ট্রেকিং সিরিজঃ অপারেশন কির্সতং
তিন…।
ঢাকার সেরা কলেজ থেকে পাশ করে সদ্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে আসিফ। তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার সখ কত টুকু সেটা বোধ হয় সে নিজেও ঠিকঠাক জানে না। কিন্তু তার সিজিপিএ ঈর্ষা করার মত। সারাদিন রাত আসিফ ভার্চুয়াল জগতে বিচরন করে। বাংলা ব্লগোস্ফিয়ার অথবা হালের ক্রেজ ফেসবুক সবখানে তার ব্যাপক পরিচিতি। জীবনে বোধ হয় তার একটাই প্যাসন- বাংলা সিনেমা। বাংলা সিনেমার এমন একনিষ্ঠ ভক্ত আর দর্শক বোধ হয় আর জন্ম নিবে না। এফডিসি থেকে সিনেমা মুক্তি পাবার সময় টুকুও পায় না, আসিফের গলায় সেই গানের সুর খেলা করে। কেউ যদি জিজ্ঞেস করে আসিফ তোমার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি? জীবনে কি হতে চাও? তার সোজা সাপটা উত্তর- আমি হব জ্যাক অফ অল ট্রেড, মাস্টার অফ আন। কোন এক বিষয়ে পারদর্শী হওয়া টা খুব বোরিং ব্যাপার। তার চেয়ে আমি পৃথিবীর সব কিছুই ট্রাই করে মরে যেতে চাই।ব্লগে গুতাগুতি করতে করতেই সে ট্রেকিং এর ব্যপারে আগ্রহী হয়ে উঠে। বাংলাদেশেও যে ট্রেকিং সম্ভব সেটা তার ধারনা তেই ছিল না। এডভেঞ্চার ব্লগারদের পোস্ট আর দূর্দান্ত ছবি তাকে মোহবিষ্ট করে ফেলে। ট্রেকিং করার চেয়ে ট্রেকারদের জীবন তাকে বেশী আকৃষ্ট করে। ট্রেকিং করার সময় তারা কি করে, কি খায়, কিভাবে কথা বলে এটা নিয়ে সে গবেষনা শুরু করে। কিন্তু যতই দেখে ততই সে অবাক হয়। তার মনে হতে থাকে ট্রেকার রা খুব ভাব গম্ভীর, সবসময় ভাব নিয়ে থাকে, আর চূড়ান্ত রকমের আনফ্রেন্ডলি। তাই প্র্যাক্টিকালি ট্রেকিং করতে কেমন লাগে সেটা জানার আগ্রহ তার দিন দিন বাড়ছিল।একটি ট্রেকিং গ্রুপের সাথে পাহাড়ে যাওয়ার জন্য অনেকদিন থেকেই সে সুযোগ খুঁজছিল । জুকারবার্গের কল্যানে আসিফ একদিন সেই সুযোগ টাও পেয়ে যায়। হঠাৎ একদিন ফেসবুকে একটি এক্সপিডিশনের ইভেন্ট পায়। আগে পিছে কোন কিছু চিন্তা না করেই সে ঝাঁপিয়ে পরে। যেভাবেই হোক তাকে এই ইভেন্টে যেতেই হবে। ইভেন্টের ওয়ালে তার সাথে পরিচয় হয় মৃদুলের। আসিফের এমন উৎসাহ দেখে মৃদুল তাকে একদিন শাহবাগ আসতে বলে। মনে একধরনের ভয় নিয়েই সে শাহবাগ যায়। না জানি তারা কেমন মানুষ। আগে থেকে কোন ধরনের পরিচয় নাই। কেমন ব্যবহার করবে আল্লাহই জানে। আমাকে যদি না নেয়? ইত্যাদি প্রশ্ন মাথায় নিয়েই আসিফ চলে আসে এক্সপিডিশনের টীম মিটিং এ। একে একে তার সাথে পরিচয় হয় ফয়সাল, মুগ্ধ, মৃদুল, কথন আর দীপের সাথে।
আসিফকে দেখেই ফয়সাল বলে বসে, আসিফ তুমি তো যেতে পারবে না।
-কেন ভাই? পারব না কেন?
-তোমার মাথায় তো বুদ্ধি নাই।
-ভাইয়া বুদ্ধি নাই মানে?
-তুমি জানো না লম্বা মানুষের বুদ্ধি হাঁটুতে থাকে?
