী বিনিময়ে তার জীবন ধারনের জন্যে তার চাহিদা সম্পূর্ণ পূরণ করবে অর্থাৎ এটায় তার শ্রমের বিনিময়ে অর্জন।

যেহেতু অধিকার প্রতিষ্ঠানিক আইন দ্বারা সংরক্ষিত সেহেতু অধিকার মুক্ত একটি প্রক্রিয়া বা ব্যবস্থা নয়, এটা একটি শৃংখলিত ব্যবস্থা। অর্থাৎ অধিকার শব্দটি দ্বারা যে কোন অবস্থার পরাধীনতার একটি রূপকে বুঝায়। স্ত্রীর অধিকার স্বামীর দ্বারা সে ভরনপোষন পাবে, স্বামীর কাছে স্ত্রীর পরাধীনতার একটি রূপ, পুত্রের অধিকার পিতা তাকে লালন পালন করবে, অর্থাৎ পিতার পকাছে পুত্রের পরাধীনতার একটি রূপ। অর্থাৎ অধিকার মুক্ত প্রক্রিয়া বা ব্যবস্থা নয়।

৬৭. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৭
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
অমলকান্তি বলেছেন:
মানুষের সমাজ বিষয়টা কি প্রাকৃতিক না মানুষের অর্জন?
Article 26.
(1) Everyone has the right to education. Education shall be free, at least in the elementary and fundamental stages. Elementary education shall be compulsory. Technical and professional education shall be made generally available and higher education shall be equally accessible to all on the basis of merit.
জনাব স্বা. তু. কি আর্টিকেল ২৬ এর ১ম ধারার ১ম বাক্য টা ইচ্ছাকৃত ইগনর করলেন নাকি অনিচ্ছাকৃত।


অকা,
১) Everyone has the right to education. বাক্যটিই বলে দিচ্ছে শিক্ষা একটি দূর্লভ বস্তু।

২) Education shall be free, পৃথিবীতে দোয়া ছাড়া কোন কিছুই ফ্রি পাওয়া যায় না। সে দোয়াও এখন কিনতে হয় যদি ঘরে কেউ একজন হুজুর বা ঠাকুর না থাকে তাহলে ভাড়ায় তাদেরকে নিয়ে আসতে হয় দোয়া করানোর জন্যে।

দাদা আমি এখনও ঐ আলোচনার মধ্যেই আছি, লাইন বিচ্যুত হইনি। সুপরিপাটি ভূষনে একজন নারীকে দেখতে খুব ভাল লাগে, কিন্তু এটাকি জানেন একজন নারী যখন সুপরিপাটি ভূষনে আবৃত হয় তখন তাকে ভিতরে আনুসাঙ্গিক আরও কত কি পড়তে? আমি তারই সন্ধানেই আছি।

আপনার কাছে মৌলিক অধিকারের সঙ্গা জানতে চেয়েছিলাম, তাতো দিলেন না। কি ভাবে আগাবো ঐ আলোচনায়। ধন্যবাদ।
৬৮. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:০৬
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
মানুষের মানুষ হওয়ার পেছনে হাতের ভূমিকা বিশাল। আগে, মুখের ব্যবহার ছিল প্রধান (গরু-ভেড়া-মাছ-প্রভৃতি দ্রষ্টব্য), ফলে- মস্তিস্কে ঘিলুর জায়গাটি ছিল- ক্ষুদ্র, ধীরে ধীরে মানুষ(তখনও পুরো মানুষ নয়) যখন হাতের ব্যবহার শিখলো, মুখের ব্যবহার কমতে থাকে। হাত যত কর্মক্ষম হয়েছে- মুখ তত নিষ্ক্রিয় হয়েছে, এবং এর মাধ্যমে মুখের সামনের দিকে বিশেষ করে চোয়ালের দিকের জায়গা কমেছে এবং পিছনে- ঘিলুর জন্য বরাদ্দকৃত জায়গা বেড়েছে। আবার, হাতের নিত্য নতুন ব্যবহারের জন্যও ঘিলুর চর্চার প্রয়োজনেই- সেই ঘিলুর উৎকর্ষও সাধিত হয়েছে। এভাবেই কিন্তু মানুষের মানুষ হয়ে ওঠা। সুতরাং, বুঝতে মানুষ হয়ে ওঠার সাথে হাত ও মস্তিষ্কের সম্পর্ক বিশাল।



