somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্ষিত গণতন্ত্রের ঘায়ে প্রথম আলোর নুণের ছিঁটা

০৯ ই জুলাই, ২০১১ রাত ১১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সুসময়ে বন্ধু বটে অনেকেই হয়, অসময়ে হায় হায় কেউ কারো নয়। দু:সময়ের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু। আর এ বন্ধুত্বের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা। প্রথম আলো পত্রিকাটি প্রথম থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মূখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে। তবে অন্য সব দলীয় পত্রিকা থেকে এ পত্রিকাটির ভিন্নতা এখানেই যে এটি সার্বক্ষণিক দলীয় প্রচার প্রচারণা চালানোর পক্ষপাতি নয় বরং মোক্ষম সময়ে আঘাত করার পক্ষপাতি। কারো পক্ষে সার্বক্ষণিক বকবক করে গেলে সবাই তাকে চাটুকার কিংবা দালাল ভাবে, আবার সার্বক্ষণিক একটা নিরপেক্ষ নিরপেক্ষ ভাব নিয়ে কারো পক্ষে কথা বললে সবাই তাকে সত্যিজ্ঞান করে। প্রথম আলো পত্রিকাটি বিজ্ঞতার সাথে সে দায়িত্বটিই যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছে। তারা জানে কি করে পাঠক ধরে রাখতে হয় এবং কিভাবে পাঠককে বিভ্রান্ত করতে হয়।

সংসদে বিরোধী দলীয় চীপ হুইপ জয়নুল আবদীন ফারুককে সংসদ ভবনের সামনে ছাত্রলীগ থেকে বাছাই করে পুলিশে নিয়োগ দেওয়া সন্ত্রাসীদের দ্বারা পৈশাচিক নির্মমতায় পিটিয় পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়, এটি সকল পাঠকের জানা। কারন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কল্যাণে তারা ঘটনাটি চাক্ষুস করেছেন। পেটাতে পেটাতে ফারুকের টিশার্ট খুলে ফেলা হয় এবং এক পর্যায় তার প্যান্টও অর্ধেকটা খুলে প্রায় দিগম্বর হয়ে যান। রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন ফারুক দিগম্বর হয়নি বরং গণতন্ত্রকেই ন্যাংটো করে ধর্ষণ করা হয়েছে। অথচ এমন একটি ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা দুটো বিভ্রান্তিকর ছবি প্রকাশ করে সাংবাদিক সমাজের মাথা লজ্জায় হেট করে দিয়েছে। পুলিশের নির্যাতন থেকে বাঁচতে ছুটে চলা আহত ফারুকের ব্যান্ডেজ টেনে তাকে থামাতে চেষ্টা করে হিংস্র রক্ষীবাহিনী। এ মুহুর্তের একটি স্নাপ তুলে নেয় প্র্রথম আলো, পুলিশের টানে উর্ধ্বে ওঠা মোবাইল ক্যামেরাসহ হাতটিকে ঢিল ছোড়ার ভঙ্গি বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলে। পরে, ব্যা্ন্ডেজ খুলে পুলিশ ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলে আরো একটি স্ন্যাপ নেয়া হয়, ক্যাপশন করা হয় “বাধা দিতে গিয়ে তার ধাক্কায় পড়ে যান পুলিশ র্কমর্কতা”। কি নির্লজ্জ মিথ্যাচার, মিথ্যের পক্ষে কি অসভ্য অবস্থান। ধর্ষিত গণতন্ত্রের ঘায়ে নুনের ছিটা দিয়ে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকাটি হলুদ সাংবাদিকতায় যে নিকৃষ্ট নজির স্থাপন করলো তা সারা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমের জন্যই লজ্জার।

পত্রিকার কাটতি বাড়াতে সরকারের দোষ তুলে ধরতে হয় এটাই নিয়ম। নানাবিধ নাগরিক যন্ত্রণায় বিতশ্রদ্ধ সাধারণ মানুষ সরকার বিরোধী কথাবার্তাই পত্রিকায় দেখতে ভালোবাসে। প্রথম আলো পত্রিকা তাদের পাঠকপ্রিয়তা ধরে রাখতে সে পথই অনুসরণ করে। এতে এক সাথে দুটো কাজ হয়, পত্রিকার গ্রহণযোগ্যতা ও নিরপেক্ষভাব বজায় থাকে, অন্যদিনে সরকার বিরোধী লেখালেখির আড়ালে দেশের গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করে মূল লক্ষ্য অর্জন করে। দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা বিদেশী বিশেষ শক্তির প্রত্যক্ষ মদদে এবং তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নেই প্রতিষ্ঠিত এ পুরণো ধারণা একটু খেয়াল করলেই পরিস্কার হয়ে যায়। র‍্যাব নিয়ে এই যে নিয়মিত প্রপাগান্ডা তার পেছনেও কিন্তু একই উদ্দেশ্য। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগেই র‍্যাব বিলুপ্তির ঘোষণা দিয়েছিল, ক্ষমতায় এসে র‍্যাবকে দলীয়ভাবে দলন নীপিড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার তাদের ক্লীন ইমেজকে কালিমালিপ্ত করেছে। আর সরকারের সাথে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে র‍্যাবকে নিয়ে একের পর এক রিপোর্ট করে প্রথম আলো পত্রিকা প্রতিষ্ঠানটিকে সম্পূর্ণরূপে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছে। এভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রথম আলোর রিপোর্টিং প্রকৃতপক্ষে সরকারের যোগসাজশেই করা মাত্র, উদ্দেশ্য একটাই, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সমুহকে বিতর্কিত দেশে অরাজক পরিবেশ সৃষ্টি করে বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করা, প্রতিবেশী কোন দেশের সেবাদাসে পরিণত করা। আর যত অরাজকতা ততই সংবাদ, ততই পত্রিকার কাটতি, ততই বিজ্ঞাপন, আখের গোছানো।

প্রকৃত বন্ধুর পরিচয় আপদকালেই প্রমাণিত হয়। আর তার প্রমান দিতে সরকারের সবচেয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে দৈনিক প্রথম আলো। জয়নুল আবদীন ফারুকের উপর আঘাতের ফলে বিশ্বে সরকারের ভাবমূর্তি যেভাবে বিপন্ন হয়েছে তা থেকে উদ্ধার করতে প্রথম আলোর আর নিরপেক্ষ নিরপেক্ষ খেলা করার সুযোগ ছিল না। তাই সঠিক সময়ে বন্ধুর পাশে দাড়িয়ে প্রথম আলো প্রমাণ করলো, “যা কিছু কালো, তার সাথে প্রথম আলো”।


এ ছবিটি দিয়ে প্রথম আলো পত্রিকা জয়নুল আবদীন ফারুককে দোষী প্রমাণ করতে চাইছে। অথচ ছবিতে ফারুকের হাতে ঢিল নয় বরং মোবাইল ফোন দেখা যাচ্ছে। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে ফারুক দৌড়াচ্ছেন, পেছন থেকে তার আহত হাতের ব্যন্ডেজটি টেনে ধরায় হাতটি ঢিল ছোড়ার মতো দেখাচ্ছে। ঐ ব্যান্ডেজটি খুলে যাওয়ায়ই ভারসাম্য হারিয়ে পুলিশ মাটিতে পড়ে যায়।
১০টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×