-হাহাহা। আসলেই ভাই। কি করার আছে বলেন। আল্লাহ বানাইসে। আর ভাই শুকরিয়া করেন, এটলিস্ট আপনার বুদ্ধি তো মাথায় আছে।মজা করে বলল আসিফ।
আসিফের বলার ঢং এ সবাই একসাথে হেসে উঠল।
মাঝখান থেকে কথন বলল, লম্বা মানুষের সাথে ট্রেক করলে কমপ্লেক্স কাজ করে। গটগট করে হাঁটা ধরবে। ওরে নেয়া যাবে না। গ্রুপ ফটো তুলতেও কেমন অস্বস্থি লাগবে চিন্তা করে দেখেন। আমরা ওর হাঁটুর নীচে পইরা থাকুম।
সবার কথা শুনে আসিফে মন থেকে অনেক বড় একটা পাথর নেমে যায়। মনে মনে ভাবে, এরা দেখি আমার মত একই প্রজাতির।সবার সাথে মানিয়ে নিতে তার একদমই সময় লাগল না। কিছুক্ষনের মধ্যেই সে সবার মাঝে একজন হয়ে গেল। এক্সপিডিশনের প্ল্যান শুনে আসিফ আরও উত্তেজিত হয়ে পরে। বান্দারবানের দূর্গম অঞ্চলে ট্রেকিং এর স্বপ্ন নিয়ে সে বাসায় ফিরে যায়।খুশিতে ডগমগ করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত পাহাড়ে যাচ্ছে সে। এখন একটাই প্রশ্ন তার মাথায় ভিনভিন করছিল- একটা ভালো ব্যাকপ্যাক কই পাই?
----------------
গত দুই রাত থেকে রাহাতের চোখে ঘুম নেই। এক মনে সে স্যাটেলাইট ইমেজ দেখে যাচ্ছে। পাশে আবার ৬ফিট বাই ৬ ফিট রাশান টপোগ্রাফিক ম্যাপ।মন দিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সে ম্যাপ দেখে যাচ্ছে আর যথারীতি তার ঠোঁটে জ্বলছে এক্ টার পর একটা বেনসন। পাহাড়ের লোকজন কোন ট্রেইল ব্যবহার করে, আশেপাশে পানির কোন উৎস আছে কিনা, কোথায় কোথায় জনবসতি আছে, রুটে কোন কোন পাড়া পরতে পারে, কোন রুটে গেলে সব চেয়ে ভালো হয়, কোথাও খাড়া ঢাল আছে কিনা ইত্যাদি খুঁটিনাটি মাথায় রেখে পিক সামিটের জন্য সে অনেক গুলো সম্ভাব্য রাস্তা বের করল। এই কাজ টা রাহাতের অসম্ভব প্রিয়। সব কয়টা রুট প্ল্যান সে কথন আর মৃদুলকে ইমেইল করে দেয়।
অনেকদিন পর বান্দারবনের কোন পাহাড় তাকে এমন ভাবে নাড়া দিল।পাহাড় টার আকর্ষনীয় গঠন, অবস্থান আর দূর্গমতা রাহাতের ঘুমন্ত নেশাকে জাগিয়ে দিয়েছে। অনেকদিন হয়ে গেছে সে পাহাড়ে ট্রেকিং করে না। জীবন-সংসারের বাস্তবতায় আজ সে নিজের স্বপ্ন থেকে অনেক অনেক দূরে। পাহাড়-পর্বত-ঝিড়ির পানি-ঝর্না-মেঘ এক সময় যাকে পাগল করে দিত। আজ সে পাহাড়ে যাওয়ার সুযোগ টুকুও করে উঠতে পারে না। এডভেঞ্চার আর পাহাড়ের নেশায় উম্মাদ রাহাত আজ অনেকদিন পর মনের মত কাজ করতে পেরে উৎফুল্ল।
ক্লান্ত রাহাত পিসি অফ করে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ায়। শান্তির বাতাস বুক ভরে টেনে নেয়। ফস করে একটা দিয়াশলাই এর কাঠি জ্বলে উঠে রাহাতের মুখের সামনে। কেউ যদি তখন সামনে থাকত তাহলে দেখতে পেত পাহাড়ের নেশায় বুদ এক যুবকের তৃপ্তির হাসি। অনেকদিন পর পাহাড় তাকে ডাক দিয়েছে ।