এসব রূপকথার কাহিনী। বাস্তবতার সাথে এর কোন মিল নেই। মাছ থেকে মানুষের সৃষ্টি এসব রূপকথার কাহিনীর মত। আমার এই ৪৩ বছর বয়সে দেখলাম না একটি মাছ মানুষ হয়েছে, বাদ দিলাম আমার বয়সের কথা, মানুষ সভ্যতা লাভের পর কেউ কোন দিন দেখেনি একটি মাছ মানুষ হয়েছে বা বাদর বিড়াল হয়েছে। এসব কথার কোন বৈজ্ঞানীক ভিত্তি নেই।
৬৯. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:৫০
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
পুতুল বলেছেন: আমার জ্ঞান খুব সীমিত। কিন্তু আমার মনে হয়, আমাদের প্রয়োজনে আমরা কিছু মানুষকে অন্ধকারে রাখতে চাই, সে জন্য পৃথিবীতে অনেক মানুষিক ভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ নিরক্ষর। তার পেছনে আর্থিক অসংগতি সম্পন্ন সমাজ নয়, সে সমাজের আত্মিক অসংগতি সম্পন্ন সমাজপতিরা দায়ী।

আমি আপনি আমরা সবাই দেব।


আপনার উপরের অভিযোগ একেবারই সত্য। তবে কথা হলো আমি আপনি আমরা সবাই কি দিব? আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা তো অবৈতনিক, কিন্তু সেটার হাল কি? সমাজের ক'জন সেই বিদ্যালয়ে পড়তে যায়। কারণ দরিদ্র পরিবারের বাবা মনে করে সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর চেয়ে মাঠে পাঠালে এক বেলা কাজ করলে ৫০.০০ টাকা আয় করতে পারবে। সেই আয়ের পয়সা দ্বারা তার সংসারে কাজে লাগাতে পারবে। আর শুধু প্রথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা দিয়েই বা তার কোন উপকারে আসবে? ফলে অবৈতনিক হয়েও সে বিদ্যা গ্রহনের সামর্থ নেই দরিদ্র পিতার।

এখন বলতে পারেন তাহলে আপনার কথাটিকে আংশিক সত্য না বলে একেবারেই সত্য বললাম কেন? কারণ সমাজের এই রূপটির রচনা করেছে এক শ্রেনীর স্বার্থন্বেষী মানুষ সভ্যতা বিকাশের পূর্ব থেকেই, যা চলে আসছে বিভিন্ন রূপান্তরের মাধ্যমে। রূপান্তরের মাধ্যমে সভ্যতা বিকাশ লাভ করছে ঠিকই কিন্তু দাসত্বকে ঠিকই শৃংখলিত করে রেখেছে। যতক্ষন না মানুষ দাসত্ব থেকে মুক্ত হতে পারবে না, ততক্ষন মানুষের এ অবস্থার পরিবর্তন কখনই ঘটবে না। আমাদের সমাজপতিরা একটি কথা বলেন, দারিদ্র মুক্ত সমাজ ব্যবস্থা গঠন করতে হবে। জানিনা তারা দারিদ্র মুক্ত সমাজ ব্যবস্থার সঙ্গাটা জানে কিনা, জানলে হয়তো এ কথাটা বলতো না। সত্যিকার অর্থে কি, আমরা অনেক কিছুই বলি, কিন্তু তার প্রকৃত অর্থ যে কি তা জানি না। এজন্যে সক্রেটিস হোমার প্রসঙ্গে একটি কথা বলেছিল, ও (হোমার) যা বলে ও নিজেই তার অর্থ জানে না।

পুতুল বলেছেন: অধিকারের সংজ্ঞা দেয়ার চেষ্টা করেছালাম। আমার পোষ্টে। সেটা পড়ে আপনার কি প্রতিক্রিয়া, জানতে চেয়েছি।

কোন পোষ্টে? জানালে ভালো হতো। আমি অবশ্যই পড়ে তার প্রতিক্রিয়া জানাবো।
৭০. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:১৭
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
পুতুল বলেছেন: অধিকারের সংজ্ঞা দেয়ার চেষ্টা করেছালাম। আমার পোষ্টে। সেটা পড়ে আপনার কি প্রতিক্রিয়া, জানতে চেয়েছি।


পোষ্টা পেয়েছি, পড়লামও, আসলে দিনমজুরের পোষ্টের উত্তর দিতে গিয়ে আগে আপনার এ পোষ্টটি আমার নজরে পরেনি।

