১
ঝন্টু খুব আগ্রহ নিয়ে খামটা খুলেছিল এবং খুলে একটা বিদ্যুতের শক খেয়েছিল । ফোনে ভাবী তাকে বলেছিল এমন মেয়ে আর হয় না। মেয়েটার অনেক গুণ - জীবনে সে কখনো সেকেন্ড হয়নি। বড় ফ্যামিলির মেয়ে, বাবা নাম করা কবি।
তার কল্পনায় সেই গুণবতী মেয়ের চেহারাটা ছিল পরীর মত। সে ভাবীর দেয়া খাম খুলে দেখতে পেয়েছিল একটা কাল মেয়ের ছবি। মেয়েটা এত কাল যে নাক চোখ মুখ দ্বিতীয়বার দেখতে ইচ্ছে হয় না। পাঠকেরা রাগ করে পড়া না থামিয়ে দিলে, সত্যি কথাটা বলি - মেয়েটাকে দেখে ঝন্টুর শরীর রি রি করছিল। তার রাতজাগা স্বপ্নের ঘুড়িটা যেন গোত্তা খেয়েছিল। ডুবে গিয়েছিল মজাডোবায়।
মানুষ তো জীবনে একবারই বিয়ে করে। সুতরাং সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মেয়ে যেমনই হোক গায়ের রং হতে হবে ফর্সা এবং মসৃণ। যেমনটা সে প্রিয় মুভিগুলোতে দেখে, নাটকে অথবা পোস্টারে।
ভাবীর দিকে রাগ হয়েছিল তার। মেয়েটার আর গুণের ফিরিস্তি জানার কোন আগ্রহ তার ছিল না। ছবিটা বইয়ের ভিতর রেখে দিয়ে ঝন্টু তার কাজে ফেরত গিয়েছিল।
২
ঝন্টুর জন্য পাত্রীদের বেশ ভিড় ছিল। বিয়েটা তো বাজারের নিয়মে চলে। পাত্রের কত পয়সা আর পাত্রীর কত রুপগুণ সেটা দিয়ে দামদর হয়। এমেরিকান সিটি ব্যাঙ্কের ঢাকা শাখার ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি ছেলের জন্য ঘটকেরা ভিড় করবে - অসম্ভব কিছু না। ঝন্টুর মায়েরও পোয়া বারো। তার গায়ের রং কাল হলেও ঝন্টুর মত তিনিও ফর্সা মেয়ে খুঁজছিলেন। উপরন্তু বৈষয়িক দিকগুলোতে নজর ছিল তার। ঝন্টুর মা ঝন্টুকে ছবিগুলো দেখানোর সময় বলতেন, ঝন্টু এই ছবি দ্যাখ, এর বাবার তিনটা বাড়ি, এই মেয়েটার মামা সেক্রেটারী , এর চাচা গ্রামীনের ডিরেক্টর...।
প্রায় মেয়েই ছবির সিলেকশনে বাতিল হয়ে যেত। এদিকে ঝন্টুর বন্ধুদের বিয়ে হয়ে যাচ্ছিল। একদিন তার ঘনিষ্ট বিবাহিত বন্ধু এমদাদ বলেছিল, দোস্ত তোর পছন্দটাইতো বুঝলাম না। কি ক্রাইটেরিয়ার মাইয়া বিয়া করতে চাস ক তো। খোঁজ লাগাই। ঝন্টু বলেছিল, ফর্সা তো হতো হবে আর সুন্দরী না হলে চলবে না।
সে হো হো করে হেসে বললো এই সুন্দরীর ক্রাইটেরিয়া তো ইস্কুলের পোলাপানদের আর অল্পশিক্ষিতদের। যারা রূপকথার গল্প পড়ে তারাও সুন্দরী খোঁজে। তুই এত পড়াশোনা করে, জ্ঞানী বিদ্বান হয়ে নতুন কি শিখলি? মেয়েটার গুণ কি আছে সেটা ফ্যাক্টর না? সে কি পড়ে সেটা ফ্যাক্টর না ? কথা, রুচি এগুলো দেখবি না? প্রথমেই চামড়ার রং নিয়ে টানাটানি।