-------------------
বান্দারবানে ট্রেকিং করার জন্য সরকারী চাকরীর মুখে যে ঝাঁটা মারতেও রাজী তার নাম মুগ্ধ। পেশায় একজন দক্ষ ডাক্তার।শুধু ডাক্তার বললে মনে হয় কম বলা হয়, মুগ্ধ একজন দক্ষ মেটাল (m/) ডাক্তার।লম্বা লম্বা চুল, তার চেয়েও লম্বা তার দাঁড়ি। সেই দাঁড়িতে আবার বেনী।ঢোলা জিন্স আর ফতুয়া, হাতে বালা, কোমর থেকে ঝুলে থাকা লোহার শিকল মাটিয়ে গড়িয়ে সে মেডিকেলে ক্লাস করতে যেত। স্যারদের ইগোতে একটি জলজ্যান্ত পেইন এর নাম ছিল মুগ্ধ।কতভাবে তাকে লাইনে আনার চেষ্টা করা হয়েছে, আজীবন আদুভাই করে রাখার হুমকি দেয়া হয়েছে, কিন্তু কথায় আছে না কুকুরের লেজ কোন্ দিন সোজা হয় না। আল্লাহ ভীরু, অতিরিক্ত মেধা নিয়ে জন্ম নেয়া মুগ্ধকে তাই থামিয়ে রাখা যায় নি।সময়মত এমবিবিএস পাস করে বাইরে থেকে রাফ এন্ড টাফ ইয়ো মুগ্ধ, যার মুখে কিছুই আঁটকায় না।ছোট বড় সবার সাথেই তার সমান খাতির। অপরদিকে সে প্রচন্ড খোদা ভীরু। কোরানের সব বিধান অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করার চেষ্টা। যত জরুরী কাজ থাকুক না কেন ওয়াক্ত হয়ে গেলে সে নামাজে যাবেই। নামাজের সময় নিয়ে মাঝে মাঝেই মুগ্ধ অনেক হাইপার হয়ে যায়। এটা নিয়ে একদিন রাইন তাকে প্রশ্ন করেছিল,
মুগ্ধ ভাই, ধরেন আপনি ওটি তে খুব ক্রিটিকাল একটা অপারেশন করছেন। যা ভেবেছিলেন স্বাভাবিকের তুলনায় সময় তার চাইতে একটু বেশীই লাগল। লাগতে পারে না?
মুগ্ধ বলল, অবশ্যই পারে। রোগীর কন্ডিশন খারাপ হইয়া যাইতে পারে। অনেক ফ্যক্টরের উপর আসলে ডিপেন্ড করে। কিল্লাই?
মুচকি হেসে রাইন আবার প্রশ্ন করে, তখন যদি নামাজ এর সময় শুরু হয়ে শেষ হয়ে যেতে থাকে কি করবেন আপনি? রোগীকে বেডে রেখে নামাজ আদায় করবেন?
তোমার কাছ থেইকা এমুন লেইম প্রশ্ন আমি আশা করি নাই রাইন। মুগ্ধ বলল,
তবুও হুনো, আল্লাহ তো সবই দেখতাসে। কি করতাসি না করতাসি। জরুরী কোন কাম করতাসি নাকি হুদাই লাগাইতাসি, সবই আল্লাহ দেখাতাসে। আর কারো জীবন বাঁচানো টাও ইবাদত।আগে অপারেসন শেশ কোরুম, তারপর কাজা পইরা নিমু। আল্লাহ নিশ্চয়ই মাফ করব বুঝলা।
আপনার কথা আমি বুঝতে পারছি। তবে আপনি আমার প্রশ্নটা বুঝেন নাই মনে হয়।মানুষের জীবন বাঁচানো টা বড় ইবাদত সেটা জানি আর আপনিও তাই করবেন। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল, নামাজের ওয়াক্ত নিয়ে আপনি যে এতটা বিচলিত হয়ে যান, কাউকে অপারেট করার সময় সেটা কি আপনার অপারেশন কে এফেক্ট করবে না? একশত ভাগ একাগ্রতার সাথে কি আপনি অপারেট করতে পারবেন? মন কি একটুও বিচলিত হবে না?