অনেকটা, বলা যায় প্রায় কাছি। এ পোষ্ট পড়ে কে বলবে "আমার জ্ঞান খুব সীমিত"। পুতুল, আসলে আপনি কিন্তু "ছুপা রুস্তম"।

যাহোক প্রসঙ্গে আসি। "মৌলিক অধিকার" শব্দদ্বয় পরস্পর বিরোধী দু'টি শব্দ। একটিতে স্বাধীন অস্তিত্ব প্রকাশ পায়, অন্যটিতে পরাধীনতার অস্তিত্ব প্রকাশ পায়। ফলে পরস্পর বিরোধী শব্দদ্বয় দ্বারা গঠিত কোন বিশেষনের রূপদান করা খুবই কঠিন। তবে আমার পক্ষ থেকে আপনার এই পোষ্টের উপসংহার আগামীকাল দিয়ে দিবো। ধন্যবাদ।
৭১. ০৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ২:১৮
পুতুল বলেছেন: আপনার খোলামেলা আলোচনা ভাল লাগল, উপসংহারের অপেক্ষায় রইলাম। একটু দৌরের উপর আছি। কিছু লেখাল ইচ্ছে রইল।
৭২. ০৮ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:৫১
দিনমজুর বলেছেন:
স্বাধীনতা তুমি,

যেটা আপনার কাছে রূপকথা মনে হয়েছে- সেটা কিন্তু বিজ্ঞান। আর- আমি বিবর্তনের কথা তো বলিইনি- সিম্পলি মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তনসমূহই আপনার কাছে রূপকথার অবাস্তব গল্প মনে হলে, আর- সব কিছু আপনার কাছে কি মনে হবে- সেটাই ভাবছি।

আর, আপনি ৪৩ বছরের জীবনে মাছ থেকে মানুষ হওয়া দেখেন নি এটা বলে নিজেকেই হাস্যকর করে তুললেন। সভ্যতার ইতিহাস কত বছরের? ২ হাজার বছর? ৩ হাজার? বড়জোর ৫ হাজার বছর?

আর, আজকের মানুষের ৩০,০০০ বছর, Homo Sapiens এর শুরু ধরা হয় ১ লক্ষ বছর আগে, Homo Sapiens যেখান থেকে এসেছে সেই Homo Neanderthalensis এর ইতিহাস ১.৫০ লক্ষ বছর আগে থেকে ৩০ হাজার বছর পর্যন্ত, তার আগের পর্যায় Homo Erectus এর ইতিহাস ১.৮ মিলিয়ন বছর থেকে প্রায় ৩ লক্ষ বছর পর্যন্ত।.........

আর পেছনে না-ই বা গেলাম, কিন্তু দেখুন মানুষের একেকটা পরিবর্তনই কত দীর্ঘ সময় ধরে হয়েছে। তার তুলনায় আপনার ৪৩ বছরের জীবদ্দশায় মাছ থেকে মানুষ হওয়ার প্রত্যাশা করা নেহায়েৎ বিবর্তন সম্পর্কে না জেনেই অজ্ঞতা প্রসুত প্রশ্ন করা। (এ প্রসঙ্গে আলা মওদুদির আলোচনা মনে পড়ে- আমাদের চিড়িয়াখানা গুলোতে এত বানর, কই একটাকেও কেউ কখনও মানুষ হতে দেখলো না?)।

আপনাকে মুখের ব্যবহার আর হাতের ব্যবহার সংক্রান্ত যেটি বলেছিলাম- সেটির উদাহরণ- যেকোন নৃবিজ্ঞানের বই খুললেই দেখলেই পাবেন- উপরের বর্ণিত বিভিন্ন যুগের মানুষের প্রাপ্ত ফসিলে খুলির আকার-আকৃতিতে দেখা যায় মানুষের চোয়ালের প্রস্থ ধীরে ধীরে কমেছে, এবং খুলির পেছনের অংশ অর্থাৎ ঘিলুর জায়গা বেড়েছে। নৃবিজ্ঞানের বিভিন্ন প্রাচীণ রেসের আলোচনায় ও অ্যানাটমিতে দেখবেন- তাদেরও চোয়ালের প্রস্থ বর্তমান আধুনিক মানুষের তুলনায় বেশি (অবশ্যই তাদেরটা অন্যন্য জীবজন্তুর চেয়ে কম) এবং পেছনের খুলি জায়গা কম (অন্য প্রাণীর তুলনায় বেশি)।
৭৩. ০৮ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৩
দিনমজুর বলেছেন:
অধিকার- স্বাধীনতা- পরাধীনতা এসব নিয়ে পরে কথা বলছি, এখন একটু বেড়ুবো........
৭৪. ০৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:৫১
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
দিনমজুর বলেছেন: আর, আপনি ৪৩ বছরের জীবনে মাছ থেকে মানুষ হওয়া দেখেন নি এটা বলে নিজেকেই হাস্যকর করে তুললেন।


