১
ব্লগের পরিচয়টা মেলায় খুব ম্লান। ব্লগের কালচারের সঙ্গে বইমেলা বিস্তর তফাৎ। আগে বই মেলায় বেড়াতে এলেও কখনো আগে এভাবে ভেবে দেখি নি। বই কিনতে গেলে মেলা মনে হতো এক রকম। মেলায় কয়েকজন বিশিষ্ট লেখক হাতে বই দেখে নাম জিজ্ঞেস করেছিল। পরিচয়ে বলেছি আমি ব্লগের স্বাধীনতায় বেড়ে ওঠা নগন্য মানুষ।
অভিনয় শেখার জন্য যেমন মঞ্চের তুলনা হয় না, ডিজিটাল যুগে লেখা শেখার জন্য ব্লগও একধরনে মঞ্চ। লিখতে গিয়ে সম্পাদকদের কাছে ধন্যে দেয়ার আগেই বিশ্বজুড়ে পাঠকদের কাছে পৌঁছে যায়। প্রতিক্রিয়াও পেয়ে যাওয়া খুব কাজের।
মেলায় অল্প সময়ের জন্য যাই। সাধারণত প্রকাশকের স্টলে থাকলে আমাকে পেতে সুবিধা। আমি তেমন আড্ডাবাজ মানুষ নই। বই কিনতে বা মেলায় বেড়াতে আসা নানান ধরনের মানুষ দেখতে আমার ক্লান্তি নেই। মেলার স্বত:স্ফুর্ত উচ্ছাস দেখি। কখনো ভিড়ে মাথা গলিয়ে শিশুদের বই খুঁজতে ঢুকতে দেখি বাবা মায়ের সঙ্গে। বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা বই বিক্রি করছে । বসে থেকে নতুন লেখক লেখিকাদের কিছু বই ছুঁয়ে দেখেছি। কাটতি হচ্ছে এমন লেখার চেয়ে ব্লগের অনেক লেখকের লেখা উন্নততর।
সীমিত পাঠক আমার। পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের ফুল ঝুড়ি নেই। ব্লগের পাঠকদের অনেকেই নেটেই পড়ে নিয়েছেন, কেউ দুরে থাকেন বলে মেলায় আসেন নি। হয়তো আসবেন।
২.
নেট বিচ্ছিন্ন। কম্পিউটার কাজ করছে না। সেলফোন থেকে শুধু মন্তব্যগুলো পড়তে পারি। আশা করছি এ মাস টুকু পার হলে স্বাভাবিক হতে পারব।
৩.
মেলায় মোড়ক উন্মোচন হয়নি দোতলার মানুষের। মোড়কে ঢুকতে পারলে না হয় উন্মোচিত হতো। আমার সবচেয়ে প্রিয় কবি লেখকদের কারো বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়েছে বলে কখনো শুনিনি। কর্পোরেট যুগে এসে মোড়ক উন্মোচনের জন্য যে ঢাক ঢোল পেটানো হতে দেখি তাতে সায় মিলল না মনের।
বই মেলার কতগুলো বিক্রি হল সেই সংখ্যাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না। আর সবাই আমার পাঠক হবে সেটাও না।
আজ বিকেলে ৫.৩০ এর দিকে পরিবার পরিজন ও বন্ধুদের বললাম আসতে, সময় থাকলে। উদ্দেশ্য এক সঙ্গে দেখা করা। খুব হঠাৎ করেই বলা। ব্লগারদের যারা মেলায় থাকবেন অবশ্যই বিদ্যাপ্রকাশের সামনে চলে আসুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