যতই কনফিডেন্টলি মুগ্ধ ‘না’ বলুক না কেন। সবাই বুঝতে পারল প্রশ্নটা তাকে ভাবাচ্ছে।
চ্যালেঞ্জ মুগ্ধর নেশা। যেখানেই সে চ্যালেঞ্জ পাবে মনপ্রান দিয়ে ঝাঁপিয়ে পরবে।কুইজ, পাজল, এনক্রিপসন আর সব ধরনের ফিজিক্যাল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তার প্যাশন। কেউ একজন চ্যালেঞ্জ করেছিল সে কোনদিন বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে সরকারী চাকরীতে সুযোগ পাবে না। চাকরী নিয়ে মনে প্রচন্ড বিতৃষ্ণা থাকার পরেও শুধু মাত্র জিদের বশে সে পরীক্ষা দেয় আর সুযোগ পেয়ে যায়।ধার্মিক মুগ্ধ সরকারী মার-প্যাচ আর ঘুষ বানিজ্যের মাঝে নিজেকে আবিষ্কার করে। দু দিন পর পর তাকে পিং পং বলের মত একবার এই উপজেলা আর
একবার ঐ উপজেলায় বদলি করতে লাগল। চাকরী বড় না নিজের আত্মসম্মান- মানসিক টানাপোড়নের এমন সময়ে মুগ্ধ এই এক্সপিডিশনের সুযোগ টা হাত ছাড়া করতে চাইল না। সোজা সিভিল সার্জনের অফিসে ঢুকে বলল, করলাম না তোমার বালের চাকরী। মুড়ি খাও।রাতের বাসেই সে ঢাকার পথে রওনা দিল…
————————————————-
পাক্কা এথলিটদের মত লম্বা লম্বা হাত-পা, মাথায় ঝাকড়া চুলের রাইন চৌধুরী ঢাকার ফুটবল জগতের একজন দুঁদে তারকা।সেন্টার মিড ফিল্ডে সে প্রতিপক্ষের জন্য ত্রাস। ফুটবল যার নেশা।ধ্যান-জ্ঞানের যার বাস করে আব্রাহামোভিচ এর চেলসি। তার মনে এক্টাই আফসোস, শরীরের রক্ত কেন লাল হল? লাল তো ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের রঙ, শয়তানের রঙ।রক্ত নীল হলে কি এমন ক্ষতি হত?? মাঝে মাঝেই রাইন খ্যাপ মেরে আসে আজ সিলেট তো কাল কুমিল্লা। রাইন চৌধুরী যেখানে, খ্যাচ থাকবে সেখানে। ঝগড়া-বিবাদের এডভাঞ্চারাস টার্ম হচ্ছে খ্যাচ। সব কথাই সে এমন গম্ভীর আর রাগত স্বরে ভাবে বলে যে প্রথম সুযোগেই তার শ্রোতা ভড়কে যায়।ছোট হোক বড় হোক সব বিষয়েই তার মতামত খুব সিরিয়াসলি সবার সামনে তুলে ধরে।অপরিচিতদের সাথে সে এমন সিরিয়াস ভাবে তর্ক করে যে তারা ঘাবড়ে যায়। অনেকেই তাকে ভুল বুঝে উলটা পালটা কথা বলে। আর এটাই রাইন খুব উপভোগ করে। খুব মজা পায় সে তর্ক করে। ব্রিটিশ আমলে চৌধুরী সাহেবের জন্ম হলে নির্ঘাত ‘তর্করত্ন’ বা ‘তর্কবাগীশ’ উপাধী বগলদাবা করে নিতে পারত। রাইনের একটাই স্বপ্ন- একটি কালজয়ী চলচিত্র বানানো।যেভাবেই হোক একদিন তার এই স্বপ্ন সে সত্যি করবেই। কারন, চৌধুরীদের স্বপ্ন কখনো মিথ্যা হয় না।
এরাকনোফোবিয়ায় (মাকড়শাভীতি) অস্থির রাইন পাহাড়ে যায় এক্টাই কারনে, এক পাহাড় চূঁড়ায় উঠে দাঁড়ালে সামনে আরো উঁচু পাহাড় চূঁড়া দেখা যায়। তখন আবার সেই পাহাড়ে যাওয়ার ডাক আসে। চারিদিকে বিশাল বিশাল পাহাড় দেখে তার বুক গর্বে ফুলে উঠে। পাহাড় গুলোকে ঠিক নিজের মত মনে হয়।নিজের মনে সে প্রতিধ্বনি শুনতে পায়- চৌধুরী বিশাল, চৌধুরী গর্ব, চৌধুরী সম্পদশালী…