তবে আপনার হাসি দেখে আমার হাসি পায়নি ভাই। কারণ ডারউনিজমের বিবর্তনের মতবাদকে আপনি বিজ্ঞান বললেন বলে। "যে গল্পের শেষ নেই" পড়ে সকলেই ডারউনিজমের বিবর্তনবাদকে বিজ্ঞানই ভাবে। আমি সাইন্সরই ছাত্রছিলাম, আজও কোথাও পেলাম না যে বিবর্তনবাদকে বিজ্ঞান স্বীকৃতি দিয়েছে। এতে আপনার কোন দোষ নেই কারণ Socialogy যেমন Science হয়েছে, Management যেমন Science হয়েছে, Statistic যেমন Science হয়েছে, কিছুদিন পরে শুনা যাবে History আর Literature-ও Science হয়ে যাবে। হয়তো শুনবো Science-এর সঙ্গাটায় change হয়ে গেছে। ভাই, অনুমান নির্ভর কোন তথ্যই বিজ্ঞান না, বিজ্ঞানের সঙ্গা তা বলে না।

কম্পিউটার আগে একটা ঘরের সমান ছিল, এখন হাতের মুঠোয় নিয়ে ঘোরা যায় তাই বলে কম্পিউটারের তৈরীর বিষয়টি তার বেসিক সূত্র থেকে সরে যায়নি, শুধু প্রযুক্তিগত কারনে এর আকার পরিবর্তন হয়েছে মাত্র। অতএব মানুষের ইতিহাস সম্পর্কে যে সব বর্ণনা আপনি এখানে দিয়েছেন তা সবই অনুমান নির্ভর, তা আপনার কাছে বিজ্ঞান বলে মনে হতে পারে, আমার কাছে নয়।

তবে শেষে এসে আমার একটু হাসি পেল এই জন্য যে মওদুদি আমার আগেই আমার কথাটা বলে ফেলে ছিল তা আমার জানা ছিল না।

যাক, অধিকার- স্বাধীন না পারাধীন এর উপর আপনার মন্তব্যের অপেক্ষায় থাকলাম। ধন্যবাদ।
৭৫. ০৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৪০
দিনমজুর বলেছেন:
আমার আগের কমেন্ট গেলো কোথায়?

ঠিক আছে আবার দিচ্ছি, (তবে পুতুলের কাছে অনুরোধ- কোন মন্তব্য মুছে ফেলার সাথে সাথে আওয়াজ দিবেন- যদিও মনে হয় আগের কমেন্ট পুতুলের মুছে ফেলার কথা না)......
৭৬. ০৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৪৮
দিনমজুর বলেছেন:
স্বাধীনতা তুমি,

Theory of evolution বিজ্ঞান নয়- এটা বললে আপনার অজ্ঞতা ও কুসংষ্কারগ্রস্ত মানসিকতাই প্রকাশ পায়, এবং আপনি বিজ্ঞানের ছাত্র এটা উল্লেখ করলে আপনার বিজ্ঞান পাঠ, পাঠ্যক্রম ও পাঠদানকারী শিক্ষককে নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। আপনি যেকোন মেডিক্যল সায়েন্স বা অনুজীব বিদ্যা বা বায়োলজির ছাত্রের পাঠ্যসূচি দেখলেই বুঝতে পারবেন- এটি বিজ্ঞানের কত গুরুত্বপূর্ণ সাবজেক্ট। যাহোক- আপাতত আমি এ বিষয়ে বেশি আলোচনা করছি না, কেননা- সময়াভাব। তবে, বিবর্তনবাদী নামের ব্লগারের সাথে এ নিয়ে আলোচনা করতে পারেন- ওনার কিছু পোস্ট আছে, এবং চতুর্ভুজ বা বিবেকসত্যের পোস্টে তিনি চমৎকার আলোচনা করেছেন- সেগুলোও পড়তে পারেন।

আর, অধিকার নিয়ে আলোচনা পরে করছি- হয়তো কাল করবো, এখন কিছুটা সময় নিয়ে টানাটানিতে আছি।

ভালো থাকবেন।
৭৭. ০৯ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১:৪২
বিবর্তনবাদী বলেছেন: @ স্বাধীনতা তুমি ---