এমদাদ পড়াশোনায় ভাল কিন্তু থিউরী কপচায় বেশী। তাকে বন্ধুমহলে ডাকে আঁতেল এমদাদ। বয়স ২৬ অথচ ভাব যেন ৬২। বইয়ের স্তুপে থেকে থেকে এমদাদের রুচিটা কি মরে গিয়েছিল? না হলে পাঁচ ফুট দশ আর ফর্সা ছেলে হয়ে মৌসুমীর মত কাল অসুন্দর মেয়েকে বেছে নিতে গেল কেন? তাও বাবা মায়ের পছন্দ নয়। নিজেরা এফেয়ার করেছে তিন বছর। এমদাদের জায়গায় হলে ঝন্টু জীবনেও তাকে বিয়ে করতো না।
এমদাদ তাকে বোঝাতে চাইছিল সাদা কালো বিষয় না। প্রতিটা মেয়ের মনের ভিতরে থাকে একটা করে লুকানো সোনার খনি। যত্ন দিয়ে ভালবাসা দিয়ে তাকে বের করে আনতে হয়। ঝন্টু যখন হু হু করছিল সে তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, "আচ্ছা, ঝন্টু, আমাকে একটু খুলে বলতো কেন তোর ফর্সাই দরকার? ঝন্টুর মনে হচ্ছিল এমদাদ মেয়ে জাতির কাছে ঘুষ খেয়েছে। না হলে তাকে সে তাকে এমন জেরা করতে যাবে কেন? "
ঝন্টু উত্তর দিতে পারতো, যে ফর্সা চেহারায় মন গলে যায়, দ্বিতীয়ত: ফর্সা মেয়ে ঘর উজ্জ্বল করে, আর একটা ফর্সা বউ সাথে নিয়ে ঘুরলে বন্ধুবান্ধব, আত্মীয় স্বজন সবাই বলে ওয়াও, ছেলেটার কী কপাল। কিন্তু এবার সে এমদাদকে একটা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে চাইলো।
বললো, আমার গায়ের রংটা কালো , তোর রং ফর্সা । তুই কাল মেয়ে বিয়ে করলেও তোর ছেলে মেয়ে হবে ফর্সা। আমার বউ ফর্সা না হলে ছেলেমেয়েগুলো কাল বাপ+কাল মা = কাক হবে।
এমদাদ যুক্তিতে না পেরে মার্কটুয়েন নামের এক লেখকের উদাহরণ দিয়েছিল। মার্কটোয়েন তখন বুদ্ধিমত্তার জন্য বিশ্বখ্যাত। কোন এক বিশ্বসুন্দরী অভিনেত্রী তাকে মজা করে বলেছিল, চলুন আমরা বিয়ে করে ফেলি। কারণ আমার সৌন্দর্য আর আপনার বুদ্ধিমত্তায় যে সন্তান হবে তারা বিশ্বের সেরা হয়ে যাবে। তখন মার্কটুয়েন বলেছিল কথা সত্য। কিন্তু কেমন হবে যদি সন্তানেরা আমার চেহারা আর আপনার বুদ্ধি পায়?
৩.
ঝন্টুর মা তখন একের পর এক মেয়ে দেখে যাচ্ছিল। বছর খানেক ধরে কুড়ি/পঁচিশটি মেয়ে দেখে অবশেষে তিনি একটা উপযুক্ত পাত্রীর খোঁজ পেয়েছিলেন।মেয়েটার নাম ইয়াসমীন, বাড়ি মোহাম্মদপুর ইকবাল রোডে।
ঝন্টু এই প্রথম কোন মেয়ে দেখে মুগ্ধ হয়েছিল। গায়ের রং টকটকে ফর্সা, দুধে আলতা বললেও ভুল হবে না । মেয়েটা পড়াশোনায় মাত্র ইন্টার মিডিয়েট। বাড়ি এসে খুত খুত করতে লাগলো সে। একবার মনে হয়েছিল মেয়েদের এত পড়ে কি হবে, পড়াশোনায় কম জানাই ভাল। তর্ক করবে কম। আবার মনে হয়েছিল দরকার হলে প্রাইভেটে ডিগ্রী পড়ায়ে নেবে। তাহলে বউ অলরাউন্ডার মেয়ে হয়ে যাবে।
ইয়াসমীনকে ঝন্টু বিয়ে করেছিল ধুম ধাম করে। বন্ধু কুদ্দুসের মনে হয় হিংসে হচ্ছিল। সে বলেছিল, ঝন্টু, বউটা তোর হেভ্ভী তবে পাশাপাশি দেখলে তোরে তার নেগেটিভ মনে হয়। নিজে যে কালো সেটা ঝন্টু ভুলে যেতে চাইতো । সান্ত্বনা দিত ছেলেদের আবার সাদাকালো কি! ঝন্টুর মাও সেটা ভুলে গিয়েছিল। তাকে বলতো শ্যামলা।
৪.
