somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একদিন সেলুনে। বকবকানি বনাম আমি। :)

০৩ রা জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

->মামা চুল কাটানো যাবে?
--> হ মামা যাবে। বসেন।
বসলাম। যুবক বয়সী নরসুন্দর বসালো সেলুনের কেদারায়। বসলাম।
--> মামা বসছেন ঠিকমতো?
-> সামনের আয়নাটাতে তো ঠিকমতো দেখা যায় না। চেয়ারটা সরায়ে দেন একটু।
--> ঠিক আছে মামা। আপনে বসেন আমি সরায়ে দিতাছি।
-> ঠিক আছে এবার দেখা যাচ্ছে ঠিক মতো।
--> কিরম কাটমু মামা?
-> সাইডের চুল অল্প। বেশি উপরে উঠাবেন না। সামনের চুল বেশি খাটো করবেন না। আর পিছনের দিকে যেভাবে সুন্দর দেখায় সেভাবেই কাটেন।
--> ঠিক আছে মামা।
একটা প্রায় ময়লা সাদা কাপড় দিয়ে আমারে ঢেকে দিলো। পানি দিয়ে চুল গুলা একটু ভিজালো। ভালোই লাগছিলো। সারাদিনের ক্লান্তিতে চোখ বন্ধ হয়ে আসছিলো।
দেখলাম পাশের চেয়ারে একটা কিশোর বয়সী ছেলে কাপড়ের ছোটো পুটলির মধ্যে কিছু একটা নিয়ে নাকের কাছে ধরে বসে আছে। বুঝতে পারছিলাম না কেন। একটু পরে পাশের দোকান থেকে আরেকজন ছেলেটিকে বললো।
--> কিরে তোর সর্দি কমছে?
-> না এখনো কমে নাই
আমার নরসুন্দর তখনই অনেকটা চিৎকার করে উঠলো।
-> কমবো না মানে! অবশ্যই কমবো। একটু ধৈর্য ধরো। কালো জিরার গুন অনেক। তার উপর আমি ফুঁ দিয়া দিছি। আরো কিছু সময় নাকের কাছে ধৈরা রাখো সর্দি দৌড়াইয়া পালাইবো। আজকে না কমলেও ২ দিন পরে কমবো :D:D এর পরেই শুরু হলো তার কথার ফুলঝুরি। সাথে আমার চুল কাটা। পাঁচ-ছয় মিনিট এই টপিকের পরে শুরু হলো নতুন টপিক।
পাশের ফটোকপি, প্রিন্টের দোকান থেকে কম্পিউটারে চালানো গান শোনা যাচ্ছিলো। রুমি র গান। "থাকতে যদি না পাই তোমায়, চাইনা মরিলে, আমায় কাঁদালে"।
খুবই অপ্রত্যাশিত ভাবে নরসুন্দর আমারে জিজ্ঞেস করলো।
-> মামা এইটা ছ্যাঁক খাওইন্যা গান না। :-/
একটু বুঝতে সময় লাগলো। বললাম।
-> হা, দু:খের গান। বিরহের গান।
--> ছ্যাঁক খাওইন্যা গান আমার অনেক ভালো লাগে। গতো কালকে গেছিলাম এক দোকানে। মোবাইলে গান ঢুকানোর লাইগ্যা। নব্বই টা গান ঢুকাইছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ গানই ভালা লাগে নাই। ৩০-৩৫ টা গান ছ্যাঁক খাওইন্যা। বাকী গুলা ধুম ধারাক্কা। আমার ঐগুলা ভালা লাগে নাই।
রাজা হিন্দুস্থানি সিনেমার গান আমার ভালা লাগে। ঐগুলা হৈতাছে ফাইন গান।
আমিও মাথা ঝাঁকাইলাম। হাসতে হাসতে :)। এই টপিক চলতে লাগলো আরোও ২-৩ মিনিট। অনবরত বক বক। ভয় লাগছিলো বেটা কথা বলতে বলতে না আমার চুলের বারটা বাজায়। শেষ পর্যন্ত চুল কাটা শেষ হলো। এবং কোনো বারটা বাজলো না। ভালোই কেটেছে। যেভাবে বলেছিলাম।

--> মামা শেভ করবেন?
নরমালি আমি সেলুনে শেভ করি না। কিন্তু গোফ-দাড়ি গুলো ভালোই বড় হয়ে গেছিলো। তাই ওরেই বললাম ঠিক আছে কেটে দাও। ফোম লাগালো মুখমন্ডলে।
--> মামা, আপনে বাসায় কোনটা ব্যবহার করেন।
কথা বলতে ইচ্ছা হচ্ছিলো না। তারপরে ও বললাম। জিলেট।
আবার শুরু হলো আরেক কাহিনী।
--> শুনেন মামা। আইজকাল সত্যি কথার ভাত নাই। ভালো জিনিসের কেউ মুল্য বুঝে না। এই যে আপনারে একটা ফোম দিলাম। আপনার মুখে কি জ্বলতাছে?
-> না জ্বলছে না তো।
--> দেখছেন এইটা হচ্ছে এই জিনিস (ফোমের বোতলটা আমার চোখের সামনে ধরে)। এইটা দাম ও কম। জ্বলেও না। আমি আমার দোকানে আগে জিলেট রাখতাম। এর কারনে আমি অনেক কাস্টমার হারাইছি। এইটা লাগাইলে নাকি জ্বলে। এর লাইগা অনেক কাস্টমার আমার হাত ছাড়া হৈছে। এর লাইগা এখন আর জিলেট রাখি না। কম দামী টা ই রাখি। আমার ট্যাকা ও কম লাগে। ব্যবসা ও ভালা হয়।
-> কই আমি তো নিয়মিত জিলেট ইউজ করি। আমার তো জ্বলে না।
এর পরে কিছুক্ষন চুপ হলো বেটা। বেশিক্ষন না। ৩০-৩৫ সেকেন্ড। এরপরে আবার হঠাৎ করে বলে উঠলো।
--> মামা আমারে অনেকেই পছন্দ করে না। বেশি কথা কই তো। আইচ্ছা মামা আপনেই কন আমি কি বেশি কথা কই?
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:১০
২০টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×