কেমন আছেন? আপনার এই পোস্টটি দেখতে পারি নি। এখানে দেখছি বিবর্তনবাদ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। একটু নাক গলাই, আশা করছি আপনার আলোচকগন কিছু মনে করবেন না।

আপনি বলছেন, "যে গল্পের শেষ নেই" পড়ে সকলেই ডারউনিজমের বিবর্তনবাদকে বিজ্ঞানই ভাবে। আমি সাইন্সরই ছাত্রছিলাম, আজও কোথাও পেলাম না যে বিবর্তনবাদকে বিজ্ঞান স্বীকৃতি দিয়েছে"।

বৈজ্ঞানিক যুক্তিতর্কে না হয় নাই গেলাম, এ নিয়ে আমি নিজেও পোস্ট দিয়েছি, ব্লগার ত্রিভুজ ও বইপাগলের পোস্টে যুক্তিখন্ডন করে মন্তব্যও দিয়েছি। সেই পোস্টগুলোর লিংক দিয়ে যাব খানিক্ষণ পর। এখন সাধারন কিছু উদাহরন দেই।

প্রথমত, বিবর্তনবাদ বিজ্ঞান সমর্থন করে কি না করে তা বুঝবার জন্যে বিজ্ঞানের বই ঘাটাঘাটি না করে, বিশ্বের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েব সাইট ঘাটাঘাটি করুন। দেখবেন সে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইভোলুশোনারি স্টাডিস এর বিভাগ এবং এই গবেষণা সম্পর্কিত ইনস্টিটিউট রয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে কেন???? বিজ্ঞান যাকে স্বীকৃতি দেয় না, তার পেছনে কেন কেন এত পয়সা খরচ।




৭৮. ০৯ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১:৫১
বিবর্তনবাদী বলেছেন: দ্বিতীয়ত, আপনি সায়েন্সে পড়েছেন নিশ্চয়ই জীবের শ্রেণীবিন্যাস। উদ্ভিদ প্রাণী, অণুজীব ইত্যাদি ইত্যাদি। এই সব শ্রেণী বিন্যাসের ভিত্তি কি? আগে যে সব শ্রেণীবিন্যাস পদ্ধতি চালু ছিল সেগুলোর ভিত্তি ছিল, বাহ্যিক আকার আকৃতি, পুষ্টি প্রক্রিয়া ইত্যাদি ।

আধুনিক জীববিজ্ঞানে জীবকে শ্রেণীবিন্যস্ত করা হয় ফাইলোজেনেটিক ক্লাসিফিকেশন সিস্টেমে। অর্থাৎ জীবদের বিবর্তনের ধারার ভিত্তিতে। কোষের রাইবোজোমের আরএনএর (16S rRNA) নিউক্লিয়টাইড সিকুয়েন্স হচ্ছে এই শ্রেণীবিন্যাস পদ্ধতির ইভোলুশনারি ক্রোনোমিটার।

একটু খোজ খবর নিন। দেখবেন বিবর্তনবাদ আজকের বিজ্ঞানে মহাকর্ষ সূত্রে মতই সত্য ও পরিস্কার।
০৯ ই মার্চ, ২০০৮ ভোর ৬:৫৭

লেখক বলেছেন: বিবর্তনবাদী, ক্ষমা করবেন। আমি ভেবেছিলাম আপনি বিবর্তনবাদের বিরোধী!

৭৯. ০৯ ই মার্চ, ২০০৮ ভোর ৬:৫৪
পুতুল বলেছেন: দিনমজুর আমি কোন কমেন্ট মুছিনি। মুছব না। সবাইকে আলোচনার আমন্ত্রন জানিয়ে নিজেই থাকতে পারি না, খারাপ লাগে। তার উপর মন্তব্য মুছব! ভাল করে দেখবে।
আলোচনা চলুক।
৮০. ০৯ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ১১:২২
দিনমজুর বলেছেন:
পুতুল,

আপনার মত আমিও বিবর্তনবাদীকে নিয়ে একই ধরণের ধারণা পোষণ করতাম। কিন্তু ওনার পোস্ট ও বইপাগলের পোস্টে আলোচনা পড়ে ভুল ভেঙ্গেছে। তবে- আমার কাছে তিনি অদ্ভুদ এক ক্যারেক্টার।

আমার দেখা তিনিই প্রথম একজন যিনি আস্তিক বিবর্তনবাদী!!!