ইয়াসমীনের সঙ্গে সংসার শুরু হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই একটা গ্যাপ টের পায় ঝন্টু। ঝন্টুর রুচির শিক্ষার সঙ্গে ইয়াসমীনের ফাড়াকটা অনেক। ইয়াসমীন গৃহিনী হিসাবে খুব মন্দ না। কিন্তু সে কথা বলার সময় কাকে কী বলতে হবে বোঝে না। অফিসের কোন অফিসারদের সঙ্গে পরিচয় করতে দিতে একটু লজ্জাই হতো।
অথচ এমদাদের স্ত্রী মৌসুমী ভাল লেখিকা। মৌসুমীর তিন চারটা বই বেরিয়েছিল। এমদাদের বাসাটি পরিপাটি সাজানো আর মৌসুমীর আপ্যায়ন তাকে মুগ্ধ করতো। মৌসুমীর সঙ্গে কথা বলে তখন বুঝতে পারতো শিক্ষিত হলে কত সুবিধা।
ঝন্টুর মাঝে মাঝে আফসোস লাগে শয্যাসঙ্গী, বাজার আর রন্ধনকর্ম ছাড়া ইয়াসমীনের সঙ্গে বিশেষ কথা বলার উপায় নেই। আর সেই ফর্সা শরীরের চুম্বক আকর্ষণটা যেন অল্প কয়দিনে আকর্ষণহীন ইস্পাতে পরিণত হয়ে যাচ্ছিল। আসলে দুর থেকে ফর্সা আর এক ছাদের নিচের ফর্সার পার্থক্য বিয়ে না করলে বোঝা খুব মুশকিল।
সব পেয়েও ঝন্টুর মনে সুখ ছিলনা । সে দেরী করে বাড়ি ফিরতো। বারান্দায় বসে ভাবতো। তবে একদিন ইয়াসমীন একটা সত্যিকারের সুখের খবর দিয়েছিল। সে জানিয়েছিল ঝন্টু বাবা হতে যাচ্ছে।
৫.
বাবা হওয়ার অনুভূতিগুলো খুব আশ্চর্যরকম সুন্দর। ঝন্টু অফিস থেকে ফিরে আসতো দ্রুত। ইয়াসমীনের হাত ধরে যেন অপেক্ষা করতো স্বর্গ নেমে আসার জন্য। একটা স্বপ্ন বাড়ছিল ১০ সপ্তাহ, ১২ সপ্তাহ, তারপর ৩৫ সপ্তাহে এভাবে । ৩৮ সপ্তাহের সময় ডাক্তার আলট্রাসাউন্ড করে জানিয়েছিল বাচ্চাটার মাথা উল্টো ।সি সেকশন করতে হবে। তবে খুব ভয়ের কিছু নেই।
ঝন্টু অপেক্ষায় বসে ছিল হাসপাতালের বারান্দায়। উপরে টিক টিক করছিল হাসপাতালের দেয়ালঘড়ি। এমন সময় হাসিমুখে ডাক্তার এসে তাকে বললো কংগ্রেচুলেশন, ইউ আর নাও এ প্রাউড ফাদার অব এ কিউট ডটার। সে ছুটে গেল, দেখে কী আশ্চর্য! ইয়াসমীনের পাশে সুন্দর একটা ছোট একটা পুতুলের মতো মেয়ে, ছোট হাত, পা, নাক মুখ- যদিও মেয়েটার রং কালো!
বাচ্চাটা চিৎকার করে উঠেছিল। তাকে কোলে তুলে নিতে মনে হয়েছিল সে মিশে যাবে ঝন্টুর বুকে। ঝন্টু তখন খুশীতে মা বলে কেঁদে দিয়েছিল। এত ছোট মেয়ে। অথচ সে যেন বাবার উষ্ণতা আলাদা করে চিনতে পারছিল।
ইয়াসমীন হেসে বলেছিল মেয়েটা কিন্তু ঠিক তোমার মতো হয়েছে। বাবার মতো মেয়ে হলে মেয়েরা কপালে হয়।
এমদাদের উদাহরণটা মনে হলো। কিন্তু সেসব অপ্রয়োজনীয় কথা বাদ। ঝন্টুর মনে হতে লাগলো নিজের মেয়ে কাল হোক আর সাদা হোক কী আসে যায়। কেউ যদি তাকে তখন বলতো যে এই মেয়েটা বদলে একটা ধপধপে ফর্সা মেয়ে দেব সে কি নেবে? সে বলতো, ইমপসিবল! এই শিশুটা তার কাছে সবচেয়ে সেরা। সে খুশিতে নামের বই খুঁজে মেয়েটার নাম রেখেছিল কাজলী।
৬.