আবার উঁচু পাহাড় চুঁড়া, অপরিচিত ট্রেইল, গর্বে ফুলে উঠা বুক- এই এক্সপিডিশনে না যাবার তো কোনই কারন থাকতে পারেনা।স্বভাবমত রাইন জানিয়ে দিল, চৌধুরী যাচ্ছে। আরাম আয়েশের যথাযত ব্যবস্থা করে রাখো। তা না হলে কিন্তু খেলব না…।
---------------------
হিমালয় কি বিশাল, কি ভয়ঙ্কর, কি সুন্দর। এই বিরাট পর্বতের সামনে আমি কতই না তুচ্ছ, কত নগন্য আমি। পাহাড় চূঁড়ায় সূর্যালোক যখন ঝলসে উঠে তখন খুব ঈর্ষা হয়। পর্বতের এই অহম আমার কাছে নিষ্ঠুর মনে হয়। ইচ্ছা করে তার উপর দাঁড়াই।তার সাথে মিশে যাই, তার বিশালত্বের মাঝে নিজেকে বিলীন করে দেই। তবে যদি এই তুচ্ছ আমি চোখ দিয়ে দেখতে পারি আমার এই দৃষ্টির নীচে সমস্ত জগৎ।
প্রথমবার চোখের সামনে শ্বেত-শুভ্র হিমালয় দেখে এমন সব খাপছাড়া চিন্তায় থম মেরে যায় কথন।ভয়ঙ্কর কাঞ্চনঞ্জঙ্ঘার সম্মোহনী শক্তি কথন কে চোখ ফেরাতে দেয় না। দুপুর থেকে সময় গড়িয়ে পাহাড়ের খাঁজে সন্ধ্যা নেমে আসে তবুও সে দৃষ্টি ফেরাতে পারে না।
সেই যে পাহাড়ের ভুত কথনের মাথায় চেপে বসল সেটা আর ছাড়ার নাম নেয় না। হিমালয় থেকে বান্দারবানের সবুজ-দূর্গম-পাহাড়ের সৌন্দর্য তাকে বিমোহিত করে ফেলে। সব কিছু ছেড়ে সে পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুড়ে বেড়ায়। রক্তের প্রতিটি কণিকায় এই ভয়ঙ্কর পাহাড়ের মাদক ছড়িয়ে পরে।দিন রাত চব্বিশ ঘন্টা সে এই ভয়ঙ্কর নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। কয়েকদিনের মধ্যেই তার জীবন আমূল পালটে যায়।জীবন সম্পর্কে এতদিনের চিরাচরিত ভাবনা গুলো পুরোপুরি পালটে যায়। মন থেকেই সে বিদ্রোহ করে উঠে।
প্রতিবাদ-প্রতিরোধ-প্রতিশোধ কমরেড
ভেঙে ফেল, ভেঙে ফেল ব্যারিকেড…।
শান্তিপূর্ণ- স্বস্থিময়-নিশ্চিত আর নিরাপদ জীবন!!!
শুনতেই কেমন বোরিং লাগে।এর চেয়ে তো মরে যাওয়া ভালো। এমন জীবন তার কাছে রোবটিক, বৈচিত্রহীন, আর নির্মম মনে হয়।
এর থেকে পাহাড়ের সেই জমে বরফ, তার মাঝের অজানা পথ, উঁচু উঁচু পাহাড়ী ঝর্না, পদে পদে বিপদ তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। এইসব বিপদ সে খুব ভয় পায়। আর ভয় পায় দেখেই সে এই জীবন বেছে নিয়েছে।
তার কথায়, ভয়কে যদি জয়ই না করতে পারলাম তাহলে আমি জন্মালাম কেন?
পাহাড়ের জন্য যে সবকিছু ত্যাগ করতে পারে তাকে তো এই জায়গায় যেতেই হবে। আর এই অদ্ভুতুড়ে পাহাড় তো কথন কে সেই তিন বছর আগে থেকে ডাকছে। এতদিন পর সুযোগ এসেছে তার কাছে।
অনেক্ষন ধরে রাহাতের মেইল গুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে কথন।যত দেখছে ততই তার অস্থিরতা বাড়ছে। শরীরের এড্রিনালিন তাকে পাগল করে দিচ্ছে। এই কংক্রিটের শহরে আর মন টিকছে না।সে আর থাকতে না পেরে রাত দুটায় ফোন করল রাইন কে।
চলবে....
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১০:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