(সরি- কমেন্ট মুছা সংক্রান্ত আমার আগের কমেন্টে কিছু মনে করবেন না- কমেন্ট লেখার পর- হারিয়ে গেলে খুব বিরক্ত লাগে- তারই ফলাফল ঐ কমেন্টটি, আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত!)
৮১. ০৯ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ১১:২৮
দিনমজুর বলেছেন:
বিবর্তনবাদী,

আপনাকে আপনার চমৎকার আলোচনার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
আপনার কাছে- বিবর্তনবাদ ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে আরো পোস্ট আশা করছি। আপনার সহজ ভাষায় বিজ্ঞানের কঠিন বিষয়কে তুলে ধরার ক্ষমতা ও সামর্থ্য আছে- আপনি বিজ্ঞান নিয়ে আরো লেখুন।




৮২. ০৯ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ১১:৩০
দিনমজুর বলেছেন:
স্বাধীনতা তুমি,

আশা করি, আপনার কনফিউশন দূর হতে সহায়তা করবে- এসব আলোচনা। আরেকজন ব্লগারের লেখাও আপনি পড়তে পারেন। তিনি জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক- বর্তমান দুনিয়ার শীর্ষ বিজ্ঞানী রিচার্ড ডকিন্সের বাংলা অনুবাদক- দিগন্ত সরকার।

ওনার আলোচনাও আপনাকে হেল্প করতে পারে।
৮৩. ০৯ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:২১
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
বিবর্তনবাদী বলেছেন: কেমন আছেন? আপনার এই পোস্টটি দেখতে পারি নি। এখানে দেখছি বিবর্তনবাদ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। একটু নাক গলাই, আশা করছি আপনার আলোচকগন কিছু মনে করবেন না।


ভাই বিবর্তনবাদী, আমি এখানে ঝগড়া করতে আসি নাই, এসেছি যুক্তি খন্ডন করতে, আশাকরি আপনিও তায় করবেন। আমি দিনমজুরকে বলেছিলাম "যে গল্পের শেষ নেই" পড়ে সকলেই ডারউনিজমের বিবর্তনবাদকে বিজ্ঞানই ভাবে। আমি সাইন্সরই ছাত্রছিলাম, আজও কোথাও পেলাম না যে বিবর্তনবাদকে বিজ্ঞান স্বীকৃতি দিয়েছে"। কোন প্রেক্ষিতে এই উক্তি করেছিলাম তা আপনাকে ভাল করে জানা উচিৎ ছিল। জানি না আপনি ডারউনের "দি ডিসেন্ট অব ম্যান" পরেছেন কিনা। সেখানে সেই প্রথম বিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের সৃষ্টি রহস্য তুলে ধরেছিল। কারণ সেটা ছিল একটা থিওরী, তাতে বৈজ্ঞানিক সমাধান ছিল না। যা ছিল অনুমান ও পরিসংখ্যান ভিত্তিক। যে বিষয় নিয়ে তার জীবদ্দশাতেও তুমুল বিতর্ক ছিল এবং এখনও আছে, ফলে তার এই বিষয়টি এখনও বৈজ্ঞানিক কোন স্বীকৃতি পাইনি। তবে গবেষণা চলছে, তা চলতেই পারে। কারণ মানুষের জানার আগ্রহ তো থাকবে। তবে আপনি যে বিবর্তনে কথা বলছেন সেটা অন্য জিনিস, তা হলো মেন্ডেলের জেনেটিক্স নিয়ে, যার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে এবং যা এখন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারীং এ রূপ নিয়ে সেল ডেভেলপমেন্ট অথাৎ সেল হাই ব্রিডিং, মেডিসিন এবং বাওকেমিষ্ট্রিতে বিরাট সাফল্য অর্জন করেছে। তবে সে ক্ষেত্রে সেলের বিবর্তন ঘটছে, তবে তা একই প্রজাতির মধ্যে, ভিন্ন প্রজাতির মধ্যে নয়। যেমন সেল ডেভেলপ করে উদ্ভিদ বা প্রাণীর উন্নত জাত তৈরী করা হচ্ছে, তবে মাছকে বিড়াল আর বিড়ালকে খরগোস বা বনরকে মানুষ বানানো হচ্ছে না।

