১
হলুদ রং করা রেলিং, বাইরে ধুলো, ব্যাক ভিউ মিররে তন্দ্রাচ্ছন্ন বানিজ্যিক মানুষ।
এখানে পথের ধারে রমণীর স্তুপীকৃত ভাপা পিঠা,
প্রাইভেটে ইংলিশ পড়ানো হয়, শহীদুর স্যার । দেয়ালে লিখে রেখেছে কত শত কথা,
কাঁটাতারে বসে থাকা শহরের কাক,
হাইস্কুল হাইস্কুল, সাবধান ট্রেনিং কার চলছে,
আগুন জ্বলেনি বলে দমকল বাহিনী বেকার, রাজারবাগ লাইনে পুলিশের কুচকাওয়াজ, ফুটপাথে শিশুকোলে একজন অন্ধ মা দাঁড়িয়ে আছে ডান হাত পেতে
এসবে ভ্রুক্ষেপ নেই আমাদের, সেলফোনে কান চেপে আছে পথিকেরা, কথা বলছে, থমকে দাঁড়াচ্ছে, পার হচ্ছে ঘন সড়ক, তিন চাকার তরল গ্যাসের গাড়িটা হোঁচট খেয়ে চলছিল সিগনালের পর সিগনাল,
তখন ঢাকায় ব্যস্ত বিকেল, তখন স্কাইস্ক্র্যাপারের কোলে একটু করে সন্ধে নেমে আসে
শব্দ করে ঢাকা মেট্রো-ঘ চলতে শুরু করছিল, বঙ্গ জ্যাকেটের যাত্রী নড়ে চড়ে বসছিল, পোস্টারে ছেয়ে আছে পথস্তম্ভ, নির্বাচনী ঢাকায় প্রতিশ্রুতিরা মিষ্টি হয়, সাদা কালো শহরে রঙিন মেয়র পদপ্রার্থী। নির্বাচিত হলে এই শহরে বয়ে যাবে সুখের বন্যা।
তখনই ম্যাক্সির হেলপার চেঁচায় - সায়দাবাদ সায়দাবাদ,
লাব্বায়েক বাস চলে, মানুষ চলে, মাফলার মানুষ শীতকাতুড়ে কোন কর্মজীবি মানুষ -
হাতের বাদামী পেশী কেঁপে উঠছিল রিকশার হ্যাণ্ডেলে, মালিবাগ মোড়ে অধীর হয়ে ছিলমোটর যাত্রী । সতীর্থ মানবযানের চালক রোদহীন ঝলসানো শক্ত কপাল তার, চোয়াল জুড়ে দৃঢ় সাজানো হাড় ।
২
হলুদ রেলিং এ এখন ঝুলছে অনেকগুলো হ্যাঙ্গার। ঝুলানো নিলামী কোটটাই অবজ্ঞা করে চলে যাচ্ছে শত লোক। লাফ দিয়ে পথের সিঁড়িতে উঠছে , কেউ দৌড়ে উঠলো মিনি বাসে। বচসা করছে, ভাড়া দিচ্ছে।
আড়াআড়ি টয়োটা করোলা রেখে খাবার দোকানে ঢুকে গেছে পরিবার, খোঁচা দাঁড়ির হকার বয়ে নিয়ে যাচ্ছে প্লাস্টিকের চিরুনি,
বেতের দোকান দখল কলেছে ফুটপাথ,
ব্যস্ততায় শহর বয়ে যায়।
ঠিক তখন কর্মহীন পুরুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিড়ি ফুঁকছিল, হেটে যাওয়া মেয়েটাকে দেখছিল মনযোগে। নতুন প্লাজায় এসকেলারটের এক্সরে দেখা যায়
পশমি কাপড় বিক্রি হচ্ছিল একদরে, ভ্যানিটি ব্যাগ খুলে দাম মিটিয়ে দিচ্ছিল এক গৃহিনী,
এখানে ওখানে দ্বীপের মত পান দোকান
পান কিনে নিচ্ছে, কাটা কাগজে বিড়ি ধরিয়ে নিচ্ছে কেউ, ওভার ব্রীজের নিচে জনতা ব্যাঙ্ক,
বিলবোর্ড ক্রিকেট-নায়ক পেপসি ঢেলে নিচ্ছে মুখে,
