somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প: বুড়ো ম্যাকডোনাল্ডের উপকথা

১৫ ই আগস্ট, ২০১০ ভোর ৪:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক বছর আগে পাহাড়ের ঢালে কোন এক গ্রামে ম্যাকডোনাল্ড নামে এক বুড়ো গৃহস্ত বাস করতো।

তার ফার্মে পালিত হয় নানান পশুপাখী - গরু আছে কয়েকজোড়া। কয়েকটা শুকর। ভোর হয় মোরগের ডাকে। মুরগীরা খুদকাদা ঘেঁটে বেশ হৃষ্টপুষ্ট হয়।

কিন্তু আশপাশের ফার্মের চেয়ে বুড়ো ম্যাকের ফার্মটা আকারে বেশ ছোট। অন্য গেরস্তেরা বলে, ম্যাক, তুমি জন্ম সুত্রেই দুর্ভাগ্যবান। আমাদের দাদা পরদাদারা অনেক জমি রেখে গেছে । আমাদের জোয়ান ছেলেও অনেক। তোমার অন্তত: একটা ছেলে বেশী থাকলে সুখে থাকতে।

বুড়ো ম্যাকডোনাল্ড নিরুত্তাপ ভাবে বলে - দুর্ভাগ্য তো আজকের। কিন্তু সব দিন তো এক থাকে না। হয়তো কালকে দুর্ভাগ্য বদলে সৌভাগ্য আসবে।

হাস-মুরগী বা গরু পালনের চেয়ে পায়রার জায়গা কম লাগে। ম্যাগডোনাল্ড তাই পায়রা পালন করে। পায়রাদের নানান জাত। তার কুড়ি পঁচিশ জোড়া পায়রা থেকে ডিম আসে। সামান্য দুর্ভাগ্য সেখানেও। একজোড়া লাল পায়রা শুধু খায়, কোন ডিম দেয়না। সেই লাল পায়রাকে প্রতিবেশীরা খাদ্য বানাতে বু্দ্ধি দেয়। ম্যাকের মায়া হয়। সে রাজি হয়না।

বুড়ো ম্যাকডোনাল্ড নিরুত্তাপ ভাবে বলে - দুর্ভাগ্য তো আজকের। কিন্তু সব দিন তো এক থাকে না। হয়তো কালকে দুর্ভাগ্য বদলে সৌভাগ্য আসবে।

কোন একদিন দুপুরে ম্যাকডোনাল্ড বিশ্রাম নিতে বাড়িতে যায়। এমন সময় এক লোক তাকে ডাকে। বলে, আমি একজন যাদুকর। তোমার বাড়িতে দেখছি রক্তজবা পঙ্খীরাজ পায়রা আছে। তান্ত্রিক যাদুবিদ্যায় এর হাড়গোড়ের খুব চাহিদা। বেচলে বিনিময়ে আমি ১০,০০০ টাকা দিতে রাজী। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক প্রতিবেশী শুনে অবাক হয়ে বলে, তোমার কী সৌভাগ্য। এদের বেচে দাও।

কিন্তু ম্যাকডোনাল্ড কি ভেবে রাজি হয় না। সে নিরুত্তাপ ভাবে বলে - সৌভাগ্য তো আজকের। কিন্তু সব দিন তো এক থাকে না। আমি যা আছি তাতে সুখী।আর কে জানে কালকে হয়তো দুর্ভাগ্য আসবে।

ক'দিন পর রাতে ভীষণ ঝড় বয়ে যায়। সকালে বুড়ো ম্যাক দেখতে পায় পায়রার খোপ ভগ্ন। আর সব পায়রা নিখোঁজ।

প্রতিবেশীরা এবার সুযোগ পায়। বলে, আগে যদি তাদের বিক্রি করে দিতে তাহলে আজকে এমন হতো না।

বুড়ো ম্যাকডোনাল্ড নিরুত্তাপ ভাবে বলে - দুর্ভাগ্য তো আজকের। কিন্তু সব দিন তো এক থাকে না। হয়তো কালকে দুর্ভাগ্য বদলে সৌভাগ্য আসবে।

তার এক সপ্তাহ পরে। আকাশে ঝকঝকে রোদ উঠে। সবাই দেখতে পায় সেই পায়রার ঝাক ফিরে আসছে। সঙ্গে অনেক পায়রা। লাল পায়রাজোড়ার পিছনে উড়ে আসছে আরো নতুন কয়েকটা লাল পায়রা। প্রতিবেশীরা হিংসায় এসে বললো- তোমার কি সৌভাগ্য, এতো দামী দামী পায়রা পেয়ে গেছে বিনে পয়সায়!

ম্যাকডোনাল্ড নিরুত্তাপ ভাবে বলে - সৌভাগ্য তো আজকের। কিন্তু সব দিন তো এক থাকে না। আমি যা আছি তাতে সুখী।আর কে জানে কালকে হয়তো দুর্ভাগ্য আসবে।

পায়রার জন্য আবারও উঁচু মাচা বানানো শুরু হয়। শক্ত কাঠ এবং বাঁশ দিয়ে। খোপ ঠিক করার সময় লাল পায়রার ঘরের ঠিক উপরের কাঠটা ভেঙে পড়ে। আর তার ১৮/১৯ বছরের তরতাজা সন্তানটা উপর থেকে চিত্কার করে পড়ে যায়। পায়ের হাড় ভেঙে সে পঙ্গু হয়ে যায়।

প্রতিবেশীরা আবার আসে। বলে পায়রা জোড়া দুর্ভাগ্যের। আর তোমার কী মন্দ কপাল। দুর্ভাগ্য না হলে একমাত্র ছেলে বিকলাঙ্গ হয়।