বিবর্তনবাদী বলেছেন: যাকে স্বীকৃতি দেয় না, তার পেছনে কেন কেন এত পয়সা খরচ।


কেন করছে এর উত্তর ভাই আমি দিতে পারবো না। তাদেরকে আপনি জিজ্ঞাসা করে দেখতে পারেন এবং অনুরোধ করতে পারেন, "ভাই অযথা ঐ গবেষণায় পয়সা না খরচ করে সে পয়সা দিয়ে গরীবের কর্ম সংস্থান করে দিতে পারেন"। আপনাকে অত্যন্ত ধন্যবাদ পুতুলের এই পেষ্টে আলোচনায় অংশ গ্রহন করার জন্যে, তবে বিষয়বস্তুর উপর আলোচনা করলে খুব খুশি হব।
৮৪. ০৯ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:৩৬
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
দিনমজুর বলেছেন: তবে, বিবর্তনবাদী নামের ব্লগারের সাথে এ নিয়ে আলোচনা করতে পারেন- ওনার কিছু পোস্ট আছে, এবং চতুর্ভুজ বা বিবেকসত্যের পোস্টে তিনি চমৎকার আলোচনা করেছেন- সেগুলোও পড়তে পারেন। আশা করি, আপনার কনফিউশন দূর হতে সহায়তা করবে- এসব আলোচনা। আরেকজন ব্লগারের লেখাও আপনি পড়তে পারেন। তিনি জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক- বর্তমান দুনিয়ার শীর্ষ বিজ্ঞানী রিচার্ড ডকিন্সের বাংলা অনুবাদক- দিগন্ত সরকার।



ভাই আমি একটি মন্তব্য পোষ্ট করেছিলাম বিহংগের পোষ্টে, আপনিও সেখানে পুরোদমে আলোচনা করছেন, সেখানে আমার মন্তব্যটা পরে নিয়েন তাহলে বুঝতে পারবেন অন্যের পোষ্ট পড়ে আমাকে মানুষের বিবর্তন সম্পর্কে জানতে হবেনা। আর আপনি যদি জানতে চান তাহলে ডারউনের "দি ডিসেন্ট অব ম্যান" বইটা পড়ে নিয়েন।

তবে আসল আলোচনায় ফিরে আসলে খুশি হবো। ধন্যবাদ।
৮৫. ০৯ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:৪০
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
ভাই বিবর্তনবাদী, আপনার পোষ্ট এখনও পড়ার সৌভাগ্য হয়নি, কারণ একমাস হয়েছে মাত্র এই ব্লগে, তাই সময় করে উঠতে পারছিনা সকলের পোষ্টে যেতে। আশাকরি খুব তাড়াতাড়ি পড়ে মন্তব্য দিব। ধন্যবাদ।
৮৬. ১০ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১:২৩
বিবর্তনবাদী বলেছেন: @ স্বাধীনতা তুমি - - - কি বিরক্তিকর চিন্তা করুন। লম্বা একটা মন্তব্য লিখলাম। সেভ করতে গিয়ে দেখি সেভ হল না। এখন আর লিখতে ইচ্ছা করছে না। নিচের লিংকগুলো দেখতে পারেন।


বিবর্তনবাদের সরল ব্যাখ্যা

বিবর্তনের ভ্রান্ত দর্শন - ১

ত্রিভুজের পোস্টের উত্তরে
৮৭. ১০ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:২৬
অনিশ্চিত বলেছেন: এই আলোচনাটায় অংশ নেওয়ার ইচ্ছে ছিলো। কিন্তু এতোটাই ব্যস্ত যে, গুছিয়ে মন্তব্য করার সময় পাচ্ছি না। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে হয়তো করতে পারবো। তবে আলোচনাটি উপভোগ করছি। প্রিন্ট নিয়ে বাসায় গিয়ে পড়তে হচ্ছে। আলোচনাসংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ।
১০ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৫২

লেখক বলেছেন: সময় হলে আশা করি আলোচনায় অংশ নেবেন।
আলোচনা শোনার জন্য ধন্যবাদ।

৮৮. ১৩ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:১৩
দিনমজুর বলেছেন:
পুতুল,

তীরন্দাজের পোস্ট থেকে খবরটি পেলাম।
ঐ পোস্ট দেখেই লগ ইন করলাম।


আপনি এবং শুভ উভয়কেই অভিনন্দন, আপনাদের প্রতি শুভকামনা, অনেক অনেক ভালো থাকবেন............
১৭ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৪

লেখক বলেছেন: দিনমজুর ভাই, অনেক অনেক ধন্যবাদ।

৮৯. ১৩ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:১৬
দিনমজুর বলেছেন:
সময় পাচ্ছি না,
আগামিকাল সম্ভব এখানকার আলোচনাটি আবার কন্টিনিউ করবো.......

