লোকমুখে শুনি মানুষকে সুপথ দেখানোর জন্য আল্লাহ এক লক্ষ চব্বিশ হাজার অথবা দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার পয়গম্বর পাঠিয়েছেন। তবে পবিত্র কোরআনে সম্ভবতো ২৫ কি ২৬ জনের নাম উল্লেখ আছে। অবশ্য আমার আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু পয়গম্বর সম্পর্কিত নয়। আলোচনার বিষয়বস্তু মহান আল্লাহ'র স্বজনপ্রিয়তা নিয়ে। অবশ্য যেহেতু তার কোন স্বজন নেই কাজেই এক্ষেত্রে স্বজনপ্রিয়তা না বলে ব্যক্তিপ্রিয়তা বলাই প্রাসঙ্গিক।
যে এক লক্ষ চব্বিশ হাজার অথবা দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার ভাগ্যবানকে তিনি পয়গম্বর হিসেবে মনোনয়ন দান করেছেন তাদের কাউকেই তিনি পূর্ব কর্মকান্ডের পুরস্কার স্বরূপ এটা দিয়েছেন এমন প্রমাণ নেই। অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি তাঁরা এটা অর্জন করেননি। পূর্ব যোগ্যতা নয়, বরং আল্লাহ তাঁর খেয়াল খুশি মতো এই ভাগ্যবানদের মনোনয়ন দিয়েছেন। তাদেরকে একান্ত নিজের বলে মনে করে অথবা নিজের মতো করে নিয়ে দিব্যজ্ঞান দান করেছেন। আর আমাদের মতো আমজনতা-কে তাঁর সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নাম করে নিশ্চিত দোজখে ঢুকানোর বন্দোবস্ত করেছেন। এটা কি তাঁর কতিপয়ের প্রতি বিশেষ আনুকুল্য নয়? এটা কি তাঁর ব্যক্তিপ্রিয়তা নয়? ব্যক্তিপ্রিয়তার বিতর্কটি এ কারণেই আসছে যে একজন স্রষ্টা হিসেবে সব সৃষ্টিই তাঁর কাছে সমান থাকা উচিত ছিল। কাউকে যদি বিশেষ মর্যাদা দানের প্রয়োজন হয় তবে সেটা তার কর্মকান্ডের ভিত্তি ধরেই দেয়া উচিত। পূর্ব নির্ধারণের মাধ্যমে নয়।
নবী মুহম্মদকে তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। এটাও বলা হয়ে থাকে যে মুহম্মদের সৃষ্টি না হলে এ দুনিয়াও সৃষ্টি করা হতনা। সৃষ্টি কথাটার দ্বারা এটাই বুঝায় যে তার শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টিও পূর্ব নির্ধারিত। অনেকে হয়তো এর পরেও বিতর্ক করতে চাইবেন মুহম্মদ কর্মের মাধ্যমেই তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। তবে আপনি যদি কোরআন বিশ্বাস করেন তাহলে আপনাকে এটা মেনে নিতেই হবে যে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি ছিল আল্লাহ কর্তৃক সম্পূর্ণ পূর্ব নির্ধারিত। মুহম্মদের প্রতি কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে তা লওহে মাহফুজে সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তীতে অবস্থা-ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভাগ ভাগ করে তা তাঁর উপর নাজিল হয়। কুরআনের পটভূমি যেহেতু মুহম্মদ পৃথিবীতে অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বের ঘটনা কাজেই পরবর্তীতে যে অবস্থা-ঘটনার উদ্ভব হয়েছে তা ছিল পূর্ব নির্ধারিত। কাজেই মুহম্মদের শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টিও আল্লাহ কর্তৃক পূর্ব নির্ধারিত। এটা তিনি পূর্বকর্মের দ্বারা অর্জন করেননি। একজন বিশেষ ব্যক্তির প্রতি তার কেন এই আনুকূল্য? তাঁকে সৃষ্টি না করলে তিনি অন্য কিছু সৃষ্টি করতেননা- ঘোষণার মাধ্যমে কি তিনি তার সমগ্র সৃষ্টিকে অপমানিত বা খাঁটো করলেননা? স্রষ্টা হিসেবে তারতো সবার প্রতি সমান হওয়া উচিত। কাউকে যদি খাস কিছু উপহার দেওয়াই হয় তাতো তার কর্মের মাধ্যমে দেওয়া উচিত ছিল। পূর্ব নির্ধারণের মাধ্যমে বা খুশিমতো মনোনয়ের মাধ্যমে অবশ্যই নয়।
--------------------চলবে
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