বুড়ো ম্যাকডোনাল্ড নিরুত্তাপ ভাবে বলে - দুর্ভাগ্য তো আজকের। কিন্তু সব দিন তো এক থাকে না। হয়তো কালকে দুর্ভাগ্য বদলে সৌভাগ্য আসবে।

সবাই তখন তার তত্ত্ব কথাকে আর বিশ্বাস করে না। বিকলাঙ্গ সন্তান সহ দুর্ভাগ্যবান হওয়ার পরও আর কোন যুক্তি থাকে না।

কিন্তু একদিন দেশে ভীষণ যুদ্ধ শুরু হয়। এলাকার রাজা ঘোষণা করে প্রতিটি তরুণ কে যুদ্ধ যেতে হবে শুধু মাত্র প্রতিবন্ধীরা ছাড়া।
অশ্রু সংবরণ করতে করতে প্রতিবেশীরা তাদের ছেলেদের যুদ্ধে পাঠায়। তারা জানে সেখান থেকে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুব কম।

আর সেদিন বিকলাঙ্গ বলে ম্যাকডোনাল্ডের ছেলেটাকে যেতে হয় না।

বুড়ো ম্যাকডোনাল্ড নিরুত্তাপভাবে তার প্রতিবেশীদের বোঝায় - দুর্ভাগ্য তো আজকের। কিন্তু সব দিন তো এক থাকে না। হয়তো কালকে দুর্ভাগ্য বদলে সৌভাগ্য আসবে।

সৌভাগ্য এবং দুর্ভাগ্যের চক্রের গল্পটা এভাবেই চলতে থাকে।

--
একটা শোনা প্রচলিত গল্পের ছায়াবলম্বনে। শিশুদের জন্য ওল্ড ম্যাকডোনাল্ডের গানের ভিডিও
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০১০ রাত ২:২৫
৩০টি মন্তব্য ৩০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন',উপকূলে ৭ নম্বর বিপদ সঙ্কেত। স্থানীয় ব্লগার ও অন্যান্য সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

লিখেছেন কাল্পনিক_ভালোবাসা, ৩০ শে জুলাই, ২০১৫ রাত ১:৫৮

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি নাম্বার- ১০ থেকে থেকে জানা গিয়েছে যে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিচ্ছে। ঘুর্ণিঝড়টির নাম দেয়া হয়েছে “KOMEN” ( WITH... ...বাকিটুকু পড়ুন

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী , আমাদের ক্ষমা করবেন প্লিজ

লিখেছেন কাউন্টার নিশাচর, ৩০ শে জুলাই, ২০১৫ রাত ২:০৮

১৯৯৬-৯৭ সালের ঐতিহাসিক ফেনী বিমান বন্দরে,সালাউদ্দিন কাদের ভাইয়ের বক্তব্য আমাকে প্রতিবাদী করে তুলছে,আর চোখ বেয়ে পানি আসছে,তখন ফেনী ছিল বাংলদেশের ১ নাম্বার সন্রাসের জনপদ জয়নাল হাজারীর ইস্টিয়ারিং গ্রুপ (ক্লাস কমিটির)... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঘূর্ণিঝড় যখন বাংলাদেশের উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল আবহাওয়াবিদরা তখন নাকে সরিষার তেল দিয়ে ঘুমচ্ছিল

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ৩০ শে জুলাই, ২০১৫ সকাল ৭:৫০



বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় গত ৩ দিনে যখন বাংলাদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল বাংলাদেশ আবহাওয়া-বিদরা তখন নাকে রাঁধুনি খাটি সরিষার তেল দিয়ে ঘুমচ্ছিল। একটা নিম্নচাপ সৃষ্টির পর ধাপে-ধাপে সক্রিয় হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিত্রনায়ক জলিল আমার সবচেয়ে প্রিয় হিরো

লিখেছেন  কৌশিক, ৩০ শে জুলাই, ২০১৫ সকাল ১১:৩১

অনন্ত জলিলকে নিয়ে আমি খুবই এলার্জিতে ভূগতাম। এতই ভূগতাম যে সারা শরীর চুলকাতো। অনন্তকে সেলিব্রিটি হতে দেখা আমার কাছে পেইনফুল ছিলো। তার দেয়া মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দেখে মনে হতো হোয়াট এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফাইভ গ্রেটেষ্ট স্টার—যে পাঁচটি ভিন্ন ঘরানার সিনেমা দেখে তাদের উপর ভালো লাগা আরও পাঁচ গুণ বেড়ে গিয়েছিল =p~ =p~ =p~ =p~

লিখেছেন রিকি, ৩০ শে জুলাই, ২০১৫ সকাল ১১:৫৪



“There either is or is not, that’s the way things are. The colour of the day. The way it felt to be a child. The saltwater on your sunburnt... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিটলারের মৃতদেহ পোড়ানো হয় দুইবার – একবার পোড়ায় তার অধিনস্তরা, আরেকবার পোড়ায় রাশিয়ানরা

লিখেছেন ওয়াসীম সোবাহান চৌধুরী, ৩০ শে জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১২:৩৩

অ্যাডলফ হিটলার ১৯৪৫ সালের ২০ এপ্রিল যখন একটি বাঙ্কারের ভিতরে তার জীবনের শেষ জন্মদিন পালন করছিলেন,তখন মার্শাল জুকভের নেতৃত্বে রাশিয়ান সামরিক বাহিনী বার্লিনের ঠিক বাইরে অবস্থান নেয়। রাশিয়ান বাহিনীর সামনে... ...বাকিটুকু পড়ুন