তবে, আগে বিহংগের পোস্টে ঢু মারবো, তারপরে অনিশ্চিতের পোস্টে, এবং তারপরে এখানে....... সব মিলিয়ে কালও এখানে কথা বলতে পারবো কি-না জানি না..... সরি...... @স্বাধীনতা তুমি
৯০. ২১ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:১৪
পুতুল বলেছেন: প্রিয় আলোচক বন্ধুরা, বিয়ের পিড়িতে বসে থাকায় আপনাদের সাথে যোগ দিতে পারিনি। আপনারা এবং প্রিয় পাঠক বৃন্দ আপনারা পুতুল দম্পতির প্রাণঢালা শুভেচ্ছা নিন।

মৌলিক অধিকারের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিবর্তণবাদ পযর্ন্ত আসতে হল। যদিও মুল আচোচনার বিষয় নয়, তথাপি দুটো কথা ডারউনের পক্ষে না বলে ডারইনের প্রতি নিজের ঋণ শোধ হচ্ছে না!

জার্মানের একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেচার সিলেকশান নিয়ে কাজ করেছে এমন একটা গ্রুপের মেম্বার ছিলাম। সে অবিজ্ঞতায় বলতে পারি; ডারইন পালের জাহাজে করে বিভিন্ন জায়গা ঘুড়ে কেবল অনুমান করে এবং তার সময়ে কিছু আলামত নিয়ে বিবর্তণবাদের তত্বটি প্রথম হাজির করেন। এ কারণে তাকে তখনকার চর্চের কাঠমোল্লাদের হাতে অনেক নিগৃহীত হতে হয়।
ওয়াসন এবং ক্লার্ক এইতো সেদিন (নব্বইয়ের দশকে? বিবর্তণবাদী কোন ভুল থাকলে দয়া করে শুধরে দেবেন) ডিএনএ এনালাইসের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।

এখন আমরা খুব সহজেই কোন একটা ডিএনএ সিকোয়েন্স সকালে শুরু করে বিকালে এনালাইসের রেজাল্ট দেখে বাড়ী ফিরতে পারি। এত সুবিধা ডারইন পাননি। অথচ নেচারল সিলেকসনের ধারনাটা দিয়ে গেছেন।

আমরা জানি পৃথিবীর প্রাচীনতম উদ্ভীদ আরাবিডপসিস, আর প্রাচীনতম প্রাণী ড্রসফিলা।

এদের জেনেটিক ভেরিয়েসন নির্নয় করতে পারি। আর ভেবে ভেবে অবাক হই, কত কম ইনফরমেশন নিয়ে ডারইন বিবর্তনবাদ উপহার দিয়ে গেছেন! আজকের (টেকনিক্যাল) আলোকে হিসেব কষে ডারইনের ধারনাকে বিজ্ঞান হয়তো বলা যাবে না। কিন্তু এত কম ইনফরমেশন নিয়ে ডারইন যা বলেগেছেন, এত নতুন এবং আধুনিক টেকনিক দিয়ে আমরা শুধু তা প্রমান করি আর মুগ্ধ হই।

বায়োজী মেডিসিন বা প্রাণরসায়ের সব ছাত্র যারা ডিএনএ সম্পর্কে সম্যাক ধারণাপোষন করেন, তারা ডারইনকে বা তার ধারণাকে কখনই ছোট করে দেখতে পারেন না! বরং মনে করেন ডারইন সত্যিই বিবর্তন বাদের জনক।

আমি এ নিয়ে আর কথা বাড়াতে চাইনা। আশা করি আলোচকবৃন্দ এবার মুল আলোচনায় ফিরে আসবেন। "মৌলিক" "অধিকার" বলতে কি বুঝি! তার চেয়ে বেশী গুরুত্ব দিতে চাই; আদো আমাদের দেশে নিরক্ষরতা দূর করা সম্ভব কিনা বা বাধ্যতামুলক প্রাথমিক বা মাধ্যমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন সম্ভব কিনা, তার দিকে।

আপনাদের মূল্যবান মতামতের অপেক্ষায় রইলাম।
সবাইকে ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ১.১৯৯৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
_সন্ধ্যপ্রদীপ
"চারিদিকে শ্বাপদের পদচিন্হ
মুক্তির বারতা আর সবুজের মাঠে
কন্কাল আর অস্থি যেন আজ
সভ্যতার স্মারক ।
নর্দমার কীটে আর গন্ধে
কীইবা যায় আসে...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই