ষড়যন্ত্র হলে হাসিনার পাশেই থাকবে দিল্লি’- এই শিরোনামে শুক্রবার আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, “হাসিনা সরকার আসার পর থেকেই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে মৈত্রীর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাকে ভেস্তে দেওয়াটাই এই সেনা অভ্যুত্থানের লক্ষ্য।”
কলকাতা থেকে প্রকাশিত এই বাংলা দৈনিক লিখেছে, “ক্ষমতা থেকে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শেখ হাসিনাকে সরানোর চেষ্টা হলে, তাকে সব রকম সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ। বাংলাদেশ সরকারকেও সেই বার্তা দেওয়া হয়েছে।”
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানয়, কিছু প্রবাসী বাংলাদেশির ইন্ধনে সেনাবাহিনীতে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন ধর্মান্ধ কর্মকর্তা স¤প্রতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত করার প্রয়াস চালায়, যা সেনাবাহিনীর ঐকান্তিক চেষ্টায় প্রতিহত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনের ভাষ্য, “দুদেশের গোয়েন্দাই রিপোর্ট দিয়েছেন, এই লক্ষ্যে হিজবুত তাহরির, ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি একজোট হয়ে কাজ করছে। গোটা ঘটনার মাথা হিসেবে উঠে আসছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের নামও।”
সেনা অভ্যুত্থানের এই পরিকল্পনায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগেও ভারত-বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে তারেকের নাম উঠে এসেছে। ২০০৪ সালে আলফাকে অস্ত্র জোগানোর পরিকল্পনার পেছনেও তিনি ছিলেন। চট্টগ্রামে ওই ঘটনার পরেই শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা হয়।
সেনা-অভ্যুত্থান ভেস্তে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের তরফ থেকেও গোয়েন্দা তথ্য ছিল উল্লেখ করে আনন্দবাজার লিখেছে, “বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন সেনা-ঘাঁটিগুলিকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।”
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সাত-আট মাস ধরেই এ চক্রান্ত চলছে। গত নভেম্বর মাসেই হাসিনাকে উৎখাতের একটি ষড়যন্ত্র হয়। সেনাবাহিনীর কিছু মাঝারি স্তরের অফিসার সেই সময়ে সেনা অভ্যুত্থানের ছক কষেছিল। কিন্তু শুরুতেই তাদের চক্রান্ত ফাঁস হয়ে যায়। তারপর থেকেই নজরদারি জোরদার করে সেনা-গোয়েন্দারা, যার ফলশ্র“তিতে এবারের চক্রান্তটি ধরে ফেলা সম্ভব হয়।
বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় সেনাবাহিনীতে বেশ কিছু কট্টর মৌলবাদীকে নিয়োগ করা হয়েছিল উল্লেখ করে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “এখনও বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে মাঝারি স্তরের অফিসারদের মগজ ধোলাইদের চেষ্টা চলছে। ইস্তাহার প্রচার করে বলা হচ্ছে, ‘বাংলাদেশ যাতে আর একটা সিকিম না হয়ে যায়, তার জন্য সেনাবাহিনী থেকে ভারতপন্থী অফিসারদের সরাতে হবে।”
‘বর্তমান সরকারের সময়ে সেনা সদস্যদের গুম করা হচ্ছে’- গত ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামে এক সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার এমন অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে সেনা সদরের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, “একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দলও মনগড়া, বিভ্রান্তিকর ও প্রচারমূলক সংবাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অভিযোগ করে, যা সেনাবাহিনী তথা সচেতন নাগরিকদের মধ্যে অনাকাক্সিক্ষত উস্কানিমূলক বিতর্কের সৃষ্টি করে।”
অবশ্য সেনা সদরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, “বিএনপি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরে বিশ্বাস করে। অন্য কোনো পথে নয়। আমাদের সেনা বাহিনী জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। আমরা একটি সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনী চাই।”
বাংলাদেশে পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লি ‘চিন্তায়’ রয়েছে উল্লেখ করে আনন্দবাজার লিখেছে, “সাধারণ নির্বাচনের এখনও অনেক দেরি। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অনেক প্রকল্প প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। ঢাকাকে একশো কোটি ডলার ঋণ দেওয়া হয়েছে। তিস্তা নিয়ে জট ছাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য পরিবহণ চালু করার চেষ্টাও চলছে। এই পরিস্থিতিতে হাসিনা সরকারের কর্তৃত্ব যাতে কোনও ভাবেই দুর্বল না হয়ে যায়, তার জন্য স্পষ্ট ও কড়া অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী (মনমোহন সিং)।”

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