সুউচ্চ মগবাজার টাওয়ার, আর তখনি একজন গার্মেন্টস কর্মী বুকে ছাতা চেপে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে, নির্মানাধীন বাড়ির হাতুড়ির শব্দ ভেসে আসে
দোকান ধোয়া ময়লা জল গড়িয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে ফুটপাথ, একজন পদহীন ভিক্ষুক কঁকাচ্ছে কাঠের বাক্সে, আর তার পাশে নিয়ন আলোয় মেসার্স তুরঙ্গম সু স্টোর,
অভিজাত হোটেল পার হতেই পরীবাগ পেট্রোল পাম্প,
মোবাইল কোম্পানীর সার্ভিস পয়েন্ট,
মটর বাইকের পিছনে পিট পিট মোড় সংকেত,
হলুদ রং করা রেলিং, বাইরে ধুলো, সাদা অভিজাত গাড়িতে মেদবহুল একজন ফর্সা মহিলা।
৩
সবুজ সিগনাল রয়াল গ্রিন কালি যেন। উজ্জ্বল। জ্বলে থাকে। লালাভ রক্তিম সন্ধ্যা নামছিল তখন তিলোত্তমার গালে, কোলাহল থিতিয়ে আসে, ভিড়ে পায়ে পা পড়তেই একজন গালি দেয় - জেব্রা ক্রসিং, পার হয় শীর্ণকায় দরিদ্র মানুষ, ঘাড়ে তার বিশাল প্যাকিং বাক্স।
নতুন নতুন এপার্টমেন্ট উঠে গেছে, ধূসর কাপড় উড়ছে, অস্থায়ী ফলের দোকানে পিরামিডের মত বিদেশী আপেল
তখনো লম্বা হলুদ রেলিং চলছে, এপাশে রাস্তা, ওপাশে ব্যস্ত মানুষ।
অফিস ভাড়া দেয়া হবে, মডার্ণ বিরিয়ানী হাউজ, বিল বোর্ডে নীল রূপবতী আর তখনি ভুতুড়ে এক রপ্তানী কাজে নিয়োজিত গাড়ি চলে গেল।
৪
বিবাহঘরে ঝুলছিল আভিষেক পোশাক,
চোঙে করে ঝাঁকানো মুড়িতে কাসুন্দির ঝোল,
আবারও রিক্সা, আবারও গাড়ি,
আবারও নতুন দালান,
হাইড্রলিক হর্ণ, মবিলের পেঁয়াজ গন্ধ, শিকল দিয়ে ল্যাম্প পোস্টে বাঁধা ছিল একটা সাইকেল, সিএনজির সবুজ পিঠে ছাপানো পুলিশের ফোন নম্বর
থেমে যায়, চলে আবার থেমে যায় সব।
এম্বুলেন্সটা ঘুরন্ত বাতি জ্বালিয়ে শব্দ করেই যায়।
কাওরানবাজার ঢেকে থাকে সংবাদ, পপকর্ণ ভাজা ডাকতেই কাচ তোলা গাড়ি থেকে হাত বেরিয়ে আসে,
রঙ ওঠানো নীল ক্যাব চলে, মিসিবাসে মানুষ ঝোলে, শুভ্রকেশ দেবতার মত একজন লোককে শহরে অপরিচিত মনে হয়, ধূলো গাছ, ধূলো উদ্যান,
সিমেন্টের শপে বিদ্রোহী কবির যুদ্ধের ছবি ঝোলে।
তখন শো রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে টিভি দেখছিল একদল বখাটে
স্টার কাবাব পার হয়ে যায়,
ফুটপাথে পার্ক করে রাখা মোটর সাইকেল ঝিমাতে থাকে, ধাক্কা দিয়ে সামনে এগোয় ওভার ব্রীজের পথিকেরা,
বন্ধ হয় ভারী দরজা, কাচের ভিতর দেখা যায় সারি সারি দেশী বিদেশী ফার্নিচার। সেগুন কাঠের জৌলুস।
তখন সন্ধ্যা নামছে ঢাকা শহরে, রাতের আলো অশরীরির মত জ্বলছে আমাদের ঢাকা শহরে।
---
ড্রাফট ১.৫
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


