আমাদের মাঝ থেকে একজন সেই টেবিলে গিয়ে প্রশ্নটা করলো। মজার বিষয় হলো সবাই একমত হয়ে বললো - ভারত চায়না পাকিস্তানের ক্রিকেটে উন্নতি হউক। তাই এরা ষড়যন্ত্র করেছে।
এই বিষয়টা কিন্তু পাকিস্তানের জন্যে স্বাভাবিক। ৪৭ সালে আলাদা হবার পর জিন্নাকে অন্তরীন করে - লিয়াকত আলিকে হত্যা করে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, সামন্তপ্রভু আর মৌলবাদীরা মিলে দেশের ক্ষমতা দখল করেছে। সেই ক্ষমতাকে চিরন্থায়ী করার লক্ষ্যে দেশের মানুষগুলোকে বোকা বানানোর সকল কার্যক্রম চালিয়েছে। এরা সব কিছুতে ভারতের দোষ খোঁজে - এমনকি ৩০ লক্ষ মানুষ মেরে বাংলাদেশে পরাজিত হওয়াকে ভারতের ষড়যন্ত্র হিসাবে দেখে এরা।
বাংলাদেশের একদল মানুষও পাকিভাইরাসে আক্রান্ত। পরাজিত রাজাকার-আলবদরের অনুসারীরা দেশে কোন ঘটনা ঘটলে - দেশের মিডিয়া বাদ দিয়ে ভারতের মিডিয়া দেখে। তাতে যদি কিছু গারবেজ পায় - তা গিলে উগলানো শুরু করে - সেই বমি প্রবাহিত হয় কিছু সংবাদপত্রের কলামে - কিছু টিভির টকশোতে আর জামাতিরা সেমিনার করে তা উগলায়। কিছু মানুষ তা বিশ্বাসও করে আর তা নিয়ে ব্লগে তর্কও করে।
সেই রকমের একজন মিথ্যাবাদী হলো - মইত্যা রাজাকার। সে আবার দেশের মন্ত্রী ছিলো। হল ভাড়া করে সেমিনার করে বললো - পিলখানার ঘটনার সব দোষ ভারতের। ভারতের গোয়েন্দাবাহিনী এর সাথে জড়িত।
প্রশ্ন হলো - মুসল্লীমার্কা চেহারা নিয়ে এই লোক একটা কথা বললো - তা কি মিথ্যাচার? যদি মিথ্যা না হয় - তবে অবিলম্বের ওকে ডিটেনশান দেওয়া হউক। ছোট হতে পারি - কিন্তু একটা স্বাধীনদেশের উপর এই ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারেনা ভারত। বিষয়টা প্রমানসহ উপস্থাপন জরুরী। তাই নিজামীকে রিমান্ডে নিয়ে তথ্য বের করা হউক।
কিন্তু অতীত কর্মকান্ড থেকে নিশ্চিত বলা যায় - নিজামী ভারতের সংশ্লিষ্তার কথাটা মিথ্যা বলেছে। কোরানের সুষ্পষ্ঠ নিষেধ থাকা স্বত্বেও নিজামী মিথ্যাচারের পিছনে কিন্তু বিশেষ কারন আছে। নিজামীরা অতীতেও এই কাজ করেছে। বড় ধরনের ঘটনার পর এরা ভারতের জিগির তোলে মুল ঘটনার থেকে জনগনের দৃস্টি দুরে সরাতে চেয়েছে।
২১ এ আগস্টে সরকারী দলের বিরোধী দল নিধন কর্মকান্ডের বোমাবাজীর পর নিজামী ভারতে দায়ী করে বত্তৃতা দিয়েছে।
সবচেয়ে জঘন্য কাজটা করেছে সরকারে থাকার সময়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সুস্পস্ঠ নির্দেশ থাকা স্বত্বেও "বাংলাভাই" গংকে ধরতে সময় লাগে ৭ মাস। এই সময়ের মধ্যে জেএমবির বোমাবাজীতে মারা যায় অর্ধশত মানুষ আর আতঙ্কিত হয় সারা দেশ। কিন্তু নিজামী আর জামাতের এমপিরা সংসদে মিথ্যাচার করে জনগনের দৃস্টি ভিন্নদিকে সরাতে চেষ্টা করেছে।
দেশের মানুষকে বোকা বাননোর জন্যে নিজামী নিজে বলেছে - "বাংলা ভাই মিডিয়ার সৃস্টি।"
পিলখানার ঘটনায় সেই জেএমবির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে যখন আভাস পাওয়া যাচ্ছে - তখন মইত্যা রাজাকার আবার পাকিস্তানী স্টাইলে ভারত বিরোধী জিগির তুলে মুল ঘটনা আড়াল করা চেষ্টা চালাচ্ছে।
অবিলম্বে পাকিস্তান স্টাইলে জিগির বন্ধ করা দরকার - দরকার এই ধর্মব্যবসায়ী মৌলবাদীদের মিথ্যাচার বন্ধ করা।
জামাতের মত বিষ ফোঁড়া আর কতদিন বাংলাদেশ সহ্য করবে। যতদ্রুত এই ফোঁড়া তুলে ফেলা যায় - তত ভাল - তাতে ক্যান্মার হবার সম্ভাবনা কম। নতুবা পাকিস্তানীদের মতো নিজের পশ্চাতদেশে নিজরাই বাঁশ ঠেঁসে ভারতের দিকে আংগুল তুলে অক্কা পেতে হবে।
এই শুদ্ধি অভিযানের শুরু হইক মইত্যা রাজাকারকের রিমান্ডে নেবার মাধ্যমে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



