চিঠি
সস্নেহে দেখিয়ে দিতে চাইছিলাম আকাশ ও মাটির মাঝামাঝি
যদি কিছু থাকে মানব প্রজাতি; উড়তে চায় শূন্যে, ওর নাম ভালবাসা
তোমায় বলে দিলাম ফিস ফিস করে
শোনো, যে দেশেই যাও চিঠিটা সঙ্গে নিও পায়ের ঘুঙুরে
ভঙ্গুর
পাঁজর ভাঙার শব্দ ভেসে আসে, দাঁড় বেয়ে
চলে যায় পাঁজরে। শুনতে পাই নিশুতির ডাকে
স্বপ্নমাঝি চলে যাচ্ছে বহুদূরে
মাঝি, আমি এবার তীর্থে যাবো না
জল কল কল তীব্রতায় মাঝ রাতে
রতিময় শরীরে কোমল পাঁজর ভাঙে
বুকের উজানে খণ্ড খণ্ড পার ভেঙে পড়ে
বিষাদের ভেলা ভেসে যায় অসীম তরঙ্গে
এ সব আমাকে নিয়ে
রবি ঠাকুর সের দরে বেচে তোমাকে পড়ছি
তুমি কি লিখছো এমন, নজরুলের গুটি কয় প্রেস রেখে তাকেও বেচবো
তুমি কি লিখছো বল? জীবনানন্দও বহুদিন লেখে নি, লিখলেও
শহরে শব্দের সংকটে তোমার কাছে যা পাই ওতেই চলে যায়
তোমার লেখায় আমি থাকি
আমাকে নিয়ে তুমিই লিখছো এমন
আমাকে নিয়ে সুকান্ত জসীম উদ্দিন একদম ভাবে না,
এরকম মাপ মতো জামার কাপড়ে পরিমিত পোশাক হয় বলে
তোমাকে পড়ছি, এত বেশি বিশেষণ এত বিভ্রম অথচ তুমি আমাকেই চেনো
আমাকে নিয়ে লিখছো নাকি অন্যদের কথা আমি নামে
আর খোলা মেইলবক্সে তোমার লেখাগুলো আজ রোদে পুড়ে যাবে
হাতটাকে নিয়ে নেমে গেল
মেলার উদ্দেশ্যে চারুতে ঢুকতেই
ফুচকার দোকানগুলো খেলনার মত বসে থাকে চাকার বহনে
ওর সঙ্গে হাটতে গেলে ভীড় আর জঞ্জালে
নির্ভিতা ভীতু মেয়ে, হাত চেপে ধরে যন্ত্রযান কড়া,
কতদূর হর্ণবিষ, দানবের শীষ
আমি বলি এই তো সামনে নির্ভিতা -
যমলোক পার হয়ে ভুট্টা ও আমলকি
এটা যে ওর আসল নাম নয়, আমিও জানি, সেও জানে
অবশ্য জানে না আমি কি করে জানি,
ওকে জানি, নাক ফুলের কুঁড়িটাও জানি
ওখানে এক মেঘ উড়োজাহাজ বয়ে নিয়ে আসে গভীর রাতে - সেই
সুদীর্ঘ গল্পটা
গোলাপ মেলেছিল সুর্যাস্তে
ঈষৎ খোলা মোটর হাওয়ায় ব্রেক কষতেই
নির্ভিতা হাত চেপে ধরে প্লাবনে আশ্রয় চেয়ে
ননীর মত গলে যেতে চেয়ে বুকের তাওয়ায় বলে, আছো তো?
এই শোনো তো তুমি কি সেই মেয়েটি
তুমি কি হঠাৎ বুকে ঝাঁপ দেয়া আগুনপাখি কোন
মে মাসের তপ্ত রোদে হাত ধরে হেঁটে গিয়ে পিছন ফিরে ফিস ফিস করে বলেছিলে, যাই
তুমি কি পাখির গোপন শরীর, হাতের উমে চেয়ে দেখবো, শীষ দেয় একান্ত চন্দনা
ঘুল ঘুলির চড়াইয়ের মত ভুল করে প্রসাধণী আয়নায়
এসে দাঁড়াল সে
গান গাইছিলাম আবারও
বাইরে কুজ্ঝটিকা সূর্যালোক ভাঙছিল, বুকের পাঁজরে নারকেলের শাস বেড়ে ওঠে
ফসলের সবুজ পার হয়ে ব্যস্ত বাজারে নেমে যাবার আগে
ভীড়ের ভয় এড়াতে সে প্রায় জোর করেই
আমার হাতটাকে নিয়ে নেমে গেল
তোমাকে ছাড়ি নি
ভালবেসে শরীরের ঘ্রাণ ভুলিয়েছে ধূপের অনীক
গ্রীবায় কক্ষ বলয়ে ঘিরে থাকা চুম্বনের জলছাপ
আমাকে জন্ম দিয়েছিলে কি প্রবল তুমি ভালবাসা
কলঙ্কের মশালে হাতে পোড়ায় তবুও তোমাকে ছাড়ি নি
মনস্তাপেও লাগবে না জোড়া
সবারই কি মনে হয় অতীতে ফিরে প্রেম দেই অধিক দক্ষতায়
পত্র লিখে দেই বিশুদ্ধ বর্ণমালা
কথোপকথনের আবহে প্রিয় সঙ্গীত বেজে যাক
কিছু মুক্তো রেখে আসি চন্দ্রথালায়
নির্ঝরে যৌথস্নান হয়নি, চোখের সামনে অবেলায় জল পতিত হল শরীরের স্নানে
এ দ্রুতির আগুনজ্বালা ক্ষমা চেয়ে কি হবে
এক প্রকার বন্ধুত্ব
পশু ও মানুষের এক প্রকার বন্ধুত্ব থাকে সিলভারের পাতিলে
টুকরো টুকরো পশু যখন ফুটতে থাকে ঝোলের বুদবুদে
শব্দ করে ফুটতে থাকে,
গর্ব নিয়ে মসলাদার জলের তলায়
ব্যস্ত মানবী গাছ গাছড়ার অলঙ্কার দিয়ে
আলুর আকীকে, পেঁয়াজের আংটিতে
সাজিয়ে দেয় নিবিড় উষ্ণতায়
গলে যায় অতিথি হাতের খুরচুনে
পশুদের কি অহংকার হয় এমন সখ্যতায়?
মেজবান চোয়ালের দাঁতে অন্তরঙ্গ পিষে ফেলে তাকে
প্রিয় মানুষের দামী শরীরে আশ্রয় দেয় সেই তাকে, পাপ পূন্য মেখে যায়, তর্কে ভেসে যায় ক্রমশ:
বোবা পশুর শরীরে আত্তিকরণে মুখরিত হয় জ্ঞানের গরিমায়
খাদ্য ও খাদকের এমন সংবিধান কি ভাল লাগে পশুদের?
শ্বেত শুভ্র মার্জার পায়ের পাশে ঘুরে যায়
চাক চাক পশুর টুকরো তাকে ছুড়ে দিলে লেজের বৃত্ত সুখে নড়ে ওঠে
--
ড্রাফট ১.০
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ১০:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