কাজলী বড় হতে থাকে দ্রুত। সে একবছর হলে হাঁটতে শুরু করে। ঝন্টুর ক্যামেরা ভরে যায় কাজলীর ছবিতে। কাজলী হাসলে ঝন্টু আর ইয়াসমীনে সব ফেলে হেসে ওঠে। তিন বছরে হলে মেয়েটা কথা বলে কুট কুট করে। খায় মজা করে। বাবা বাবা বলে দৌড়ে এসে গলা জড়িয়ে ধরে। অবশ্য খুব কম সময়ই মেয়েটা ব্যস্ত বাবাকে কাছে পেত।
তার মেয়েটার রং সে ভুলেই গিয়েছিল। শুধু যখন সে গ্রামের বাড়ি গিয়েছিল, লোকজন ঢাকার দুলালীর রং দেখে অবাক হয়েছিল। মুরব্বীদের একজন মনে করিয়ে বলেছিল, "দেখ বাবা, তোমার মেয়েটা যেহেতু রং ময়লা, তোমর জমি জমা সঞ্চয় দরকার, না হলে কালো মেয়েকে গছাতে অনেক ঝামেলা"। গ্রামের লোকজন সোজাসুজি কথা বলে। ঝন্টু গ্রামের অশিক্ষিতদের কথা গায়ে মাখেনা। কিন্তু তার এমন কথা ভাল লাগেও না।
সময়ের ঘড়ি দ্রুত বেড়ে চলে। কাজলী অনার্স পাশ করে । ঝন্টুও জমানো পয়সায় উত্তরায় আরেকটা বড় ফ্ল্যাটে কেনে। সেখানে মেয়ের জন্য আলাদা রুম, বিশাল কিচেন, বড় বেড রুম। সবাই তখন খুব খোশ মেজাজে আর সুখে ছিল।
৭.
নতুন বাড়িতে ওঠার দিন। অন্যান্য আসবাবের সঙ্গে শেলফের পুরনো বইপত্র বেঁধে বেঁধে ট্রাকে তুলছিল তারা। ঝন্টু নিজেও ব্যস্ত ছিল। হঠাৎ "ব্যাংকিং সাইন্স" নামে একটা বই ধপ করে খসে পড়লো পুরনো বইয়ের গাদা থেকে। সেটা তুলতে যাচ্ছে হঠাৎ একটা পাসপোর্ট সাইজের ছবি বের হয়ে এল ভিতর থেকে। রংটা একটু জ্বলে গেছে কিন্তু নষ্ট হয়নি। ইয়াসমীন পাশে ছিল, সে হা করে তাকিয়ে থাকলো ছবিটার দিকে।
ইয়াসমীন যাতে ভুল না বোঝে ঝন্টু তখন ঘটনাটা বললো, যে মেয়েটাকে সে চেনেনা। তার ভাবীর এক আত্মীয়ের ছবি বিয়ের জন্য দিয়েছিল সেটা ভুলে আর ফেরত দেয়া হয়নি।
ইয়াসমীন একটু অবাক হয়ে বললো, কিন্তু এরকম কেন হবে?!
তুমি কি খেয়াল করেছ, ছবির মেয়েটা হুবুহু আমাদের কাজলীর মতো। গায়ের রং দুজনারই একরকম চাপা শ্যামলা। নাক চোখ এমন কি চোখের ভুরুও যেন এক। তাকিয়ে আছে যেন আমাদের কাজলী। মাথার বেনীটা ছাড়া দুজনকে আলাদা করার কোন উপায় নেই!
ঝন্টু সেই ছবির মেয়ের সঙ্গে কাজলীর মিল পরীক্ষা করে সাদৃশ্য পেয়ে প্রায় ক্ষেপেই গিয়েছিল। সে বললো, কী বলো! হতে পারে এর সঙ্গে সামান্য মিল কিন্ত আমার মেয়ের অনেক গুণ, এর সঙ্গে ওর কোন তুলনা হয়না"। কাজলী পড়াশোনায় সেরা, বির্তকে পুরস্কার পেয়েছে, ছবি আঁকতে জানে, গান গায়, খুব ভোরে বাবার জন্য নাস্তা বানিয়ে গলাটা জড়িয়ে ধরে চুপ থাকতে পারে।
ঝন্টুর কিছু বলতে হয়নি। তার নিজের মন তাকে একটা প্রশ্ন করেছিল, "ছবির মেয়েটার যে গুণ ছিলনা - তা কি করে জেনেছিলে তুমি? তুমি তো শুধু গায়ের রংটা দেখে তার ছবি ছুঁড়ে ফেলেছিলে।"
গতকাল রাতে ঝন্টু ঘুমাতে পারেনি। মেয়ের ঘরে গিয়ে মেয়েটার কপালে হাত রেখেছে। কাজলী তার অনেক আদরের কাল মেয়ে। পৃথিবীর সবচেয়ে গুণবতী লক্ষী মেয়ে। সে যেমন আচরণ করেছিল ফটোর মেয়েটার দিকে.তেমন যেন কেউ না করে । তার মেয়েটার গুণগুলো যেন অন্য সবাই দেখে - কালো রং বলে নির্বোধের মত যেন মুখ না ফেরায়।
(দ্বিতীয় ড্রাফট)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

