দিনের শেষে নানান রকম জীবাণু আর ধূলোবালি মাথায় করে আমরা যখন বাসায় ফিরে আসি, কৃত্তিম বরষা, অর্থাৎ শাওয়ারের নিচে দাঁড়ানোটা তখন বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে। ক্লান্ত শরীরটা পানির ধারার ভিজে উঠতেই মনে হয় সব অবসাদ যেন কেটে যাচ্ছে, শরীরে ফিরে আসছে প্রাণ।
আজ হঠাৎই মনে হল, বৃষ্টি যেমন পৃথিবীর বুক থেকে সব পাপ-পঙ্কিলতা দূর করে পৃথিবীকে সুজলা সুফলা করে তোলে, তেমন মানুষেরও যদি পাপ ধুয়ে ফেলার ব্যবস্থা থাকত?
ব্যপারটা এমন হবে, মহাপ্রাণ বছরের কোন এক পবিত্র দিনে তার সৃষ্টির উপর বর্ষণ করবেন অপার বারিধারা। আকাশের নির্দিষ্ট একটি স্থান থেকে উৎসরিত হবে ধূসর ঘন মেঘ, সে মেঘ থেকে শুরু হবে বর্ষণ। সেদিন পাপ মুক্তি প্রাপ্তিতে উৎসাহীরা জড়ো হবে পৃথিবীর সেই ঐশ্বরিক স্থানে, শৃংখলিত ভাবে একত্রিত হবে। সুনিয়ন্ত্রিত ভাবে শুরু হবে বর্ষণ। পাপীরা দুহাত বাড়াবে, ঋজু হয়ে মাথা পেতে নেবে বারিধারা। সে জল ধীরে ধীরে শরীরে প্রবেশ করবে। সমস্ত পাপের বীজ নষ্ট করে ফেলবে। কাজটা হয়ত মোটেও সহজ হবে না। শরীরের চামড়ায় ফাটল ধরবে, লোহিত ধারা বইবে সে ফাটল দিয়ে। মনে হবে সহস্র সূচ যেন বিদ্ধ করছে শরীর কে। ধীরে ধীরে বর্ষণ শেষ হবে... ক্লান্ত অবসন্ন মানুষ রুধিরাক্ত শরীরটাকে টেনে নিয়ে যাবে ঘুমবনের মধ্যে দিয়ে, হিমঘরে। সেখানে তার জন্য পাতা থাকবে কংক্রিটের শয্যা। ঘুমিয়ে পড়বে সে। যখন ঘুম থেকে উঠবে, নিজেকে সে আবিষ্কার করবে অজস্র ফুলে শোভিত, পাখির কোলাহলে মুখরিত অন্য কোথাও, শিশুর মত নিষ্পাপ। সেদিনের পর থেকে সে চাইলেও আর কখনও মিথ্যা বলতে পারবে না, চাইলেও কোন পাপ করতে পারবেনা।
পাপশুন্য অবস্থায় মানুষ কি করে, জানার খুব ইচ্ছে আমার। কামনাহীন, বাসনাহীন হলে মানুষ কি করে? পৃথিবীর সবাই যদি পাপশুন্য হয়ে যায়, তাহলে কি হবে? আধারের নির্জনতা, না আলোর তীব্রতা, কোনটা বেশি সহনীয়?
কোথা থেকে যেন বাউলের কন্ঠে গানের সুর ভেসে আসে। অন্ধকার রাতে দোতারার সুরে মোহাবিষ্ট হই। আকাশে সপ্তর্ষি জ্বলতে থাকে, আমি সুরের মায়ায় হারাতে থাকি, আমি ভিজতে থাকি।
জলের নিচে আমার নিজের হাত দুটিই কিভাবে কিভাবে যেন নির্বাণপ্রার্থী মানুষের হাত হয়ে যায়, দুহাত বাড়িয়ে আমি তৃষ্ণার্তের মত সে জল শুষে নিতে থাকি।
রাত বাড়তে থাকে।
(এটা কোন গল্প নয়।)
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ১১:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



